একবার চল্লিশ চোরের সর্দারের সাথে দেখা হয়েছিল, সেই যার সোনার কলম...না মানে কলমটা দেখতে সাধারন, কিন্তু ওতে সোনার জলে লেখা বেরোয়...সেই কলম বোলালেই চিচিং ফাঁক...একের পর এক চোর বেরিয়ে আসে...
এ চোরেরা বড় অদ্ভুত...সর্দার তার জোব্বা থেকে বের করেন এক মায়া জাজিম, মৃত্যু রক্ত আর হতাশার পৃথিবী তাতে ঢেকে যায়, সর্দার বিছিয়ে দেন এক শান্ত দাওয়া, সেখানে কিছু চোর এসে গুড় বাতাসা খায়, আপনার সাথে সুখ দুঃখের গপ্প বলে, আর ওরা চলে গেলেই আপনি দেখেন, ফাঁকা...আপনার পকেটের শৈশব তো আর নেই... তার পর চারপাশ বড় অস্থির লাগে, আপনার পায়ে এসে বাবা মুস্তাফা সেলাই করে দেন দায়িত্ব,চাকরি,প্রমোশান, ই এম আই, ফরেন ট্যুর, মোবাইল ফেসবুক সবকিছু, আর আপনি তাপ্পি দেওয়া সেই পা ঘষ্টাতে ঘষটাতে এগিয়ে যান...চোখে কালো চশমায় ছায়া পড়ে,এক ঘুমন্ত দারোগা,কয়েকটা বোকা গ্রামবাসী,একটা কুকুর, দুটো সিড়িঙ্গে ভুত, একটা ভিনগ্রহের যান, মনোজ, নবীগঞ্জ,পাতালঘর সব্বার...কিন্তু সে ছায়া আপনি দেখতে পান না...কারন তদ্দিনে আপনি মর্জিনাকে আদেশ দিয়ছেন সবকটা চোরকে বিষাদের উত্তপ্ত তেলে পুড়িয়ে দিতে, হয়তো মর্জিনা ব্যস্ততার ছুরিও বসিয়েছে সর্দারের বুকে... এমন সময় আপনি চশমা নামান, আবার দেখেন সেই মায়া জাজিম, যা ঢেকে দেয় রক্ত ক্ষত বিষাদ, সেটার তলায় সেধোদতেই আবার চোরের দল, আবার সেই ঘুমন্ত দারোগা, দেওয়ালে গোবর নিকানো পিসি, একটা ভিতু ডাকাত আর কয়েকটা চোরকে দেখতে পান...তখনি মুচকি হাসি দেওয়া সর্দারকে দেখেন...যার জাদু কলমের আঁচড়ে আবার সিম সিম খুলে যায়...আপনি নামান আপনার আলিবাবার মুখোশ,আর দু হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরেন সেই রূপকথাকে, যা পূজাবার্ষিকীর পাতায় পাতায় আপনাকে ঝিম ধরিয়েছে...আপনার চার দিকে তখন নেচে চলেছে একের পর এক চোর,যারা আপনার জীবনের বছর মাস ঘন্টা সেকেন্ড চুরি করে জমা রেখেছে নিজেদের কাছে... সর্দারের ইশারায় সেই প্রথম চোরটা আবার আসে, মুঠো খুলে মেলে ধরে আপনার চোখের সামনে, যেখানে চকমক করে ওঠে আপনার আস্ত ছেলেবেলা... এই সর্দারের কোলে আপনি নতজানু...আপনি আটকে সেই সিম সিমের অন্দরে,দরজা খোলার মন্ত্র আপনার জানা, কিন্তু আপনি ফিরতে চান না... জন্মদিনের কুর্নিশ...শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়...যিনি না থাকলে, আমি গল্প বলতেই শিখতাম না...কালকের লেখা, আজকে পোস্ট করলাম