বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১

শঙখ ঘোষ

যেখানে কবিতা ধর্মসমান,
শুধুই কাগজে কালির ঋণ,
আজও ঘড়িতে সময় পেরোয়...
রাজ বিরহে স্তব্ধ দিন...

মেলায় স্থপতি আকাশ রেখায়
অংশুকে মেশে রত্নহার
স্বর্গে ছড়ায় শব্দের সুধা
নরকমুক্তি স্পর্শে তার

রাজসূয় শেষ... মহাপ্রস্থান
অনুগামী যুগ শব্দহীন
মিলনসাগরে ঢেউ মিলে যায়
ক্ষত বুকে নিয়ে স্তব্ধ দিন

বাতাস মাথায় চামর দোলায়
রাজছত্র আকাশলোক
প্রকৃতির কোলে এলিয়ে ঘুমোয়
কবিতামাখা ভদ্রলোক

শনিবার, ২৭ মার্চ, ২০২১

লহমা

খুঁজেও চলেছি আঁধার,সেই পথেদের আঁকেবাঁকে...
সেইখানে এক মুঠোভরা ঘরে,স্মৃতিটুকু রাখা থাকে...
অ্যাশট্রের ছাই ঘেঁটে দেখি,যদি ফিরে আসো বলে কয়ে..
সুখটানে তুমি পেরিয়েছো গলি,এক মুহুর্ত হয়ে

শুক্রবার, ১৯ মার্চ, ২০২১

কারণবারি

মদ্যপান ক্ষতিকারক, কারন লিভার খারাপ হোক বা না হোক মদ খেয়ে সত্যিকথা বলে ফেললে ডিভোর্স হতে পারে...

আমি জন্ম মিথ্যুক, তাই আমি মদ ছুঁয়েও দেখি না। এ জীবনে কারনবারির স্বাদ গ্রহণ হলো না বলে আমার দু ক্যুইন্টাল গর্বও আছে, তবে মদ্যপান না করা সর্বদা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়!!!

পার্টিতে আমি সেইসমস্ত হাতেগোনা মানুষদের দলে, যারা দেখি..."এক পেগ, এক পেগ এক নরম্যাল আদমি কো সায়েন্টিস্ট বানা দেতা হ্যায়"। দলে দলে নরম্যাল লোক পার্টিতে ঢোকেন, তারপর কেউ নেতা, কেউ কিশোর কুমার, কেউ দবং, কেউ সায়েন্টিস্ট হয়ে পার্টি থেকে বেরোন। এমনিতে গলায় লাত মারলেও এক ফোঁটা সুর বেরোবেনা,অথচ সুরার পর এইসান গিঁটকিরি দেন,যেন মানবেন্দ্রবাবু আর মান্নাবাবু গলায় হাডুডু খেলছেন।  সবচেয়ে কমন সিনড্রোম হলো দেবদাস... গিন্নি থেকে স্কুলের টিচার, বিনুনি থেকে ববকাট, এ পৃথিবীতে কেউ যে তার প্রেমটা বুঝলো না বলে তিনি শোভন থেকে আজ অশোভন হয়ে পার্টিতে "পি লে পি লে ও মোর জানি" কচ্ছেন, এই দৃশ্য প্রায় প্রতিটা পার্টিতে কমন। এক বয়স্ক ভদ্রলোককে এক পার্টিতে দেখেছিলাম আদর করতে গিয়ে তার বয়স্কা ক্রাশের কন্যেকে ঘুঁষি মেরে রক্তারক্তি করে কান্নায় ভেঙে পড়ে আবার রেগে রজনীকান্ত হতে। এক অসামান্য সুন্দরী কন্যে, ঈষৎ অতিরিক্ত পান করে গাড়িতে চাপার সময় যত গ্যালন বমি ৬টা ইন্সটলমেন্টে করেছিলেন, টালার ট্যাংক অত গ্যালন জল না রাখতে পারার লজ্জায় গলায় দড়ি দিতো। আর আমরা, যারা পার্টিতে অরেঞ্জ জুস বা স্প্রাইট নিয়ে ঘুরছি, তারা অবধারিত ভাবে হয়ে যাই ভলেন্টিয়ার, মাথার ক্লিপ থেকে পায়ের হিল পর্যন্ত বমিরগন্ধশোভিত কন্যাকে বাড়ি অব্দি পৌছে দিতে দিতে কতবার অদৃষ্টকে বলেছি, "আজ মদ্যপান করতে জানলে, এ দুর্ভোগটা আমার হতো না"

আমার এক বন্ধু যেমন রোজ রাত্রে মদ খেয়ে, ব্যালকনিতে গামছা পরে দাঁড়িয়ে গিটার হাতে ভুল সুরে "এটাকি নাইন থ্রি থ্রি টু জিরো..." বলে তারস্বরে ও পারের ব্যালকনির বেলা বোস কে নিজের নাম্বার দেবার চেষ্টা করতো। দৃশ্যটা ভাবুন, শীতকাল, নিউমোনিয়া হবার ভয়ে বন্ধুর মা তাকে ডিজাইনার মাফলার আর বাসকপাতা পাঠিয়েছে, সে বন্ধু সেমি পিকে পোজে , বাসক আর মাফলার ঘরে রেখে, মদের ঘোরে ১কিমি দুরের ব্যালকনিতে নিজের ফোন নাম্বার পাঠানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে। প্রত্যেকবার এই ঘটনার পর বাড়িতে তিনি আসতেন,না না ওই মহিলা নয়, যে ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতাম তার গৃহস্বামী, মাতাল বন্ধুর বরাদ্দ ঝাড় আমি খেতাম...কারন তিনি তখন গামছা না পরে ঘুমোচ্ছেন...সেই থেকে ঠায় বুঝেছি, আসলে মদ্যপান যে করে, আর মদ্যপান যে সহে, তব ঘৃণা তারে তৃণসম দহে...

সুতরাং মদ্যপান করলে, পার্টিতে ফুর্তি, বাড়িতে আনন্দ, আর না করলে, আপনি কেয়ারটেকার...পার্টি বা বাড়ির রামুকাকা বা বিশ্বস্ত রামলাল। কারন তদ্দিনে অফিস জেনে গ্যাছে, এ ব্যাটা নিরীহ,বসে বসে চাখনার বাদাম বা কুরকুরে ধ্বংস করা ছাড়া এর কাজ নেই। রাস্তায় বিয়েবাড়ির প্রসেশন গেলে সাফারি পরা কেউ কেউ  যেমন দায়িত্ত্ব নিয়ে গাড়ি পাস করায়, এ ব্যাটা সব্বাইকে বাড়ি ড্রপ করে শেষে বাড়ি যাবে। শেষতম পার্টিটার গল্প দিয়ে শেষ করি, এক হুমদো কলিগকে বাড়ি ফেরাতে যাচ্ছি, সেদিন আবার ড্রাইভার নেই, অফিসের না , আমারই গাড়ি, পাশে বসে সে রাস্তা চেনাচ্ছে বাড়ির, সল্টলেকে ঢোকার পর যখন ডিরেকশান দিলো যে খালের জলের উপর দিয়ে ড্রাইভ করতে হবে, তখন বাধ্য হয়ে গুগল ম্যাপে ভরসা করলাম। এদিকে খোকার তখন প্রবল ইচ্ছে ড্রাইভ করবে, জীবনে যে সাইকেল চালায়নি, সেযে পার্টি থেকে বেরিয়ে মাইকেল শ্যুমাখার হয়ে গ্যাছে, টের পাইনি...স্টিয়ারিং নিয়েটানাটানি করতে গিয়ে হটাত গায়ের উপর তার পেট থেকে কয়েক লিটার চলকে গেলো। মুহুর্তে গাড়ি, আমার শার্ট সর্বত্র গন্ধে গন্ধগোকুল...এমন সময় সার্জেন্ট গাড়ি থামালেন...আমি অভ্যেসবসত বলে ফেলেছি, "স্যার, ওই ফ্যামিলি নিয়ে যাচ্ছি ওয়াইফের শরীরটা খারাপ"(মানে সার্জেন্ট ধরলেন গিন্নি হার্ট এটাকের অভিনয় করে, আর আমি এই যুক্তিটাই দিই) বলেই খেয়াল হয়েছে, মরেচে, আজ তো গিন্নি নেই, তাছাড়া পাশের সিটে এটা সোমত্থ পুরুষমানুষ...সার্জেন্ট খস খস করে বিল কেটে বললেন, গা দিয়ে ভুরভুর করে গন্ধ বেরোচ্ছে...ড্রিংক এন্ড ড্রাইভের ফাইন লাগবে...

বিশ্বাস করুন...আগুন জ্বালিয়ে নিজে অগ্নীপরীক্ষা দিয়ে দেখাতে যাচ্ছিলাম, যে জীবনে মদ ছুঁই নি, কিন্তু পকেটে হাত দিয়ে আবিষ্কার করলাম...আমি তো স্মোকও করিনা...!!!

সাধে কি আর বলি যে, মদ্যপান খারাপ...যে পান করে তার লিভার খারাপ হয়...যে দ্যাখে, তার কপাল...!!!

#লসাগু_গসাগু

শুক্রবার, ৫ মার্চ, ২০২১

ফ্লাইটকথন

ফ্লাইটে আপনি কেন চাপেন?

দ্রুত পৌঁছাতে? জানলা দিয়ে মেঘকে টুকি করতে? আমাদের বাড়ির লোক প্লেনের বাথরুম দেখতে ফ্লাইটে যায়।

এমনিতে আমরা বনেদী পেটপাতলা, রেলের লাইন থেকে বর্ধমান স্টেশান, মায়াপুরের মন্দির থেকে চাঁদসী ঔষধালয়,সর্বত্র বাথরুম দেখলেই টুকি করে আসি,তবে ফ্লাইটের টা অন্য। ওইটা নিছক কৌতুহল। মানে প্লেনের ছিটকিনি আমাদের মতো ভাঙা কিনা, ওখানেও ট্রেনের মতো শিকল দেওয়া মগ আছে কিনা, অত উপরে করলে পড়ে কার মাথায়,ইত্যাদি নানাবিধ গবেষনা করতে মা ফ্লাইট আকাশে চাপতেই বলে বসলো, "যাই,টুক করে বাথরুম টা দেখে আসি,পরে কবে আবার চাপবো জানা নেই"।

ভাবুন,একটা বাথরুম দেখার জন্য এত দিন আগে থেকে,এত দাম দিয়ে টিকিট কেটে এত সিকিউরিটি  চেক করে প্লেনে বসেছি। এর আগে মায়ের সাথে টেনশান এমন করে লেপ্টে ছিলো,যেন ভোট আর দলবদল। ফ্লাইটে চাপার আগে বাসে করে রানওয়ে তে যাবে, মা আঁতকে উঠলো," সেকি,বাসে কেন? টিকিটের দাম ফেরত দেবে?বাসে করে নিয়ে যাচ্ছে যে?ও এটা করে প্লেনের কাছ অব্দি নিয়ে যায়?ভাড়া দিতে হবে নাকি আবার? গতবার যে হেঁটে গেলাম"

বাবা তার মধ্যে বার চারেক মাস্ক নামিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে জানতে চেয়েছে আমার চরিত্রহীনতা কোন পর্যায়ে পৌঁছে গ্যাছে,যে একজন সুন্দরী মহিলা দেখে আমি ল্যা ল্যা করে সব ব্যাগ চেক করিয়ে আর ফেরত নিই নি। আবার, "ব্যাগগুলো নিলি না" বলে চেঁচিয়ে লাইনশুদ্ধ লোককে হার্ট অ্যাটাক করাবার উপক্রম করাতে আমি যে দাবড়ানি দিয়ে চুপ করিয়েছি তাতে বাবার স্থির ধারনা হয়েছে ওই প্লেনের টিটি মহিলার সাথে আমার চক্কর আছে। গোটা রাস্তা বলতে বলতে এসেছে,"ওই মেয়েটার সাথে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলতে বলতে ব্যাগগুলো কোথায় গ্যালো খেয়াল করেনি অকর্মার  ঢেঁকি"।

এইসব সহ্য করে,চোখ কান বুজে শাহরুখ পোজে দাঁড়িয়ে ছিলুম,কারন,এক এয়ারপোর্ট সবকো শাহরুখ খান বানা দেতা হ্যায়। দুই হাত দু দিকে ছড়িয়ে বগলমে মেটাল ডিটেকটার কা সুড়সুড়ি সহ্য করনা পড়তা হ্যায়...

শুধু আমার বাড়ির লোক শাহরুখ হয় না,তারা বলে চলে, "ওই মহিলা মাস্ক পরেনি...ওই কফির দাম দেড়শো,ওরেব্বাপ্রে,আমি বাড়িতে বানিয়ে দেবো চল খাবি...আরে ব্যাগগুলো এলো না,আমরা প্লেনে চাপার পর যদি এখানেই পড়ে থাকে...তুমি টিকিটটা ধরো আমি জল খেয়ে আসি...বাথরুমে কলে জল পড়ছে না...ও টিপতে হয় না,শুধু হাত দিলেই পড়ে,অটোমেটিক, ইসস কত জল নষ্ট বল...এই টিকিটটা পাচ্ছি না...বলছি ব্যাগগুলো পাওয়া যাবে তো..."আমাদের আশে পাশের সব্বাই শুনতে পায় তাকায়...

আমি শুধু শুনি না....কারন প্লেনে চাপলে আমার কানে তালা লাগে

#লসাগু_গসাগু

বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

আমাদের দাবী ১

প্রতিবার ভোট আসে এবং নির্লজ্জ ক্ষমতা প্রদর্শনের প্যারেড চলে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে হুমকিও চলে নিরন্তর। পেশীর দাপট, সাথে "আমাদের পিছনে এত লোক আছে" সেটা প্রমান করার চেষ্টা, এ সে আমলেও ছিলো, হাল আমলেও আছে, শত্তুরের মুখে ছাই মাখা বার্বিকিউ চিকেন দিয়ে ভবিষ্যতেও থাকবে...

যেটা বাড়াবাড়ি রকমের হয়ে আসে, সেটা হলো, অন্যে কেন খারাপ, সেটা প্রমান করার চেষ্টা। পজিটিভ ন্যারেটিভে ভোটের প্রচারে এলে বোধহয় আমরা ঠিক "খাই" না। তাই উগ্র, রগরগে, চিতকার সহযোগে ভোটের দাবি ম্যারিনেট করে আমাদের গেলানো হয়, আমরাও সোনা মুখ করে খাই। ও খারাপ, আমি খারাপতর, এই হিসেব মাপতে থাকি...

মাঝে মাঝে মনে হয়, এই চিত্রনাট্যের যদি একটু বদল আসতো, মানে এন কে সলিল থেকে একটু গুলজার টাইপ। রাজনৈতিক দলগুলো অন্যের খারাপ না দেখিয়ে ভালোগুলো তুলে ধরে আরো ভালোর দাবি করতো। মানে অমুক চাল দিয়েছে, আমরা এলে চালের সাথে ডাল দেবো, অমুক এতোগুলো কর্মসংস্থান তৈরি করেছে, আমরা এতোগুলো তৈরি করবো, অমুক এতগুলো রাস্তা করেছে আমরা এতগুলো হাসপাতাল করবো...সেটা না করে দেখে যেতে হয় ও কেন খারাপ, ও কেনো চমকেছে, ও যদি বুঝিয়েছে তবে আমরাও ইঞ্চি ফুট বর্গকিলোমিটার মেপে বুঝিয়ে দেবো। 

হয়তো আমাদের দোষ, আমরা মানুষ হিসেবে, সমাজ হিসেবে হয়তো দিন দিন আরো খারাপ হচ্ছি বা খারাপ দেখে অভ্যস্থ হচ্ছি, তাই খারাপের বদলে খারাপটাই অফার করা হয়, খারাপের ন্যারেটিভে ভালোর উদাহরণ টা আসে না। বা কদাচিত এলেও আমরা পাত্তা দিই না, কারন ভালো মানেই নরম, পেলব, নেকুপুষু...তার গায়ে হাত বোলানো যায়, তার দম্ভে মাথায় বসা যায় না হয়তো...

হয়তো রাজনীতিবিদরা বোঝেন না, আমরা ভয় পাই, যারা বলেন আমাদের জন্য নাকি তারা কাজ করছেন, আমরা তাদের সব্বাইকে ভয় পাই,ছেলেবেলায় ক্রেয়নে যে রংগুলো আমাদের ফেভারিট ছিলো সেই সবকটা রঙ আমাদের ভীতির যোগান দেয় নানাভাবে। কিংবা হয়তো তারা জানেন, যে আমরা ভয় পাই, তাই আরো ভয় দেখানোর, আরো কালো,কদর্য ছবিটা নিরন্তর দেখিয়ে যান...

কেউ এটা বলেন না, প্রতি ইঞ্চিতে নয়, প্রতি সপ্তাহে, মাসে, বছরে আপডেট করে যাবো কি কি করছি, হিসেব সহ। আপনারা মিলিয়ে দেখে যাবেন ৫ বছর। স্বচ্ছ হিসেবনিকেশ মিলিয়ে জানাবেন কি বাকি রইলো, আমরাও চেষ্টা করবো, ওনারাও চেষ্টা করুন...আমরা আরো ভালো করবো, ওনাদের ভালোর চেয়েও ভালো...  

রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

লাজুক তশরীফ

 আমার তশরীফ শিশুর মতো লাজুক...


ছোট্ট শিশু কাব্যি বলতে শিখলে, আত্মীয়ের বাড়ি গিয়ে কিস্যু বলতে চায় না, লজ্জায় মাথা নামিয়ে থাকে,দাঁতে নখ কাটে, পায়ের আঙুলে মাটিতে আঁচড় কাটে কিন্তু কিছুতেই 'ট্যুইংকেল টুইংকেল' বলে না...আমার তশরীফও, আত্মীয়ের নতুন কমোডে মুখ খোলে না...জন্ম ইস্তক শেখানো কাজ, যত অনুনয় করে বলি,"দ্যাখ দ্যাখ, তাকিয়ে দ্যাখ, নতুন কাকু, ইয়ে মানে নতুন কমোড, চকোলেট দেবে, একটু, যাস্ট একটু...পারবি, আচ্ছা আমরা কেউ তাকাচ্ছি না... রডে ঝোলানো গামছা, জলভরা গাড়ু, সবুজ বালতি সব্বাই অন্য দিকে তাকিয়ে দ্যাখ, এইবারে, একটু করে দাও, কাকু গুড বলবে..."

কিন্তু তিনি লজ্জায় মুখ খোলেন না..."

আমার হয়েছে জ্বালা, দার্জিলিং হোক বা দুমকা, লোকে হোটেলের ভিউ এর জন্য রিভিউ দ্যাখে, আমি দেখি কমোডের রং...গোলাপি রঙের কমোড উনি এক্কেবারে পছন্দ করেন না, সাদা রঙের ভালো, তবে পাশে জলের দাগ, শ্যাওলার রঙ টাও ম্যাটার করে...একবার তো আমার বাড়ির বাথরুমের শ্যাওলার রঙের সাথে মেলেনি বলে আগ্রার ট্যুর ক্যানসেল করতে হলো...আরে দাদা তাজমহল ভালো, কিন্ত সেখানের হোটেলের শ্যাওলা গুলো বেশি ডার্ক সবুজ...মিললো না...একবার তো সাদায় অরেঞ্জ রঙ দেখে চমকে কোলে উঠে পড়েছিলো...যত বোঝাই, এখানে জলে আয়রন বেশি, ওটা জং এর দাগ...সে গোঁসা করে বসে রইলো...

মাঝে মাঝে মনে হয়, এটা তশরীফ না ব্রিটনি স্পিয়ার্স??এত্ত ট্যানট্রাম...এর জন্য আত্মীয়দের সাথে সামাজিকতা রাখা যাচ্ছে না, নিজের বাড়ির মেঝেতে এত জল জমে থাকে যে ডলফিনরা এসে টুকি টুকি করে যায়, অথচ পিসি মাসি রাঙাখুড়ো নজ্যেঠির বাথরুমের মেঝে ভিজে থাকলে এমন করে তাকায় যেন দিদি আর এস এস জয়েন করেছে...ওর বাথরুমে আলো কম, এর বাথরুমে মগ ভাঙা, ওর বাথরুমে হড়কে গেলাম, হাজার হাজার বায়না...ফলাফল, মুখ টিপে বসে থাকা...পরিচিতের বাড়ি গেলেই তাই মাটন , চিকেন, চপ , শিঙাড়া দেখে বিরস মুখে বলি...আমার পাতলা করে ঝোল, ডায়েট করছি কিনা...আসল কারন...তশরীফ, বাথরুমে থেকে কাজ করতে পারছে না...

অথচ আমাদের বাথরুম জুড়ে শ্যাওলাদের সুন্দরবন, ময়লাশ্রী এওয়ার্ড পাবে...অর্ধেক দিন ফ্ল্যাশ খারাপ, বালতি করে জল ভরে ঢালতে হয়, একজন ঢুকে পড়লে বাইরে থেকে গিনি গাঁ গাঁ করে চিতকার করে,"আর কতক্ষণ, মোবাইল টা নিয়ে ভিতরে কি করছো" অথচ তখন তিনি চমকে যান না, অচেনা বাথরুমে যিনি তোয়ালে পড়ার আওয়াজে চমকে যান, মুখ টিপে বসে থাকেন...বাড়িতে এলে তার কি ফুর্তি...সাত দিন কোথা থেকে ঘুরে এসে বাড়ির বাথরুম দেখে তার রি একশান, যেন কাজল আর শারুখ, যেন ভোট আর কুৎসা যেন নিউজ চ্যানেলের ঝগড়া, একে অন্যকে ছাড়া অসম্পূর্ণ...

বাইরে মুখ টিপে বসে থাকা লাজুক তশরীফের বাড়িতে হম্বিতম্বি দেখে মনে হয়, বাড়ির বাথরুমে সাইলেন্সার লাগাতে হবে...!!!

শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

ক্রেডিট কার্ডে লোন

কারো কাছে হিরে মানিক স্টোন আছে,কারো কাছে বিল গেটস এর বোন আছে...আমার ক্রেডিট কার্ডে লোন আছে...

ফাঁকা সময়ে,আগে সুন্দরী দের পিং করতাম,এখন যে পাইকারী হারে বিয়ে হচ্ছে, সাথে চব্বিশ ঘন্টা গিন্নি আশেপাশে ঘুরুঘুর করছে তাতে সেটা করাটা বিপজ্জনক, তাই ফ্রি থাকলেই ফ্ল্যাটের দেখি বা বিদেশের ট্যুর প্ল্যান করি...প্ল্যান তো করি,কিন্তু হয়ে ওঠে না,কারন আমার বাথরুমে শ্যাওলা আর ক্রেডিট কার্ডে লোন...

বাড়ি কেনার app এ এমন করে ফ্ল্যাট বাড়ি এপার্টমেন্টের দাম ১কোটি ২কোটি লেখা থাকে যেন শুভদৃষ্টি তে মা পানপাতা খুলে আমার টেকো বাবাকে না দেখে বিল গেটস কে দেখেছিলো। রাস্তার ধারে এপার্টমেন্ট হলে ২.৫কোটি,ভিতরের দিকে হলে ১.৫...একবার তো পেপারে দেওয়া নম্বরে ফোন করে দাম জিজ্ঞেস করায় ভীষণ স্টাইল করে এক মহিলা বললেন,শুধু আমার জন্য,আমার জন্য বিরাট কোহলীর চেয়েও বিরাট ডিসকাউন্ট দিচ্ছেন,যাতে ফ্ল্যাটের দাম পড়বে মাত্র ৭০ লাখ!!! আমি বিনীত হয়ে বলেছিলাম,"কাকিমা,আধ কোটি টাকা আমার কাছে থাকলে কি আমি ফ্ল্যাট কেনার আগে চাকরি ছেড়ে দিতাম না??তাও কিনতাম হয়তো,কিন্তু আমার ক্রেডিট কার্ডের লোন..."

তবু আমি দেখে যাই,পেপারে পাতাজোড়া ছবিওয়ালা ঊষা উত্থুপ,রজতাভ দত্ত হাত বাড়িয়ে "আয় আয়, এই ফ্ল্যাটে থেকে যা" বলে ডাকে...আমি এক কোটি টাকার ই এম আই এর নামতা মুখস্ত বলে যাই।প্রতি সপ্তাহে একটা ব্যাঙ্কে হানা দিই।ম্যানেজার এর সামনে বসে চা খাই,উনি উৎসাহে লোন নেবার সুফল বোঝান, তারপর "বাড়ি কেনবার তো খুবই ইচ্ছে কিন্তু বয়স্ক মা,বুঝছেন তো, অন্য কোথাও যেতে চায় না, দেখি রাজি করাতে পারি কিনা" এই ঢপ টা বারোয়ারী ভাবে দিয়ে আসি...বেরিয়ে ঘাম মুছি,উল্টোদিকের রোলের দোকানে ক্রেডিট কার্ড স্যোয়াইপ করে ইয়াব্বড় রোল খেয়ে দেখি...আমার ক্রেডিট কার্ডে...লোন...

তবে ইনফর্মেশান নিয়ে রাখি,কলকাতার কোথায় জমি বাড়ির দাম কত যাচ্ছে,কোথায় দো তলা তিন তলা বাড়ি আছে, বাড়ির এজেন্ট দের ছেলেমেয়ে কোন স্কুলে পড়ে, তাদের বাবার বাতের ব্যাথায় ঘৃতকুমারী তেল লাগায় কিনা মোটামুটি সব আমার জানা। যে টেলিকলার স্টাইল করে কথা বলা মহিলা(কাকিমা) আধ কোটির ফ্ল্যাটের খবর দিয়েছিলেন,তাকেও ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছি...

তবে তাদের পিং টা করিনা, কারন গিন্নি চারপাশে ঘুরঘুর করে...বিপজ্জনক... তাই কাস্টমার সার্ভিস নম্বরে কল করে নিই...গিন্নি জিজ্ঞেস করলে বলি,ওই ফ্ল্যাটের খোঁজ করছিলাম,নেবো না যদিও...আমার তো ক্রেডিট কার্ডে লোন...