মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৯

লাথি

আমাদের ছোটোবেলায় এক মস্ত সুখ ছিলো। সব কিছুর একটা সহজ ও তুরন্ত সমাধান হিসেবে লাথি পাওয়া যেতো। মানে ধরো জ্বর হয়েছে, দাদু বললেন বিছানায় লাথি মেরে বল জ্বর পালিয়ে যা,তাই করলাম জ্বর বাবাজি জাঁকিয়ে এলেও জানলাম,পালিয়ে যাবে,যাবেই। শুধু জ্বরে নয়,পৃথিবীর সব সমস্যার সমাধান আমাদের বাড়িতে ছিলো, হাতি দেখে মেজোকাকার মেয়ে কেঁদে গড়িয়ে পড়ছে, ঠাকুমা ছড়া কাটলেন, হাতি তোকে জোড়া পায়ে লাথি, ব্যাস,খল খল করে হাসতে শুরু করলো বোন। মোটমাট জানতাম,জীবনের ওঠাপড়া সহজে গায়ে লাগলেই তার জন্য একটি ভিন্নধর্মী লাথি বরাদ্দ রয়েছে। মানে ঠাকুরদার সাথে ঝগড়া করে দাঁত কিড়মিড় করে, "ঝাটা মার ঝাটা মার,দে লাথি" তার সাথে বড়দের গায়ে পা লাগলে পা কেটে যাবে, তার একটা গুনগত পার্থক্য ছিলো। নইলে ঐটা রেগেমেগে বলা যায়,অথচ এইটা দেওয়া যায় না কেন,সেটা অনেক ভেবেও পাইনি। এখন বুঝি,মুখে বলা চুপিচুপি ঐ লাথিটা স্ট্রেসবাস্টার্স লাথি।  মুড়ো ঝাঁটা হাত দেওয়া যায় না অথচ পায়ে করে ঠেলে সরিয়ে দেওয়াই যায়, ফুটবলের প্রান বা দেবতার অধীষ্ঠান নেই,তাতে পা দেওয়া যায়, কিন্তু ফুলের সাজিতে সাক্ষাৎ নারায়ন থাকেন,তাতে পা ঠেকলেই শূলে চাপানো হবে। এরকম নানাবিধ নিয়মে বুঝতাম, সব সমস্যার সমাধান আছে। সাজিতে চুপি চুপি পা লেগে গেলে গঙ্গাজল ঠেকালেই শুদ্ধু, কিন্তু ফুলে পা ঠেকালে ফেলে দিতে হবে। লাথিকূলের কৌলিন্য ও শূদ্র ভেদ ছিলো, সে বিলক্ষণ বুঝেছি। ক্যারাটে তে লাথি মারা যায়, কিন্তু বন্ধুদের সাথে ঝগড়া করে পা দেখালেই আড়ংধোলাই এর ব্যবস্থা ছিল তখন বাড়িতে বাড়িতে।  মানে অসম্মান অর্থে লাথি বলা বা ব্যবহার ছিলো পরিত্যাজ্য। কেউ কথায় ওটা বলা মানেই নিম্ন শ্রেনীর, ভালো লোক নয়,এটা ধরে নেওয়া হত। মানে মার খাবি, আর লাত খাবি এটার মধ্যে ভালো আর ইতর ভেদাভেদ হয়ে যেত সহজেই।
তখন অবশ্য প্রকাশ্যে এভাবে খিস্তির উদজাপন হতো না, পলিটিশিয়ানের জামা টানা ছেঁড়া হয়তো হত, কিন্তু গায়ে পা তোলার অসভ্যতা কেউই করতো না, কারন সবার বাড়িতেই একটা মূল্যবোধ কাজ করতো। সাধারণ মানুষ এগিয়ে গিয়ে ঝগড়া করছে এই দৃশ্যটাই খুব অদ্ভুত লাগতো,আমরা ভেবে নিতাম ও তো ভালো,তা ও ঝগড়া করছে কেনো?? গায়ে লাথি মেরেছে এ ছিলো কল্পনাতীত।
এখন অবশ্য সবই সম্ভব, জনতা রবীঠাকুরের গানে অবলীলায় খিস্তি জুড়ে অশিক্ষার উৎসবে মাতে,কখনো কেউ কাউকে খুব সহজেই লাথি কষায়...     

মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯

মেনস ডে

আমাদের জয়েন্ট ফ্যামিলিতে ঠাকুমা বিখ্যাত ছিলেন পুজো করার জন্য। সকাল থেকে শুরু করে পুজো চলত বেলা ১১টা অব্দি। ফলত মা কাকিমা রা সকালের জলখাবারের জন্য অপেক্ষা করতো সেই অব্দি। কারন শ্বাশুড়ি না খেলে তো আর আগে খেয়ে নেওয়া যায় না। রাশভারী দাদু এগিয়ে এসে বলতেন,খেয়ে নাও বৌমা, তোমার শ্বাশুড়ি না এলে কি তোমরা না খেয়ে থাকবে নাকি। ঠাকুমার ভয়ে মা রা অপেক্ষাই করে এসেছে, দাদু কিন্তু বার বার বলতো,আগে খেয়ে নেবার কথা...
সে আমলে পুরুষদের প্রাইড ছিলো ভালো মাছ কিনে নিয়ে আসা, রবিবার দুপুরে মাছ মুখে দিলেই সব্বাই প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠবে,সে পুরস্কার অস্কারের চেয়ে কম ছিলো না সে আমলের পুরানো সংসারে। বাবা চিরকাল ঠকে আসতো,হয় পচা মাছ গছিয়ে দিতো, নয় খুচরো গুনে আনতে গিয়ে। মাকে আবার হেঁটে হেঁটে বাজার যেতে হতো, চিরকাল রবিবার দুপুরের মাছের প্রশংসা মায়ের ভাগে গ্যাছে, বাবা সারা জীবন অবলীলায় হাসিমুখে সেটা শুনে গ্যাছে পুরুষতান্ত্রিক আস্ফালন ফেলে রেখে। 
এভাবেই আমাদের ছেলেবেলাতে কাকিমা রাগ করে না খেয়ে দোতলায় বসে থাকলে হাতে ভাতের থালা নিয়ে কাকাকে রাগ ভাঙাতে যেতে দেখেছি,"খিদে পেলে নিচে এসে খেয়ে যাবে" এরকম শুনিনি কখনো।তেলের বাটি নিয়ে হেব্বি ঝামেলা চলছে, দিদিকে চুল টেনে মারতেই কানে টান পড়লো...বড়দা সারাদিন কান ধরে দেওয়ালে দাঁড়িয়ে থাকার শাস্তি দিলেন। লক্ষ্মীপুজোর শেষে, সত্যনারায়ণ পুজোর সিন্নি মাখার দায়িত্ব উপোসী মেজোকাকার, না খেয়ে থাকা মা কাকিমার জন্য শরবত করে আনছে আরেক অঞ্জলি দেওয়া পুরুষ ছোটোকাকা...
সন্ধ্যের পর বাড়ি থেকে বেশি বেরোনোর হুকুম ছিলো না, স্ট্রীট লাইট জ্বলার আগে বাড়ি ঢোকার ফরমান ছিলো,তবে তা সবার জন্যেই, সিনেমা হলে যাবার উপর ফতোয়া ছিলো বাড়িতে, দাদুকে লুকিয়ে খিড়কির দরজা দিয়ে পিসি,কাকিমা মা কে বের করে আনা হতো, ফিরতে লেট হলে গল্প রেডি রাখতো সেজোকাকা, কাকিমার মাথা ধরেছে মা সেবা করছে, দরজা বন্ধ, দাদু কতবার ফাঁকা ঘরের বন্ধ দরজার বাইরে থেকে মাথা ধরা সারার টোটকা বলেছে তার ইয়ত্তা নেই। রাত জেগে ভিডিও দেখা হবে, তিন কাকু, কাকিমা,মা, পিসতুতো দুই দিদি, কাকারাই রাশভারি দাদুকে লুকিয়ে ভিসিপি মেশিন ক্যাসেট আনলেন দোতলায়। সারারাত সিনেমা দ্যাখা চললো, পরের দিন সকালের চা বানানো বাবার দায়িত্ব। 
ছেলেবেলা জুড়ে এমন অজস্র পুরুষ চরিত্র ঘুরে ফিরে এসেছে আমার সেই মফস্বলে ...সহমর্মি, বন্ধু, সমস্যার সমাধান করা চরিত্র...প্রতিবাদী...বাসে গুঁতিয়ে দেওয়া চরিত্রগুলোকে মেলাতে  আজ বড়ো কষ্ট হয়...কখনো নিজে ভুল করলেও যেনো দাদার কান ধরে দেওয়ালে মুখ করে দাঁড়ানোর মুহুর্তটা ফিরে আসে...মুচড়ে যাওয়া হৃদয়ে নিজেই ছোটো হই কখনো...মনে পড়ে ছেলেবেলার পুরুষতান্ত্রিক সমাজেও প্রতিদিনের সেলিব্রেট করা অন্য পুরুষদের, আমাদের চারপাশে সাধারন হয়ে ঘোরা অসাধারণ পুরুষদের সব্বাইকে...

হ্যাপি মেনস ডে...

বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯

রেস

আমার স্পোর্টসের রেজাল্ট দেখে হয়তো বাবা ডি এন এ টেস্ট করানোর কথা ভেবেছিলেন...

শীতকাল এলেই পাড়ায় স্পোর্টস হবে। ফার্স্ট প্রাইজ মেডেল আর স্টিলের গামলা। সবাইকে কলা কমলালেবু কেক টিফিনে। সাইকেলের সামনের রডে বসিয়ে বাবা চললেন আমাকে রেসে নাম লেখাতে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে হাইট মেপে গ্রুপ ভাগ। হিটে ফার্স্ট হয়ে উঠলাম। ফাইনাল রাউন্ডে প্রানপনে দৌড়াচ্ছি, এবারে সেকেন্ড...শেষের দিক থেকে। রডে বসে বাড়ি ফিরতে ফিরতে রিয়েলাইজ করেছিলাম টিফিনের কমলালেবুটা হেব্বি মিষ্টি।

বাবা হেব্বি স্পোর্টসম্যান, সব রেসে ফার্স্ট, চকচকে মেডেল, কাপ ভর্তি আলমারি, ঠাকুমা থেকে থেকে লেবু ঘষে ঘষে মাজে। লোকজনকে দেখানো হয়। আর আমি লজেন্স রেসে, সবচেয়ে লাস্টে পৌঁছে, দিদিদের বলি, "লজেন্স তো পেয়েছি"। হার্ডলসে হাঁটু দিয়ে বার ভেঙে দিলাম, হাই জাম্পের দড়ির নিচ দিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে গেলাম, লং জাম্পে এমন করে লাফালাম যেন লং জাম্প নয়,কিত কিত খেলছি। একশো বা দুশো মিটারে আমি সাক্ষাত উসেইন বোল্ট,মানে ট্র‍্যাকে সবাই আমাকে ঠিক চিনতে পারতো " ওই দ্যাখ লাস্টে দৌড়াচ্ছে, ওটা বাবুদার ছেলে"। জীবনে একটামাত্র রেসে ফার্স্ট হয়েছি, স্লো সাইকেল রেস, যে সবচেয়ে লাস্টে পৌছাবে সে বিজয়ী,আমি সবার আগে ফিনিশিং লাইনে পৌঁছে মুচকি হেসে দেখতাম কে আগে সাইকেল থেকে পা মাটিতে ফেলছে।

বাড়ির লোকে বিশ্বাসই করেনি,অমন স্পোর্টসম্যান বাবার এই ছেলে হয়!লোকে ভাবতো টেকনিক্যাল এরর আছে,ছেলে নিশ্চই ফিনিশিং লাইন বুঝতে পারছে না। নদিদি কে রাখা হলো ফিনিশিং লাইনে,পই পই করে বলা হলো,"দিদি ঐ দড়িটার কাছে,গিয়ে ওকে ছুঁয়ে দিতে হবে,বাড়ির লোক,চিনতে পারবি?" আমি হ্যাঁআ বলে দৌড় লাগালাম, লেবু লজেন্স রেসের লজেন্স তুলতেই থতোমতো। দর্শকের মাঝে দাদাভাই,লাইনের পাশে 'বাড়ির লোক'...সব্বাই সোজা ছুটলো,আমি ট্র‍্যাক থেকে বাঁদিকে ছুটে দাদাভাই কে ছুঁয়ে 'ফার্স্ট হয়েছি' বলে সে কি লাফ।

থেকে থেকে গল্প শোনানো হতো, বাবা কিভাবে ছুটতো,কিভাবে সকাল থেকে প্র‍্যাকটিস করতো। কিভাবে ধাপে ধাপে স্পিড বাড়াতো। অন ইয়োর মার্ক শুনেই কিভাবে ঝুঁকে পিছনটা সোনার কেল্লার ঊটের মত আগে তুলতো, এসব শুনে উদ্দীপ্ত আমি পরদিন ভোর থেকেই রাস্তায় দৌড়,টানা প্র‍্যাকটিস করে কার্ল লুইস হবোই, তাতে ফলও হলো হাতে নাতে। তিন দিন ভোরে উঠে রাস্তায়  দৌড়োতে দুদিন কুকুর তাড়লো, আর তার পরে মাথায় হিম বসে নিউমোনিয়া। জানলাম,পরিশ্রম কা কাফসিরাপ মিঠা হোতা হ্যায়।

তার মানে এই নয় যে আমি স্পোর্টস এ প্রাইজ পাই নি। "বাচ্ছা ছেলে দৌড়েছে প্রাইজ দিবি না?" পাড়ার অর্গানাইজার ছেলেদের সাথে রীতিমতো ঝগড়া করে একটা রবারের লাল নীল বল এনে দিয়েছিলো সেজোপিসি। তার মুখরক্ষা করে এনেছিলাম আমার প্রথম প্রাইজ,সাইকেল করে স্কুল থেকে ফিরছি,হাতে নতুন তোয়ালে,পিসির বাড়ি ক্রস করতে করতে চিতকার করে বললাম,প্রাইজ পেয়েছি পিসি, গো এজ ইউ লাইক, সান্তনা পুরস্কার...!!!!

আমাদের বাড়ি অবিশ্যি পুরুষাকারে বিশ্বাসী,খেলা মানে ফুটবল,প্রাইজ মানে ১০০,২০০ বা ৫০০ মিটার। আমার দৌড়, গো এজ ইউ লাইক অব্দি। পরের বার চ্যাপলিন সাজলাম। নিজের প্রিয় টুপিটার ভিতর পিচবোর্ড ঢুকিয়ে শেপ করা, কাজের দিদি আমার ব্যর্থতা দেখে দয়পরবেশ হয়ে ডোনেট করলেন নিজের চুল,গোঁফ এর সমস্যা মিটলো,পুরীর লাঠির সদ্ব্যবহার হলো,কিন্তু এত করেয়াও এখানেও প্রাইজ মিস হয়ে যেতো। চ্যাপলিন দেখেও কেউ হাততালি দেয় না,হঠাৎ কে একটা বললো, "ও চ্যাপলিন একটু পড়ো" মনে হলো,আমার পতন সর্বস্ব জীবন, ব্যস ধপাধপ পড়তে লাগলাম,গোটা মাঠ হাসছে,চরম হিউমিলিয়েশান,কিন্তু চ্যাপলিন পেলো সেকেন্ড প্রাইজ। কিন্তু মেডেল নেই, বগলে করে নিয়ে এলাম অ্যালবাম।

এর পর কুইজে,ডিবেটে বই পেয়েছি, সার্টিফিকেট পেয়েছি,কিন্তু ঐ পোডিয়ামে উঠে মেডেল গলায় ঝোলায়নি কেউ। তিতাসের স্পোর্টস দেখতে সেজে গুজে মাঠে গেলাম, ওর মা উত্তেজিত,"তুমি বাজে দৌড়োতে পারো,কিন্তু ওর মা ডিস্ট্রিক্ট এ স্পোর্টসে কোয়ালিফাই করা মেয়ে মনে রেখো",মনে রাখলাম, হার্ডলসে হিটে চ্যাম্পিয়ন, ফাইনাল রাউন্ডে মেডেল পাবেই, আমিও উত্তেজিত, আমার দুঃখ মেয়ে মোছাবে এই আশায়। হার্ডেলস এ তিতাস ফার্স্টে দৌড়াচ্ছে, হঠাৎ ঠাঁই ঠাঁই, হাঁটুর ধাক্কায় দুটো হার্ডল ধুপ ধাপ দু সাইডে।

এখন বাবা তিতাস কে শেখায়,অন ইয়োর মার্ক বললে কিভাবে পিছনটা তুলে রেডি হতে হয় সামনেটা ঝুঁকে,আমার গিন্নি বোঝায় ১০০,২০০ বা ৫০০ মিটার আসল, সোফায় শুয়ে আমি শুধু বলি,মাম্মা,হয়ে গেলে আয়,চার্লি চ্যাপলিনের মুভি দেখবো...

মঙ্গলবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৯

আন ইউজুয়াল প্রপোজাল

কেউ জালে পড়ে,কেউ প্রপোজালে পড়ে। নমস্কার,আমি নীলাঞ্জন,আমার আজকের বিষয়, আনইউজুয়াল প্রপোজাল
সাপের ছুঁচো গেলা,কিংবা বদহজমে বিরিয়ানি দেখার মত দ্বিধা কি এসেছে?তার চেয়ে কোনো অংশে কম নয় এই অদ্ভুত প্রপোজাল
মানে ধরুন, যাকে পছন্দ করেন না আদৌ,তিনি আপনার প্রেমে হাবুডুবু, বসের মুখের গন্ধের কথা সব্বাই পি এন পিসি করে, আপনাকে বস দিয়ে বসলেন ম্যাজিক তিনটে শব্দ,মানে আজকে ডিনারে যাবে??আপনি কনফিউজড
গোটা জীবনে এরকম অজস্র মুহুর্তে আপনি বোল্ড হয়ে যান, আপনার মাথায় লাগে সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং এর মত জ্যাম...
সেই মুহুর্ত গুলো শেয়ার করুন আজ...আর আমি ফিরে এসে জানাবো...প্রথম প্রপোজে আমার দ্বিধার কথা...
তবে তার আগে, একটা দ্বিধা স্পেশাল গান

শনিবার, ২৯ জুন, ২০১৯

মেঘলা

আকাশ জুড়ে মেঘ করেছে, সুয্যি গ্যাছে ভোগে...
খুকি গ্যাছে স্টেটাস দিতে, কাব্যি সহযোগে...

বুধবার, ২৬ জুন, ২০১৯

দুর্বাশা

গুগলেই সার্চ,যদি একপিস দূর্বাশা খুঁজে  পাই...
অভিশাপ দিন,যেন তোমারর,লিপস্টিক হয়ে যাই...

একপেশে প্রেম বাড়ে,বর্ষা বা শীতে...
অনুরাগী আছে যেনো,একা নিভৃতে

কথারা সব হারিয়েই যায়,ফিরতি কথার স্রোতে
কিছুক্ষণের জন্য যদি...তুমি আমার হতে

বুধবার, ১৯ জুন, ২০১৯

তুলি

তুমি কাঁচ ভুলিয়ে আঁকো,আমি শব্দে কথা জুড়ি...
তোমার সহজ করে চলা,আমি হামবড়া...না, থুড়ি...

আমি অক্ষমতার বড়াই,আমি শূন্য কলস বুলি...

তুমি আকাশ রঙে মেশাও, তোমার মনের ইজেল তুলি...

শনিবার, ৮ জুন, ২০১৯

জামাইষষ্ঠী

অতঃপর বয়স্ক,কিছু কিছু ক্ষেত্রে রিটায়ার্ড শ্বশুরের টাকায় জামাইষষ্ঠীর ধ্যাষ্টামো চালু হল...আজকে জামাইরা এইসান প্রায়োরিটি পাবেন যেন তারা তাজমহলে ওবামা,দুর্গাপুজোয় বিরেন ভদ্র, আলুপোস্ততে আলু কিংবা যিশু, কলতলাতে লাইন,মানে আজকের দিনে জামাই ধ্যান জামাই জ্ঞান, জামাই হেবি লাকি/জামাইকে না গেলালে হ্যাপিনেস আসে নাকি...

মা ষষ্টীঠাকরুন এমনিতে বেশ জাগ্রত, হ্যারি পটারের ডলোরাস অ্যামব্রিজের মত রাগী, যদিও প্রচারবিমুখ তাই খোকা খুকুদের (ধাড়ি কিংবা কচি) সেফ রেখেও ফেসবুকে সেফ মার্কিং করেন না, তা তিনি হঠাৎ জামাইদের ক্যালোরিবৃদ্ধির জন্য তৎপর হলে কেন,সেটা নিয়ে পষ্ট কোনো নিদান জিমখানা তে পেলাম না,তাই ধরে নিচ্ছি এটি তৎকালীন কোনো এক উর্বরমস্তিষ্ক জামাই বা শ্বশুরের স্ট্র‍্যাটেজি, যে ইনডাইরেক্ট ঘুষ দাও জামাইকে, তবে যদি তিনি কন্যাকে সেফ রাখেন। সবার ভাগ্য তো আর করিনার মত হয় না,কেউ কেউ অমৃতা সিং ও হন।

শুনেছি বহুবিবাহ,বা বাল্যবিবাহের যুগে নাকি বয়স্ক জামাইদের আয়ুবৃদ্ধির জন্য এই প্রথা। তা এ যুগে তো প্রসেনজিৎ শ্রাবন্তীর সমান অধিকার। তাহলে রীতি বদলাবেই বা না কেন?

ময়মনসিংহ এলাকায় নাকি নারী ও পুরুষ উভয়েরই খাতির হয়। বরন করা হয়,বট অশ্বত্থের মত আয়ুবেশি এমন গাছেদের শাখা পাতা, পাথরের বাটিতে জল রেখে আশীর্বাদ করা হয় জামাই কন্যে বৌমা সকলকেই। তা এইরকম একটা রীতি সর্বস্তরে চালু হোক না।

একপক্ষ বাঁশপাতা চিবোবে,অন্যজন মাটন, এর চেয়ে এক সাথে সবাই রেস্টুরেন্ট যাক, বা বাড়িতে ভিয়েন বসুক। শ্বশুর নয়, সমর্থ জামাই-কন্যে, পুত্র সব্বাই ভাগ করে নিক স্যুইগির বিল। হাসি ঠাট্টা আনদে কাটুক সময়...সেটা হোক না...মন্দ কি...

নইলে চালু হোক বৌমাষষ্ঠী। জামাইরা ও বৌমারা তাদের শ্বশুরবাড়িতে ফোঁটা নিতে যান। জামাইকে শ্বাশুড়ি আর বৌমাকে শ্বশুরমশাই,উপোস করে আসনপেতে বসিয়ে খাইয়ে আশীর্বাদ করে করুক উদযাপন। পাঁজিতে বদল আসুক। পুরোহিতরা নিদান দিক, বৌমাকে বরন না করলে, লক্ষ্মী কুপিতা হবেন,যেমন জামাইকে না করলে ষষ্ঠী। হোক জীবনের সুর বদল...কি বলেন???

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2348386075403260&id=1396696263905584

সন্ধ্যে

মেঘে ঢাকা মায়া, আকাশ জুড়ে আলোয় মোড়া সন্ধ্যেজাল...
সূর্য বলেছে, আজ আসি তবে, ফের দেখা হবে,আগামীকাল...

Mobile Click...

বুধবার, ৫ জুন, ২০১৯

ধর্না দিয়ে বিয়ে

প্রেমিকের ধর্না ও বিয়ে দেখে যারা আনন্দে উদ্বাহু নেত্য করতে করতে ভাবছেন, "আহা,রাধা কৃষ্ণ,লয়লা মজনু,হীর রাঞ্জা, সক্কলের প্রেম না পূরনের বদলা নিয়ে প্রেমকে করে তুললেন বিজ্ঞাপনী পেইন্টের মত ওয়েদার গার্ড,তারা ডাইনোসর এর মত সরল, জীবনকে মাধ্যমিকের প্রশ্নের মত সহজ করে ফেলেছেন।তাদের উৎসাহ দেখে মনে হচ্ছে,বিয়ের ফ্রি নেমন্তন্ন পেয়েছে,যাতে গিফট দিতে হবেনা যেন...

আর যেসব যুক্তি মানুষজন দিচ্ছেন তা এতটাই হাস্যকর,যে ঘোড়ারাও মুচকি হেসে পরান বন্দোপাধ্যায় স্টাইলে বলবেন,ভালো,তবে আরো ভালো করতে হবে...
১. ছেলে মেয়েদুটি আট বছর ধরে নাকি প্রেম করেছে,তাই যদি হয় হয়তো তার এখন আর ইচ্ছে নেই প্রেম করার,বা বিয়ের।৮ বছর প্রেম করেছে বলেই এর পরেও একসাথে থাকতে হবে?আজকাল ব্রেক আপ টা কমন পিপলের চেয়েও কমন,সেটা হতে পারেনা??

আর এ কেমন বিচার, যে একসাথে ৮ বছর কাটালেই বিয়ে করাটা ম্যান্ডেটারি। এ কি ওটিপি নাকি,যে এটা করতেই হবে।

তাছাড়া আট বছর কেমন কেটেছে কেউ দেখতে যায় নি। মেয়েটা হয়তো নিজেকে সরিয়ে আনতে চেয়েছে আস্তে আস্তে,হয়তো ছেলেটার ভয়ে পারেনি। যে সবার সামনে এভাবে ধর্না দিতে পারে,সে ব্রেক আপের কথা শুনলে আরো কতভাবে টর্চার করতে পারতো সে হিসেব কেউ কি করেছে??

যদি ধরেনি এটা নাও করে থাকে,তবু,মেয়েটার তো সিদ্ধান্ত বদলের অধিকার সবসময় আছে। নাকি এটা ইউজ এন্ড থ্রো পেন,যে একবার রিফিল ঢুকলে আর বদলানো যাবেনা

২. যদি বলে এদ্দিন ছেলেটিকে নিয়ে খেলা হয়েছে,তাহলে বাকি জীবনটাও ঐ মেয়েটির খেলনা হবার এত ইচ্ছে কেন??
৩.টাকা দিলেই বিয়ে করতে হবে নাকি?মানে এদ্দিন মেয়েটির পিছনে খরচা করা হয়েছিল বিয়ের বিনিময়ে??আর টাকা দিলেই যদি বিয়ে করতে হয়,তাহলে তো আমার উচিত ব্যাঙ্ক কে বিয়ে করা

আট বছর প্রেম করেছি মানেই বিয়ে করতে হবে, কোনো একসময় সাহায্য করেছি মানেই তার নিজের সিদ্ধান্ত নেবার, বা আগের সিদ্ধান্ত বদলে দেবার কোনো অধিকার নেই...  তাহলে সেটা ভাবের ঘরে চুরি। দাদা,অ্যামাজনও সিলেক্ট করা জিনিস ফিরিয়ে নেয়। আর প্রেমের ক্ষেত্রে রিজেক্ট করা যাবে না??এ তো নোংরা পুরুষামি...

দিনের শেষে এটা থ্রেটের জয়। কেউ রেপের,কেউ শ্লীলতাহানির,কেউ acid ছোঁড়ার থ্রেট দ্যায়। এ ধর্নার থ্রেট দিয়েছে। বিষয়টা নতুন,তাই আমরা, "হেব্বি করেছে তো" বলে মনের মাধুরি মিশায়ে যুক্তি সাজাচ্ছি। কিন্তু চাপ দেওয়ার ফর্মটা যে বদলেছে সেটা ধরতে পারছি না।

মানতে না চাইলেও,সোসাইটি এখনো বহুলাংশে পুরুষতান্ত্রিক। এবং সম্মান চলে যাওয়াটা,লোকলজ্জার ভয়টা, লোকে কি বলবে সিনড্রোম টা মহিলাদের যেভাবে ফেস করতে হয়,ওভাবে বোধহয় কাউকে ফেস করতে হয় না। ফলতঃ ধর্না করে মেয়েটির সম্মান নিয়ে যেভাবে ছেলেখেলা করা হয়েছে,তাতে আমাদের পি এন পিসি প্রেম উথলে ওঠা টার প্রমান পায়,ছেলেটি দুর্দান্ত প্রেমিক, এইটে মানতে পারা যায় না। যে আপনাকে পাওয়ার জন্য আপনাকে যন্ত্রনা দিতে পারে,সে আপনাকে ভালোবাসতে পারে না। কারন যে ভালোবাসে সে আগে তার প্রেমের ভালো থাকার কথাটা চিন্তা করে।

এক্ষেত্রে ছেলেটি হিরো হয়ে গেলো ঠিকই। কিন্তু মেয়েটিকে ভিলেন বানিয়ে...হিরোইন হলো কি???
ভেবে দেখবেন...

শুক্রবার, ৩ মে, ২০১৯

ভাগাভাগি

দায়িত্ব ভাগের উপকারিতা বিরাট,বিয়ের পর হাড়ে হাড়ে বুঝেছি। নতুন থালায় চাল আর নতুন শাড়ি গিন্নির হাতে তুলে দিয়ে বৌভাতের পর কইলাম,"তোমার ভাত কাপড়ের দায়িত্ব নিলুম।" এর পর ভাত কাপড়ের দায়িত্ব,না,আমি নিই নি। তার স্যালারি বেশি হওয়ায় তিনিই আমার স্যান্ডো গেঞ্জি ও বারমুডার দায়িত্ব নেন। এবং সত্যি সত্যিই আমি গেঞ্জি পরে,নিজে না কেনার আরাম টা ফ্রি পাই।

সেই থেকেই বাড়িতে কাজ ভাগ,মানে আমি মশারি টাঙাই,তিনি ঘুমোন,উনি বকেন,আমি বকুনি খাই,উনি সাজেন,এবং আমি "জুতো পরতে এত টাইম লাগাও" এর মুখঝামটা শুনি,এভাবেই আমাদের রোজকার কাজের দায়িত্ব ভাগ করা আছে। স্বয়ং কালনেমী আমাদের বাড়িতে ভাগের ক্র‍্যাশকোর্স শিখতে এলেন বলে।

ডিকে বোস ছাড়াও ভাগ হয়। অংকের খাতা ছাড়াও ভাগ হয়। ভাগ ভাগ বলে বাচ্ছা তাড়ানো ছাড়াও ভাগ হয়। দায়িত্ব ভাগ করলে চাপ কমে...এমনটা সবাই বলে,তাই মাঝে মাঝে দায়িত্ব ভাগ হোক। গিন্নির ইনকাম করুক,আপনি বাসনটা মাজুন,সত্যি বলছি,গিন্নির ইনকামে বসে বসে ঠ্যাং দোলানোর মজা হেব্বি,আমি বেশ কয়েকদিন করে তোফা ভুঁড়ি বাগিয়েছিলাম। তাই,মশারী টাঙানো প্র‍্যাকটিস করুন,ভাবা পরে প্র‍্যাকটিস করলেও চলবে...

বুধবার, ১ মে, ২০১৯

পেনচুরি

আমাদের অফিসে মুনমুন সেনের বেড টি রাখুন,কেউ শুঁকেও দেখবে না,মিনারেল গো মূত্র রাখুন, কনস্টিপেশানে শয্যাশায়ী কলিগ চেখেও দেখবে না,বিকিনিতে সানি মামনি রাখলে তা ফেলে লোকে পিপিটিতে মুখ গুঁজবে। কিন্তু অরক্ষিত ডটপেন রাখুন,মুহুর্তে কিডন্যাপড। সামান্য এক ডটপেনের জন্য যে পরিমানে নিরাপত্তা রাখা হয় অফিসে,তাতে মোদীজির জেড প্লাস ক্যাটাগরিও হার মানবে। তবু আমাদের অফিসে ডটপেন চুরি যায়। কারন ট্যালেন্ট,চুলকানি আর চুরিকে ঠেকানো যায় নি যাবেও না।

প্রোটেকশান?আছে...অফিসে যতগুলো ক্যামেরা আছে,তার খরচে এমপ্লয়িদের ডটপেনে স্নান করিয়ে দেওয়া যেত, সিকিউরিটি গাড়ির ডিকি ও বুকপকেট চেক করে নেন, এতে পেনচুরি কমেনি, তবে পরকীয়া কমেছে। পকেট সার্চে কোহিনূর ধরা পড়ার পর থেকে পাবলিক আতঙ্কে কম বৌদিপ্রবন। অতঃপর এক জ্ঞানী বানী দিলেন, " প্রোটেকশন সব নয়,আরে বাবা,গোলকীপার থাকলেও তো গোল হয়। প্রোটেকশানেই যদি সব হত তাহলে কি কন্ডোম ফাটা গালিটার সৃষ্টি হত??"

তাই আমি বের করেছি অন্য প্রথা। ইংকপেন। বারোয়ারী ডটপেন চুরির বাজারে, চুরি ঠেকানোর নিনজা টেকনিক।
পেনপ্রেমী ঝরনা কলমে লেখা প্রেফার করে না বোধহয়...

শনিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৯

পুরোনো জামা

১০ বছর ধরে পুরোনো জামাটা বদলানোর কথা ভাবছে শান্ত,কিন্তু হচ্ছে আর কই। দিন দিন আরো নিঘিন্নে হচ্ছে,এইসান কোঁচকানো যে দৈবি আয়রন দিয়েও সোজা হবে না জামাটা,এইসান কুকুরের লেজ। ময়লা হচ্ছে দিনদিন, যায়গায় যায়গায় ছেঁড়া ফাটা,রিফুর সাদা কাপড় ইতিউতি। এই জামা গায়ে এদ্দিন কাটিয়ে দেওয়াটাও রেকর্ড।

হঠাৎ যেন শক্তি পেল শান্ত, ফুরফুরে হালকা ভাব, এক জব্বর লাথিতে পুরোনো জামাটাকে ফেলে যেন খানিকটা উড়েই গেলো,চারপাশে সাদা আলোর ঝলকানি তে দেখতে পেল নতুন ছোট্ট জামাটাকে।

সদ্য জন্মাতে যাওয়া ছোট্ট শিশুটার অন্তরে যখন শান্তর আত্মাটা প্রবেশ করছিলো, ওর পুরোনো নিথর পুরোনো জামা,মানে ৮০ বছরের নিথর দেহটার বাইরে কেউ আবৃত্তি করছিল "বাসাংসি জীর্নানি যথা বিহায়"...

বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ, ২০১৯

পুরানো সেই

২০১১ বিশ্বকাপে হঠাৎ একদিন ইন্ডিয়ান প্র‍্যাকটিস এ দেখা গেল বাঁহাতে ব্যাট করছেন সচিন তেন্ডুলকর। পেপারে বিরাট করে আর্টিকেল বেরোলো, যে এটা হতে চলেছে এই বিশ্বকাপে সচীনের সিক্রেট ওয়েপন। বিপক্ষ স্ট্র‍্যাটেজি কষতে বসে গেলো, যে কিভাবে সচীন বাঁহাতে স্পিনারকে মারতে শুরু করলে তাদের অস্ত্র কি হবে। মোটকথা চারপাশে হইহই ব্যাপার। আসলে গল্পটা লুকিয়ে ছিলো শিবাজী পার্কে, সচীনের ছেলেবেলায়। সন্ধ্যের দিকে টাইম কম থাকতো, দু ইনিংস খেলতে হলে খুদে সচীনের দলবল ঠিক করে নিয়েছিলেন যে একটা ইনিংস সবাই বাঁ হাতে খেলবেন। এমনি করে সচীনের লেফট হ্যান্ডে ব্যাটিংটাও মারাত্মক স্ট্রং হয়ে গেছিলো। এতটাই, যে একদিন প্র‍্যাকটিসে সচীন মজা করেই বলেন,আমি বা হাতে তোদের ছয় মেরে দ্যাখব। ভারতীয় টিমের এক স্পিনারের ৬টা বলে সচীন ৩টে ছয় মারেন। নিছক খেলাচ্ছলে করা সেই ব্যাটিং দেখে প্রেস ভেবে বসে, এবারে বিশ্বকাপে সচীন বোধ হয় বোলার কে চমকে দিতে বা হাতে ব্যাটিং করবেন। ব্যাস,খবর ভাইরাল। মজা করে করা প্র‍্যাকটিসের, সিরিয়াস হয়ে যাওয়া নিউজের এক অদ্ভুত সিন,এটাও

মালা পাসপোর্ট দাদা

পিয় পাসপোর্ট দাদা,

পশ্চিমবাংলায় তোমার পুরো ট্যাক্স ফ্রি হওয়া উচিত। কারন পাসপোর্ট সাদা নীল। এ পাসপোর্ট দাদা, মালার জিন্দেগি জুড়ে শুধুই বর্ডার, তুমি ভালোবাসার পাসপোর্ট-ভিসা দাও না। এমনিতে তো তুমি কিরকেট প্লেয়ার, দাদা, কারন কিরকেটেও স্ট্যাম্প লাগে, পাসপোর্টও। তবে শুনেছি পাসপোর্ট দেবার আগে তুমি দুষ্টু হয়ে যাও, মানে সবাইকে বলো, ফটো না হলে ফোটো।এ পাসপোর্ট দাদা, মালার কাছে এসে একসাথে সেলফি তোলা প্যাকটিস করো না, সবার যা ছবি দাও, যেন বাদরের ছোটো পিসে। তোমার পাসপোর্টের ছবি দেখে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া সেজোখুড়ির জুতো শুঁকিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে বিদেশ ট্যুরের দিব্যি বলছি, তোমার দেওয়া পাসপোর্টে আমি  আমাদের মালাবদলের ফটো লাগাবোই। মেরে ভুল করলেই ফাইন, অফিসে লাইন অনলাইন, আমার পাসপোর্ট দিতে দেরি করলে না সান্টুকে বলে লাইন অমান্য আন্দোলন করাবো। তবে এই ভয়ে আবার ফুলসজ্জায় বলে বোসোনা যেন, ম্যাডাম
দাড়ান,আগে ভেরিফিকেশান হবে
ইতি তোমার অনলাইন এপ্লিকেশান,মালা,এবার আইবে তোমার পালা।

শনিবার, ৯ মার্চ, ২০১৯

তারাদের স্বরলিপি

ঘুমের আড়ালে স্বপ্নরা বাঁচে, মেঘের আড়ালে জল
রাতমুড়ি দিয়ে চাঁদ খুঁজে চলে,তারাদের কোলাহল
আগুনের আঁচ আড়াল পেয়েছে, বোতলের খোলা ছিপি...
সুরগুলো খোঁজে গলার আড়াল, নোটেশান,স্বরলিপি

যারা গান ভুলে গ্যাছে,তাদের গানে ফেরানোর জন্য...

রবিবার, ৩ মার্চ, ২০১৯

মুড স্যুইং

রাতের রঙও বদলেই যায়, চাঁদও মেঘের ওড়না ঢাকে
মনের প্যালেট,জোছনাতুলি, রামধনুরা রাঙায় তাকে

বৃহস্পতিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আপনার নামও কিন্তু সেনাবাহিনী তে

উনি তো চোখের দিকে তাকিয়ে কাপে চুমুক দিতে দিতে বললেন, "এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারবো না" ...আপনি পারবেন তো?

না না না না, আমি আদৌ সেই পোস্ট করছি না, যেখানে বলবো "আপনার ছেলেকে সেনা তে পাঠান" কিংবা, "নিজে তো লড়ে দ্যাখাতে পারতেন, দূর মশাই,ওগুলো ছেলেভোলানো পোস্ট, সে কি আর জানি না, আমাদের ফেবু পোস্ট চলে বাঁকে বাঁকে, যুদ্ধের সময় সেথা উস্কানি থাকে, যাই হোক, কথায় আসি।

আজ থেকে তো আবার ঘুষ দেবেন?পার্কিং লটে সিগন্যাল ভাঙলে ট্র্যাফিক দাদা কে বলবেন, আপনি কাকে কাকে চেনেন কিংবা ৫০ টাকায় ব্যাপারটা রফা করা যায় কিনা?বাড়ির নোংরার কালো প্যাকেটটা রাস্তার ধারে নামিয়ে বেরিয়ে যাবেন, কারন রাস্তাটা অবশ্যই আমাদের বাবার, জাতির জনক, মহাত্মা গান্ধী রোড! সুতরাং রাস্তা নোংরা করা আপনার অধিকার। ইচ্ছে করে রাস্তার কুকুরকে চমকে দেবেন, কারন কুকুর ভোট দেয় না, কারখানার জল ফিলটার না করে স্ট্রেট গঙ্গায় ফেলবেন,মলে গিয়ে বিন্দাস প্ল্যাস্টিকের প্যাকেট নেবেন কারন খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান ও প্ল্যাস্টিকের ব্যাগ আপনার জন্মসিদ্ধ অধিকার। অফিস বা স্কুল থেকে জলদি কাটবেন,ধর্নায় রাস্তা আটকাবেন, হোয়াটস্যাপে ভুয়ো নিউজ এইসান দ্রুত ছড়াবেন যেন নিউজ ফরোয়ার্ডের অস্কার টা আপনাকেই দেওয়া হবে এবার। আই কার্ড চেক না করে সিমকার্ড দেবেন, বাসিন্দা চেক না করে রেশ্ন বা ভোটার কার্ড, মোটকথা মানবধর্মভ্রষ্ট থেকে জল নষ্ট আপনি যা করেন, যা করছেন,তাই করবেন, ভারতের জনসংখ্যা বাড়ছে তো কি, আজকে রোমান্টিক ওয়েদার, আজ কুছ তুফানি করতে হ্যায়, তাই না।

এতে কি হবে, অভ্যেস খারাপ, যে গাড়িটির কাগজ নেই, ৫০ টাকা দিয়ে তিনিও পাস হবেন, আপনি জানবেনও না, যে তাতে কিছু অনৈতিক জিনিস আছে কিনা, ঘুষ দিয়ে দিয়ে আপনি সামনের লোকটির খাবার অভ্যেস বদলে দিলেন, কালো প্যাকেট রাস্তায় রোজ পড়ে থাকে, কেউ যদি তার মধ্যে এক্সপ্লোসিভ রাখে, আপনি ভাববেন ঐ তো দাস বাবুর মতো আরেকজন কেউ বোধহয় কালো প্ল্যাস্টিক রেখেছে,রাস্তার কুকুর ঘেউ ঘেউ করলে মনেই হবে না পাড়ায় অপরিচিত এসেছে, একটু উঁকি মেরে দেখি, কারন আপনি ভাববেন আপনার মত কেউ খিল্লি করেছে,ভুয়ো নিউজটাই একদিন সত্যি বলে মানবেন, মানছেন, প্ল্যাস্টিকে দূষনে ফুসফুস ঝাঁঝরা হলে আপনার সাথে সাথে সেনারও ফুসসুসে অ্যাটাক হবে স্যার,সমাজের জাতির সোসাইটির মেরুদন্ড রোজ রোজ ধ্বংস করে আমরা দেশাত্মবোধক পোস্ট করে নিজেদের ভিকি কৌশল ভাবতেই পারি,কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমি আপনিও জঙ্গি, সবার হাতে বোমা থাকার দরকার পড়ে না, কেউ বোমা দিয়ে ,কেউ উগ্রতা দিয়ে, কেউ উস্কানি দিয়ে, কেউ রোজকার অনাচার দিয়ে অনিয়ম দিয়ে কুরে কুরে চারপাশ কে ফোঁপরা করছি।

যুদ্ধে আপনাকে যেতে হবে না, ফেবুতেও পোস্ট করুন রোজ, কেউ মানা করেনি।কিন্তু যদি এর মাঝে একটুও দেশকে ভালোবাসেন, তাহলে নিয়ম যেটা সেটা মেনে চলুন। তাতে আপনার কষ্ট হবে একটু, হ্যাক থ্যু করে রাস্তায় কফটা ফেলতে পারবেন না, নোস্মোকিং এ টানতে পারবেন না,প্রতিবন্ধী সিট খালি গেলেও খালি রাখুন ভেবে নিন, এই শহরটা আপনার পুলওয়ামা, বা পুঞ্চ...আপনি অভিনন্দন, যেখানে শহরের, সোসাইটির প্রত্যেকটা ভুলের , লাইন টপকে আগে যাওয়ার ইঁদুর দৌড়ে আপনি একজন মিগ এর ফাইটার পাইলট, যিনি বলতে পারেন, স্যরি স্যার, কমফোর্ট টা হবে না হয়তো, কিন্তু আমি ঘুষ দেবো না...আইন ভাঙবো না...