শুক্রবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৮

নাচতে না জানলে

নাচ একটি আর্কিটেকচারাল জন্তু,কারন নাচতে না জানলে উঠোন বেঁকে যায়। ভাসানে নাচলে তা ধর্ম, টিভিতে নাচলে কর্ম, কিন্তু স্কুলে নাচলে চর্মচক্ষে দেখা যায় না। অবশ্য কবিকূলশিরোমণি দাদুরির ডাকে সুর দিলে তাতে নাচা যায়,কারন ব্যাঙের মেটিং প্লাস মহাগুরুর সেটিং থাকলে তাতে কেচ্ছা বা যৌনউদ্দীপনা পান না। কারন দুই, প্রথম, ব্যাঙ সানি মামনি নন,ফলত উত্তেজনা নেই,ফলত ঐ গান চলবে, দুই আপনি দাদুরি মানে বোঝেন না কিংবা বর্ষাকালে ব্যাং কেন ডাকে সেটা বোঝেন না। মোটকথা অমন একটা গান যদি থাকে এবং ঐ নাচে সেক্স থাকলেও স্টেজে বা প্রোগ্রামে চলতেই পারে।

কিন্তু স্কুলে দিদিমনিরা নাচলে সেটায় প্যারাসিটামল লাগে,কারন সেটা ভাইরাল। সেটায় হেডিং হয় "কোমর দুলিয়ে শিক্ষিকাদের নাচ"।  এইবারে গরীব মানুষ টেকনিকাল প্রশ্ন করে, কোন নাচে কোমর দোলানো হয় না? এত কিছু ছেড়ে হঠাৎ কোমরে নজর কেন,নাকি আপনার সেই ফিজিক্সের আমল থেকে পেন্ডুলাম বা দোলন পছন্দের? আর তাছাড়া শিক্ষিকারা নাচলে দোষের কোথায়? নাচটা স্বপ্ন নাকি যে তাতেও দোষ থাকবে??

অতঃপর দৈববানী হবে,শিক্ষিকারা জিনস বা সালোয়ার পরলে দোষ,বেশি মাইনে পেলে দোষ,বেশি ছুটি পেলে দোষ,ঠিক টাইমে বেরিয়ে গেলে দোষ,নাচলে দোষ,শাহরুখ বললে দোষ,পথে মাথা নিচু করে না হাঁটলে দোষ,মানে শিক্ষিকারা শিক্ষিকা নন,নন্দ ঘোষ...

সুতরাং, এইবারে আশা করি তাদের তেরিয়ে খিস্তানো হবে,রাস্তায় যাওয়ার সময় টিটকিরি কাটা হবে,কমিটি বসবে,মেন্টাল চাপ দেওয়া হবে, একঘরে করা হবে, মানে ইহা ইস্ট,ইহা নির্ঘোষ,ইহা শাস্তি,ইহা মুক্তি। কারন ইঞ্জিনিয়ারদের, ডাক্তার দের,ইন্সপেক্টার দের, উকিল দের সব্বার সামাজিক স্টেটাস,জব প্লেসে অ্যাপ্রোচ বদলাতে পারে,কিন্তু স্কুলে ব্ল্যাকবোর্ড ও চকের বাইরে পা রেখেছো কি তুমি শূদ্র,তুমি ম্লেচ্ছ,তুমি নিচ,তুমি বেশ্যা,তুমি গু,পিত্ত কফ, মোটকথা তোমাকে পিষে নিংড়ে থেৎলে না দিলে আমি কিসের বোদ্ধা...

কিছুদিন পর আপনার বাড়িতে জন্মদিনে ডিজে বসবে,বাচ্ছার জন্মদিনে মদ চলবে, সন্তান কে নিয়ে মিউজিক ভিডিও,ফিল্ম,টিভি গোগ্রাসে গিলবেন...অবশ্যই নাচবেন এবং বলবেন নাচলে শরীর ফিট থাকে,আনন্দে থাকে,ডিস্কে বদতমিজ দিলে নেচে বাড়ি ফিরে বলবেন মাঝে মাঝে একটু না করলে হয় না...কারন,নাচটা দরকারী,নাচ না জানলে উঠোন বেঁকে যায়...

বৃহস্পতিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৮

মিষ্টি খাওয়া কমে গেলে ::

মিষ্টি খাওয়া কমে গেলে ::

মিষ্টি এমনিতে একটি সামাজিক প্রানী। মানে সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাকে থাকতেই হয়।বিয়েবাড়িতে সে না থাকলে মাল্যদান বৃথা,প্রসাদে না থাকলে প্রণাম বৃথা, সকালের চায়ে না থাকলে বাথরুমে কোঁত পাড়া বৃথা, অর্থাৎ সমাজে মানিয়েগুছিয়ে চলতে গেলে যেমন মেয়েদের গা ঢাকা জামা বা বোরখা পরা আবশ্যিক মিষ্টি খানিক তাই।অনেকে তাই দায়িত্ব নিয়ে কুকুর বেড়াল উৎসর্গের বৃষের সাথে মিষ্টিও পোষেন। মিষ্টিও ভারি বিশ্বস্ত, পুরাণে কথিত আছে দেহে মিষ্টি পুষলে নাকি তা সাঁইসাঁই রিভার্স স্যুইং এর দক্ষতা দেয়।

আমিও তাই ভারি মিষ্টিপ্রিয়। আমাদের তিন পুরুষের বডিতে মিষ্টি পোষার ব্যবসা, মামাবাড়ির দাদু, মামা, হালে মা সব্বার জীবনের এক লক্ষ,প্রান যায়,পর মিষ্টি না যায়,মামাবাড়িতে তিন পুরুষ ধরে ড্যাড্যাং ড্যাড্যাং করে ডায়বেটিসে চিতায় উঠছেন কিন্তু উঁহু,মিষ্টি ছাড়েন নি, হুঁ হুঁ বাওয়া...কিছু পুষলে,তাকে ওমনিই ছেড়ে দিতে নেই।এ শিক্ষা তো আমি মামাবাড়ির কাছ থেকেই পেয়েছি। তাই আমিও মিষ্টি হাসি, মিষ্টি প্রেম,মিষ্টি চুমু,মিষ্টি ইয়ে সবই সংরক্ষনে উদ্যোগী...যাক সে কথা...ধান ভানতে শিবের গীত...

হঠাৎ, লাস্ট দু উইক হেব্বি কাহিল, রাত ১২টায় ঘর ফেরা পাবলিক সাড়ে এগারোটায় কিঞ্চিৎ টায়ার্ড, পেটে হেব্বি সমস্যা, আরো নানান চাপে ডাক্তার দেখাতেই তিনি তড়াক ৭টা টেস্ট দিলেন,সাথে ইউ এস জি ফ্রি...টেস্ট হল...রিপোর্ট আসার দিনক্ষন স্থির হল...এবং রিপোর্ট আসার দিন সন্ধ্যায়,বাড়ি ফেরার জন্য ড্রাইভ করতে যাবো এইসান এক ব্রাম্ভমুহুর্তে অতর্কিতে মায়ের হোয়াটস্যাপ এল...সুগার রিপোর্টে এসেছে...

ধরনী দ্বিধা হয়ে গেল,মানসচক্ষে পষ্ট দেখলাম চার পাশ থেকে রসগোল্লা,চমচম,মিহিদানা ল্যাংচা,আলু, ভাত যাস্ট থ্যানোসচুটকিতে গায়েব হতে লাগল। এই তো কদিন আগে মিষ্টি হাব ঘুরে এলাম। এইসান এক ৪০টাকার পৃথিবী সাইজের রসগোল্লা কপাত গিলেছি, ডেয়ারি মিল্ক আমাকে দত্তক নিয়েছে,আমি চকোলেট কেক কে মা বলে ডেকে বুকে টেনে নিয়ে পেটে চালান করি, শক্তিগড় আমার তীর্থ, নলেনগুড়ের পায়েস আমার ধর্ম, সেমুই চিনি দুধ দিয়ে না খাওয়ালে আমি রামাদানে জাহাঙ্গীর দাকে খিস্তিমাল্য উপহার দিই,সেই আমি সসাগরা সুগার অধিপতি। গ্রীন টি,সাত তলা থেকে আট তলা হেঁ টে ওঠা, চিনি ছাড়া চা এইসান কৃচ্ছ্বসাধনের কোনো মূল্য নেই!!!

উচ্ছের বিরিয়ানি,চিরতার রাবড়ি,কালমেঘের সীতাভোগ কেমন হবে আইডিয়া করতে করতে মা কে ফোন করলাম..."কত এল সুগার"... "কম এসেছে"মা বলল...
আমি হাঁকপাকিয়ে, " আরে কম আসুক বা বেশি,সুগার আর সাঁতার,একবার এলে যায় না,কত এল"...
মা খানিক অবাক হয়ে "আরে সুগার আসেনি তো,নরম্যাল ৭০-১২০...তোর ৭৬ এসেছে...আমি রিপোর্ট বানানটা ভুল করে reporte করে ফেলেছিলাম...কত বার বলি ডিলিট করা টা শেখা,মায়ের কথায় তো কান নেই...শোনো,মায়ের সাথে করে নাও...ইত্যাদি প্রভৃতি

অতএব...আমাদের বাড়িতে এলে মিষ্টি অবশ্যই আনবেন...মা খায় না,ডায়াবেটিস আছে বলে...কিন্তু আমি খাই...কবজি কনুই বগল ডুবিয়ে...শুধু চায়ে চিনি খাই না...কারন...রেডিওতে রিভার্স স্যুইং করা যায় না...

পুনশ্চ : আমার জীবনের কয়েকটা সেরা মিষ্টি প্রানীর ছবি দিলাম...এই সামাজিক প্ল্যাটফর্মে, কারন মিষ্টি একটি সামাজিক জীব...