বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ডিন জোনস

সেটা ৯২ বিশ্বকাপের আগের কথা। অস্ট্রেলিয়ার সাথে খেলা হয়, আর ইন্ডিয়া দুমাদুম হেরে যায়। সাদা বলের ছাল চামড়া তুলে দেয় অজিরা। আমি তখন দ্বিতীয় শ্রেনী, আমি তখন লেদুস, ছোট্ট ব্যাট নিয়ে সচীন হবো ভাবি আর সাদাকালো টিভিতে ফিল্ডারদের ক্যাচমিস, শ্রীকান্তের নাক টানা, কপিল দেবের হাতের সাদা ব্যান্ড, সচীনের দাড়ি না হওয়া গালে জিলেট শেভিং সব দেখি আর মনে মনে এক চ্যুইংগাম খোর কে গালি দিই...

ডেভিড বুনের সাথে এই লোকটা জুড়ে গেলেই হলো, একে আউট করাই যায় না...চ্যুইং গাম চিবোতে চিবোতে নামে, গালে জিংক অক্সাইড, একবার বোধহয় ওপেন করেছিলো, নইলে সম্ভবত তিন নম্বরে, মোটকথা ছেলেবেলার পৃথিবীতে ডিন জোনস মানেই ত্রাস। আজকের টি টোয়েন্টির পৃথিবী ওনাকে রেকর্ড বই এ মাপতে চাইবে হয়তো, আমরা ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট টিভিতে অসহায় শ্রীনাথ, শাস্ত্রী বা সুব্রত চ্যাটার্জী কে দেখতাম আর ডিন জোন্স কে মাপতাম, ভাবতাম কিকরে লোকটা এত এতটা মারে, লোকটার ব্যাটটা নির্ঘাত বেশি চওড়া...স্বীকার করতে দ্বিধা নেই ওনার অবসরে একটুও দুঃখ পাইনি, বরং স্বস্তি পেয়েছিলাম, তৃপ্তি পেয়েছিলাম...মনে হয়েছিলো, যাক , একে আউট করার যন্ত্রণা টা দেখতে হবে না প্রিয় নায়কদের চোখে...
এর পর কাট টু, ক্রিকেট কমেন্ট্রি দিতে কমেন্ট্রি বক্সে আলাপ...প্রথমে হড়কে গেছিলাম, এটা ডিন জোন্স, আগে ছিলেন চাবুক চেহারা, এখন যেন একটু স্থুল...আগে চোখটা দেখলেই মনে হত "খুনে"...ইনি ত দিব্যি ভদ্রলোক...বাইটের আবদার করলাম...ছবিও উঠলো...মনে মনে ছেলেবেলার মত গালিও দিলাম, তারপর ফিক করে হেসে ভাবলাম, বাব্বাহ, আউট করাই যেত না মালটাকে...

আজকে প্রয়াণের সংবাদে, কিছুটা বিহ্বল...মৃত্যুর বিষাক্ত আউটস্যুইঙ্গারে ইনি ব্যাটের কোনা ছুঁইয়ে দিলেন? বয়েস কি এতটা নড়বড়ে করে দেয় বিখ্যাত ডিফেন্সকে...নাকি বোলার নয়...ডিন জোন্সকে হারাতে স্বয়ং শমণকে বল হাতে নিতে হয় ...!!!

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ট্যুর

কি করে আপনাদের বেড়াতে যেতে ভালো লাগে জানিনা !!! আমাকে আলমারি তাড়া করে!!!

একটা ব্যাগে ইলেকট্রিক কেটল,তার মধ্যে যায়গা বাঁচাতে ছেলের আন্ডারপ্যান্ট। ছেলেকে আমি ভালোবাসি,তবে এতটাও নয় যে ওর আন্ডারপ্যান্টের টি ব্যাগস এ চা খাবো। মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণ মাটি খেয়ে হাঁ করেছিলেন, হাঁ এর ভিতর যশোদা আমার গিন্নির ট্যুরব্যাগ দেখতে পেয়েছিলেন!!!  

আমাদের ট্যুরব্যাগে বিশ্বব্রম্ভান্ডের সব থাকে...আর আমাকে ওইটে ক্যারি করতে হয়...তার মানে হলো আমি ছদ্মবেশী বাসুকি,মাথায় বিশ্ব নিয়ে ঘুরি। আমাদের প্রত্যেকটা ট্যুরে স্টেশান পৌঁছাতে লেট,কারন রিকশাওয়ালার সাথে অবধারিত ঝগড়া। সে কিছুতেই তার রিক্সায় আলমারি তুলবে না,গিন্নিও ছাড়বে না,তার হারকিউলিস কত্তা লোহার আলমারি বয়ে নিয়ে আসতে পারলে রিক্সাওয়ালা কেন পারবে না এই কূট তর্কে রিক্সাওয়ালা নামেই না। এতে বুঝি, দাদার জীবনে উন্নতি নেই,তর্কটা করলে ঘন্টাখানেক সঙ্গে সুমনে যেত...যাই হোক,গিন্নির খান পাঁচেক ব্যাগ,ফিল্টার,গ্যাস সিলিন্ডার,লোহার আলমারি,হ্যান্ড শাওয়ারের হাতল, বাবার কানখুশকি, মায়ের পিঠ চুলকানোর হাত সব আমাদের ট্যুরে নিয়ে যেতে হয় কারন, "যদি দরকার লাগে"...আর বইতে হয় আমাকে...

দাঁড়ান,এখানে শেষ নয়, আমাদের কম্পার্টমেন্টের একটাই দরজা,কারন অন্য দরজার সামনে আমাদের পাহাড়প্রমান জিনিস রাখা যার উপর বাচ্চা বসে চিতকার করে, " একটা জুতো হারিয়ে গেলো" ওর মা এক থাবড়া মারতে না মারতে ,মেয়ে চিপস এর বায়না করে। কষ্ট করে ট্রেনে সব তুলতে তুলতে দাবী বদলে যায়,শ্বাশুড়ি লোয়ার বার্থ আর পুত্র আপার বার্থের দাবীতে সংসদ অচল করে ফ্যালে,শ্বাশুড়িকে বাঙ্কে তুলে খোকাকে সিটে বসাতেই বাবা ততক্ষণে নিচে নেমে "কটা স্টেশান পুরী যেতে" জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে চা ওয়ালা কে, মায়ের প্রশ্ন চটিটা ফ্যানের পাশে ঝোলাবে মাথার কাছে নিয়ে শোবে গিন্নির মুখ গোমড়া কারন ট্রেনে কেন সব সিট উইন্ডো হয় না, এখন ট্রেন ছেড়ে দিতে না দিতেই সবার চিন্তা আলাদা, শ্বাশুড়ি বাথরুম যাবে, মায়ের চিন্তা,"খাবার টা কি সন্ধ্যে ৬টা তেই বেড়ে দেবো?" গিন্নির চিন্তা তিতাস ঘরের লাইট জ্বেলে এসেছে,শ্বশুর মশাই এর চিন্তা বাবা চা ওয়ালাকে জেরা সেরে ট্রেনে চাপতে পারলো কিনা, বাবার চিন্তা দৌড়োতে দৌড়োতে চা ওয়ালা খুচরো আড়াই টাকা সৎ ভাবে ফেরত দিতে পারবে কিনা...ছেলের চিন্তা চিপস এর পরে লজেঞ্চুশ কাকু কখন আসবে...

আমার চিন্তা,এর পরে ট্রেন থেকে একে একে সবাইকে নামাতে হবে...তারপর ট্রাঙ্ক,বাক্স,তোরঙ্গ,খাট,মশারি,তোশক,ডাস্টবিন,চুরি করা ট্রেনের চাদর,শ্বশুরের কেনা আনন্দবাজার,শ্বাশুড়ির বাদামের খোসা,মায়ের আধখানা আলুসেদ্ধ জমিয়ে রাখা টিফিনবাক্স, বাবার চা এর খুরি গিন্নির এক রাশ মুখঝামটা সব একে একে নামিয়ে, ট্রেনের চেন টেনে নিজেকে নামিয়ে,এই এত্ত কিছু ঘাড়ে তুলে ছুটতে হবে...কারন ততক্ষণে চেন টানার জন্য টিটি তাড়া করেছে...তাই আপনার যাত্রা সুখকর...আমার নয়...

খুব ভয়ে ভয়ে আছি, লকডাউন কবে উঠে যাবে,এই ভেবে...আমার বাড়ির ট্যুরের ব্যামো,আমার কুলিগিরি করে পিঠের...

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বিজয়

অমিতাভ কে স্ক্রীনে দেখলে সব ভুলে যাই,ছেলেবেলা থেকে...জুম্মা চুম্মা দে দে,ভিলেনকে মার...মদের দোকানের সমস্যা,চার দিকে হাতে রড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গুন্ডা,মেরে পাট পাট করে দিচ্ছে...আমি জানি,দুখী মায়ের সমস্যা মেটাতে, মৃত বাবাকে একা দাহ করতে নিয়ে যেতে,একটাই নাম...বিজয় দীনানাথ চৌহান...পর্দাজুড়ে শাহেনশা...বিজয়...

আমাদের বিজয়,মোটা,ফর্সা ভিতু...ছেলেবেলায় বাঁদরের থাপ্পড় খেয়ে আমার সামনে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলো,"নিলু যাস না,যাস না"...কি দরকার ছিলো বিজয়ের? বেশ তো আমি যেতাম,আমিও থাপ্পড় খেতাম...কিন্তু ঐ,বোকা একটা ভোলাভালা ফুল...

বিজয় হাত ঘুরিয়ে বোলিং ভালো পারে না,বিজয় ফিজিক্সে কাঁচা,বিজয়ের কথায় গ্রামের টান...কিন্তু বিজয় আমাকে ভালোবাসে...বিজয় ক্লাসে কথা বললে আমার নাম বলে দেয় না,আমি প্রাইজ পেলে কবিতা বললে বিজয় হাততালি দেয়...ওই যে বললুম,বিজয় ইমোশানাল ফুল...

দেখা হলে,বিজয় জড়িয়ে ধরে,ওর গায়ে সারাদিন কাজের গন্ধ...কাঁধের কাছটা ধরে বুকের কাছে টেনে সবার সাথে আলাপ করায়,আরে বোকা আমি ভালো রেজাল্ট করেছি তোর কি,ও বোকার মত সবাইকে দেখায়...এই দ্যাখো আমার বন্ধু অমুক,আমার বন্ধু তমুক...

সিনেমার বিজয়ের সাথে সামনের বিজয়ের তফাত অনেক...ওটা উইনার,এটা লুজার...ফুল...

তারপর অনেক সংবাদ আসে,কিছু সময় ভেসে যায়...চেনা শহরের রং বদলায়,এক আকাশ ঢাকা পুরোনো মফস্বলে কত নতুন মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যায় বিজয়...হারাবেই তো...ও কি অমিতাভ নাকি,আরে আমিতাভ লম্বা,ছ ফিট দুই,বিজয় বেঁটে,ম্যাচিং না করা গেঞ্জির সাথে সানগ্লাস পরে বোকা...ওরা ফিরে আসে নাকি...আসে না...সবাই সুপারম্যান হয় না...

তার পর কোনো এক মোড়ে দ্যাখা হয়...আমার মাথায় হাজারো সমস্যা...প্রমোশান,এ এম আই,টাকা ইনকাম...বিজয়ের মুখে হাসি,"তুই কত্তো বড় হয়ে গেছিস"... আ মোলো যা,নিজেকে দ্যাখ...আমার কত্ত সমস্যা জানিস,বাবার বয়েস,পেট্রোলের দাম,মেয়ের স্কুলে ভর্তি...

বিজয় মিটিমিটি হাসে...

তার পর বিজয় যেনো বাতাস হয়ে, কানে কানে বলে যায়, লাং ক্যান্সার...ফার্স্ট স্টেজ...উতরে গেছি...আসলে মেয়েটার বয়েস দুই...ওর কথা ভেবেই...

ওর সাইকেল নিয়ে চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে দেখি দিকশূন্যপুর...
আমরা ই এম আই এর জন্যে লড়েছি
টাকার জন্যে লড়েছি, প্রমোশানের জন্য জনপ্রিয়তার জন্য, একটু জমি,বালিশ এমনকি পরকীয়ার জন্যেও লড়েছি...

বিজয় লড়েছে...জীবনের জন্য,দুটো মুহুর্তের জন্য...আমাদের ধাক্কা মেরে,সেই ছেলেবেলার বাঁদরের হাত থেকে বাঁচানোর মতো করে সরিয়ে বলেছে,বেঁচে নাও বন্ধু,এই মুহুর্তটাই জীবন...আর আমরা ভেবে চলেছি,সে নিজে ফুল হয়ে আমাদের জিতিয়ে চলেছে নিরন্তর...,

বিজয়রা সবসময় জিতে যায়...সিনেমাতেও...বাস্তবেও...কেউ হাততালি জেতে,কেউ জেতে জীবন... 


শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মাতাল ০১

মদ মানুষকে ধৈর্য্যশীল বানায়...

রেশন দোকানে লম্বা লাইন,কত বিতন্ডা নিয়ম ভাঙার খবর,মদের দোকানে দেখুন,কি সুশৃঙ্খল লাইনে মানুষজন ঠায় দাঁড়িয়ে। মুখে মাস্ক,ধীরে ধীরে এগোচ্ছেন,জানেন সব্বার একই লক্ষ্য,লাইনে বেগড়বাঁই হলেই ছত্রভঙ্গ হয়ে যাবেন,জীবনে ভাত ছাড়াও বাঁচা যায়,কিন্তু মদ ছাড়া জীবন জী বাংলা ছাড়া কেবল, জীবনটাই নেই গো দাদা...

কত কত মানুষকে দেখেছি,পেটে দু পাত্তর পড়তে না পড়তেই বিনয়ী,থেকে থেকে হাত জোড় করে নমস্কার করছেন,"বৌদি প্রণাম,দাদা প্রণাম...ভুল হয়ে গ্যাছে" ভাবুন, বিনয় তো আর নুডলস বয় যে দু মিনিটে আসবে...কিন্তু অয়ারেন,তিনি পারেন...বিজ্ঞাপন বদলে ফেলে বলতে ইচ্ছে করে..."মদ আচ্ছে হ্যায়"...

কোর্টে কেন যে দিব্যি কাটিয়ে ছেলেখেলা করা হয় ঈশ্বর জানেন। গেলাও কয়েক পাত্তর। হড়হড় করে সত্যি বেরিয়ে আসবে। এক পেট ধর্ম রেখেও কুরুক্ষেত্রে ঢপ দিয়েছিলেন যুধিষ্ঠির, সাহস হতো,এক পেট মদ খেয়ে দ্রোণাচার্য র সামনে যেতে? হাউ হাউ করে কেঁদে ভাসিয়ে বলে ফেলতেন না,"মাইরি বলচি গুরুদেব,ও শালা কৃষ্ণটা শিখিয়েচে,নইলে আমি তোমাকে মিথ্যে বলতে পারি?অশ্বত্থামা লুডু খেলচে দ্যাকো গিয়ে,হাতি মরেচে হাতি..." কাল থেকে চালু হোক কোর্টে পান করিয়ে সাক্ষী দেওয়া, দু দিনে সব কেসের ফয়সলা হয়ে যাবে...

অর্থাৎ ধর্মের চেয়েও মদ ভালো। মদ আপনাকে প্রকৃত সত্যবাদী বানায়। মদ উদারতা শেখায়...কোনো পাঁড় মাতালকে কিছু চেয়ে দেখুন। আন্ডারওয়্যার দান করে প্রয়াগের হর্ষবর্ধন হয়ে যাবে,তবু বলবে না দেবোনা...আমার স্থির বিশ্বাস কবচ কুন্ডল দানের আগে,কর্ণের ভাত টা পচে গেছিলো...ধেনো না খেয়ে অমন দান,ভাবাই যায় না...

মদ মানুষকে সাহসী বানায়। কিম জং উন কে হটাতে হবে??লাগাও দু পাত্তর, হাতে সড়কি নিয়ে পাকিস্তান দখল করবেন? একটা নিপ করো অর্ডার...ক্যাপ্টেন হ্যাডক মদ খেয়ে তিব্বত চলে গেলেন,মহিষাসুর বধে দুর্গাও অর্ডার দিলেন সিঙ্গেল মল্ট উইথ সোডা...আমার এক বন্ধু,বসের কাছে ছুটি চাইতে হলে এক পেগ নিয়ে বসে ফোন ডায়াল করে...সাহসী হতে গেলে ক্যারাটে?জিম?মেডিটেশান??ভুতের বাড়ি রাত কাটানো??বাঁয়ে হাত কা খেল বন্ধু...এক পিকনিকে এক মাতাল বন্ধু অতি উতসাহে তার পরকীয়া প্রেমিকার কন্যেকে ঘুঁষি মেরে মুখ ফাটিয়ে দিয়েছিলেন...পরমুহূর্তেই প্রেমিকার হাত ধরে ছলছল চোখে বলেছিলেন,"তোর মেয়েকে আমি মারতে কি পারি,ওটা তোর মেয়ে না...তুই ভুল দেখেছিস"...ডি এন এ টেস্টের এত ইনস্ট্যান্ট রেজাল্ট আজ অব্দি কোনো মেশিন করতে পেরেছে মদ ছাড়া??

ভেবে দেখলাম,ঐ একটা কারনেই আজ আমার ধৈর্য্য নেই,সাহস কম...সত্যি বলিনা...কিপটে...অ্যারোগেন্ট...এত্ত সদগুন বঞ্চিত,শুধু মদ্যপান করিনি বলে...

কে জানে ভবিষ্যৎ এর প্রথম ভাগের এডিটেড ভার্সান এটা আসবে কিনা...রাম অতি সুবোধ বালক,সে যে পেগ পায়,সেই পেগ খায়...

বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

জনঘনত্ব

সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন যে বাড়ছে,ঘুমোতে যাবার সময় বিছানা দেখলে বুঝতে পারি...

এমনিতে আমাদের বাড়ির জনঘনত্ত্ব চিনের থেকে একটু বেশিই। তিনটে কামরা... থাকে ১০৫ জন।আমি,মা,বাবা দুই সন্তান আর সঙ্গে গিন্নি...উনি একাই একশো। মোট ১০৫। এ ছাড়া দেওয়ালে সঙ্গমরত টিকটিকি, দরজার কোনে মিছিল করা পিঁপড়ে, ওভেনের পিছনে ওয়ার্কএহোলিক আরশোলা,কাগজের র‍্যাকে প্লেবয় ইঁদুর,সব্বার নিজের নিজের স্থান পাকা...নিজের ফ্ল্যাটে নিজেকে দেখলে লালকুঠির ড্যানি মনে হয়...তোমার ফ্ল্যাট আমার ফ্ল্যাট আমার ফ্ল্যাট নেই...সোফায় ফেলে দিলে আমায় সোফায় পড়ে রই...

কিডনি বেচে কেনা রকিং চেয়ার,তার তিনভাগে গিন্নির সালোয়ার,একভাগে আমার তশরীফ। অত অল্প যায়গায় এঁটে যাচ্ছে দেখে পারলে ঈশ্বর জুম কল করে প্রশ্ন করেন,"হ্যাঁ রে,ওইখানে মাংস তো আর দেবার দরকার দেখিনা"...ডাইনিং টেবলে মোবাইল,স্যানিটাইজার,চুল বাঁধার ক্লিপ তাই ভাতের থালা কোলে...ডাইনিং টেবলের চেয়ারে শুকনো তোলা কাপড় সেটা দেখে আপনি ফ্রিজের মাথায় বসতে চাইলে সে উপায় নেই,সেখানে ভাঙা ফটো ফ্রেম,চাবি,ইলেকট্রিক বিল, দাদুর দাঁত!!! দাদু মারা যাবার পর তার দাঁত যতখানি এরিয়া পাচ্ছেন ওইটে যুধিষ্ঠির পেলে সুতানুটি গোবিন্দপুর ইন্দ্রপ্রস্থ হয়ে যেত,কুরুক্ষেত্র হতো না। সোফাতে বই,জলের জগ,রিমোট... মোটমাট সর্বক্ষেত্রে ইউনিয়ন জ্যাক উড়ছে বন্ধু,সূচ্যগ্র স্কোয়ার ফিট বরাদ্দও নেই।

শেষ আশা ছিলো রাতের বিছানা,সেখানে অর্ধেক জুড়ে গিন্নি। বাকি অর্ধেকে আড়াআড়ি ভাবে আয়তক্ষেত্রের "কর্ণ" পোজে কন্যা ঘুমোচ্ছে...নিজেকে শিব ভেবে গিন্নির পায়ের কাছে সেঁধোতেই চমক!!! ইইইক বেড়াল ঢুকেছে বলে চেঁচাতে গিয়েই ধড়াম করে লাথি খেলেন। মাথার চারপাশে তারার বনবনানি দেখতে দেখতে ভাবলেন,আপনাদের বাড়িতে তো বেড়াল নেই,আবিষ্কার করলেন বিড়াল রুমাল না হয়ে গিয়ে আপনার ৪বছরের পুত্র হয়ে গ্যাছে...পায়ের কাছে কুন্ডলি পাকিয়ে ঘুমোতে ঘুমোতে লাথি ছুঁড়ছে...

শ্বশুরমশাই এর দেওয়া খাট,নিজের বলে দাবি করে অধিকারও ফলাতে পারবেন না। তাই নিজের কেনা এসির মায়া ছেড়ে রিমোটের উপর ঘুমোবার প্ল্যান করলেন। মানে সোফার উপর রিমোট,তার উপর আপনি,চাপে টিভি চালু হয়ে গেলো...বাবার চিৎকার,"ইলেকট্রিক বিল কত এসেছে খেয়াল আছে"...আপনারই টাকা,আপনিই আপনার নিজের মোবাইলের ডেটা খরচ করে পে করেছেন...তাতেও অন্যে খোঁটা দেয়...

যাই হোক,বাবা আপাতত চালু করা টিভিতে জংলী দেখছে,আমি কমোডের উপর বসে,তোয়ালে ঝোলানোর হ্যান্ডেল ধরে ঘুমোনো প্র‍্যাকটিস করছি...কোনো সহৃদয় ডেলি প্যাসেঞ্জার থাকলে বসে ঘুমোনোর টিউটোরিয়াল এর লিংক দেবেন প্লিজ...