কিংকর্তব্যবিমূঢ়
হাবিজাবি কিংবা অগোছালো,আপাতত প্রোফাইলের মালিক চাপে আছে বলে বিস্তারিত দিতে অপারগ।তবে ইন্সটলমেন্টে কিছু কিছু করে দেওয়া হবে, কারন লেখার সাবসিডি নেওয়া আছে...
বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১
শঙখ ঘোষ
শনিবার, ২৭ মার্চ, ২০২১
লহমা
শুক্রবার, ১৯ মার্চ, ২০২১
কারণবারি
শুক্রবার, ৫ মার্চ, ২০২১
ফ্লাইটকথন
বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
আমাদের দাবী ১
প্রতিবার ভোট আসে এবং নির্লজ্জ ক্ষমতা প্রদর্শনের প্যারেড চলে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে হুমকিও চলে নিরন্তর। পেশীর দাপট, সাথে "আমাদের পিছনে এত লোক আছে" সেটা প্রমান করার চেষ্টা, এ সে আমলেও ছিলো, হাল আমলেও আছে, শত্তুরের মুখে ছাই মাখা বার্বিকিউ চিকেন দিয়ে ভবিষ্যতেও থাকবে...
যেটা বাড়াবাড়ি রকমের হয়ে আসে, সেটা হলো, অন্যে কেন খারাপ, সেটা প্রমান করার চেষ্টা। পজিটিভ ন্যারেটিভে ভোটের প্রচারে এলে বোধহয় আমরা ঠিক "খাই" না। তাই উগ্র, রগরগে, চিতকার সহযোগে ভোটের দাবি ম্যারিনেট করে আমাদের গেলানো হয়, আমরাও সোনা মুখ করে খাই। ও খারাপ, আমি খারাপতর, এই হিসেব মাপতে থাকি...
মাঝে মাঝে মনে হয়, এই চিত্রনাট্যের যদি একটু বদল আসতো, মানে এন কে সলিল থেকে একটু গুলজার টাইপ। রাজনৈতিক দলগুলো অন্যের খারাপ না দেখিয়ে ভালোগুলো তুলে ধরে আরো ভালোর দাবি করতো। মানে অমুক চাল দিয়েছে, আমরা এলে চালের সাথে ডাল দেবো, অমুক এতোগুলো কর্মসংস্থান তৈরি করেছে, আমরা এতোগুলো তৈরি করবো, অমুক এতগুলো রাস্তা করেছে আমরা এতগুলো হাসপাতাল করবো...সেটা না করে দেখে যেতে হয় ও কেন খারাপ, ও কেনো চমকেছে, ও যদি বুঝিয়েছে তবে আমরাও ইঞ্চি ফুট বর্গকিলোমিটার মেপে বুঝিয়ে দেবো।
হয়তো আমাদের দোষ, আমরা মানুষ হিসেবে, সমাজ হিসেবে হয়তো দিন দিন আরো খারাপ হচ্ছি বা খারাপ দেখে অভ্যস্থ হচ্ছি, তাই খারাপের বদলে খারাপটাই অফার করা হয়, খারাপের ন্যারেটিভে ভালোর উদাহরণ টা আসে না। বা কদাচিত এলেও আমরা পাত্তা দিই না, কারন ভালো মানেই নরম, পেলব, নেকুপুষু...তার গায়ে হাত বোলানো যায়, তার দম্ভে মাথায় বসা যায় না হয়তো...
হয়তো রাজনীতিবিদরা বোঝেন না, আমরা ভয় পাই, যারা বলেন আমাদের জন্য নাকি তারা কাজ করছেন, আমরা তাদের সব্বাইকে ভয় পাই,ছেলেবেলায় ক্রেয়নে যে রংগুলো আমাদের ফেভারিট ছিলো সেই সবকটা রঙ আমাদের ভীতির যোগান দেয় নানাভাবে। কিংবা হয়তো তারা জানেন, যে আমরা ভয় পাই, তাই আরো ভয় দেখানোর, আরো কালো,কদর্য ছবিটা নিরন্তর দেখিয়ে যান...
কেউ এটা বলেন না, প্রতি ইঞ্চিতে নয়, প্রতি সপ্তাহে, মাসে, বছরে আপডেট করে যাবো কি কি করছি, হিসেব সহ। আপনারা মিলিয়ে দেখে যাবেন ৫ বছর। স্বচ্ছ হিসেবনিকেশ মিলিয়ে জানাবেন কি বাকি রইলো, আমরাও চেষ্টা করবো, ওনারাও চেষ্টা করুন...আমরা আরো ভালো করবো, ওনাদের ভালোর চেয়েও ভালো...
রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
লাজুক তশরীফ
আমার তশরীফ শিশুর মতো লাজুক...
ছোট্ট শিশু কাব্যি বলতে শিখলে, আত্মীয়ের বাড়ি গিয়ে কিস্যু বলতে চায় না, লজ্জায় মাথা নামিয়ে থাকে,দাঁতে নখ কাটে, পায়ের আঙুলে মাটিতে আঁচড় কাটে কিন্তু কিছুতেই 'ট্যুইংকেল টুইংকেল' বলে না...আমার তশরীফও, আত্মীয়ের নতুন কমোডে মুখ খোলে না...জন্ম ইস্তক শেখানো কাজ, যত অনুনয় করে বলি,"দ্যাখ দ্যাখ, তাকিয়ে দ্যাখ, নতুন কাকু, ইয়ে মানে নতুন কমোড, চকোলেট দেবে, একটু, যাস্ট একটু...পারবি, আচ্ছা আমরা কেউ তাকাচ্ছি না... রডে ঝোলানো গামছা, জলভরা গাড়ু, সবুজ বালতি সব্বাই অন্য দিকে তাকিয়ে দ্যাখ, এইবারে, একটু করে দাও, কাকু গুড বলবে..."
কিন্তু তিনি লজ্জায় মুখ খোলেন না..."
আমার হয়েছে জ্বালা, দার্জিলিং হোক বা দুমকা, লোকে হোটেলের ভিউ এর জন্য রিভিউ দ্যাখে, আমি দেখি কমোডের রং...গোলাপি রঙের কমোড উনি এক্কেবারে পছন্দ করেন না, সাদা রঙের ভালো, তবে পাশে জলের দাগ, শ্যাওলার রঙ টাও ম্যাটার করে...একবার তো আমার বাড়ির বাথরুমের শ্যাওলার রঙের সাথে মেলেনি বলে আগ্রার ট্যুর ক্যানসেল করতে হলো...আরে দাদা তাজমহল ভালো, কিন্ত সেখানের হোটেলের শ্যাওলা গুলো বেশি ডার্ক সবুজ...মিললো না...একবার তো সাদায় অরেঞ্জ রঙ দেখে চমকে কোলে উঠে পড়েছিলো...যত বোঝাই, এখানে জলে আয়রন বেশি, ওটা জং এর দাগ...সে গোঁসা করে বসে রইলো...
মাঝে মাঝে মনে হয়, এটা তশরীফ না ব্রিটনি স্পিয়ার্স??এত্ত ট্যানট্রাম...এর জন্য আত্মীয়দের সাথে সামাজিকতা রাখা যাচ্ছে না, নিজের বাড়ির মেঝেতে এত জল জমে থাকে যে ডলফিনরা এসে টুকি টুকি করে যায়, অথচ পিসি মাসি রাঙাখুড়ো নজ্যেঠির বাথরুমের মেঝে ভিজে থাকলে এমন করে তাকায় যেন দিদি আর এস এস জয়েন করেছে...ওর বাথরুমে আলো কম, এর বাথরুমে মগ ভাঙা, ওর বাথরুমে হড়কে গেলাম, হাজার হাজার বায়না...ফলাফল, মুখ টিপে বসে থাকা...পরিচিতের বাড়ি গেলেই তাই মাটন , চিকেন, চপ , শিঙাড়া দেখে বিরস মুখে বলি...আমার পাতলা করে ঝোল, ডায়েট করছি কিনা...আসল কারন...তশরীফ, বাথরুমে থেকে কাজ করতে পারছে না...
অথচ আমাদের বাথরুম জুড়ে শ্যাওলাদের সুন্দরবন, ময়লাশ্রী এওয়ার্ড পাবে...অর্ধেক দিন ফ্ল্যাশ খারাপ, বালতি করে জল ভরে ঢালতে হয়, একজন ঢুকে পড়লে বাইরে থেকে গিনি গাঁ গাঁ করে চিতকার করে,"আর কতক্ষণ, মোবাইল টা নিয়ে ভিতরে কি করছো" অথচ তখন তিনি চমকে যান না, অচেনা বাথরুমে যিনি তোয়ালে পড়ার আওয়াজে চমকে যান, মুখ টিপে বসে থাকেন...বাড়িতে এলে তার কি ফুর্তি...সাত দিন কোথা থেকে ঘুরে এসে বাড়ির বাথরুম দেখে তার রি একশান, যেন কাজল আর শারুখ, যেন ভোট আর কুৎসা যেন নিউজ চ্যানেলের ঝগড়া, একে অন্যকে ছাড়া অসম্পূর্ণ...
বাইরে মুখ টিপে বসে থাকা লাজুক তশরীফের বাড়িতে হম্বিতম্বি দেখে মনে হয়, বাড়ির বাথরুমে সাইলেন্সার লাগাতে হবে...!!!