কবি বলেছিলেন,"অন্তরে অতৃপ্তি রবে,সাঙ্গ করি মনে হবে,শেষ হয়ে হইলো না শেষ"। যারা ভাবছেন ছোটগল্প তারা ভুল,ডাহা ফেল। এটা হলো মধ্যবিত্তের স্যান্ডো গেঞ্জি, পরে আছেন,অথচ ফিল হচ্ছে না... মানে না পরলেই বা কি এসে যেতো,কারন গেঞ্জি এত ঢলঢলে,পাড়ার মেয়ে হলে নির্ঘাত ঢলানি তকমা পেতো। বাইরে জামা চকচকে অথচ স্যান্ডো গেঞ্জিতে ফুটো। "জামাটা পরে দ্যাখতো" বললে যে পুরুষ ইতিউতি বাথরুম খোঁজে না, সে নির্ঘাত আগের দিনই শপিং করেছে।তাই শুধু হিরোরাই গেঞ্জি পরে ছবি দেয়,কোনো মধ্যবিত্ত পুরুষ,যত বডিই থাকুক না কেনো,স্যান্ডো গেঞ্জি পরে সেলফি তোলে না।কারন গেঞ্জি হলো গীতায় বর্ণনা করা আত্মার মতো,যার ফুটো আছে,ইলাস্টিক ঢিলে হয়ে বগলের ঝুল কোমরের কাছে ঝুলে যাওয়া আছে তথাপি তার বিনাশ নেই,কেবল গেঞ্জি থেকে ন্যাতাতে ট্রান্সফার হয়েও ওভারটাইম করতেই থাকে।
আসলে বাঙালি চিরকাল চালাক,ডোবার র সামনে ছবি তুলে ফিল্টার মেরে ছবি পোস্টায়,"সেলফি উইথ গ্রিন কচুরিপানা",মানে বাইরে হ্যাভিং গ্রিন ভেজিটেবল ইন ডিনার,ট্যাগিং সেভেন্টিন অদার্স, ফিলিং হেব্বি লাকি এন্ড ব্লিসফুল,আসল মানে হচ্ছে স্টেনলেস স্টিলের থালায় দুপুরের বাসি রুটি সাথে কুমড়োর ছক্কা। অন্তর্নিহিত অর্থ, এ মাসেও ইনক্রিমেন্ট হয়নি।
তাই আমি কোত্থাও গেলে পারতপক্ষে কারুর বাড়িতে ঢুকি না। কারন,জুতো খুলতে হবে...এমনিতে প্রকৃত বাঙালির মশারি আর মোজাতে ফুটো থাকবেই। পুজোতে পুরোনো জামা বাতিল হয়ে ঝুলঝাড়া হয়,প্যান্ট বাতিল হয়ে পাপোশ হয়,কিন্তু মোজা হলো হার্টের মতো। তার ছুটি নেই। সে গোড়ালি ঢাকতে পারবে না, তাও তাকেই রেখে দেওয়া হবে, তার ইলাস্টিক নেই,মিস্টির প্যাকেট থেকে গার্ডার খুলে তাকে এমন করে টাইট করা হবে যেনো ওটা গার্ডার কম রকেট ক্যাপসুল বেশি। তাও ফ্যালা হবে না। এ যেন চেনা কাজের মাসি,কামাই করো,প্লেট বাজে ধোও,কুছ পরোয়া নেই, কোন মতে চালিয়ে নেবো। যদি কোনো বাঙালি নতুন মোজা মাসে মাসে বদলায়, চেক করে নেবেন আম্বানিসাহেব গো এজ ইউ লাইকে বাঙালি সেজেছে কিনা।
তাই আমাদের ফ্রিজে বরফ আর দরজার ছিটকিনি তে গার্ডার জমানো হয়। যে সাহসিকতা সহ, তার বার্ধক্যে, ভি আর এস না নিয়ে,আন্ডারপ্যান্ট তার দায়িত্ব পালন করে তার জরাজীর্ণ দেহে, তা দেখে জল আসে...চোখে...তাই তাকে ব্যালকনিতে মেলা হয় না,পাছে লোকজন দেখে ফ্যালে।
গেঞ্জি, জাঙিয়া, মোজা আরো একবার প্রমাণ করে,আমরা আজো শোষণ করে চলি, পোষাকের শ্রমিক শ্রেনী কে, ধনী জামাকাপড় ধনী তম হয়, আর গরীব অন্তর্বাস গরীবতম,কারন সে বেচারা সামনে আসে না।যেন অন্তরালে থাকা টেকনিশিয়ান,যেন প্লেটের তলায় রাখা টেবিলম্যাট, একসেট দামি চাড্ডি,শ্রমিকনেতা হয়ে বাকি দরিদ্রদের ভাত মেরে চলে আজও,সাহিত্যে, ফটোশেসানে,র্যাম্পে তাই পাঞ্জাবি শাড়ি জামা বা প্যান্টের প্রশংসা হয়, অন্তর্বাস পরা হিরো বেচারা ব্যালকনি তে প্রানশংসয় করে দাঁড়িয়ে থাকে।