বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

চোখের উপরে জমে চলে ক্ষোভ,জমে প্রহরের ঢিপি
রাতেরাই জানে কোথায় হারায়,ঘুমেদের স্বরলিপি

শ্বাসগুলো যেনো একা হয় রোজ, হারানো মানুষ যেমন
পলকেরা দ্যাখে, ঘুম ভাঙলেই,তারাদের মনকেমন

ঘড়িরা বিলোয় শব্দ, কেউ বা চ্যাটবক্স ঘরে ঘরে
মাঝরাতে রোজই বৃষ্টি নামে?মনখারাপের পরে?

কলঙ্কেরা কালিও জমায়, চোখের রকমফের...
স্বপ্নেরা তাই খুঁজে খুঁজে ফেরে,স্বরলিপি,ঘুমেদের

রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

কবি বলেছিলেন,"অন্তরে অতৃপ্তি রবে,সাঙ্গ করি মনে হবে,শেষ হয়ে হইলো না শেষ"। যারা ভাবছেন ছোটগল্প তারা ভুল,ডাহা ফেল। এটা হলো মধ্যবিত্তের স্যান্ডো গেঞ্জি, পরে আছেন,অথচ ফিল হচ্ছে না... মানে না পরলেই বা কি এসে যেতো,কারন গেঞ্জি এত ঢলঢলে,পাড়ার মেয়ে হলে নির্ঘাত ঢলানি তকমা পেতো। বাইরে জামা চকচকে অথচ স্যান্ডো গেঞ্জিতে ফুটো। "জামাটা পরে দ্যাখতো" বললে যে পুরুষ ইতিউতি বাথরুম খোঁজে না, সে নির্ঘাত আগের দিনই শপিং করেছে।তাই শুধু হিরোরাই গেঞ্জি পরে ছবি দেয়,কোনো মধ্যবিত্ত পুরুষ,যত বডিই থাকুক না কেনো,স্যান্ডো গেঞ্জি পরে সেলফি তোলে না।কারন গেঞ্জি হলো গীতায় বর্ণনা করা আত্মার মতো,যার ফুটো আছে,ইলাস্টিক ঢিলে হয়ে বগলের ঝুল কোমরের কাছে ঝুলে যাওয়া আছে তথাপি তার বিনাশ নেই,কেবল গেঞ্জি থেকে ন্যাতাতে ট্রান্সফার হয়েও ওভারটাইম করতেই থাকে।

আসলে বাঙালি চিরকাল চালাক,ডোবার র সামনে ছবি তুলে ফিল্টার মেরে ছবি পোস্টায়,"সেলফি উইথ গ্রিন কচুরিপানা",মানে বাইরে হ্যাভিং গ্রিন ভেজিটেবল ইন ডিনার,ট্যাগিং সেভেন্টিন অদার্স, ফিলিং হেব্বি লাকি এন্ড ব্লিসফুল,আসল মানে হচ্ছে স্টেনলেস স্টিলের থালায় দুপুরের বাসি রুটি সাথে কুমড়োর ছক্কা। অন্তর্নিহিত অর্থ, এ মাসেও ইনক্রিমেন্ট হয়নি। 

তাই আমি কোত্থাও গেলে পারতপক্ষে কারুর বাড়িতে ঢুকি না। কারন,জুতো খুলতে হবে...এমনিতে প্রকৃত বাঙালির মশারি আর মোজাতে ফুটো থাকবেই। পুজোতে পুরোনো জামা বাতিল হয়ে ঝুলঝাড়া হয়,প্যান্ট বাতিল হয়ে পাপোশ হয়,কিন্তু মোজা হলো হার্টের মতো। তার ছুটি নেই। সে গোড়ালি ঢাকতে পারবে না, তাও তাকেই রেখে দেওয়া হবে, তার ইলাস্টিক নেই,মিস্টির প্যাকেট থেকে গার্ডার খুলে তাকে এমন করে টাইট করা হবে যেনো ওটা গার্ডার কম রকেট ক্যাপসুল বেশি। তাও ফ্যালা হবে না। এ যেন চেনা কাজের মাসি,কামাই করো,প্লেট বাজে ধোও,কুছ পরোয়া নেই, কোন মতে চালিয়ে নেবো। যদি কোনো বাঙালি নতুন মোজা মাসে মাসে বদলায়, চেক করে নেবেন আম্বানিসাহেব গো এজ ইউ লাইকে বাঙালি সেজেছে কিনা।

তাই আমাদের ফ্রিজে বরফ আর দরজার ছিটকিনি তে গার্ডার জমানো হয়। যে সাহসিকতা সহ, তার বার্ধক্যে, ভি আর এস না নিয়ে,আন্ডারপ্যান্ট তার দায়িত্ব পালন করে তার জরাজীর্ণ দেহে, তা দেখে জল আসে...চোখে...তাই তাকে ব্যালকনিতে মেলা হয় না,পাছে লোকজন দেখে ফ্যালে। 

গেঞ্জি, জাঙিয়া, মোজা আরো একবার প্রমাণ করে,আমরা আজো শোষণ করে চলি, পোষাকের শ্রমিক শ্রেনী কে, ধনী জামাকাপড় ধনী তম হয়, আর গরীব অন্তর্বাস গরীবতম,কারন সে বেচারা সামনে আসে না।যেন অন্তরালে থাকা টেকনিশিয়ান,যেন প্লেটের তলায় রাখা টেবিলম্যাট, একসেট দামি চাড্ডি,শ্রমিকনেতা হয়ে বাকি দরিদ্রদের ভাত মেরে চলে আজও,সাহিত্যে, ফটোশেসানে,র‍্যাম্পে তাই পাঞ্জাবি শাড়ি জামা বা প্যান্টের প্রশংসা হয়, অন্তর্বাস পরা হিরো বেচারা ব্যালকনি তে প্রানশংসয় করে দাঁড়িয়ে থাকে।

শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

কবীর সুমন বিতর্ক ও কিছু কথা...

প্রথমেই,ফোনকল টা আমিই করেছিলাম। 

যারা আমাকে চেনেন বা জানেন,তারা এটা ভালোমতই জানেন যে বাংলা ভাষা নিয়ে অবমাননাকর কিছু আমি বলবো না। তাহলে সমস্যা টা কোথা থেকে এলো?

১.বক্তব্য শেষ করতে দেওয়া হয় নি,বা উনি বুঝতে পারেন নি। যদি থাকে বিষয়ে বিতর্ক,তার মানে পক্ষে বিপক্ষে মতামত থাকবে,কেউ মাথার দিব্যি দিচ্ছেনা যে পক্ষেই বলতে হবে

২. কনটেন্ট এথিকস ব্রেক। আপনাকে সিনেমার গল্প শোনালাম,ভালো লাগলো না,আপনি কি কালকে গিয়ে আউট করে দেবেন? নাকি রিলিজের পর বলবেন? রেডিও সঞ্চালকদের তেমনই বিষয়। সেটা আউট করে দেওয়াটা তাও সম্পূর্ণ ভুলভাবে সেটা কাম্য নয়।

৩. বিতর্ক মানে তার একটা স্পর্শকাতর দিক থাকতেই পারে,সেটা যুক্তি দিয়ে খন্ডন করা টা কাম্য। যদি বিষয়টাতেই কিছু বলবো না বলেন,সেটা গণতন্ত্র হবে কিকরে?


শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

মাতৃভাষা ড্রাফট

আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসেনা,কাব্যিক নয়,বাস্তবেই কারুর কারুর কাছে এটা শ্লাঘার বিষয়,মানে ইংরেজিটা কতটা রপ্ত করেছি ভাবো।ভালোবাসার জিনস,গাড়ি,বা বাড়ি। নামকরনে ইংরেজি নেমপ্লেট। গুষ্টিশুদ্ধ বাঙালী,আপনি app ট্যাক্সি দাদাও নন যে ইংরেজি না লিখলে যাত্রী বুঝবেন না, তাও বাংলায় নেমপ্লেট লেখেন না। সিনেমার জন্য প্রথম পছন্দ ইংরেজি,গানে হিন্দি স্ট্রিমিং এ বাংলায় টেক্কা দেয় বাংলা গানকেই। মাইকেল মধূসূদন দত্ত বলেছিলেন মাতৃভাষা রূপখনি পূর্ণ মণিজালে,কিন্তু চাকরি?সেটা চাইতে গেলে,মানে পেট চালাতে গেলে ইন্টারভিউ তে,সেমিনারে মিটিং এ ইংরেজি, আমরা সব্বাই হিন্দিটা কাজ চালানো গোছের শিখে গেলাম,কই বাংলা টা তো সবাই রপ্ত করলো না। ঝগড়ায় আপনি অনর্গল হিন্দি ইংরেজিবলেন,রেগে গেলে ইংরেজিতে গালি দেন,মদ্যপান করলে মানে বাংলা খেয়েও আপনি ইংরেজিতে কথা বলেন,ফলে প্রশ্ন উঠলো, বাংলা ভালোবাসা নয়?ভালো ভাষাও নয়?মানে অন্য ভাষা র দাপটে চাকচিক্যে আধমরা আমরা ঘা মেরে বাঁচতে পারি কিনা,সেই রবীন্দ্র দাওয়াই পরখ করলাম, সটান এই প্রশ্ন তুলে যে 
বাংলা ভালোবাসাও নয়?ভালো ভাষাও নয়??পক্ষে বিপক্ষে মতামত দিতে এগিয়ে এলেন এ বাংলার তারকারা। মানে সাহিত্য শিল্প সঙ্গীত বা ভাষার জগতের তারকারা...

বাংলা টা ঠিক আসে না যাদের,তাদের বাপি বাড়ি যা করে দিলেন সুবোধ সরকার

যারা ভাবেন,বাংলা শিখে আমার ছেলেমেয়ে চাকরি পাবে না,তাদের জবাব দিলেন পবিত্র সরকার

গ্রহণযোগ্য কিনা  সেটা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে,তাকে খন্ডন করলেন সুবোধ সরকার...

অনুপম

অনিন্দ্য

সঙ্গীতা
 
প্রায় ৯৯শতাংশ মতদাতা বিরুদ্ধে ভোট করলেন। কোনো বিতর্কে যা অভূতপূর্ব।  অর্থাৎ আরো একবার প্রমাণিত হলো, মাতৃভাষার ব্যাপারে বাংলা এককাট্টা, এখানে ন্যুনতম আঁচড় আজও বাঙালির না পসন্দ।  সাহিত্যে,কাব্যে, গরিমায়, আজও বাঙলা ভালোবাসার,ভালো ভাষার,রোজ হোক এই ভালোবাসার ও ভালোভাষার উদযাপন...শুভ মাতৃভাষা দিবস। 

বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

পি এন পি সি

পরীক্ষা হলে কমন প্রশ্নের উত্তর, গরুর লাঞ্চের খাবার,আর মহিলারা কোনো খবর,জানলে...সেটা উগরে দেবেই। মানে চেপে রাখতে পারবে না। এমনটা চিরকাল শুনে এসেছি, মহিলা রা পেটে কথা রাখতে পারে না। মানে প্রথম গসিপ,প্রথম প্রেম, ছাদে কে কার দিকে তাকিয়ে উদাস হলো,কার প্রেমপত্রে কটা বানান ভুল, কে কার দেওরের সাথে ইয়ে, কার কত্তা গিন্নির দিকে ফিরেও তাকায়না 
   
প্রবল ঘুঁষিতে ফাটিয়ে ফেললো মুখ,
চামড়া জুড়ে গরম তেলের ছিটে...
হজম করেছে,করে যায় মুখ বুজে...
ফাউন্ডেশানে ঢেকে যায় কালশিটে...
ফিসফাস চলে,জানেও কিন্তু তাও
কোনো কথাকেই গায়ে সেতো মাখে না...
আপনি বললে বলতে পারেন বটে
মেয়েদের পেটে,কোনো কথা থাকে না...