শুক্রবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

বৃষ্টি দাগের ভিড়ে
তোমার চোখ যে আড়াল করে
আমি সেই চুলেরই সতীন
তোমার ছবির অবসরে

মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

জীবন - প্যারোডি বুড়ির বাড়ি

গাল ভরা হাসি মুখে চালবাজি mess
ঝুরঝুরে জীবনের চেনা র‍্যাট রেস
কাঁথাভরা শিডিউল,মাথা ভরা প্যাঁচ
ব্রেক মানে মোবাইলে,টি-টুর ম্যাচ
লোন দিয়ে নেওয়া ঘর, ফ্রেন্ডশিপ নেটে
অফিসের টার্গেটে লাইফটা ঘেঁটে
ছেড়ে দিতে ভয় যদি ই এম আই বাড়ে
ওপারের গ্রীন গ্রাস ফোঁস শ্বাস ছাড়ে
ডাকে যদি অ্যামাজন,শপিং বা ট্যুর
পড়শির ঘ্যাম তথা,চুদুর-বুদুর
বাঁকাচোরা লাইফের কাটা ছেঁড়া ক্ষত
ঝাঁট দিলে ঝরে পড়ে ছেলেবেলা যত
বয়েসেরা ঝরে যায়,সময়েতে ভিজে
হ্যাপিনেস সরে যায়,পড়ে থাকে পি জে
মেরামত দিনরাত হেবি র‍্যাট রেস
থুরথুড়ে জীবনের ঝুড়িঝুড়ি কেস

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

রাখী সাওয়ান্ত বক্ষ ডোনেট

আর যেখানে যাও না রে ভাই সপ্তসাগর পার
রাখি সাওয়ান্ত ম্যামের কাছে যেওনা খবর্দার
সর্বনেশে কন্যে সে ভাই, পাবলিসিটিই লক্ষ্য
খুলতে পারেন কাঁচুলি বা,ডোনেট করেন বক্ষ
কাকে ডোনেট কেউ জানেনা, আধখানা না গোটা
এখনো কি ভ্যালিড আছে?? কে চেয়েছে ওটা
বিদঘুটে এই ডোনেটখানি,স্ট্রেঞ্জ এবং ফিশি
আমেরিকাও স্টার্ট করেনি,কনসেপ্টটাই দিশি…
নেই নাকি তার কিডনি দুটো?চোখ দুটো কি হাওয়া?
মদের জন্য লিভার রিজার্ভ? তাই দাওনি,বাওয়া??
ডোনেট করার ভীডিও তেনার, সেটাও হেবি চাপের,
ভাইরাল হয়ে মেমোরি খায়,ফোনের, হোয়াটস্যাপের
কেবল বলে,হোঃ হোঃ হোঃ, মিকা সিং এর পিসি,
বাইরে ওরা ডোনেট ফোনেট,পার্টি গেলেই কিসি...
কেউ করে যায় চোখদুটি দান, বাপ বিয়েতে বিটি
বক্ষযুগল দান করে দ্যাখ, পাইব পাবলিসিটি
এই না বলে ইশারাতে, ক্যামেরা করে জুম
ভঙ্গি জেতার, দ্যাক পিথিমি,ক্যামন দ্যাখালুম
তোমায় দিয়ে সুড়সুড়ি, সে শেয়ার পটাপট
গুগল জুড়ে খু্ঁজছে সবাই,রাখী সাওয়ান্ত হট...

মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

রাজনীতি

তোমার ব্যাগে আচ্ছে দিন আর,আমার নামে থাকুক শোক
আমার বাড়ুক ডিজেল,সুগার,তোমার জন্য শ্লোগান হোক

আমার মাথায় বাগড়ি আগুন,আমার মাথায় সেতুর বাঁক
আমার জন্যে বিভেদ থাকুক,তোমার জন্যে ধর্ম থাক

স্বপ্ন আমার ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট, গেরুয়া সবুজ কালার কৈ
চিন্তন...মিটিং... তোমার থাকুক, আমার জন্য চিন্তা সই

আমার যাওয়া ডিপ্রেশানে, আমার যাওয়া চাইতে যব
ফরেন ট্যুর টা তোমারই থাক, তোমার নামে,হোক,উৎসব

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

গনেশ কিন্তু বাঙালী

সমুদয় বাঙালী জাতি এই নিয়ে যৎপরোনাস্তি কূপিত ও মূহ্যমান, যে এই শীতলা ইতুপুজোর রাজ্যে হঠাৎ গনেশ কিভাবে লাইমলাইট বগলদাবা করে সেলেব। এ তো বিধির গাইডলাইন যে তুমি যদি ভিন রাজ্যের হও তাহলে এ রাজ্যে বেওসা করতে পারবে না। বেশ কিছু বঙ্গ গবেষক এ নিয়ে তত্ত্বও দিয়েছেন যে, হতে পারে দুর্গা এ রাজ্যের, কিন্তু ওনার হাসব্যান্ড তো নন বেঙ্গলি, বাইরে থাকে,অতএব গনেশের আধার কার্ডে পষ্ট লেখা যে তিনি গোর্খা,এ সমতলের কিছুতে নন,অতএব এন আর সি লাগু না করে তাকে যে হারে এ রাজ্যে প্রমোট করা হচ্ছে তা রাজ্য স্বার্থ বিরোধী। অবিলম্বে চেক করা হোক এ রাজ্যে ৪৭ সালের আগে তিনি এসেছেন কিনা নচেৎ অবশ্য বিতাড়ন।

জনগনের এ হেন ভ্যালিড দাবীকে নস্যাৎ করে বিশিষ্ট সমাজতাত্ত্বিক নীলাঞ্জন দাবি করেছেন গনেশ কিন্তু আখেরে একজন বাঙালী দেবতা। গনেশ নয় সেকু মাকু/উনি কালচার কাকু। সেই কবে বিশ্বের সবচে বড় কাব্যি র ড্রাফট করে তিনি নিজেকে কবিতা মনস্ক বলে প্রমান করেছেন। আরে বাবা বাঙালী মানেই কাব্যি র সাথে রবি ঠাকুরের সাথে একটা সংযোগ থাকবেই। মহাভারত মানেই কর্ন কুন্তি সংবাদ,অর্থাৎ রবিঠাকুর।মানে গনেশের রবি ঠাকুরের প্রতি ইনক্লিনেশান দিনের আলোর মত প্রকাশ্য।

আবার চন্দ্রবিন্দুর তত্ত্ব মানলে,বাঙালির বগল ভরা স্ট্রাগল আছে ছাগল ভরা মাংস,অর্থাৎ কিনা সব বাঙালীই ছেলেবেলায় হ্যারিকেন, ২কিমি লম্বা শহরে থেকে তিন কিমি হেঁটে স্কুলে গিয়ে, কোন এক অজানা সিমিলারিটি তে প্রত্যেক বাবাই এক কামরার ঘরে মানুষ হয়ে,ভাই কে পড়াতে নিজের ফরেন ট্যুর বানচাল করে দিঘা ঘুরে মারাত্মক স্ট্রাগল করে জীবনে কিছুই পান নি। গনেশ ও তাই। বেদব্যাস অব্দি মহাভারত্র নিজের কয়েকটা গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স রেখেছেন,গনেশ নেই।সেদিক থেকে গনেশের আত্মত্যাগ কিন্তু শোলের জয় এর মত। শ্লোকের মানে বুঝলেন, ঝড়াকসে শর্টহ্যান্ড নিলেন,টাইপ ও করে ফেললেন তুরন্ত। অথচ পান্ডবদের কচকচি তে একটিবারও এন্ট্রি নিলেন না। মানে পকেটে নেই টু পাইস/কুঁচকি জোড়া স্যাক্রিফাইস গনেশের জীবনেও।এ বাঙালী ছাড়া আর কি?

বাঙালী হবার আবশ্যিক শর্ত মানলেও গনেশ একশোয় দুশো। চাইলে পানুহীন সানি লিওনি পাবেন, কিন্তু ভুঁড়িহীন
বঙ্গতনয় পাবেন না। সব ম্যাজিক ওয়ান্ড যেমন তার মালিক নির্বাচন করে,তেমনি সব ভুঁড়ি খোঁজে যোগ্য বঙ্গসন্তান। সেই প্যারামিটারে সব বাঙালির আগে গনেশ। গনেশ বাঙালী না হলে আর কেউ নন।

চিরঞ্জীতের তত্ত্ব মানলেও গনেশ বঙ্গজ। আরে বাবা নোবেল হারালে নোবেল পাওয়া যায়,কিন্তু মা হারালে মা পাওয়া যায় না। যে খোকা জন্মেই "মাই মম মাই মম,নট ইয়োর মম” আউড়ে শিবকে পজেসিভ ভাবে অ্যাটাক করলেন, এইসান মাতৃভক্তি বাঙালী ছাড়া আর একটা দেখান দিকি...

রইল বাকি মাথা কাটা যাওয়া। ছেলে ক্লাসে ফেল করলে, মেয়ে পালিয়ে বিয়ে করলে, বসের খেঁকুরে,সবার সামনে ঘেঊ ঢেকুরে বাঙালীর মাথা কাটা যাবেই। সে দিক থেকে দেখতে গেলে গনেশ তো রোল মডেল। কে সি দাশের রাজ্যে মিষ্টির ব্র‍্যান্ড অ্যাম্বাসাডার হতে গেলে গনেশ বাদে কোন মুখটি আছে শুনি। এমনি তে বিয়ে পাগলা, বিয়ের জন্য শাঁসানো ওয়ার্ল্ড ট্যুরের টিকিট কেটে,শুধুমাত্র ল্যাদের জন্য যিনি মা বাবা কে প্রদক্ষিন করে ফ্লাইট মিস করেন, ভাইকে ভেন্ন করে ড্যাডাং ড্যাডাং করে বিয়ে করেন সে যদি বাঙালী না হয় তবে বাঙালী কে???অমিত শা???

অতঃপর,গনেশ অবশ্য বাঙালী ও অবশ্যপুজ্য। সুতরাং নিরুপদ্রবে গনেশ পুজোকে ছড়িয়ে দিন...

মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

গিফট

আমি যে হ্যাংলা সে তো গীতগোবিন্দমেও লেখা আছে। ছোটোবেলায় অন্যেরা গিফট পেলে জুলজুল করে এমন চেয়ে থাকতাম যেন আমেরিকার পাকিস্তানি অনুদানের সামনে ভারত। লোকজন মায়া করে নানান জিনিস দিতও। জন্মদিনে পুজোয় নিউ ইয়ারে, বড়পিসি বাড়ি ঘুরতে এলে,এমনকি ইতুপুজোতেও গিফট এক্সপেক্ট করতাম। মধ্যবিত্ত পরিবারে এ মারাত্মক অপরাধ। মানে লোভ হলেও বন্ধুর আইস্ক্রিম বা স্ত্রী কে দেখবে না এ নীতি তো জরাথ্রুষ্ট অব্দি জানতেন।  ওর বাড়িতে টিভি এসেছে,আমারও লাগবে, সব্বাই গাড়ি চাপছে আমিও চাপবো, ছুটকির ঠাকমা গরদ পরেছে আমিও গরদ কিনে ধুতি করে পরবো, এই হ্যাংলামি আমার ডি এন এ তে এইসান কিলবিল করে যে আমি রোজ আরেকটু হ্যাংলা হই...অন্যের জুতো জামা নেলকাটার প্যাম্পার্স বাড়ি পরকীয়া সব আমার চাই,এই পুঁজিবাদী হ্যাংলামির আমি ধ্বজাধারী, উপাসক ও প্রচারক...

গত শুক্রবার অফিসে একখান চিঠি এল,সাথে গিফট...পুজোর জামা মাগনায় চায় না এমন পাবলিক গুগলও খুঁজে পাবেনা...তার পর যদি এটা বোঝে যে এর বদলে ওকেও একটা রিটার্ন জামা দিতে হবে না(কারন সৃষ্টির আদীতে বাঙালীকে জানানো হয়েছিল,পুজোতে কেউ কিছু দিলে তাকে রিটার্ন গিফট,জামা জুতো রুমাল গেঞ্জি জাঙিয়া কিছু একটা দিতেই হবে)...মোটকথা আনন্দে আট টুকরো বডি টা কে ব্লুটুথে জুড়ে চিঠিটা পড়লাম...আরো কয়েক কুইন্ট্যাল হ্যাংলা হলাম...

গিফট না থাক, কুচ পরোয়া নেই,আহা অন্তত এরম চিঠি যদি রোজ একখানা পেতাম...

মঙ্গলবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

সেতু

কার বাড়িতে শব উঠেছে, কেউ রয়েছে সেফটি মার্কে
কেউ খুঁজেছে আঁতিপাতি, সেতু তলায় আরো...আর কে!
চিতা কবর এক সারিতে, এক জমিতে সবাই শোওয়া
পিচের নিচে ঘুমন্ত সব,শার্ট সালোয়ার কিংবা খোয়াব

দোয়ার জন্য কলমা কোথাও,কেউ ঠেকেছে দুর্গাস্তবে
ঘোলা জলে মাছ উঠবেই, কেউ ভেবেছে হেডিং হবে,
অজুহাতও আসবে ঠিকই, কেউ দিয়েছে সাধ্যটুকু
কারো মাথায় আকাশ ভাঙে, কেউ গুনেছে শুধুই সেতু

ধুলো ধোঁয়া ধুপ ধুনোরা, কোন মেঘে হয় বৃষ্টিস্নাতা
কেউ গুনেছে ভুলের হিসেব, কেউ খুঁজেছে পরিত্রাতা
পথের নিচে রক্ত জমে, হিসেব জমে সব প্রানেরও
খোয়াব অনেক ভাঙলে দেখি,কান্না নামে আসমানেরও

ফ্লাইট মিস হলে

ফ্লাইট মিস হলে ::

জীবনে প্রথমবার ফ্লাইট মিস করার চেয়ে আনন্দের আর কিস্যু হয় না।স্কুলজীবনে প্রথম শাস্তি পাওয়ার মতো ফিলিং,একটা দুরুদুরু ভাব,"কি হবে কি হবে" শিহরণ, ৩৩কোটি দেবদেবীর যাদের নাম জানি না তাদের কাছে অ্যাপ্রাইজালে মার্কস কম পাবো,পরের বার পিরিয়ড টেবিলের মতো সব্বার নাম মনে রাখবো এইসান এক পলিটিশিয়ানসম প্রতিশ্রুতি দিতে দিতে আপনি প্রায় স্কুলজীবনে ঝপাংফেরত,হঠাৎ আবিষ্কার করবেন এক,পরের ফ্লাইটের আগে অঢেল সময়...দুই, এয়ারপোর্টে নাক ডাকলে কারুর পিতৃদেবের কিস্যু যায় আসে না।অতঃপর,কয়েক লক্ষবার পড়া প্রিয় বইটিকে আবার ঝালান,প্রিয় মানুষদের ফোন করে অজস্র জ্বালান,দেদার সেলফি তুলুন,আপনার অবিস্মরনীয় ল্যাদের জন্য কেন নোবেল পেলেন না সেটা ভাবুন...মোটকথা আপনার ধমনী দিয়ে অ্যাড্রিনালিন ও রমণসুখের ফ্লো খুশির সিরিঞ্জে গ্যাদগ্যাদিয়ে প্রবহমান...

আমিও এমন সৌভাগ্যবান হয়ে ফ্লাইট মিস করতে চাই...রোজ...
কিন্তু আমার ভাগ্যে সে কুম্বলেও নেই...রোজ ফ্লাইট মিস করাও নেই...
পুনশ্চ : এয়ারপোর্টে ছবি না তুললে বিজয় মালিয়া পাপ দেয়