শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০

বিয়ে

তখনো বুঝিনি,যে বিছানাজুড়ে একলা ঘুমোনোর রাজত্ত্বের ইতি হলো, তখনো বুঝিনি মধ্যরাত্রে কেউ ঘুমের মাঝে ধাক্কা দিয়ে কন্ডাকটারের মতো করে বলবে "কাত হও কাত হও নাক ডাকছে"...তখনো বুঝিনি চোখ টেরিয়ে সুন্দরী দেখলেও খোঁটা দেবে,না দেখলেও সন্দেহ করবে...

বিয়ের পর স্বামীদের গোপন ক্ষমতার প্রকাশ হয়,না না আপনি যা ভাবছেন তা নয়। স্বামীরা আবিষ্কার করেন বড়বাজারের যে কুলীদের মাসল দেখে চমকে চ হয়ে যেতেন,তার শপিং মলে ব্যাগ বহন করতে দেখে কেউ ওভাবে চমকাবে...


মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২০

এক চোরের সর্দারের কাহিনী...প্রনাম শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

 একবার চল্লিশ চোরের সর্দারের সাথে দেখা হয়েছিল, সেই যার সোনার কলম...না মানে কলমটা দেখতে সাধারন, কিন্তু ওতে সোনার জলে লেখা বেরোয়...সেই কলম বোলালেই চিচিং ফাঁক...একের পর এক চোর বেরিয়ে আসে...

এ চোরেরা বড় অদ্ভুত...সর্দার তার জোব্বা থেকে বের করেন এক মায়া জাজিম, মৃত্যু রক্ত আর হতাশার পৃথিবী তাতে ঢেকে যায়, সর্দার বিছিয়ে দেন এক শান্ত দাওয়া, সেখানে কিছু চোর এসে গুড় বাতাসা খায়, আপনার সাথে সুখ দুঃখের গপ্প বলে, আর ওরা চলে গেলেই আপনি দেখেন, ফাঁকা...আপনার পকেটের শৈশব তো আর নেই... তার পর চারপাশ বড় অস্থির লাগে, আপনার পায়ে এসে বাবা মুস্তাফা সেলাই করে দেন দায়িত্ব,চাকরি,প্রমোশান, ই এম আই, ফরেন ট্যুর, মোবাইল ফেসবুক সবকিছু, আর আপনি তাপ্পি দেওয়া সেই পা ঘষ্টাতে ঘষটাতে এগিয়ে যান...চোখে কালো চশমায় ছায়া পড়ে,এক ঘুমন্ত দারোগা,কয়েকটা বোকা গ্রামবাসী,একটা কুকুর, দুটো সিড়িঙ্গে ভুত, একটা ভিনগ্রহের যান, মনোজ, নবীগঞ্জ,পাতালঘর সব্বার...কিন্তু সে ছায়া আপনি দেখতে পান না...কারন তদ্দিনে আপনি মর্জিনাকে আদেশ দিয়ছেন সবকটা চোরকে বিষাদের উত্তপ্ত তেলে পুড়িয়ে দিতে, হয়তো মর্জিনা ব্যস্ততার ছুরিও বসিয়েছে সর্দারের বুকে... এমন সময় আপনি চশমা নামান, আবার দেখেন সেই মায়া জাজিম, যা ঢেকে দেয় রক্ত ক্ষত বিষাদ, সেটার তলায় সেধোদতেই আবার চোরের দল, আবার সেই ঘুমন্ত দারোগা, দেওয়ালে গোবর নিকানো পিসি, একটা ভিতু ডাকাত আর কয়েকটা চোরকে দেখতে পান...তখনি মুচকি হাসি দেওয়া সর্দারকে দেখেন...যার জাদু কলমের আঁচড়ে আবার সিম সিম খুলে যায়...আপনি নামান আপনার আলিবাবার মুখোশ,আর দু হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরেন সেই রূপকথাকে, যা পূজাবার্ষিকীর পাতায় পাতায় আপনাকে ঝিম ধরিয়েছে...আপনার চার দিকে তখন নেচে চলেছে একের পর এক চোর,যারা আপনার জীবনের বছর মাস ঘন্টা সেকেন্ড চুরি করে জমা রেখেছে নিজেদের কাছে... সর্দারের ইশারায় সেই প্রথম চোরটা আবার আসে, মুঠো খুলে মেলে ধরে আপনার চোখের সামনে, যেখানে চকমক করে ওঠে আপনার আস্ত ছেলেবেলা... এই সর্দারের কোলে আপনি নতজানু...আপনি আটকে সেই সিম সিমের অন্দরে,দরজা খোলার মন্ত্র আপনার জানা, কিন্তু আপনি ফিরতে চান না... জন্মদিনের কুর্নিশ...শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়...যিনি না থাকলে, আমি গল্প বলতেই শিখতাম না...

কালকের লেখা, আজকে পোস্ট করলাম

সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২০

শাহরুখ খান

পৃথিবীর দুটো জাত
__________________

আমি শাহরুখ কে দেখে মোটিভেটেড হই...

আপনার গায়ের রঙ,চুল,লুক নিয়ে আড়ালে লোকে হাসাহাসি করে? এনাকে একজন বলেছিলেন,"তোমার ভাল্লুকের মতো চুল"...কেউ বলেছিলেন," তোমাকে এতটাই বাজে দেখতে,যে কোন রোলে ফিট করিয়ে দেওয়া যাবে"...লোকটা এখন পৃথিবীর যে কোনো সিনেমাহলে ফিট করে যায়...

এনার বাবা মামা কাকা কেউ ইন্ডাস্ট্রীর নয়,তাও এই লোকটা বচ্চন পরবর্তী সবচেয়ে বড় ব্র‍্যান্ড...লাস্ট ২বছর আগে এনার শেষ রিলিজ,শেষ বড় হিট ৭ বছর আগে,তাও এনার ব্র‍্যান্ড ভ্যালু কমেনা...

আপনার স্ট্রাগল সবচেয়ে বেশি??এই লোকটা বাড়ি পায়নি একসময়,অন্যের অফিসে ঘুমিয়েছে দীর্ঘ সময়,আজ এনার অফিস চলে বলে কেউ স্যালারির মেসেজ পেয়ে নিশ্চিন্তে নিজের বাড়িতে ঘুমোয়...

আমি একেবারেই শাহরুখ ফ্যান নই...কিন্তু দিন দিন ব্যক্তি শাহরুখে ডুবছি...আপনি শাহরুখ ভক্ত না হতেই পারেন কিন্তু শাহরুখ কে আপনি উপেক্ষা করতে পারবেন না...

যখন যখন একটা মেয়ে বা ছেলে কে তার রূপ বর্ণ ফিগার নিয়ে খোঁটা দেবে কেউ,যখন কেউ কলকাতা দিল্লি মুম্বাই এ স্ট্রাগলের জন্য ট্রেন বা বাস থেকে নামবে অনাগত ভবিষ্যৎ এর একরাশ চিন্তা নিয়ে, যখন অফিসের চাপ,বসের খোঁচা সংসারের আর্তি তে তিতিবিরক্ত আপনি ফ্রাস্ট্রেটেড হবেন,তখনই এই মানুষটার কাহিনী গাইডবুকের মত বলবে...এই লোকটা যদি খাদের ধার থেকে ফিরতে পারে,ইন্ডাস্ট্রির বাইরের লোক হয়ে জমাতে পারে তার মনসবদার,শূন্য থেকে শুরু করে প্রেম কে,পছন্দের বাংলো কে,পছন্দের রোল কে যদি পেতে পারে...যদি লুক এর খোঁটা খাওয়া মানুষটার ছবি বুকে রেখে চোখের জল ফেলতে পারে আসমুদ্রহিমাচল এর সমস্ত কন্যেরা,তাহলে আপনিও পারেন...প্রত্যেক হেরে যাওয়া মানুষের জিতে যাবার জন্যে,দু হাত দুপাশে ছড়িয়ে দেওয়া...এক বাদশা আছে...যে শেখায়,এ পৃথিবীর দুটো মাত্র জাত...উইনার আর বাজীগর... 

|| নীলাঞ্জন ||

শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০

শন কোনারি

আপনি বুড়ো হতে ভয় পান? পাকা দাড়ি সাদা চুল আপনার আতঙ্কের, বিশ্বাস করুন আমি ভয় পাই না, যতবার শন কোনারির ছবি দেখেছি, আমার কাছে বার্ধক্য দামি হয়ে ধরা দিয়েছে...

আপনার চামড়া কুঁচকে গেলে গালে স্কিন কেয়ার লোশান লাগান? আমি ব্যবহার করি না, আমি তো সেই কিশোরবেলা থেকে ভুরু কুঁচকে কপালের বলিরেখা আনার আপ্রান চেষ্টা করে গেছি, কারন, আমি যতবার শন কোনারির ছবি দেখেছি, কপালের ভাঁজগুলো আমার কাছে বোল্ডনেস হয়ে ধরা দিয়েছে...

আপনি বিরহ প্রেমিক হয়ে ইম্পর্ট্যান্স পেতে চান? আপনার ব্যাকগ্রাউন্ডে চলে..."উও লড়কি বহত ইয়াদ আতি হ্যায়", কয়মত যে সিনেমা থেকে ঝেঁপে বানানো, সেই দ্য রক দেখুন, মহিলা ছাড়াও এক নড়বড়ে খোঁচা খোঁচা দাড়িওয়ালা বুড়ো,জন প্যাট্রিক মেসন যে ছোকরা নিকোলাস কেজের মুখের লাইমলাইট কেড়ে নিতে পারে, সিনেমাতে কোনো রোমান্টিক এঙ্গেল ছাড়াই, বুঝবেন...

আপনার চামড়া কুঁচকে গেলে গালে স্কিন কেয়ার লোশান লাগান? আমি তো সেই কিশোরবেলা থেকে ভুরু কুঁচকে কপালের বলিরেখা আনার আপ্রান চেষ্টা করে গেছি, কারন, আমি যতবার শন কোনারির ছবি দেখেছি, কপালের ভাঁজগুলো আমার কাছে বোল্ডনেস হয়ে ধরা দিয়েছে...

একটা খাজা সিনেমা, দ্য লিগ অফ এক্সট্রাওর্ডিনারি জেন্টালম্যান, হিন্দি ডাবড একটা কুড়ি টাকার সিডি আমার কিশোরবেলা থেকে এই কদিন আগে অব্দি সিডির ব্যাগে রাখা ছিলো, শুধু কভারে ওনার ছবিটার জন্য...

শাহরুখ নয়, আনন্দমেলায় জেমস বন্ডের সংখ্যায় এনার ছবি দেখে মায়ের ড্রেসিং টেবলের সামনে দাঁড়িয়ে কতবার আফসোস করেছি, " ইসসস, শন কোনারির মতো একটা টোল থাকলে আমি টোল ট্যাক্সও দিতাম"

শন কোনারিরা শিখিয়ে যান, চল্লিশ মানে চালশে নয়, ষাট মানে জীবন শেষ নয়, ৬৯ এও ওরার্ল্ডের সেক্সিয়েস্ট ম্যান এলাইভ হওয়া যায়, টাকমাথা, সাদাকালো দাড়ি, আধমাথা চুল বাকি আধে পনিটেল, জামার বোতাম কখনো খোলা কখনো অর্ধেক লাগানো কিস্যু ম্যাটার করে না, ওই দিয়েও বুড়ো বয়সে ইউটিউবের হাই ভিউড ভিডিওর কনটেন্ট হিসেবে তাকেই নিতে হয়, যদি ক্যারি করতে জানেন তো, শন কোনারিরা শিখিয়ে যান, কিকরে কোঁচকানো চামড়া, সাদা চুল, পাকা দাড়ি, টাক কেও বানাতে হয় স্টাইল স্টেটমেন্ট, মন তাজা থাকলে সাদা কালো চুলও রঙিন কিকরে হয়...সেই জাদুগরি...শন কোনারি এমন একজন, যার মত বুড়ো হতে ইচ্ছে করে, যাকে দেখে বুড়ো হতে ইচ্ছে করে...


__________________________________________________________________________________________________




তখন ওই গানটা সুপারহিট "উও লড়কি বহত ইয়াদ আতি হ্যায়" , আমরা শুনে বিরহ-প্রেমিক হওয়া প্র্যাকটিস করি আর আর মেয়েরা খোঁজে অজয় দেবগন কাটিং এটিটিউড, এমন সময় দ্য রক দেখলাম,এই রক থেকে ঝেঁপে বাবানো ছবি কয়ামত, যখানে অজয় দেবগন করেছেন শন কোনারির রোলটা। বিশ্বাস করুন অজয় দেবগনের প্রতি অত বিরক্তি জীবনেও জন্মায় নি...কারন দ্য রক এর জন প্যাট্রিক মেসন। একজন পাকা দাড়িওয়ালা সাদা চুলের বুড়ো তুড়ি মেরে নিকোলাস কেজ দের চোখের সামনে থেকে আমাদের শ্রদ্ধা সম্ভ্রম ভালোবাসা কেড়ে নিয়ে চলে গেল, যাস্ট তুড়ি মেরে...
আপনার চামড়া কুঁচকে গেলে গালে স্কিন কেয়ার লোশান লাগান? আমি ব্যবহার করি না, আমি তো সেই কিশোরবেলা থেকে ভুরু কুঁচকে কপালের বলিরেখা আনার আপ্রান চেষ্টা করে গেছি, কারন, আমি যতবার শন কোনারির ছবি দেখেছি, কপালের ভাঁজগুলো আমার কাছে বোল্ডনেস হয়ে ধরা দিয়েছে...
তখন সিডির যুগ, বেছে বেছে হিন্দি ডাবড সিনেমা নিয়ে আসি, দ্য লিগ অফ এক্সট্রাওর্ডিনারি জেন্টালম্যান বলে একটা ছবির সিডি ২০ টাকা দিয়ে কিনে এনেছিলাম, শুধু কভারে ওনার ছবিটা দেখে,টুপিতে কপাল ঢাকা, এক গাল দাড়ি... এই কয়েকদিন আগে অব্দি আমার কিশোরবেলা বোঝাই করা সেই সিডিটা রাখা ছিলো, নেটফ্লিক্স আর প্রাইমের যুগের আলোকবর্ষ আগে এক সিডি বোঝাই হয়ে আমার কাছে ধরা দিত শন কনারি...আনন্দমেলায় বন্ড স্পেশাল একটা সংখ্যা বেরিয়েছিলো, সম্ভবত তখনো আমরা ক্লাস টু, চিনেছিলাম রজার মুরকে, বন্ডের খুঁটিনাটি, আর গালে টোল পড়া , পরবর্তীকালে ৬৯ বছরে সেক্সিয়েস্ট মেন এলাইভ পুরস্কার পাওয়া এই মানুষটাকে...শাহরুখ নয়, আমি ছেলেবেলাজুড়ে চাইতাম, আমার গালে একটা টোল দাও ঠাকুর, আমি শন কোনারির মত সাইড হয়ে ফটো তুলতে চাই, যেখানে গালে টোলের জন্য টোল ট্যাক্স দিতেও রাজি...
আমাদের প্রিয়তম বন্ড, পিয়ের্স ব্রসনন, কারন আমরা হলে দেখেছি ওনাকে, কিন্তু পরে যতবার সিডিতে বন্ডের ছবি দেখেছি, মনে হয়েছে, বন্ড গার্ল ছাড়, এই লোকটাকে দ্যাখ,শন কোনারি...!!! অ্যাভেঞ্জার্স থেকে বন্ড হয়ে ইন্ডিয়ানা জোনস, আমাদের ছেলেবেলা মাখামাখি করা নায়ক, আমাকে যিনি শিখিয়েছেন, বুড়ো মানে, শেষ নয়, বুড়ো মানে সেক্সি বুড়ো...এমন একজন, যিনি বুড়ো বয়সেও ইউটিউব জুড়ে স্টাইল স্টেটমেন্টের শেষ কথা হয়ে থাকতে পারেন, এখনো সার্চ লিস্টে উপরের দিকে থাকে শন কোনারি বেস্ট ওল্ড এজ ইমেজেস এর ভিডিও...৯০ বছর বয়সে তার প্রয়াণের পরের এই জেনারেশানের কাছে আফসোস টা দেখে মনে হয়, বুড়ো হো তো এইসি...শন কোনারি য্যায়সি...

বয়স আসলে একটা সংখ্যা, হিরোইজমের কোন বয়েস হয় না, ক্যারি করতে জানলে মাথাজোড়া টাক, বুকের উস্কোখুস্কো কাঁচাপাকা চুল, খোঁচাখোঁচা দাড়ি, সবকটা বোতাম খোলা শার্ট বা গলা অব্দি লাগানো বোতাম, কপালের বলিরেখা বা গালের ভাঁজ ম্যাটার করে না... আধটেকো মাথার বাকি চুলে পনিটেল,ক্যারি করতে জানলে জীবনের নতুন সুর হয়ে দাঁড়ায়, শন কনারিরা শিখিয়ে যান, সাদাকালো কে রঙিন করার জাদুগরি...




মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০

ফেসবুক সে কালেও ছিলো

দশবিতানিয়া তে,মারা যাবার আগে চেকলিস্ট বানিয়েছিলেন বিনয় পাঠক...দশটা এমন জিনিস,যা মারা যাবার আগে আপনি করতে চান...

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চেকলিস্ট বদলায়...শৈশব এ যা ছিলো আপনার চাহিদা,বয়স বাড়তে তা হয়ে যায় বাপি বাড়ি যা...আমার সেরকম দশটা ইচ্ছে যদি বাছতে বসি...আপনার গুলোও কমেন্টে লিখুন...

১. বিরাট একটা টিভি :: মোবাইল নয়,রেডিও নয়,ল্যাপটপ নয়...টিভির প্রতি আমার দুর্দম লোভ। বড় টিভি,সেই কবে ছোটবেলায় একটা বড় টিভিতে মহাভারত দেখেছিলাম...সেই থেকে লোভটা আমার অন্তরে...প্রথম যব পেয়ে,গ্রেট ইস্টার্নে ঢুকে বড় বড় ফ্ল্যাটস্ক্রিন টিভিগুলো আমাকে যেন দু হাত বাড়িয়ে ডাকতো...এখন টিভির সাইজ বাড়ে,আমার লোভটাও...চারদিকের দেওয়াল যদি মুড়ে ফেলা যায় স্ক্রীনে...তবে যেন আমার তৃপ্তি...টিভি সানি মামনি হলে,আমি ড্যানিয়েল...টিভি রাখি সাওয়ান্ত হলে আমি বিতর্ক...একে অন্যের জন্যেই তৈরি... এখন ধার ধোর করে,একটা কান বন্ধক রেখে বড় টিভিটা কেনাই যায়...তবে না কিনে জিইয়ে রেখেছি...আসছে আসছেই ভালো,এসে গেলেই তো ফুরিয়ে যাবে...

২. ইজিপ্ট :: ছেলেবেলায় শুধু ইজিপ্ট ভাবতাম,এখন মনে হয়,সেভেন ওয়ান্ডার...যদি দেখতে পারতাম। মমি থেকে আইফেল টাওয়ার,তাজমহল থেকে পেট্রা...এ জীবনের মূল্যটাই কি,যদি না চর্মচক্ষে সাত আজুবা নাই দেখলাম,মানুষের ক্ষমতার সেরা প্রকাশ...কোনোদিন যদি সব বেচেবুচে লোকাল ট্রেনে চেপে "চাঁদের পাহাড় " দেখতে বেরিয়ে পড়ি,অবাক হবেন না...
ঈজিপ্ট টা আমি যাবোই...একেবারে শিওর...ঈজিপ্ট আর মহীশূর,সেই ক্লাস ২থেকে দ্য সোর্ড অফ টিপু সুলতান দেখা থেকে আমার যাবার টপ ডেস্টিনেশান...

বাড়ির লোক দার্জিলিং দার্জিলিং করে... আর আপনি ভাবেন আপনি একাই কম্প্রোমাইজ করেন??

(বাকি পরের দিন,মুড থাকলে)

দশবিতানিয়া

দশবিতানিয়া তে,মারা যাবার আগে চেকলিস্ট বানিয়েছিলেন বিনয় পাঠক...দশটা এমন জিনিস,যা মারা যাবার আগে আপনি করতে চান...

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চেকলিস্ট বদলায়...শৈশব এ যা ছিলো আপনার চাহিদা,বয়স বাড়তে তা হয়ে যায় বাপি বাড়ি যা...আমার সেরকম দশটা ইচ্ছে যদি বাছতে বসি...আপনার গুলোও কমেন্টে লিখুন...

১. বিরাট একটা টিভি :: মোবাইল নয়,রেডিও নয়,ল্যাপটপ নয়...টিভির প্রতি আমার দুর্দম লোভ। বড় টিভি,সেই কবে ছোটবেলায় একটা বড় টিভিতে মহাভারত দেখেছিলাম...সেই থেকে লোভটা আমার অন্তরে...প্রথম যব পেয়ে,গ্রেট ইস্টার্নে ঢুকে বড় বড় ফ্ল্যাটস্ক্রিন টিভিগুলো আমাকে যেন দু হাত বাড়িয়ে ডাকতো...এখন টিভির সাইজ বাড়ে,আমার লোভটাও...চারদিকের দেওয়াল যদি মুড়ে ফেলা যায় স্ক্রীনে...তবে যেন আমার তৃপ্তি...টিভি সানি মামনি হলে,আমি ড্যানিয়েল...টিভি রাখি সাওয়ান্ত হলে আমি বিতর্ক...একে অন্যের জন্যেই তৈরি... এখন ধার ধোর করে,একটা কান বন্ধক রেখে বড় টিভিটা কেনাই যায়...তবে না কিনে জিইয়ে রেখেছি...আসছে আসছেই ভালো,এসে গেলেই তো ফুরিয়ে যাবে...

২. ইজিপ্ট :: ছেলেবেলায় শুধু ইজিপ্ট ভাবতাম,এখন মনে হয়,সেভেন ওয়ান্ডার...যদি দেখতে পারতাম। মমি থেকে আইফেল টাওয়ার,তাজমহল থেকে পেট্রা...এ জীবনের মূল্যটাই কি,যদি না চর্মচক্ষে সাত আজুবা নাই দেখলাম,মানুষের ক্ষমতার সেরা প্রকাশ...কোনোদিন যদি সব বেচেবুচে লোকাল ট্রেনে চেপে "চাঁদের পাহাড় " দেখতে বেরিয়ে পড়ি,অবাক হবেন না...
ঈজিপ্ট টা আমি যাবোই...একেবারে শিওর...ঈজিপ্ট আর মহীশূর,সেই ক্লাস ২থেকে দ্য সোর্ড অফ টিপু সুলতান দেখা থেকে আমার যাবার টপ ডেস্টিনেশান...

বাড়ির লোক দার্জিলিং দার্জিলিং করে... আর আপনি ভাবেন আপনি একাই কম্প্রোমাইজ করেন??

(বাকি পরের দিন,মুড থাকলে)

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০

ফর্ম্যালিটি আর বিজয়া

আমার যখন অসুখ করে, আমাকে কেউ কল করুক, বা ফোন করে খবর নিক, আমার চিরকালের না পসন্দ, বরং জলের গ্লাস টা ঘরে রেখে চলে গেলে ভালো লাগে, একটা ফর্মাল কল, বাড়ি বয়ে কেউ দেখতে এলে,সেগুলো আমার চিরকালের অস্বস্তির...
তেমনই কারুর প্রয়াণে তার কাছের লোকজনকে কল করাটাও আমার কাছে বড্ড অস্বস্তির। মনে হয় মানুষটার প্রিয় লোকটা চলে গ্যাছে, তার নিভৃত সময়ের প্রয়োজন নিজেকে সামলাতে। একটা ফর্মাল ফোন, আমাদের ফর্মালিটিতে টিক মার্ক করে হয়ত ভীষন সোস্যাল বানায়, কিন্তু আদপে সেটা কিস্যু নয়, তার মনের কষ্ট লাঘব করা বা পাশে থাকা, কোনো কাজে আসেনা...বরং সেই সময় তার কিছু কাজ করে দিতে পারলে, তাকে সংসারের কাজের ভার থেকে কিছুক্ষণ লাঘব ঘটাতে পারলে সেটা উপকারী হয়...

একই ভাবে বিজয়ার শুভেচ্ছা...ছেলেবেলায় প্রণামের ধুম ছিলো, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিষ্টি খাবার লোভে, এখন ম্যান্ডেটারি ফোনকল...ওই সামাজিক থাকার টিক মার্ক। কাউকে ভালোবাসো কিনা, তাকে নিয়ে সারাদিন ভাবলে কিনা, বা নিঃশব্দে তার খবর নিলে কিনা, ম্যাটার করে না, ঐ  একটা কয়েক সেকেন্ডের ফোনকল তোমাকে সামাজিক করে তোলে...
হোয়াটস্যাপ ফরোয়ার্ডের তাড়াহুড়ো, মেসেজ করে "যেন একটা কাজ সারা হলো" তার তাড়া, এই অতি সামাজিক হতে চাওয়ার তাড়া আসলে আমাদের অসামাজিক করে তুলছে...

তিন দিনের অপেক্ষা শেষ, প্রিয় মানুষটা তার শ্বশুরবাড়ি ফিরছে, বিদায়ের বিষাদ, আজকাল আমাকে ছুঁয়ে যায়, যেটা শৈশব বা কৈশোরে বুঝিনি, আজকাল নিভৃতবাস বা অন্তরাল লাগে...যেখানে এবারের পুজোর সাথে এ যাবত কালের সব পুজোর মুহুর্তরা ভিড় করে, কিছুক্ষন তাতে ডুব দিয়ে মনে হয়, একটু একলা থেকে সামলে নিই নিজেকে...তার পর হোক লক্ষ্মীপুজোর অপেক্ষা...

কিন্তু পরিচিতরা বলে , এগুলো নাকি করতে হয়, আমিও দিন দিন কম ফর্ম্যালিটি করি, কম খবর নিই, কম উইশ করি, সব্বার সব ডিটেলস ত কানে আসছে, জানছি, সোস্যাল মিডিয়াতে দেখছি, আবার একটা ওই একই খবর জানার ফর্মালিটি কেন করব, এ উত্তর নিজের কাছে থাকে না, তাও সব্বাই বলে, এগুলো করতে হয়...

এই এত্ত ফোন, গুচ্ছ মেসেজ, ফর্ম্যালিটির ধুমের যুগে, আমি বড্ড আনসোস্যাল...আজকাল বিষাদের খবরে থমকে যাই, কিছুক্ষণ নিজেই নিজেতে ডুবি, ওইটাই আমার সামাজিকতায় পাশে থাকা, ওইটাই আমার শুভেচ্ছাজ্ঞাপন বা সমবেদনা...এ নিয়ম একান্তই আমার পৃথিবীর, তাতে লোকে আমাকে অসামাজিক বললে, আমি তাই...আমার নিজের করা বাকি ফর্ম্যালিটি গুলো, বড্ড মেকি...আমার নিজের কাছেই...

সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০

পুজো বন্ধ

পুজোয় নানা ব্র‍্যান্ড ১০% ১৫% সেভ করাচ্ছে...
সবচেয়ে সেরা অফার দিলো হাইকোর্ট... 
লাইফ সেভ করাচ্ছে...

আমরা লোকের বাড়ি গিয়ে হেব্বি মেনটেন করি,বালিশ ধামসাই না,টেবিলে এঁঠো কাপ নামিয়ে ভুলে যাই না, দেওয়ালে দাগ করি না...আমাদের সমস্যা,নিজেদের বাড়িতে,সেখানে পাশবালিশ চটকে তুলো বের করি,বাথরুমে শ্যাওলা বের করি, ফ্যান চালিয়ে অফ করিনা...

মানে সামান্য নিয়ম মানলে যা সুস্থ,স্বাভাবিক, সব্বার মঙ্গলকারী হতে পারতো তা করি না...

তাই ট্র‍্যাফিকের ফাইনের গুঁতো আমাদের নিয়ম মানায়,লাল লাইট নয়। "এখানে প্রস্রাব করিবেন না দেখলেই আমরা ঠ্যাঙ তুলে কুকুরসম" অথচ পিছন থেকে খিস্তি শুনলেই ইয়ে গুটিয়ে চেন তুলে সোজা হাঁটি...

শিক্ষিত ভারতীয় তাই ফ্লাইটে সিটবেল্ট পরে,গাড়ি তে নয়, লন্ডনে থুতু ফেলে না,লালবাগে ফ্যালে,সেই ইংরেজ আমল থেকে আমরা ডান্ডা বড় ভালো বুঝি, বোঝালে বুঝি না সেটা বোঝা হয়ে যায় আমাদের কাছে...

তাই নিয়ম মেনে দুর্গাপুজো,আমাদের বরাতে নেই, শৃঙখলা আমরা জানিনা,নিয়ম আমরা বানাইনা,বানালে মানিনা,মানতে চাইনা...

এই লিস্টে আপনিও আছেন...আমিও...

আমাদের জন্য বেত এবং হাইকোর্টই ঠিক আছে...

রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০

গালিব অনুবাদ ০২

কল্পনারা ফের গিয়েছে, সেই তোমারই পথে

হারানো হৃদয় হয়তো এসেছে, ভিড় করে ভাবনাতে 


গালিবের লেখা~

Phir Tere Kooche ko Jata Hay Khyaal

Dil E Gumgashta Magar Yaad aaya

গালিব শায়েরী

কেটেও যেতো জীবন,
যেমন চিরায়ত রীতিতে
কেনো তোমার পথের কথা,
পড়লো ধরা...স্মৃতিতে...

অনুবাদ~ নীলাঞ্জন

Probably,this is a line written by galib... 

Zindagi Yun Bhi Guzar Hi Jati

Kyun Tera RahGuzar Yaad Aya

আমি অনুবাদের চেষ্টা করলাম...

শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০

প্রদীপ ঘোষ স্মরনে

হলদে দেওয়াল ওয়ালা দোতলার ঘরে আমরা তিনজন। আমি,আমার বন্ধু তন্ময় আর একটা টেপরেকর্ডার...

তখনো ফরোয়ার্ড টিপলে একেবারে পরের কবিতায় জাম্প করা যায় না, তখনো ফেসবুক মাতৃগর্ভে, তখনো আমরা শেভ করতে শিখিনি,তখনো জানলার বাইরে চড়াইপাখি আসে,সেই সময় আমাদের আফসোস হতো,রাখালের জন্য...ইসস,মৈত্র মহাশয় ওনাকে না মারতেই পারতেন...

তখনো চশমা পরা ভদ্রলোকের মর্ম বুঝিনি,শুধু এটা জানতাম,বাঙালি বাড়িমাত্রেই কাজী সব্যসাচী আর এনার কবিতা ক্যাসেট থাকবেই। আমরা শুনতাম,লক্ষ্য করতাম "ইঞ্জিনের ধস ধস" বলার সময় স গুলোতে যেন ইঞ্জিনের তলা দিয়ে বেরোনো বাস্প বা ধোঁয়া যেন দেখা যায়, "কামাল তুনে কামাল কিয়া ভাই" এর প্রত্যেক কামাল যেন আলাদা করে কামাল করে দেয়, আমাদের দুচোখ মোড়া আফ্রিকা...কৈশোরের মহাদেশ তার সম্ভার থেকে যৌবনের স্বপ্নের মোড়ক খুলছে...

আমরা প্রদীপ ঘোষ কে চিনতাম না,আমরা কবিতা শুনতাম...আমরা দুপুরে বিছানায় চিত হয়ে কড়িকাঠের দিকে তাকিয়ে শব্দ দেখতাম। নেটফ্লিক্স ইউটিউবের আলোকবর্ষ সময় আগে,শব্দের প্রজেক্টার সেই সাদা ছাতের দেওয়ালে আর কালো কড়িকাঠে এঁকে দিতো কিনু গোয়ালার গলি বা কৃপণের সোনার কনা...অজস্র ক্যাসেট ছিলো না,ওই একটিকেই ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে রিওয়াইন্ড করে শোনা...এখনকার ছোকরাদের চোখে "বোরিং" বা "নট সো কুল" কাজ...

কিংবদন্তি র প্রয়াণ হয় না, কীর্তিরা অক্ষয় হয়ে থেকে যায়। রয়ে যায় সেই শব্দ-ছবি, সেই কড়িকাঠ, সেই কালো টেপ রেকর্ডারে শোঁ শোঁ রিওয়াইন্ডে, সেকেন্ড গুনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া সেই দেবতার গ্রাসের শুরুটাতে...সেই আবৃত্তি কম্পিটিশানে, সেই অনর্গল মুখস্তের দিনে,সেই প্রানপণ এক্সপ্রেশান আনার চেষ্টায়...কেরিয়ারের ভাবনায় নয়,শেখার তাগিদে, ওনার সৃষ্টির মুগ্ধতায়...

আমার সেই কৈশোরের স্মৃতি যদ্দিন থাকবে...প্রদীপ ঘোষ থাকবেন...

বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০

দুর্গাপুজোর নিয়ম

 যথারীতি বাঙালী দু ভাগ, পুজো হবে নাকি বন্ধ হবে...

প্রশাসনিক ঘোষনার পরে হবে কি হবেনা এ আলোচনা নিছক ফেসবুক গরম করা ছাড়া আর কিছুই নয়। বরং আলোচনা টা যদি হতো কিভাবে পুজো হবে...সেটা অনেক বেশি সদর্থক ও ফরপ্রসূ হতো...
প্রথমতঃ কারুর এটা মনে হতেই পারে পুজো মানে ফুর্তি, অবশ্যই ফুর্তি, তার সাথে একটা বিরাট অংশের মানুষের ঊদরপূর্তিও বটে। দুর্গাপুজো কত কোটি টাকার ইন্ডাস্ট্রি সেটা বিশেষজ্ঞরা ক্যালকুলেট করে দিলেই বুঝবেন, শুধু বড় কর্পোরেট বা শাড়ির দোকান নয়, মৃতশিল্পী থেকে মুটে, ঝালমুড়ি থেকে প্যান্ডেলের ঝালর সব্বার আয়ে, বা জীবনে টান পড়বে দুর্গাপুজো না থাকলে। এখন পুজো কেন ব্যাবসা, কেন ইন্ডাস্ট্রি যারা এই কূট তর্ক টেনে আনবেন বিষয়কে গুলিয়ে দেবার জন্য তাদের তর্কটা রাজনীতির আঙিনায় থাক, সামাজিক প্রেক্ষিতে কি কি করা যেতে পারে বা পারত, সেটা নিয়ে একেবারে ব্যক্তিগত স্বল্প বুদ্ধিতে ভেবে দেখি...কাউন্টার স্বচ্ছ লজিক ভাবতেই পারেন, আলোচনায় আলোচনা সমৃদ্ধ হয়...

প্রথমেই...যার যা ব্যবসা, টেম্পোরারি বা পার্মানেন্ট, তার স্থায়ি বা অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশান বা সংখ্যা টা লাগবে,মানে রোলের দোকান বা চাউমিন বা বড় ব্যবসা বা নাগরদোলা দাদার নাম ব্যবসার টাইপ ফোন নাম্বার, কোন মন্ডপে কোন স্টল খুলছেন তার বিবরণ লাগবে,এই ডেটাবেস টা মারাত্মক দরকারী, যখনই আপনি সংখ্যা টা স্থির করতে পারবেন, তখনই আপনি বাকিটা ম্যানেজ করতে পারবেন।

পুজোর পুরো মাধ্যমটাই হয়ে যাক প্রি বুকড বেসড। আপনি সিনেমা হলে টিকিট কেটে যান, ট্রেনে টিকিট না থাকলে চড়েন না, অর্থাৎ কিছু জিনিস আপনাকে আগেভাগে প্ল্যান করতে হয়, আগে ভাগে নির্বাচন করতে হয় যে পনি টিভি দেখবেন নাকি হলে গিয়ে সিনেমা দেখবেন। তাই ঠাকুর দেখাও হোক প্রি বুকড, এক একজন মানুষ ১০ টার বেশি মন্ডপ যেতে পারবেন না, ডেটাবেস ও ক্যাপাসিটি অনুযায়ী ঠাকুর দেখা বাড়া বা কমানো যেতে পারে। ই পাস হোক প্রত্যেক মন্ডপের। সময় মানা ই পাস দিয়ে যদি আপনি মেট্রো তে ট্র্যাভেল করতে পারেন, এবং ট্রেনে যাবেন না বাসে সেটা ঠিক করতে পারেন, তাহলে এবার প্রি বুকিং হোক, যে মন্ডপের টিকিট পাবেন সেখানে যাবেন। পুজোর চারদিনে আপনার জন্য দশটা মন্ডপই দেখা বরাদ্দ হোক।

প্রত্যেক মন্ডপের দোকান, চপ থেকে ঝালমুড়ি যেহেতু ডেটাবেস করা আছে, একটা অভিন্ন অ্যাপে তাদেরও বুকিং হোক, আপনার কুমোরটুলিতে মণ্ডপ ভিজিটের সময় ১০-১১টা, আপনি ১১ঃ১৫ তে ঝালমুড়ি দাদার কাছে সিট বুক করলেন, বা প্লেট বুক করলেন অ্যাপে , ই পাস দেখিয়ে ঠোঙা নিয়ে বেরিয়ে যান, পরের জন ১১ঃ১৬ র টাইম বুক করে অপেক্ষা করছেন যে। এতে ভিড় মেনটেন করা যাবে, ইকুয়াল ডিস্ট্রিবিউশান হবে। সবকটা প্যান্ডেলে ভিড়টাকে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে।

মন্ডপে জনস্রোতের প্রতিযোগীতা বন্ধ হোক। ব্যবসায়ীরা দোকানে ই পাস করলে প্রত্যেকে সমান খদ্দের পেতে পারেন, বড় দোকানে বিরাট ভিড়, অন্যরা মাছি মারছে, সেটাও বন্ধ হবে। জনস্রোতের সমবন্টন অনেক অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে। হ্যাঁ এতে হয়ত অনেকের মনে হতে পারে, "ওই দোকানে অমুক কোয়ালিটির জিনিস পেতুম", পাবেন না, আগে বুক করে ই পাস করে গেলে পাবেন, সবসময় আপনি ত পছন্দের ২ টায়ার বা থ্রি টায়ার বা ফ্লাইটের টিকিট পান না?তা বলে কি ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়ার দাবি তোলেন?

যদি পুজোর ই পাস বুক করতে পারেন ঠাকুর দেখবেন, নইলে সিনেমা, নইলে কনসার্ট, নইলে রেস্টুরেন্ট...মোটকথা জীবনের কোনটা প্রায়রিটি ১ কোনটা ১০ সেটা গুরুত্ত্ব দিন,পাড়ার পুজোই হয়ে উঠুক ম্যাডক্স, এবছর প্যান্ডেল বন্ধ করবেন নাকি বাড়াবাড়ি প্যান্ডেল হপিং সেটা ভাবুন।এক মন্ডপে দাঁড়িয়ে ২০টা সেলফি তুলে, অনর্থক ভিড় করার প্রবণতা এ বার বন্ধ হোক, পুজো বন্ধ হবে কেন? পায়ে ধুলো লাগলে মাটি ঢাকেন নাকি পা? আলট্রাভায়লেট রে বেরোয় বলে বাইরে যাওয়া বন্ধ করেন নাকি বেরোনো টা নিয়ন্ত্রিত করেন?

তবে পুরোটাই নির্ভর করবে সদর্থক ভাবনার উপর। সদিচ্ছার উপর। নিয়মকে কতটা ঠিকভাবে পালন করছেন তার উপর। আপনার একটা নিয়মভঙ্গ অন্যের মৃত্যুর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কারন হয়ে উঠতে পারে...

স্বামী স্ত্রীর বন্ধুত্ত্ব

সাপ ব্যাঙের সাথে লিপকিস করতে পারে,মোদী মমতাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতে পারে, বাঘে আর গরুতে এক টেবিলে বসে কোল্ড ড্রিংসের অর্ডার দিতে পারে, কিন্তু স্বামী স্ত্রী এর বন্ধুত্ব হতে পারে না। 

নিজেকে দিয়েই শুরু করি, বিয়ের পর ভেবেছিলাম কনজিউমার ফোরামে যাবো। বিয়ের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি র কিছুই তো পাওয়া গেলো না। যেমন ধরুন, গিন্নি বলেছিলো, আমরা সারা জীবন একে অপরকে ভালোবাসবো, তোমার জন্য সবকিছু ছেড়ে দেবো। সবকিছু বাদ দিন, সকালে বাথরুম ছাড়ে না।ধরুন সকালে দুজনের একসাথে ঘুম ভাঙল, দুজনে এমন করে বাথরুম এর দিকে দৌড়ে যাই, যেন ওটা বিছানা টু বাথরুম নয়, ওলিম্পিকে ১০০মিটার রেস। সুতরাং ঐ তোমার জন্য সব ছাড়তে পারি, এটা হোয়াটস্যাপ ফরোয়ার্ড এর মত। কতটা যে সত্যি সেটা নিয়ে সন্দেহ সবসময় থাকে।  অন্য বাথরুমেও যেতেই পারি, কিন্তু সেখানেও চলছে,মা আর বাবার মধ্যে বাথরুম দখলের যুদ্ধ। একটা হ্যান্ডেল ভাঙা মগ, শ্যাওলা ধরা মেঝে,ছিটকিনি খারাপ কোনের বাথরুমের এমন ডিমান্ড,যেন ওটা বাথরুম নয়, করোনার টিকা,সব্বার লাগবে,সব্বার আগে লাগবে। সম্পর্কে আগুন লাগার জন্য পরকীয়া বিপজ্জনক,কিন্তু সকালে বাথরুম আটকে রাখা,বিপজ্জনকতর। 

বিছানায় যদ্দিন ভেজা তোয়ালে আর ড্রেসিং টেবলের আয়নাজুড়ে টিপ আছে,স্বামী স্ত্রীর বন্ধুত্ত্ব সম্ভব নয়। চিরুনিতে চুল থাকার কথা ৪৫বছর ধরে বলে বলেও সুরাহা করতে পারেন নি দাদু,৮৫ বছর বয়সে ডিভোর্স এর থ্রেট দিয়েছিলেন ঠাকুমা। বিয়ের পর একে অপরকে যত পরিমান থ্রেট দেন কত্তা গিন্নি,তাতে আমার স্থির বিশ্বাস জন্মেছে অগ্নীসাক্ষী করে নয় দাউদ ইব্রাহিম কে সাক্ষী করেই আসলে বিয়ে হয়। "বাপের বাড়ি চলে যাবো" এই থ্রেটে,ভয়ে কত কত্তার চুল পড়ে গিয়ে বগলে টাক পড়লো,তার হিসেব আর্ণিকা ট্রায়োফার রাখেনি।

কেউ কেউ বিয়ের আগে বলে "ওদের মতো আমাদের হবে না জানু,আমরা দুজনে বিয়ের পর অন্যদের মত ঝগড়া করবো না"...এবং বাস্তবিকই তারা অন্যদের মতো ঝগড়া করে না,অন্যদের থেকে বেশি করে...কেউ কেউ আবার কথা বলে সমাধানে বিশ্বাসী।কিন্তু কখন আলোচনা ঝগড়া হয়ে যায় ধরতে পারবেন না। কাশ্মীর সমস্যা, ব্যাটিং করার সময় সচীনের অ্যাবডোমেন গার্ডের সমস্যা, আর ফুটবল ওয়ার্ল্ডকাপ এর সময় টিভিতে সিরিয়াল না ফুটবল...এ সমস্যার সমাধান কখনো হয়েছে না হবে!!! কত্তাদের মোবাইলে লক কেন,আর গিন্নিদের লক থাকেনা কেন,এ তর্কের সমাধান, রাত্রে ঘুমোতে গেলে কে আসলে নাক ডাকে তার সমাধান,মশারি কে টাঙাবে আর কে তুলবে তার সমাধান তুম ক্যায়া জানো রমেশ বাবু...স্বামী স্ত্রী চিরকাল একই বৃন্তে দুটি কুসুম,ভারত পাকিস্তান

সুতরাং স্বামী স্ত্রীর বন্ধুত্ত্ব চাইলে পেহলে উস আদমি কা সাইন লেকে আও যো গব্বর আর ঠাকুরকা দোস্তি করায়া,উস আদমি কা সাইন লেকে আও যিসনে কঙ্গনা ঋত্ত্বিক কা দোস্তি করায়া,উস আদমি কা সাইন লে কে আও যিসনে ট্রাম্প আউর কিম জং উন কা দোস্তি করায়া,ফির ভাই,তুম যিস স্বামী স্ত্রীকা দোস্তি করাতে কহেগা,হামি উসকো বন্ধুত্ত্ব করায়গা... 


রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০

চয়েস

আমার গিন্নির চয়েসটা যে খারাপ,সেটা বিবাহের জন্য নির্বাচিত হয়েই বুঝেছিলাম,আর বুঝি শপিং করতে গিয়ে।

শপিং মলে আমরা ছুটির দিনে ঘন্টা পাঁচেক কাটাই। প্রথম দু ঘন্টা গিন্নি তন্ন তন্ন করে সব র‍্যাক খুঁজে পছন্দের জামা বের করার চেষ্টা করেন,আমি হাই তুলি। দু ঘন্টা পরে জানতে পারি কিচ্ছু পছন্দ হচ্ছে না। এর মানেটা খুব সহজ,হয় তুমি খুঁজে দাও নইলে এই বিপর্যয়ের সমস্ত দায় তোমার কপালে আসবে।ভয়ে ভয়ে আমি পরের ১৫মিনিটে খান দশেক অপশান দেখাই। গিন্নি চকচকে চোখে সবকটাই দুর্দান্ত বলে রিজেক্ট করে দেন। আমি আরো একবার বুঝি আমার দ্বারা কিস্যু হবে না,এবং গিন্নির সমস্ত বান্ধবীদের কত্তারা আসলে কতটা দক্ষ, ওরা নাকি সব খুঁজে পায়,আমি বুঝতে পারি কিছু কিছু কত্তাদের স্নিফার ডগের ডি এন এ আছে।প্রথমবার কুকুরদের কাছে কমপ্লেক্স খেয়ে গম্ভীর মুখে প্রাইস ট্যাগ দেখি।

 তার পর গিন্নি আরো দেড় ঘন্টা খুঁজে গেরুয়া,লাল,সবুজ,তিন রঙের জামা এনে দেন। বলেন বেছে দিতে। ধরুন আমি বললুম সবুজ,গিন্নি বললেন তার গেরুয়া পছন্দ। আমি বললুম আচ্ছা তাহলে তাই নাও,তিনি বললেন "কিন্তু তুমি তো বললে সবুজ", আমি বললুম আচ্ছা তাহলে দুটোই নিয়ে নাও, তিনি বললেন, তাহলে লাল টা কে বাদ দিয়ে দেবো? আমি বললুম তাহলে লাল টা নাও, উনি বললেন তাহলে গেরুয়াটার কি হবে। আমি মরিয়া হয়ে মানিব্যাগ চেপে বললুম,তিনটেই নিয়ে নাও। তিনি কইলেন,কিন্তু এর পর তোমার প্যান্ট কিনতে হবে,অত বাজেট নেই। নতুন আন্ডারপ্যান্টে চালিয়ে নেবো,মনেমনে আউড়ে বললুম তিনটেই নিয়ে নাও। তিনি বললেন না এ মাসে অত করা যাবে না। আমি ততক্ষণে মরিয়া হয়ে বললুম,তোমাকে খরচের চিন্তা করতে হবে না আমি দিচ্ছি...ব্যাস,বোমা পড়লো। নারী স্বাধীনতা,ভালোবাসার মাঝে টাকাপয়সা আনছো,আমার টাকা তোমার টাকা আবার কি,কিছু একটা নিয়ে নিলেই হলো নাকি,এসব শুনতে শুনতে তিনটেই বিল করা হলো। 

গোটা রাস্তা মুন্ডপাত হলো এর পর। উনি পুজোতে তিনটের একটাও পরবেন না এই শপথ নিলেন। আসলে আমার মুখের দিকে তাকিয়েই উনি ঐ তিনটের মধ্যে কমপ্রোমাইজ করছিলেন, নইলে ওনার আসলে হলুদটা পছন্দ হয়েছিল,এই সত্যের খোলসা হলো। মিনমিন করে যেই বললুম,হলুদটা তো আমি শুরুর ১৫মিনিটে দিয়েছিলাম,তুমিই তো নিলেনা,ব্যাস...সেকেন্ড রাউন্ড...তর্ক করতে চাইলে আমি নাকি আর কিস্যু চাই না। নেহাত আমার প্যান্ট কিনতেই বাজার যাওয়া,নইলে উনি শখ করে বাজার যান না ইত্যাদি প্রভৃতি...

পরের দিন সকালে শুনি বদলাতে হবে...গেরুয়া টা বদলে হলুদ টা নেবেন উনি। কিন্তু ওটা তো তোমার ফেভারিট ড্রেস ছিলো,বলতে জানতে পারি...আমি নাকি ওনাকে মন দিয়ে বাজার করতে দিই না,একটু পর থেকেই চলো চলো করি...তাই ভুল সিলেক্ট করে ফেলেছেন...পরের সপ্তাহে শুধরে নেবেন...

আমরা গত বছরের পুজোর বাজার টা আজ কমপ্লিট করলাম যাস্ট...কাল থেকে এবছরের টা শুরু করবো...      

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ডিন জোনস

সেটা ৯২ বিশ্বকাপের আগের কথা। অস্ট্রেলিয়ার সাথে খেলা হয়, আর ইন্ডিয়া দুমাদুম হেরে যায়। সাদা বলের ছাল চামড়া তুলে দেয় অজিরা। আমি তখন দ্বিতীয় শ্রেনী, আমি তখন লেদুস, ছোট্ট ব্যাট নিয়ে সচীন হবো ভাবি আর সাদাকালো টিভিতে ফিল্ডারদের ক্যাচমিস, শ্রীকান্তের নাক টানা, কপিল দেবের হাতের সাদা ব্যান্ড, সচীনের দাড়ি না হওয়া গালে জিলেট শেভিং সব দেখি আর মনে মনে এক চ্যুইংগাম খোর কে গালি দিই...

ডেভিড বুনের সাথে এই লোকটা জুড়ে গেলেই হলো, একে আউট করাই যায় না...চ্যুইং গাম চিবোতে চিবোতে নামে, গালে জিংক অক্সাইড, একবার বোধহয় ওপেন করেছিলো, নইলে সম্ভবত তিন নম্বরে, মোটকথা ছেলেবেলার পৃথিবীতে ডিন জোনস মানেই ত্রাস। আজকের টি টোয়েন্টির পৃথিবী ওনাকে রেকর্ড বই এ মাপতে চাইবে হয়তো, আমরা ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট টিভিতে অসহায় শ্রীনাথ, শাস্ত্রী বা সুব্রত চ্যাটার্জী কে দেখতাম আর ডিন জোন্স কে মাপতাম, ভাবতাম কিকরে লোকটা এত এতটা মারে, লোকটার ব্যাটটা নির্ঘাত বেশি চওড়া...স্বীকার করতে দ্বিধা নেই ওনার অবসরে একটুও দুঃখ পাইনি, বরং স্বস্তি পেয়েছিলাম, তৃপ্তি পেয়েছিলাম...মনে হয়েছিলো, যাক , একে আউট করার যন্ত্রণা টা দেখতে হবে না প্রিয় নায়কদের চোখে...
এর পর কাট টু, ক্রিকেট কমেন্ট্রি দিতে কমেন্ট্রি বক্সে আলাপ...প্রথমে হড়কে গেছিলাম, এটা ডিন জোন্স, আগে ছিলেন চাবুক চেহারা, এখন যেন একটু স্থুল...আগে চোখটা দেখলেই মনে হত "খুনে"...ইনি ত দিব্যি ভদ্রলোক...বাইটের আবদার করলাম...ছবিও উঠলো...মনে মনে ছেলেবেলার মত গালিও দিলাম, তারপর ফিক করে হেসে ভাবলাম, বাব্বাহ, আউট করাই যেত না মালটাকে...

আজকে প্রয়াণের সংবাদে, কিছুটা বিহ্বল...মৃত্যুর বিষাক্ত আউটস্যুইঙ্গারে ইনি ব্যাটের কোনা ছুঁইয়ে দিলেন? বয়েস কি এতটা নড়বড়ে করে দেয় বিখ্যাত ডিফেন্সকে...নাকি বোলার নয়...ডিন জোন্সকে হারাতে স্বয়ং শমণকে বল হাতে নিতে হয় ...!!!

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ট্যুর

কি করে আপনাদের বেড়াতে যেতে ভালো লাগে জানিনা !!! আমাকে আলমারি তাড়া করে!!!

একটা ব্যাগে ইলেকট্রিক কেটল,তার মধ্যে যায়গা বাঁচাতে ছেলের আন্ডারপ্যান্ট। ছেলেকে আমি ভালোবাসি,তবে এতটাও নয় যে ওর আন্ডারপ্যান্টের টি ব্যাগস এ চা খাবো। মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণ মাটি খেয়ে হাঁ করেছিলেন, হাঁ এর ভিতর যশোদা আমার গিন্নির ট্যুরব্যাগ দেখতে পেয়েছিলেন!!!  

আমাদের ট্যুরব্যাগে বিশ্বব্রম্ভান্ডের সব থাকে...আর আমাকে ওইটে ক্যারি করতে হয়...তার মানে হলো আমি ছদ্মবেশী বাসুকি,মাথায় বিশ্ব নিয়ে ঘুরি। আমাদের প্রত্যেকটা ট্যুরে স্টেশান পৌঁছাতে লেট,কারন রিকশাওয়ালার সাথে অবধারিত ঝগড়া। সে কিছুতেই তার রিক্সায় আলমারি তুলবে না,গিন্নিও ছাড়বে না,তার হারকিউলিস কত্তা লোহার আলমারি বয়ে নিয়ে আসতে পারলে রিক্সাওয়ালা কেন পারবে না এই কূট তর্কে রিক্সাওয়ালা নামেই না। এতে বুঝি, দাদার জীবনে উন্নতি নেই,তর্কটা করলে ঘন্টাখানেক সঙ্গে সুমনে যেত...যাই হোক,গিন্নির খান পাঁচেক ব্যাগ,ফিল্টার,গ্যাস সিলিন্ডার,লোহার আলমারি,হ্যান্ড শাওয়ারের হাতল, বাবার কানখুশকি, মায়ের পিঠ চুলকানোর হাত সব আমাদের ট্যুরে নিয়ে যেতে হয় কারন, "যদি দরকার লাগে"...আর বইতে হয় আমাকে...

দাঁড়ান,এখানে শেষ নয়, আমাদের কম্পার্টমেন্টের একটাই দরজা,কারন অন্য দরজার সামনে আমাদের পাহাড়প্রমান জিনিস রাখা যার উপর বাচ্চা বসে চিতকার করে, " একটা জুতো হারিয়ে গেলো" ওর মা এক থাবড়া মারতে না মারতে ,মেয়ে চিপস এর বায়না করে। কষ্ট করে ট্রেনে সব তুলতে তুলতে দাবী বদলে যায়,শ্বাশুড়ি লোয়ার বার্থ আর পুত্র আপার বার্থের দাবীতে সংসদ অচল করে ফ্যালে,শ্বাশুড়িকে বাঙ্কে তুলে খোকাকে সিটে বসাতেই বাবা ততক্ষণে নিচে নেমে "কটা স্টেশান পুরী যেতে" জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে চা ওয়ালা কে, মায়ের প্রশ্ন চটিটা ফ্যানের পাশে ঝোলাবে মাথার কাছে নিয়ে শোবে গিন্নির মুখ গোমড়া কারন ট্রেনে কেন সব সিট উইন্ডো হয় না, এখন ট্রেন ছেড়ে দিতে না দিতেই সবার চিন্তা আলাদা, শ্বাশুড়ি বাথরুম যাবে, মায়ের চিন্তা,"খাবার টা কি সন্ধ্যে ৬টা তেই বেড়ে দেবো?" গিন্নির চিন্তা তিতাস ঘরের লাইট জ্বেলে এসেছে,শ্বশুর মশাই এর চিন্তা বাবা চা ওয়ালাকে জেরা সেরে ট্রেনে চাপতে পারলো কিনা, বাবার চিন্তা দৌড়োতে দৌড়োতে চা ওয়ালা খুচরো আড়াই টাকা সৎ ভাবে ফেরত দিতে পারবে কিনা...ছেলের চিন্তা চিপস এর পরে লজেঞ্চুশ কাকু কখন আসবে...

আমার চিন্তা,এর পরে ট্রেন থেকে একে একে সবাইকে নামাতে হবে...তারপর ট্রাঙ্ক,বাক্স,তোরঙ্গ,খাট,মশারি,তোশক,ডাস্টবিন,চুরি করা ট্রেনের চাদর,শ্বশুরের কেনা আনন্দবাজার,শ্বাশুড়ির বাদামের খোসা,মায়ের আধখানা আলুসেদ্ধ জমিয়ে রাখা টিফিনবাক্স, বাবার চা এর খুরি গিন্নির এক রাশ মুখঝামটা সব একে একে নামিয়ে, ট্রেনের চেন টেনে নিজেকে নামিয়ে,এই এত্ত কিছু ঘাড়ে তুলে ছুটতে হবে...কারন ততক্ষণে চেন টানার জন্য টিটি তাড়া করেছে...তাই আপনার যাত্রা সুখকর...আমার নয়...

খুব ভয়ে ভয়ে আছি, লকডাউন কবে উঠে যাবে,এই ভেবে...আমার বাড়ির ট্যুরের ব্যামো,আমার কুলিগিরি করে পিঠের...

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বিজয়

অমিতাভ কে স্ক্রীনে দেখলে সব ভুলে যাই,ছেলেবেলা থেকে...জুম্মা চুম্মা দে দে,ভিলেনকে মার...মদের দোকানের সমস্যা,চার দিকে হাতে রড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গুন্ডা,মেরে পাট পাট করে দিচ্ছে...আমি জানি,দুখী মায়ের সমস্যা মেটাতে, মৃত বাবাকে একা দাহ করতে নিয়ে যেতে,একটাই নাম...বিজয় দীনানাথ চৌহান...পর্দাজুড়ে শাহেনশা...বিজয়...

আমাদের বিজয়,মোটা,ফর্সা ভিতু...ছেলেবেলায় বাঁদরের থাপ্পড় খেয়ে আমার সামনে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলো,"নিলু যাস না,যাস না"...কি দরকার ছিলো বিজয়ের? বেশ তো আমি যেতাম,আমিও থাপ্পড় খেতাম...কিন্তু ঐ,বোকা একটা ভোলাভালা ফুল...

বিজয় হাত ঘুরিয়ে বোলিং ভালো পারে না,বিজয় ফিজিক্সে কাঁচা,বিজয়ের কথায় গ্রামের টান...কিন্তু বিজয় আমাকে ভালোবাসে...বিজয় ক্লাসে কথা বললে আমার নাম বলে দেয় না,আমি প্রাইজ পেলে কবিতা বললে বিজয় হাততালি দেয়...ওই যে বললুম,বিজয় ইমোশানাল ফুল...

দেখা হলে,বিজয় জড়িয়ে ধরে,ওর গায়ে সারাদিন কাজের গন্ধ...কাঁধের কাছটা ধরে বুকের কাছে টেনে সবার সাথে আলাপ করায়,আরে বোকা আমি ভালো রেজাল্ট করেছি তোর কি,ও বোকার মত সবাইকে দেখায়...এই দ্যাখো আমার বন্ধু অমুক,আমার বন্ধু তমুক...

সিনেমার বিজয়ের সাথে সামনের বিজয়ের তফাত অনেক...ওটা উইনার,এটা লুজার...ফুল...

তারপর অনেক সংবাদ আসে,কিছু সময় ভেসে যায়...চেনা শহরের রং বদলায়,এক আকাশ ঢাকা পুরোনো মফস্বলে কত নতুন মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যায় বিজয়...হারাবেই তো...ও কি অমিতাভ নাকি,আরে আমিতাভ লম্বা,ছ ফিট দুই,বিজয় বেঁটে,ম্যাচিং না করা গেঞ্জির সাথে সানগ্লাস পরে বোকা...ওরা ফিরে আসে নাকি...আসে না...সবাই সুপারম্যান হয় না...

তার পর কোনো এক মোড়ে দ্যাখা হয়...আমার মাথায় হাজারো সমস্যা...প্রমোশান,এ এম আই,টাকা ইনকাম...বিজয়ের মুখে হাসি,"তুই কত্তো বড় হয়ে গেছিস"... আ মোলো যা,নিজেকে দ্যাখ...আমার কত্ত সমস্যা জানিস,বাবার বয়েস,পেট্রোলের দাম,মেয়ের স্কুলে ভর্তি...

বিজয় মিটিমিটি হাসে...

তার পর বিজয় যেনো বাতাস হয়ে, কানে কানে বলে যায়, লাং ক্যান্সার...ফার্স্ট স্টেজ...উতরে গেছি...আসলে মেয়েটার বয়েস দুই...ওর কথা ভেবেই...

ওর সাইকেল নিয়ে চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে দেখি দিকশূন্যপুর...
আমরা ই এম আই এর জন্যে লড়েছি
টাকার জন্যে লড়েছি, প্রমোশানের জন্য জনপ্রিয়তার জন্য, একটু জমি,বালিশ এমনকি পরকীয়ার জন্যেও লড়েছি...

বিজয় লড়েছে...জীবনের জন্য,দুটো মুহুর্তের জন্য...আমাদের ধাক্কা মেরে,সেই ছেলেবেলার বাঁদরের হাত থেকে বাঁচানোর মতো করে সরিয়ে বলেছে,বেঁচে নাও বন্ধু,এই মুহুর্তটাই জীবন...আর আমরা ভেবে চলেছি,সে নিজে ফুল হয়ে আমাদের জিতিয়ে চলেছে নিরন্তর...,

বিজয়রা সবসময় জিতে যায়...সিনেমাতেও...বাস্তবেও...কেউ হাততালি জেতে,কেউ জেতে জীবন... 


শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মাতাল ০১

মদ মানুষকে ধৈর্য্যশীল বানায়...

রেশন দোকানে লম্বা লাইন,কত বিতন্ডা নিয়ম ভাঙার খবর,মদের দোকানে দেখুন,কি সুশৃঙ্খল লাইনে মানুষজন ঠায় দাঁড়িয়ে। মুখে মাস্ক,ধীরে ধীরে এগোচ্ছেন,জানেন সব্বার একই লক্ষ্য,লাইনে বেগড়বাঁই হলেই ছত্রভঙ্গ হয়ে যাবেন,জীবনে ভাত ছাড়াও বাঁচা যায়,কিন্তু মদ ছাড়া জীবন জী বাংলা ছাড়া কেবল, জীবনটাই নেই গো দাদা...

কত কত মানুষকে দেখেছি,পেটে দু পাত্তর পড়তে না পড়তেই বিনয়ী,থেকে থেকে হাত জোড় করে নমস্কার করছেন,"বৌদি প্রণাম,দাদা প্রণাম...ভুল হয়ে গ্যাছে" ভাবুন, বিনয় তো আর নুডলস বয় যে দু মিনিটে আসবে...কিন্তু অয়ারেন,তিনি পারেন...বিজ্ঞাপন বদলে ফেলে বলতে ইচ্ছে করে..."মদ আচ্ছে হ্যায়"...

কোর্টে কেন যে দিব্যি কাটিয়ে ছেলেখেলা করা হয় ঈশ্বর জানেন। গেলাও কয়েক পাত্তর। হড়হড় করে সত্যি বেরিয়ে আসবে। এক পেট ধর্ম রেখেও কুরুক্ষেত্রে ঢপ দিয়েছিলেন যুধিষ্ঠির, সাহস হতো,এক পেট মদ খেয়ে দ্রোণাচার্য র সামনে যেতে? হাউ হাউ করে কেঁদে ভাসিয়ে বলে ফেলতেন না,"মাইরি বলচি গুরুদেব,ও শালা কৃষ্ণটা শিখিয়েচে,নইলে আমি তোমাকে মিথ্যে বলতে পারি?অশ্বত্থামা লুডু খেলচে দ্যাকো গিয়ে,হাতি মরেচে হাতি..." কাল থেকে চালু হোক কোর্টে পান করিয়ে সাক্ষী দেওয়া, দু দিনে সব কেসের ফয়সলা হয়ে যাবে...

অর্থাৎ ধর্মের চেয়েও মদ ভালো। মদ আপনাকে প্রকৃত সত্যবাদী বানায়। মদ উদারতা শেখায়...কোনো পাঁড় মাতালকে কিছু চেয়ে দেখুন। আন্ডারওয়্যার দান করে প্রয়াগের হর্ষবর্ধন হয়ে যাবে,তবু বলবে না দেবোনা...আমার স্থির বিশ্বাস কবচ কুন্ডল দানের আগে,কর্ণের ভাত টা পচে গেছিলো...ধেনো না খেয়ে অমন দান,ভাবাই যায় না...

মদ মানুষকে সাহসী বানায়। কিম জং উন কে হটাতে হবে??লাগাও দু পাত্তর, হাতে সড়কি নিয়ে পাকিস্তান দখল করবেন? একটা নিপ করো অর্ডার...ক্যাপ্টেন হ্যাডক মদ খেয়ে তিব্বত চলে গেলেন,মহিষাসুর বধে দুর্গাও অর্ডার দিলেন সিঙ্গেল মল্ট উইথ সোডা...আমার এক বন্ধু,বসের কাছে ছুটি চাইতে হলে এক পেগ নিয়ে বসে ফোন ডায়াল করে...সাহসী হতে গেলে ক্যারাটে?জিম?মেডিটেশান??ভুতের বাড়ি রাত কাটানো??বাঁয়ে হাত কা খেল বন্ধু...এক পিকনিকে এক মাতাল বন্ধু অতি উতসাহে তার পরকীয়া প্রেমিকার কন্যেকে ঘুঁষি মেরে মুখ ফাটিয়ে দিয়েছিলেন...পরমুহূর্তেই প্রেমিকার হাত ধরে ছলছল চোখে বলেছিলেন,"তোর মেয়েকে আমি মারতে কি পারি,ওটা তোর মেয়ে না...তুই ভুল দেখেছিস"...ডি এন এ টেস্টের এত ইনস্ট্যান্ট রেজাল্ট আজ অব্দি কোনো মেশিন করতে পেরেছে মদ ছাড়া??

ভেবে দেখলাম,ঐ একটা কারনেই আজ আমার ধৈর্য্য নেই,সাহস কম...সত্যি বলিনা...কিপটে...অ্যারোগেন্ট...এত্ত সদগুন বঞ্চিত,শুধু মদ্যপান করিনি বলে...

কে জানে ভবিষ্যৎ এর প্রথম ভাগের এডিটেড ভার্সান এটা আসবে কিনা...রাম অতি সুবোধ বালক,সে যে পেগ পায়,সেই পেগ খায়...

বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

জনঘনত্ব

সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন যে বাড়ছে,ঘুমোতে যাবার সময় বিছানা দেখলে বুঝতে পারি...

এমনিতে আমাদের বাড়ির জনঘনত্ত্ব চিনের থেকে একটু বেশিই। তিনটে কামরা... থাকে ১০৫ জন।আমি,মা,বাবা দুই সন্তান আর সঙ্গে গিন্নি...উনি একাই একশো। মোট ১০৫। এ ছাড়া দেওয়ালে সঙ্গমরত টিকটিকি, দরজার কোনে মিছিল করা পিঁপড়ে, ওভেনের পিছনে ওয়ার্কএহোলিক আরশোলা,কাগজের র‍্যাকে প্লেবয় ইঁদুর,সব্বার নিজের নিজের স্থান পাকা...নিজের ফ্ল্যাটে নিজেকে দেখলে লালকুঠির ড্যানি মনে হয়...তোমার ফ্ল্যাট আমার ফ্ল্যাট আমার ফ্ল্যাট নেই...সোফায় ফেলে দিলে আমায় সোফায় পড়ে রই...

কিডনি বেচে কেনা রকিং চেয়ার,তার তিনভাগে গিন্নির সালোয়ার,একভাগে আমার তশরীফ। অত অল্প যায়গায় এঁটে যাচ্ছে দেখে পারলে ঈশ্বর জুম কল করে প্রশ্ন করেন,"হ্যাঁ রে,ওইখানে মাংস তো আর দেবার দরকার দেখিনা"...ডাইনিং টেবলে মোবাইল,স্যানিটাইজার,চুল বাঁধার ক্লিপ তাই ভাতের থালা কোলে...ডাইনিং টেবলের চেয়ারে শুকনো তোলা কাপড় সেটা দেখে আপনি ফ্রিজের মাথায় বসতে চাইলে সে উপায় নেই,সেখানে ভাঙা ফটো ফ্রেম,চাবি,ইলেকট্রিক বিল, দাদুর দাঁত!!! দাদু মারা যাবার পর তার দাঁত যতখানি এরিয়া পাচ্ছেন ওইটে যুধিষ্ঠির পেলে সুতানুটি গোবিন্দপুর ইন্দ্রপ্রস্থ হয়ে যেত,কুরুক্ষেত্র হতো না। সোফাতে বই,জলের জগ,রিমোট... মোটমাট সর্বক্ষেত্রে ইউনিয়ন জ্যাক উড়ছে বন্ধু,সূচ্যগ্র স্কোয়ার ফিট বরাদ্দও নেই।

শেষ আশা ছিলো রাতের বিছানা,সেখানে অর্ধেক জুড়ে গিন্নি। বাকি অর্ধেকে আড়াআড়ি ভাবে আয়তক্ষেত্রের "কর্ণ" পোজে কন্যা ঘুমোচ্ছে...নিজেকে শিব ভেবে গিন্নির পায়ের কাছে সেঁধোতেই চমক!!! ইইইক বেড়াল ঢুকেছে বলে চেঁচাতে গিয়েই ধড়াম করে লাথি খেলেন। মাথার চারপাশে তারার বনবনানি দেখতে দেখতে ভাবলেন,আপনাদের বাড়িতে তো বেড়াল নেই,আবিষ্কার করলেন বিড়াল রুমাল না হয়ে গিয়ে আপনার ৪বছরের পুত্র হয়ে গ্যাছে...পায়ের কাছে কুন্ডলি পাকিয়ে ঘুমোতে ঘুমোতে লাথি ছুঁড়ছে...

শ্বশুরমশাই এর দেওয়া খাট,নিজের বলে দাবি করে অধিকারও ফলাতে পারবেন না। তাই নিজের কেনা এসির মায়া ছেড়ে রিমোটের উপর ঘুমোবার প্ল্যান করলেন। মানে সোফার উপর রিমোট,তার উপর আপনি,চাপে টিভি চালু হয়ে গেলো...বাবার চিৎকার,"ইলেকট্রিক বিল কত এসেছে খেয়াল আছে"...আপনারই টাকা,আপনিই আপনার নিজের মোবাইলের ডেটা খরচ করে পে করেছেন...তাতেও অন্যে খোঁটা দেয়...

যাই হোক,বাবা আপাতত চালু করা টিভিতে জংলী দেখছে,আমি কমোডের উপর বসে,তোয়ালে ঝোলানোর হ্যান্ডেল ধরে ঘুমোনো প্র‍্যাকটিস করছি...কোনো সহৃদয় ডেলি প্যাসেঞ্জার থাকলে বসে ঘুমোনোর টিউটোরিয়াল এর লিংক দেবেন প্লিজ...

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

পাম্প খারাপ

ডিপ্রেশান ভয়াবহ,তবে তার চেয়েও ভয়াবহ, পাম্প খারাপ হয়ে যাওয়া!!

তিনতলায় ফ্ল্যাট,ব্যাক আপের সুযোগ না দিয়েই পাম্প বাবাজীবন ভি আর এস নিলেন। অ্যাটিটিউড টা যেনো,"কাজ করবো না,চাকরি ছেড়ে দিয়ে দুনিয়া দেখবো"...তিনি ঠেলায় চড়ে দুনিয়া দেখতে লাগলেন,আর আপনি পড়লেন ফাঁপরে...তুচ্ছ এক পাম্পও রিজাইন করতে পারে,আপনি পারেন না,এটা ভেবে বেশি দুঃখ পাবেন নাকি বাথরুমে জল নেই এটা ভেবে,হঠাৎ মনে পড়লো, সকাল থেকে ইয়েতে যাবেন ভাবলেন কিন্তু ফ্ল্যাশ এর অবস্থা আপনার মানিব্যাগ সম,দুইই ফাঁকা...তাই ভাবলেন যে ডিপ্রেসন টা জল আসার পরেও হতে পারে,কিন্তু ইয়েটা এখন না হলে আপনার প্যান্টটা গত হতে পারে...তাই লোকাল ভগীরথ হয়ে গঙ্গা আনার প্ল্যান করলেন...

কিন্তু ভগীরথের সুবিধে হলো,ওনার সব ছিলো কিন্তু লিফট ছিলো না। ফিলটারে জল নেই,তাই খাবার জন্যে অর্ডার করে মিনারেলেই আজকে স্নান করবেন...এটা ভেবে নিজেকে আম্বানি বলে দাগিয়ে জল অর্ডার করলেন...চার জ্যারিকেন মিনারেল ওয়াটার নিয়ে দাদা লিফটে চাপতেই লিফটের হটাৎ মনে হলো,তিনি শিবের জটা। জল পেয়েছেন মানেই আটকে দিতে হবে...যেন জটা আসলে জটা নয়,লাল ফিতের ফাঁস, যেনো ইস্টবেঙ্গলের জাতীয় লিগ ভাগ্য, যেনো আমার ইনক্রিমেন্ট, কোনো না কোনো ভাবে আটকে যাবেই,এবং গেলো,এক মানুষ,চারটে জ্যারিকেন সহ লিফটের দরজা গেলো বন্ধ হয়ে...

তার মানে হাতে কি রইলো?? আপনার কাছে মাটির তলার জল আছে,কিন্তু পাম্প ধোনী,মানে সদ্য অবসর নিয়েছে, লিফট ভর্তি জল,কিন্তু সেটা পাবেন না কারন জলওয়ালা ভদ্রলোক কাতর ভাবে তাকাচ্ছেন যেন আলিপুর জু র হিপোপটেমাস,এবং আপনাকে ক্রমাগত তাড়া দেওয়া ইয়ের চাপ...

ইলেকট্রিশিয়ানকে ডাকা হলো,তিনিও ডুবে আছেন,কারণবারি তে। সবুজ পাঞ্জাবীতে আমাকে জিন্দেগী তে দ্যাখেন নি,ইয়াব্বড় সেলাম করে বললেন,"বৌদি,এক্ষুণি সব ঠিক করে দিচ্ছি"...আমি তখন আরো কনফিউজড... লিফটের লোককে রক্ষা করবো,পাম্পটা লাগানোর চেষ্টা করবো,নিউজপেপার নিয়েই বাথরুম যাবো নাকি আমাকে বৌদি বলায় দোপাট্টা এনে বুক ঢাকবো সেটা ভাবছি, ততক্ষণে লিফটের মেনটেনেন্স খবর দিলেন তার আসতে সময় লাগবে,আর আটকা পড়া মানুষটিও খবর দিলেন তার বাড়িতে বৌ বাচ্চা আছে,এবারের মত যদি বাঁচতে দেবার সুযোগটুকু করে দেওয়া হয়...ইলেকট্রিশিয়ান দাদা ততক্ষণে আমার খবর জানতে চাইছে আমার কাছেই,"বৌদি,দাদা নেই,ডেকে দিন না, মিটারঘরের চাবি লাগবে,দাদা ভালো আছে তো?বহুদিন দেখিনা"…বাবা তখনই চেঁচিয়ে উঠলো,"সকাল থেকে কি চাও পাবোনা"...

পাঞ্জাবি খুলে বারমুডা পরবো?নাকি পেপার হাতে বাথরুমে,নাকি নতুন পাম্পের অর্ডার দিয়ে সেটা ফিট করবো,নাকি লিফট থেকে জল বের করবো,নাকি লোকটাকে উদ্ধার করবো,নাকি বাবাকে চা,নাকি পেপার নিয়ে বাথরুম,নাকি মিটারঘরের চাবি,নাকি দোপাট্টা আনা,নাকি কেমন আছি সেটা জানাবো...এই সব ভেবে সকালে ডিপ্রেসড হবার সুযোগ পাই নি...

এখন এটা ভেবেই ডিপ্রেসড যে,এত বাজে জনিস ঘটেছে সকাল থেকে, যে কিছু লেখার বিষয় পাচ্ছি না...!!!

শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০

দেবব্রত

লয় যেনো তার মহাবোধী,লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ
আকাশ যদি দেবব্রত,খোলা হাওয়া...গীতবিতান

কে খুঁজেছে বিতর্কদাগ, আকাশের কি ক্ষত হয়
সুরের কিরন ছড়িয়ে গেলে, সূর্য তারাও নত হয়

এক হাতে তার বিষন্নতা, সুখের চিঠি অন্য খামে
যে ক্যানভাসে ভোরের আলো,সেইখানেতেই সন্ধ্যে নামে

সেই সেখানেই বন্ধু দাঁড়ায়, জীবন মরণ সীমার শেষ
আকাশ যদি দেবব্রত, ঘর খুঁজে পায় নিরুদ্দেশ 


শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২০

বিষাদের সুর

জানলা শরীর কাঁচের দেহে, আঁকাবাঁকা জলের শিরা
কেউ দেয় দোষ নিম্নচাপের, কেউ দেখেছে,আলতামিরা
জ্বরজ্বালা নেই তাই হয়তো, জমা জলে ফুর্তি ছাদের
দুরে সানাই বিসমিল্লার,সুর রয়েছে সব বিষাদের
উত্তম আজ শর্মিলাতে,কেউ খেলাঘর বাঁধছে আশায়
লেখার পাতা ফুরিয়ে গেলে,বৃষ্টিতে কে নৌকা ভাসায়
গুঁড়ো গুঁড়ো জল, বলে যায় একা ব্যালকনিদের কানে
অন্তরে ব্যাথা, কোন রাধিকা, চেয়েছে মেঘের পানে
শ্রাবণের ধারা,বয়ে চলে যায়, ভাসিয়ে অন্তঃপুর
জলের দাগেরা গুনে গেঁথে রাখে, সব বিষাদের সুর


বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০

দইওয়ালা

এই শহরে সময়েরা বয়ে যায়
সকালে ভিস্তি, দুপুরের হরকরা
ফিতে চুড়ি টিপ, দশ পয়সাই দাম
খিড়কির দোরে,গুনে গেঁথে দরকরা

ভেজা রাস্তারা খোঁজ করে গ্যাছে রোজ
মোড়ের মাথায় বসে কিনা ফুল মালা
বেলা বাড়লে সাইকেলে মাছ,রোজ
কেউ পুজো সেরে,হাতে সাজি ধুপ ডালা

চাটাই চরকি মুখে বাঁশি ফেরিওয়ালা
কড় গুনে যাই, সপ্তাহে কোনদিন
শহরের নাম গুলিয়েছে তদ্দিনে
কলকাতা,নাকি আমাদের হ্যামলিন

শীতকালে গুড়,মোরব্বাদের ঝুলি
সিল কাটাই, সুর লাগে সপ্তকে
কুলপি তো নয়,ইস্ট ইন্ডিয়া দেখি
বানিজ্যতরী,ভিড়েছে পাড়ার রকে

শুনসান পথ,চোখ বুজে শুধু শুনি
স্মৃতির গলিতে, কে হাঁক দিয়ে যায়...
সুখ গুলো আজও মনের ক্যানভাসে 
দইওয়ালা আজও অমলের অপেক্ষায়




মৃত্যুর পরে বারবার আসি ফিরে

কখনো আকাশে বিষাদের রং লাগে
কখনো বেদনা নাগপাশে রাখে ঘিরে
তবুও হারিনি,জীবনের লোভে আমি
মৃত্যুর পরে বারবার আসি ফিরে

এখানেই গলা আঁধারেরা বয়ে যায়...
সন্ধ্যেরা আসে দুপুরের বুক চিরে
উপসংহারে ভূমিকাই বুনি রোজ
সময়কে বলি, বন্ধু... একটু ধীরে...

লোভে ওত পাতে, আমি হাত পেতে যাই
ভোরের আলোরা সোনা ঢেলে দেয় রোজ
কেউ ঘুম দ্যাখে দিনের শেষে তাই,
আমি শব ঢেকে করি রাস্তার খোঁজ

নদীদের বাঁকে স্মৃতিদের ভাঙা ঘাট
প্রতিদিন কত নৌকা ভীড়েছে তীরে
ভুলে ভরা তবু লোভ জীবনের তাই
মৃত্যুর পরে বারবার আসি ফিরে

|| নীলাঞ্জন ||

ছবিতে তারা...যারা বাড়ি ফিরিয়ে আনে...

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০

মানুষের কোনো দোষ নাই

মানুষের কোনো দোষ নাই!!!

Nilanjan এর পোস্ট থেকে:  

অবশেষে কুকুরেরা হাতির মৃত্যুতে ধেনোর বোতল খুলে সেলিব্রেশানে বসলেন…

কুত্তা ভোঁকে হাজার, হাতি চলে বাজার এ বৈষম্যমূলক মন্তব্য নিয়ে দীর্ঘকালের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ তো ছিলই, এবারে দ্যাক ক্যামন লাগে বলে কুকুরেরা দিকে দিকে ক্ষোভ উগরে দিতে লাগলেন। ‘ন্যাজে পটকা বাঁধা কি তোর একার’, কিংবা, ‘অল্পেতে ঘা সারেনা, এ ক্র্যাকারের ভাগ হবেনা’ এ নিয়ে বিজ্ঞ সারমেয় রা চারদিকে জনমত তয়ের করতে লাগলেন এ মর্মে যে এবার থেকে মৃত্যুরও সম বন্টন চাই। উচ্চ নিচ জাতভেদ এখানে চলবে না, তুমি হাতি বলে কম মরবে, শুধু আগুন দেখিয়ে ভাগিয়ে দেওয়া হবে বা জঙ্গল থেকে খেদিয়ে দেওয়ার মত আয়েশ আর নয়, ‘ঘা য়ে দের পিঠে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার’।

কিছু কুকুর আবার এক ধাপ এগিয়ে বলতে লাগলেন গায়ে গরম জল ফেলে দেওয়াটার একটা রেশন করলে হয় না? মানে এ সপ্তাহে কুকুর, অন্য সপ্তাহে হাতি, ওদের চামড়ার এরিয়াটা বড়, পার্সেন্টেজ অফ বার্নিং এর চান্স টা অল্প হবে, ওদের বেশি দায়িত্ত্ব নেওয়া দরকার!!

চা দিতে এসে ডগি বৌদি প্রেগনেন্সি প্রসঙ্গ তুলে সহানুভূতির গ্রাউন্ড আনার চেষ্টা করতেই প্রতিবাদী তরুনী সারমেয় বিপ্লবী পোস্ট করলেন, ‘আজ ও প্রেগনেন্ট বলে কত্ত সহানুভূতি, আমি ত বলবো বেশ হয়েছে, কই আমাদের প্রেগনেন্ট রমণিদের যখন লাথানো হয়, সেক্সের সময় ইঁটের বাড়ি দেওয়া হয়...আমরা ইঁট খাওয়া প্র্যাকটিস করেছি, বাকিদেরও সেই কৃচ্ছ্বসাধন করতে হবে, বাড়ি বসে থেকে কলাগাছের ডাল ভেঙে লবাবি করলে তো সাম্য হয় না, জিমে যাও, বডি বানাও “ইঁটের বাড়ি খাও, খুদ জান যাও” …

পলিটিকালি কারেক্ট কুকুরকূল জনমত নিজেদের দিকে ঘোরাতে লাগলেন এবং এক বিষয়ে প্রায় সমস্ত ডগিরাই একমত হলেন যে মানুষদের কোনো দোষ নেই। তোমরা বেচারাদের ঘরে আটকে রাখবে, করোনা তে জ্বালাবে,পথে ইয়ে করতে দেবে না, রাস্তায় থুতু ফেলতে দেবে না, মলে ঘুরতে দেবে না, জলে বর্জ্য ফেলতে দেবে না ও বেচারারা করবে কি। ওদেরও তো জীবন আছে, ওদের এন্টারটেনমেন্ট কেড়ে নিলে ওরা এ সামান্য হত্যাটুকু করবে না!!! “না না, এ ভারি অন্যায়, মানুষদের তো কোনো দোষ দেখিনা”, এক প্রবীণ ফেবুবিপ্লবী বলে উঠলেন, “ওদেরও তো কিছু লাগবে রে বাবা, কদ্দিন ঢিল ছোঁড়েনি, পাখি ধরেনি, গুলি করেনি, আর এ সামান্য আনারসে পটকা দিলেই দোষ??মরলি মরলি, অত হল্লা করার কি আছে? জঙ্গলে হাতি মৃত্যুর পার্সেন্টেজ জানিস? হিসেব করে দেখলে দেখবি এটা শতকরা শূন্য দশমিক শূন্য ওয়ানের থেকেও কম। মানে বাঘে বা অসুখে তোরা বেশি মরিস, কই, সেটা নিয়ে তো বলিস না, যত মানুষেরই দোষ , তাই না”

রাজনৈতির নেতা সারমেয় আবার সান্ধ্য টেলিভিশনে যুক্তি দিলেন, বললেন,”না প্রত্যেক মৃত্যুই শোকের, কিন্তু এ  মৃত্যুতে শোকের আগে ইনোভেশান টা দেখুন?আনারসে পটকা, এ যে বিস্ময়, এরকম আগে দেখেছো কখনো!! কালিপটকা, ধানিপটকা আগে দেখেছি,কিন্তু এমন আবিষ্কার,এটাতে একটা মৃত্যু কিছুই নয়, ন্যূনতম...কো ল্যাটারাল ড্যামেজ, বড়ি বড়ি ইনোভেশান মে ছোটি ছোটি প্রাণ জাতি হ্যায়, তুম নেহি সমঝোগে সিনেরিটা...আমি পার্টিকে বলেছি যে এ বিষয়ে একটা কমিটি তৈরি করতে, আর আমার যেটা মনে হয় হাতিদের উচিত ঘ্রানেন্দ্রিয় স্ট্রং করা, অত বড় শুঁড় আমাদের সরকার পেলে এদ্দিনে চাঁদের বুড়ির রান্নার গন্ধও শুঁকে ফেলতো, ওরা অভ্যেস করুক, কয়েকটা পলিটেকনিকে হাতিদের গন্ধের ব্যাপারে ট্রেনিং দেওয়া যায় কিনা সরকার আলোচনা করছে... ”

সব্বাই, পাড়ার মোড়ে, থোড় বড়ি থোড়ে, মানিকে জোড়ে এটা বলাবলি করতে লাগলেন, মানুষ কি ভালো, আরে বাবা সব মানুষই লাথি আর টাকা মারতে ভালোবাসে, তার মানে কি ওরা খারাপ নাকি...যারা রুটি আর পরিষেবা দেয়, তাদের ভালো বলতে শিখতে হয়...লাথি মেনে নিতে হয়, গরম জল মেনে নিতে হয়...পটকা মেনে নিতে হয়...কোনঠাসা হওয়া প্র্যাকটিস করতে হয়...বোকা হাতি, জিমে যা, অত বড় জঙ্গল লাগবে না, টিপিনবক্সে এঁটে যাবি...পেট ছোটো কর, প্রেগনেন্সিতে খাবার খাবি না তাও খিদে পাবে না, তুই যে নদীর জলে ডুবে রক্তে জল নোংরা কল্লি, ওটা ফিল্টার করতে মানুষদের কত খর্চা জানিস? অমুক...তমুক...ইত্যাদি বলে কুকুরেরা চারপাশের হাতি ও কুকুরদের সামগ্রিক অশিক্ষা এবং মানুষদের উপর হওয়া অত্যাচার নিয়ে হেব্বি লেকচার দিলে...ভাষা বুঝিনি বলে সব ট্রান্সলেট করতে পারিনি...কল্লেই জানাবো...তবে আমারও মনে হয়...মানুষরা কিস্যুটি করেনি, সামান্য একতা প্রেগনেন্ট হাতি তো, তাকে নিয়ে অত কতার কি আচে বাপু বুঝিনা...কেরলে কত্ত শিক্ষিত লোক আচে জানো???হুঁহ...

রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০

ফেরা

 আজকাল আমার অতীত আমাকে বড্ড কুরে কুরে খায়। একে ডিপ্রেশন বলে নাকি আত্মগ্লানি জানি না, সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করার বাসনা বা ইচ্ছে কোনোটাই নেই, তবে জীবনকে ফিরে দ্যাখা বলতে পারেন, ভুলের মুখোমুখি রোজ দাঁড়িয়ে নিজেকে চাবুক মারা বলতে পারেন, একটা সুস্থ আমি প্রতিদিন একটা অসুস্থ আমি কে দ্যাখে, আর তার খুঁতগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দ্যাখায়...

একজন ড্রাগ অ্যাডিক্ট, চেইন স্মোকার, মদ্যপ যখন জীবনে ফিরে আসতে চায়, তখন তার উইথড্রয়াল এফেক্ট হয় শুনেছি,আমি সেটা ভোগ করছি, সাথে অপরীসিম ডিপ্রেশান। না আমি সারাজীবন মদ ড্রাগ সিগারেট ছুঁওয়েও দেখিনি, কিন্তু যে অভ্যেসে আমি রাতের পর রাত কাটিয়েছি, শব্দের জগতে, আকুতির জগতে, চাহিদার ইচ্ছেয়, সেটাও স্বাভাবিক নয় এবং সেটা অনুভব করেছি দিনের পর দিন। লড়ে চলেছি রোজ, নিজেকে আরেকটু, আরেকটু ভালো করার লক্ষ্যে, চরিত্রবান করার লক্ষ্যে। কিন্তু ফেরা সর্বদা সহজ হয় না। রত্নাকর যখন পরিবারের সবার কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ভেবেছিলো যে যাদের জন্য এত করলাম, তারাই আমার কাজের ভার বা দায় নিলো না, তখন তার মনে কি হয়েছিলো, সেটা ডিপ্রেশান নাকি কুরে কুরে খাওয়া অন্তরের জ্বালা সেটা বেশ বুঝতে পারি।

কিন্তু সে যুগে রত্নাকর থেকে বাল্মীকি হওয়াটা যতটা সহজ ছিলো, এখন কি তাই? মানুষ ক্রমাগতঃ পাথর ছুঁড়ে সে চেষ্টা টা নষ্ট করে দেয় না কি? ফেরার সুযোগ কি সবাই পায়? কে তার অন্তরটা খুলে দ্যাখাতে পারে, বুক চিরে বলতে পারে যে দ্যাখো এইটা আসল আমি, মাঝে কোনো একটা চরিত্রে অভিনয় করছিলাম, মাঝে কোনোভাবে আমার আমির ভিতর ঢুকে পড়েছিলো অন্য আমি, ঐ মানুষটা আমি নই...এই প্রমাণ কজন দ্যাখে, কজন বুঝতে চায়?

জীবনের শুরুর পর্ব থেকেই আমি একজন ফার্স্ট বেঞ্চার। পাড়ার টিপিকাল ভালো ছেলে। হাসতে থাকা, সব্বাইকে হাসাতে চাওয়া এক মানুষ যার লক্ষ্য ছিলো চারপাশে যেন দুঃখ না থাকে। বাড়িতে মানসিক অসুস্থ বাবা থাকলে, অর্থের অভাব থাকলে কি যন্ত্রণা নিয়ে চলতে হয়, ভুক্তভোগী ছাড়া আর কেউ জানে না, সেটাকে দূর করার জন্য আমার বন্ধুদের সাথে পাওয়া বিকেল ছিলো, আমার ভালোবাসাকে লুকিয়ে দ্যাখা ছিলো, ভয়ে কেউ প্রপোজ করতে এলে তাকে রাখী পরিয়ে দূর করিয়ে দেওয়া ছিল...হ্যাঁ আমি বিশ্বের একমাত্র ছেলে যে অন্যকে দূরে রাখার জন্য তাকে রাখী পরিয়ে বোন বানিয়ে স্বস্তিতে থাকতাম...কারন আমার জীবনে সমস্যা ছিল, কিন্তু তাকে দূরে রাখার ভালোবাসার হাত ছিলো, বন্ধুদের সাথ ছিল। একাকীত্ব ছিলো না। কথা বলার মানুষ ছিলো।

কিন্তু সন্তানকে ছেড়ে আসা র যন্ত্রণা কি, সেটা বলে বোঝানো যায় না। অফিস থেকে বাড়ি ফিরে নিজের শহর না পাওয়া, এঁদো যায়গার বিবমিষা,কারুর সাথে কথা বলতে না পারার একাকীত্ত্ব , মেয়ে কে কল করলে সে ফোন ধরতে চাইতো না অভিমানে, সেটার কুরে কুরে খাওয়ার অভিব্যক্তি মানুষকে পশু বানাক বা না বানাক, বাঁচতে চাওয়া মানুষকে ভাগাড়ে বা অন্য কোন স্টিমুলেটারে অভ্যস্থ করায়...পরের দিন সকালে উঠে বা দিনের কোনো এক সময়ে আসা সেই পর্বটা পেরোলে এক অদ্ভুত শূণ্যতা, নিজের কাছে নিজে হেরে যাওয়ার একটা পর্ব...

আপ্রাণ চেষ্টা করে যাওয়াটা আমার চরিত্রের একটা দিক, সেটাতেই ফিরে আসা, সেটাতেই লড়ে যাওয়া...আজ যখন ফিরে আসছি আমার সেই কিশোরবেলার আমির কাছে, সেই টিপিকাল ফার্স্ট বেঞ্চারটার কাছে, সেই ভালো ছেলেটার কাছে, তার চোখে জল...ঠোঁটে অভিব্যক্তি, "কেনো করলে এরকম...বলো"...

জীবনের ফুটবল ম্যাচ কাউকে ফিরতে দ্যায়, কাউকে দেয় না...কেউ সুশান্ত হয়, কেউ অশান্ত... আমি লড়ে চলেছি, ফিরে এসেছি, তবে লড়াই এখনো বাকি, অতীতকে ধুয়ে মুছতে পারবো না, তবে নতুন করে খারাপ না করে, যদি কাউকে জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়...যদি কাউকে বলা যায়, যে,"তুমি কিন্তু এটা নও, তোমার অন্তরের মানুষটাকে চেনো"...যদি আমার জন্যে একজনও বদলাতে পারে...তাহলে সেটাই সেই হেরে যাওয়া, আয়নার সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকা ছেলেটা হয়তো জিতে যাবে...সে আজকে চেঁচিয়ে বলছে, "আমি ফেরার চেষ্টা করছি, ওই ভালো ছেলেটার মত হবার চেষ্টা করছি, আমাকে একটু হেল্প করো..." যখন কেউ কোনো কথা শুনে ,কোন ভিডিও দেখে বলে "তোমার জন্য জীবনে ফিরলাম", কেউ যখন বলে, "আত্মহত্যা করে ফেলতাম তুমি না থাকলে"...কেউ যখন বলে ,"আমার বই বেরিয়েছে, শুধু তুমি পাশে ছিলে বলে, নইলে মরেই যেতাম"...তখন মনে হয় বলি, চেষ্টা, আমি করেছি, ভুল, আমিও করেছি, বাজে কথা, আমিও বলেছি, তবে আমি ফিরে এসেছি, বাকিরা নেবে কিনা জানিনা, বাকিরা কাছে রাখবে কিনা জানিনা, বাকিরা থুতু দেবে কিনা জানিনা, তবে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি, ডাক্তার ওষুধ নিজের চেষ্টা কিস্যু বাদ দিই নি...আমি পারলে...তুমিও পারবে...

শুধু আমার অতীতটা দেখো না...আমার বদলে যাওয়া মানুষটাকে দেখো, যদি এটা দেখে আরো কেউ বদলানোর সাহস পায়...ভালো হবার চেষ্টা করে...ধাক্কা দিয়ে দিলে সে কিন্তু আবার পড়ে যাবে...বাকিরা চেষ্টা করতেও ভয় পাবে...এই ফেরার চেষ্টাটা যেন তোমাদের হাতটুকু পায়...

SWADHINOTA

 ছ বছর বয়সে বিয়ে করে এলেন শ্বশুরবাড়িতে, এবং বারো বছর স্বামীর সাথে ঘর করার পর আবিষ্কার করলেন স্বামীকে যেতে হবে অনেক দূরে, আজকের ভাষায় লং ডিসট্যান্স রিলেশানশিপ, সিদ্ধান্ত নিলেন কষ্টের বনবাসের জীবন বেছে নেবেন।


ভালোবাসা ছিলো, স্বামীর প্রতি দায়িত্ব ছিলো, একসাথে থাকার আকুতিও ছিলো, তবে একটা পরাধীনতাও ছিল...যেখান থেকেই তিনি বলছেন, বাবা মা ছেলে ছেলের বউ সবাই নিজের কাজের ফল ও ভাগ্য ভোগ করেন, শুধু স্ত্রী ভোগ করেন স্বামীর ভাগ্য,তাই স্বামীকে বনে যেতে বলা মানে তাকেও বনে যেতে বলা...অর্থাৎ কর্তব্যের বেড়ি, সংসারের পরাধীনতা...

এই পরাধীনতা চিরকাল ছিলো তার, লক্ষণরেখার বেড়ি, রাবনের অশোকবণে বেড়ি, ফিরে আসবেন স্বামীর কাছে অগ্নীপরীক্ষার বেড়ি, এমনকি অগ্নীপরীক্ষার আগে যখন রাম তাকে যা বললেন তাতে চোখ ফেটে জল এলো, প্রশ্ন করলেন কেনো তিনি তাকে এমন ভাবে বলছেন, পরীক্ষার বাঁধনে ঢুকলেন...আগুনেও মুক্তি পেলেন না, কারন আগুন তাকে স্পর্শ করলো না, বরং তিনি আবার ঢুকলেন সংসারের আগলে...সন্দেহের রাজ্যে...

বনে ছেড়ে আসার পর টা ভাবুন, এক অন্ত্বসঃত্ত্বা নারী, তিনি একাকী এক বনবাসীর কুটিরের চৌহদ্দিতে,দুই পুত্রের দায়িত্ত্ব ছেড়ে পালাতে পারবেন না, মুক্তি নেই...

মহিলাদের জীবনজুড়ে এই পরাধীনতা, কাছের লোকটি সর্বশক্তিমান হলেও সন্দেহ,অন্যায় বা অপমানের আগুনের চৌহদ্দিতে আটকাতেই হয়, এ নিয়মের যেন ব্যত্যয় হয় না। দ্বিতীয়বারের অগ্নিপরীক্ষায় যখন তিনি ধরনী দ্বিধা করিয়ে চলে যাচ্ছেন,জানিনা জীবনে প্রথমবার কি মুক্তির স্বাদ পেয়েছিলেন সীতা? জানিনা ভেবেছিলেন কিনা "পেলাম প্রকৃত স্বাধীনতা" !!

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০

ডিপ্রেশননামা ২ - মৃত্যুভয়

"আমার আজকাল বড়ো মৃত্যুভয় হয়"...

বলে উঠলেন এক বিখ্যাত অভিনেতা।

কে তিনি নাম কি,সে বৃত্তান্ত বলে গসিপের নতুন গতিপথ আনা আমার কাজ নয়। বরং শ্যুটিং এর মাঝে কানখাড়া করে অন্যের কথা শুনেছি বলে আমাকে নিয়ে বাজে কথা বলতেই পারেন...বড় ব্যাকুল হয়ে নিজের সমস্যার কথা অন্য অভিনেতাদের বলছিলেন বাংলার অন্যতম সেরা এক অভিনেতা,এবং,সিরিয়ালে কিছুক্ষণের জন্য মুখ দেখানো আমি চোখ বড়োবড়ো করে শুনছিলাম...

মৃত্যুভয় ডিপ্রেশান থেকে আসে কিনা জানিনা,তবে ডিপ্রেশানের বাই প্রোডাক্ট হলে অবাক হবো না।২০১৫-১৬ সালের সার্ভে বলছে, ১৫ শতাংশ ভারতীয় পূর্ণবয়স্ক মানুষের এক বা একাধিক মেন্টাল হেলথ ইস্যু থাকতে পারে। এবং প্রতি ২০ জনের ১জন ডিপ্রেশানে ভুগছে...

চারপাশের মৃত্যু আপনাকে আরো কুঁকড়ে দিতে পারে। কিংবা অন্য কোনো ভাবনা থেকে এলো ভয়টা,মানে চারপাশে সব আছে,সব চলছে নিয়ম মেনে,আপনি নেই,এটা কেমন আদ্ভুত,কিকরে হয়...প্রথমে ভয়,তারপর পেট গুড়গুড়,তারপর চারদিকের আলো কমে আসা,তারপর হার্টবিট বাড়তে বাড়তে চোখ বুজে একটা আতঙ্কের " উঃ"... 

প্রতি মুহুর্তে লড়ে চলা একটা ভাবনার সাথে,যে এর পর কি...বিছানায় পড়ে আছেন,অসুস্থ,বার্ধক্য,জরা এই ভয়গুলো ছোঁয় না তখন,মন একটা বৃত্তের মধ্যে টানা ঘুরতে থাকে আর দেওয়ালে ধাক্কা খেতে খেতে হাহাকার করতে থাকে এটা বলতে বলতে "তারপর কি...তারপর কি"...সব আছে,এই দেওয়াল, এই রং, এই সকাল, এই পাখি,এই দিন চারপাশে ঝুঁকে থাকা উদ্বিগ্ন অজস্র মুখ,পরিজন, তার সাথে আপনার জড়িয়ে থাকা অজস্র টান,সন্তান,মা,বাবা,স্ত্রী,স্বামী,নাতি,নাতনি আর আপনি নেই...এ আবার কি পৃথিবী...নিজের চোখের সামনে রি-ওয়াইন্ড হতে থাকে একটাই দৃশ্য,অসুস্থ আপনি,মৃত আপনি,অন্তিমযাত্রায় আপনার দেহকে কাঁধে তোলা আপনি,আপনাকে ফার্নেসে ঢোকানোর মুহুর্ত...পর পর সিনেমার মতো...গলা ফাটিয়ে বেরিয়ে আসতে চায় একটা " দাদা আমি বাঁচতে চাই"...কিংবা চাঁদে টিনটিনে বলা টিনটিনের একটা অমোঘ সংলাপ "কিন্তু আমরা বাঁচতেই ভালোবাসি"

লড়াই শুরু এর পর থেকে,নিজেকে নিরন্তর ডোবানো অন্য দিকে,হয়তো টানা কাজ করে যাওয়া,হয়তো টানা সিনেমা দ্যাখা,হয়তো অনর্গল অশ্লীল গালিগালাজ...মনকে অন্য লোভ দেওয়া,অন্য ভাবনার লোভ...অন্যদিকে ব্যস্ত থাকার লোভ...কারন মৃত্যুভয়ের কোনো ওষুধ নেই...সবসেরা ওষুধ,আপনি নিজে,ও আপনার ভাবনাকে,আপনার মনকে অন্য দিকে ডাইভার্ট করা...ঠিক যেভাবে বাচ্চাদের রং পেন্সিল ধরিয়ে মোবাইল থেকে সরানো হয়,বা চকোলেটের থেকে...

দাদু মারা যাওয়ার দু দিন আগে হাত টা জড়িয়ে বলেছিলো,"কিছু কর দাদা,তুইই পারিস,পারলে তুইই পারবি"...সেদিনের খড়কুটোও জানে কেউই আসলে পারে না,তবে কিছুক্ষণের জন্য ঠেকিয়ে রাখতে পারে,দুরে সরাতে পারে মনের ব্ল্যাকবোর্ডের হাবিজাবিগুলো...

#ডিপ্রেশাননামা ২

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০

ডিপ্রেশাননামা ১ - লং ডিস্ট্যান্স

ডিপ্রেশান কষ্টের,আরো কষ্টের,যখন আপনি বুঝতে পারছেন হতাশা আপনাকে গ্রাস করছে, আপনি আপ্রাণ বেরোবার চেষ্টা করেও বেরোতে পারছেন না...এই আস্তে আস্তে ডুবে যাওয়াটা,চোরাবালির মধ্যে তলিয়ে যাওয়াটা,অক্সিজেনের জন্য হাঁকপাক করতে করতে হাত বাড়িয়ে নলটা খুঁজে পাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টাটা আরো মারাত্মক যন্ত্রনার... 

পরিজনকে ছেড়ে কর্মক্ষেত্রে যেতে হবে, হয়তো বৃদ্ধা অসুস্থ মা হাতদুটোকে জড়িয়ে ধরলো,হয়তো স্ত্রী অভিমান করলো, হয়তো বিছানায় থাকা বাচ্চা ছলছল চোখে বললো,"আজ যেয়ো না বাবা",আর আপনি শহর থেকে অনেকটা দুরে,এক মাসের জন্য,এক বছরের জন্য,নিদেনপক্ষে এক সপ্তাহের জন্যে চললেন,সব বাঁধন ছেড়ে দিয়ে। তিনি জানেন সহস্র শিকলের চেয়ে শক্ত ঐ জড়িয়ে ধরা হাত, ওই অভিমান বা ওই "যেয়ো না বাবা" র ডাকের মত শক্ত শিকল ছেঁড়াটা কতটা কষ্টের...

কেউ কেউ ফেরেন...হতাশা কে ভুলে...আঁকড়ে ধরেন কাজকে, লেখাকে,গল্পকে,বইকে,সিনেমাকে,পরকীয়াকে, বন্ধুকে,ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে কথা বলাকে,সোস্যাল মিডিয়ায় সেলফি বা রান্নার ছবি আপলোডকে,মিমকে...বা বলা বাহুল্য,চেষ্টা করেন...

জানেন,একটা ভিডিও কল,বা একটা বাড়ির সাথে কথা বলা এর উপশম নয়, খাবারে ক্ষিদে মেটে,কিন্তু অভিমান,হাতে জড়িয়ে ধরা হাত বা "বাবা যেও না" এটার উপশম ওই একটু কথা বলা নয়...

কেউ নেশায় ডোবেন...যারা নেশা করেন না,তারা ডিপ্রেশান কাউন্টারে আরেকটু স্ট্রং কিছু খোঁজেন...আবিষ্কার করেন জীবনটা মাস্ক ফিল্মের জিম কেরির মতো...বিধ্বস্ত রাত পেরিয়ে সকালে অবাক চোখে দেখা একটা ধ্বংসস্তুপ,তারপর নিজের অক্ষমতায়,বা দুর্বলতা ভুলে আবার শুরুর চেষ্টা...

ঐ শুরুর চেষ্টা টা ইম্পর্ট্যান্ট, ওটাই করে যেতে হয় নিরন্তর,সব ভুলেও...শরীরময় আঘাত থাকে,ফ্রস্ট বাইটে অঙ্গহানি হয়,সারাজীবন ক্ষতগুলো যন্ত্রণা দিয়ে যায়,তবু আপনি এটা ভেবে স্বস্তি পান,যে হতাশার এভারেস্ট ছুঁয়ে,আপনি বাড়িতে ফিরতে পেরেছিলেন...

#ডিপ্রেশাননামা_১

বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২০

ডাক্তার

এ বাহিনীর সামনে রাখা
লাইফলাইন বাঁচার হোপ
এই সেনাদের Gun লাগেনা,
হাতে শুধুই স্টেথোস্কোপ

প্রতিরোধও ছিটকে পড়ে
জঙ্গি হানা স্পর্শে আজ
সাদা রঙেই তোমায় মানায়
অ্যাপ্রনই আজ যুদ্ধসাজ...

গুলির সামনে বুকটা পাতা
জার্মে মোড়া অকুস্থল
ওয়ার্ড ভিজিট, খাতায় লেখা
আমরা দেখি...কদমতল

গেরিলা ফাইট,সাক্ষী থাকে
ইমার্জেন্সি, ওটি-র লোক 
আমরা ঘুমোই,জানি জাগে
রোগীর প্রান্তে স্টেথোস্কোপ

দুন্দুভিতে যুদ্ধ,তোমার
অ্যাম্বুলেন্স বা সাইরেনে
ওটাই তোমার সাঁজোয়া,ট্যাঙ্ক
ওরাই তোমার ঘুম কেনে

দেওয়ালে পিঠ ঠেকলে ঠিকই
ভরসা যোগায় স্টেথোস্কোপ 
তোমায় নিয়ে এই পৃথিবীর
বিরাট মহাকাব্য হোক...

হাত ধুয়ে আজ দায় সেরেছি
বিপ্লবী আজ ফেসবুকে
মরলে রোগী, পেটাই তোমায়...
চাইবো ক্ষমা কোন মুখে




বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

চোখের উপরে জমে চলে ক্ষোভ,জমে প্রহরের ঢিপি
রাতেরাই জানে কোথায় হারায়,ঘুমেদের স্বরলিপি

শ্বাসগুলো যেনো একা হয় রোজ, হারানো মানুষ যেমন
পলকেরা দ্যাখে, ঘুম ভাঙলেই,তারাদের মনকেমন

ঘড়িরা বিলোয় শব্দ, কেউ বা চ্যাটবক্স ঘরে ঘরে
মাঝরাতে রোজই বৃষ্টি নামে?মনখারাপের পরে?

কলঙ্কেরা কালিও জমায়, চোখের রকমফের...
স্বপ্নেরা তাই খুঁজে খুঁজে ফেরে,স্বরলিপি,ঘুমেদের

রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

কবি বলেছিলেন,"অন্তরে অতৃপ্তি রবে,সাঙ্গ করি মনে হবে,শেষ হয়ে হইলো না শেষ"। যারা ভাবছেন ছোটগল্প তারা ভুল,ডাহা ফেল। এটা হলো মধ্যবিত্তের স্যান্ডো গেঞ্জি, পরে আছেন,অথচ ফিল হচ্ছে না... মানে না পরলেই বা কি এসে যেতো,কারন গেঞ্জি এত ঢলঢলে,পাড়ার মেয়ে হলে নির্ঘাত ঢলানি তকমা পেতো। বাইরে জামা চকচকে অথচ স্যান্ডো গেঞ্জিতে ফুটো। "জামাটা পরে দ্যাখতো" বললে যে পুরুষ ইতিউতি বাথরুম খোঁজে না, সে নির্ঘাত আগের দিনই শপিং করেছে।তাই শুধু হিরোরাই গেঞ্জি পরে ছবি দেয়,কোনো মধ্যবিত্ত পুরুষ,যত বডিই থাকুক না কেনো,স্যান্ডো গেঞ্জি পরে সেলফি তোলে না।কারন গেঞ্জি হলো গীতায় বর্ণনা করা আত্মার মতো,যার ফুটো আছে,ইলাস্টিক ঢিলে হয়ে বগলের ঝুল কোমরের কাছে ঝুলে যাওয়া আছে তথাপি তার বিনাশ নেই,কেবল গেঞ্জি থেকে ন্যাতাতে ট্রান্সফার হয়েও ওভারটাইম করতেই থাকে।

আসলে বাঙালি চিরকাল চালাক,ডোবার র সামনে ছবি তুলে ফিল্টার মেরে ছবি পোস্টায়,"সেলফি উইথ গ্রিন কচুরিপানা",মানে বাইরে হ্যাভিং গ্রিন ভেজিটেবল ইন ডিনার,ট্যাগিং সেভেন্টিন অদার্স, ফিলিং হেব্বি লাকি এন্ড ব্লিসফুল,আসল মানে হচ্ছে স্টেনলেস স্টিলের থালায় দুপুরের বাসি রুটি সাথে কুমড়োর ছক্কা। অন্তর্নিহিত অর্থ, এ মাসেও ইনক্রিমেন্ট হয়নি। 

তাই আমি কোত্থাও গেলে পারতপক্ষে কারুর বাড়িতে ঢুকি না। কারন,জুতো খুলতে হবে...এমনিতে প্রকৃত বাঙালির মশারি আর মোজাতে ফুটো থাকবেই। পুজোতে পুরোনো জামা বাতিল হয়ে ঝুলঝাড়া হয়,প্যান্ট বাতিল হয়ে পাপোশ হয়,কিন্তু মোজা হলো হার্টের মতো। তার ছুটি নেই। সে গোড়ালি ঢাকতে পারবে না, তাও তাকেই রেখে দেওয়া হবে, তার ইলাস্টিক নেই,মিস্টির প্যাকেট থেকে গার্ডার খুলে তাকে এমন করে টাইট করা হবে যেনো ওটা গার্ডার কম রকেট ক্যাপসুল বেশি। তাও ফ্যালা হবে না। এ যেন চেনা কাজের মাসি,কামাই করো,প্লেট বাজে ধোও,কুছ পরোয়া নেই, কোন মতে চালিয়ে নেবো। যদি কোনো বাঙালি নতুন মোজা মাসে মাসে বদলায়, চেক করে নেবেন আম্বানিসাহেব গো এজ ইউ লাইকে বাঙালি সেজেছে কিনা।

তাই আমাদের ফ্রিজে বরফ আর দরজার ছিটকিনি তে গার্ডার জমানো হয়। যে সাহসিকতা সহ, তার বার্ধক্যে, ভি আর এস না নিয়ে,আন্ডারপ্যান্ট তার দায়িত্ব পালন করে তার জরাজীর্ণ দেহে, তা দেখে জল আসে...চোখে...তাই তাকে ব্যালকনিতে মেলা হয় না,পাছে লোকজন দেখে ফ্যালে। 

গেঞ্জি, জাঙিয়া, মোজা আরো একবার প্রমাণ করে,আমরা আজো শোষণ করে চলি, পোষাকের শ্রমিক শ্রেনী কে, ধনী জামাকাপড় ধনী তম হয়, আর গরীব অন্তর্বাস গরীবতম,কারন সে বেচারা সামনে আসে না।যেন অন্তরালে থাকা টেকনিশিয়ান,যেন প্লেটের তলায় রাখা টেবিলম্যাট, একসেট দামি চাড্ডি,শ্রমিকনেতা হয়ে বাকি দরিদ্রদের ভাত মেরে চলে আজও,সাহিত্যে, ফটোশেসানে,র‍্যাম্পে তাই পাঞ্জাবি শাড়ি জামা বা প্যান্টের প্রশংসা হয়, অন্তর্বাস পরা হিরো বেচারা ব্যালকনি তে প্রানশংসয় করে দাঁড়িয়ে থাকে।

শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

কবীর সুমন বিতর্ক ও কিছু কথা...

প্রথমেই,ফোনকল টা আমিই করেছিলাম। 

যারা আমাকে চেনেন বা জানেন,তারা এটা ভালোমতই জানেন যে বাংলা ভাষা নিয়ে অবমাননাকর কিছু আমি বলবো না। তাহলে সমস্যা টা কোথা থেকে এলো?

১.বক্তব্য শেষ করতে দেওয়া হয় নি,বা উনি বুঝতে পারেন নি। যদি থাকে বিষয়ে বিতর্ক,তার মানে পক্ষে বিপক্ষে মতামত থাকবে,কেউ মাথার দিব্যি দিচ্ছেনা যে পক্ষেই বলতে হবে

২. কনটেন্ট এথিকস ব্রেক। আপনাকে সিনেমার গল্প শোনালাম,ভালো লাগলো না,আপনি কি কালকে গিয়ে আউট করে দেবেন? নাকি রিলিজের পর বলবেন? রেডিও সঞ্চালকদের তেমনই বিষয়। সেটা আউট করে দেওয়াটা তাও সম্পূর্ণ ভুলভাবে সেটা কাম্য নয়।

৩. বিতর্ক মানে তার একটা স্পর্শকাতর দিক থাকতেই পারে,সেটা যুক্তি দিয়ে খন্ডন করা টা কাম্য। যদি বিষয়টাতেই কিছু বলবো না বলেন,সেটা গণতন্ত্র হবে কিকরে?


শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

মাতৃভাষা ড্রাফট

আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসেনা,কাব্যিক নয়,বাস্তবেই কারুর কারুর কাছে এটা শ্লাঘার বিষয়,মানে ইংরেজিটা কতটা রপ্ত করেছি ভাবো।ভালোবাসার জিনস,গাড়ি,বা বাড়ি। নামকরনে ইংরেজি নেমপ্লেট। গুষ্টিশুদ্ধ বাঙালী,আপনি app ট্যাক্সি দাদাও নন যে ইংরেজি না লিখলে যাত্রী বুঝবেন না, তাও বাংলায় নেমপ্লেট লেখেন না। সিনেমার জন্য প্রথম পছন্দ ইংরেজি,গানে হিন্দি স্ট্রিমিং এ বাংলায় টেক্কা দেয় বাংলা গানকেই। মাইকেল মধূসূদন দত্ত বলেছিলেন মাতৃভাষা রূপখনি পূর্ণ মণিজালে,কিন্তু চাকরি?সেটা চাইতে গেলে,মানে পেট চালাতে গেলে ইন্টারভিউ তে,সেমিনারে মিটিং এ ইংরেজি, আমরা সব্বাই হিন্দিটা কাজ চালানো গোছের শিখে গেলাম,কই বাংলা টা তো সবাই রপ্ত করলো না। ঝগড়ায় আপনি অনর্গল হিন্দি ইংরেজিবলেন,রেগে গেলে ইংরেজিতে গালি দেন,মদ্যপান করলে মানে বাংলা খেয়েও আপনি ইংরেজিতে কথা বলেন,ফলে প্রশ্ন উঠলো, বাংলা ভালোবাসা নয়?ভালো ভাষাও নয়?মানে অন্য ভাষা র দাপটে চাকচিক্যে আধমরা আমরা ঘা মেরে বাঁচতে পারি কিনা,সেই রবীন্দ্র দাওয়াই পরখ করলাম, সটান এই প্রশ্ন তুলে যে 
বাংলা ভালোবাসাও নয়?ভালো ভাষাও নয়??পক্ষে বিপক্ষে মতামত দিতে এগিয়ে এলেন এ বাংলার তারকারা। মানে সাহিত্য শিল্প সঙ্গীত বা ভাষার জগতের তারকারা...

বাংলা টা ঠিক আসে না যাদের,তাদের বাপি বাড়ি যা করে দিলেন সুবোধ সরকার

যারা ভাবেন,বাংলা শিখে আমার ছেলেমেয়ে চাকরি পাবে না,তাদের জবাব দিলেন পবিত্র সরকার

গ্রহণযোগ্য কিনা  সেটা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে,তাকে খন্ডন করলেন সুবোধ সরকার...

অনুপম

অনিন্দ্য

সঙ্গীতা
 
প্রায় ৯৯শতাংশ মতদাতা বিরুদ্ধে ভোট করলেন। কোনো বিতর্কে যা অভূতপূর্ব।  অর্থাৎ আরো একবার প্রমাণিত হলো, মাতৃভাষার ব্যাপারে বাংলা এককাট্টা, এখানে ন্যুনতম আঁচড় আজও বাঙালির না পসন্দ।  সাহিত্যে,কাব্যে, গরিমায়, আজও বাঙলা ভালোবাসার,ভালো ভাষার,রোজ হোক এই ভালোবাসার ও ভালোভাষার উদযাপন...শুভ মাতৃভাষা দিবস। 

বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

পি এন পি সি

পরীক্ষা হলে কমন প্রশ্নের উত্তর, গরুর লাঞ্চের খাবার,আর মহিলারা কোনো খবর,জানলে...সেটা উগরে দেবেই। মানে চেপে রাখতে পারবে না। এমনটা চিরকাল শুনে এসেছি, মহিলা রা পেটে কথা রাখতে পারে না। মানে প্রথম গসিপ,প্রথম প্রেম, ছাদে কে কার দিকে তাকিয়ে উদাস হলো,কার প্রেমপত্রে কটা বানান ভুল, কে কার দেওরের সাথে ইয়ে, কার কত্তা গিন্নির দিকে ফিরেও তাকায়না 
   
প্রবল ঘুঁষিতে ফাটিয়ে ফেললো মুখ,
চামড়া জুড়ে গরম তেলের ছিটে...
হজম করেছে,করে যায় মুখ বুজে...
ফাউন্ডেশানে ঢেকে যায় কালশিটে...
ফিসফাস চলে,জানেও কিন্তু তাও
কোনো কথাকেই গায়ে সেতো মাখে না...
আপনি বললে বলতে পারেন বটে
মেয়েদের পেটে,কোনো কথা থাকে না...