বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

পাম্প খারাপ

ডিপ্রেশান ভয়াবহ,তবে তার চেয়েও ভয়াবহ, পাম্প খারাপ হয়ে যাওয়া!!

তিনতলায় ফ্ল্যাট,ব্যাক আপের সুযোগ না দিয়েই পাম্প বাবাজীবন ভি আর এস নিলেন। অ্যাটিটিউড টা যেনো,"কাজ করবো না,চাকরি ছেড়ে দিয়ে দুনিয়া দেখবো"...তিনি ঠেলায় চড়ে দুনিয়া দেখতে লাগলেন,আর আপনি পড়লেন ফাঁপরে...তুচ্ছ এক পাম্পও রিজাইন করতে পারে,আপনি পারেন না,এটা ভেবে বেশি দুঃখ পাবেন নাকি বাথরুমে জল নেই এটা ভেবে,হঠাৎ মনে পড়লো, সকাল থেকে ইয়েতে যাবেন ভাবলেন কিন্তু ফ্ল্যাশ এর অবস্থা আপনার মানিব্যাগ সম,দুইই ফাঁকা...তাই ভাবলেন যে ডিপ্রেসন টা জল আসার পরেও হতে পারে,কিন্তু ইয়েটা এখন না হলে আপনার প্যান্টটা গত হতে পারে...তাই লোকাল ভগীরথ হয়ে গঙ্গা আনার প্ল্যান করলেন...

কিন্তু ভগীরথের সুবিধে হলো,ওনার সব ছিলো কিন্তু লিফট ছিলো না। ফিলটারে জল নেই,তাই খাবার জন্যে অর্ডার করে মিনারেলেই আজকে স্নান করবেন...এটা ভেবে নিজেকে আম্বানি বলে দাগিয়ে জল অর্ডার করলেন...চার জ্যারিকেন মিনারেল ওয়াটার নিয়ে দাদা লিফটে চাপতেই লিফটের হটাৎ মনে হলো,তিনি শিবের জটা। জল পেয়েছেন মানেই আটকে দিতে হবে...যেন জটা আসলে জটা নয়,লাল ফিতের ফাঁস, যেনো ইস্টবেঙ্গলের জাতীয় লিগ ভাগ্য, যেনো আমার ইনক্রিমেন্ট, কোনো না কোনো ভাবে আটকে যাবেই,এবং গেলো,এক মানুষ,চারটে জ্যারিকেন সহ লিফটের দরজা গেলো বন্ধ হয়ে...

তার মানে হাতে কি রইলো?? আপনার কাছে মাটির তলার জল আছে,কিন্তু পাম্প ধোনী,মানে সদ্য অবসর নিয়েছে, লিফট ভর্তি জল,কিন্তু সেটা পাবেন না কারন জলওয়ালা ভদ্রলোক কাতর ভাবে তাকাচ্ছেন যেন আলিপুর জু র হিপোপটেমাস,এবং আপনাকে ক্রমাগত তাড়া দেওয়া ইয়ের চাপ...

ইলেকট্রিশিয়ানকে ডাকা হলো,তিনিও ডুবে আছেন,কারণবারি তে। সবুজ পাঞ্জাবীতে আমাকে জিন্দেগী তে দ্যাখেন নি,ইয়াব্বড় সেলাম করে বললেন,"বৌদি,এক্ষুণি সব ঠিক করে দিচ্ছি"...আমি তখন আরো কনফিউজড... লিফটের লোককে রক্ষা করবো,পাম্পটা লাগানোর চেষ্টা করবো,নিউজপেপার নিয়েই বাথরুম যাবো নাকি আমাকে বৌদি বলায় দোপাট্টা এনে বুক ঢাকবো সেটা ভাবছি, ততক্ষণে লিফটের মেনটেনেন্স খবর দিলেন তার আসতে সময় লাগবে,আর আটকা পড়া মানুষটিও খবর দিলেন তার বাড়িতে বৌ বাচ্চা আছে,এবারের মত যদি বাঁচতে দেবার সুযোগটুকু করে দেওয়া হয়...ইলেকট্রিশিয়ান দাদা ততক্ষণে আমার খবর জানতে চাইছে আমার কাছেই,"বৌদি,দাদা নেই,ডেকে দিন না, মিটারঘরের চাবি লাগবে,দাদা ভালো আছে তো?বহুদিন দেখিনা"…বাবা তখনই চেঁচিয়ে উঠলো,"সকাল থেকে কি চাও পাবোনা"...

পাঞ্জাবি খুলে বারমুডা পরবো?নাকি পেপার হাতে বাথরুমে,নাকি নতুন পাম্পের অর্ডার দিয়ে সেটা ফিট করবো,নাকি লিফট থেকে জল বের করবো,নাকি লোকটাকে উদ্ধার করবো,নাকি বাবাকে চা,নাকি পেপার নিয়ে বাথরুম,নাকি মিটারঘরের চাবি,নাকি দোপাট্টা আনা,নাকি কেমন আছি সেটা জানাবো...এই সব ভেবে সকালে ডিপ্রেসড হবার সুযোগ পাই নি...

এখন এটা ভেবেই ডিপ্রেসড যে,এত বাজে জনিস ঘটেছে সকাল থেকে, যে কিছু লেখার বিষয় পাচ্ছি না...!!!

শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০

দেবব্রত

লয় যেনো তার মহাবোধী,লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ
আকাশ যদি দেবব্রত,খোলা হাওয়া...গীতবিতান

কে খুঁজেছে বিতর্কদাগ, আকাশের কি ক্ষত হয়
সুরের কিরন ছড়িয়ে গেলে, সূর্য তারাও নত হয়

এক হাতে তার বিষন্নতা, সুখের চিঠি অন্য খামে
যে ক্যানভাসে ভোরের আলো,সেইখানেতেই সন্ধ্যে নামে

সেই সেখানেই বন্ধু দাঁড়ায়, জীবন মরণ সীমার শেষ
আকাশ যদি দেবব্রত, ঘর খুঁজে পায় নিরুদ্দেশ 


শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২০

বিষাদের সুর

জানলা শরীর কাঁচের দেহে, আঁকাবাঁকা জলের শিরা
কেউ দেয় দোষ নিম্নচাপের, কেউ দেখেছে,আলতামিরা
জ্বরজ্বালা নেই তাই হয়তো, জমা জলে ফুর্তি ছাদের
দুরে সানাই বিসমিল্লার,সুর রয়েছে সব বিষাদের
উত্তম আজ শর্মিলাতে,কেউ খেলাঘর বাঁধছে আশায়
লেখার পাতা ফুরিয়ে গেলে,বৃষ্টিতে কে নৌকা ভাসায়
গুঁড়ো গুঁড়ো জল, বলে যায় একা ব্যালকনিদের কানে
অন্তরে ব্যাথা, কোন রাধিকা, চেয়েছে মেঘের পানে
শ্রাবণের ধারা,বয়ে চলে যায়, ভাসিয়ে অন্তঃপুর
জলের দাগেরা গুনে গেঁথে রাখে, সব বিষাদের সুর


বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০

দইওয়ালা

এই শহরে সময়েরা বয়ে যায়
সকালে ভিস্তি, দুপুরের হরকরা
ফিতে চুড়ি টিপ, দশ পয়সাই দাম
খিড়কির দোরে,গুনে গেঁথে দরকরা

ভেজা রাস্তারা খোঁজ করে গ্যাছে রোজ
মোড়ের মাথায় বসে কিনা ফুল মালা
বেলা বাড়লে সাইকেলে মাছ,রোজ
কেউ পুজো সেরে,হাতে সাজি ধুপ ডালা

চাটাই চরকি মুখে বাঁশি ফেরিওয়ালা
কড় গুনে যাই, সপ্তাহে কোনদিন
শহরের নাম গুলিয়েছে তদ্দিনে
কলকাতা,নাকি আমাদের হ্যামলিন

শীতকালে গুড়,মোরব্বাদের ঝুলি
সিল কাটাই, সুর লাগে সপ্তকে
কুলপি তো নয়,ইস্ট ইন্ডিয়া দেখি
বানিজ্যতরী,ভিড়েছে পাড়ার রকে

শুনসান পথ,চোখ বুজে শুধু শুনি
স্মৃতির গলিতে, কে হাঁক দিয়ে যায়...
সুখ গুলো আজও মনের ক্যানভাসে 
দইওয়ালা আজও অমলের অপেক্ষায়




মৃত্যুর পরে বারবার আসি ফিরে

কখনো আকাশে বিষাদের রং লাগে
কখনো বেদনা নাগপাশে রাখে ঘিরে
তবুও হারিনি,জীবনের লোভে আমি
মৃত্যুর পরে বারবার আসি ফিরে

এখানেই গলা আঁধারেরা বয়ে যায়...
সন্ধ্যেরা আসে দুপুরের বুক চিরে
উপসংহারে ভূমিকাই বুনি রোজ
সময়কে বলি, বন্ধু... একটু ধীরে...

লোভে ওত পাতে, আমি হাত পেতে যাই
ভোরের আলোরা সোনা ঢেলে দেয় রোজ
কেউ ঘুম দ্যাখে দিনের শেষে তাই,
আমি শব ঢেকে করি রাস্তার খোঁজ

নদীদের বাঁকে স্মৃতিদের ভাঙা ঘাট
প্রতিদিন কত নৌকা ভীড়েছে তীরে
ভুলে ভরা তবু লোভ জীবনের তাই
মৃত্যুর পরে বারবার আসি ফিরে

|| নীলাঞ্জন ||

ছবিতে তারা...যারা বাড়ি ফিরিয়ে আনে...

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০

মানুষের কোনো দোষ নাই

মানুষের কোনো দোষ নাই!!!

Nilanjan এর পোস্ট থেকে:  

অবশেষে কুকুরেরা হাতির মৃত্যুতে ধেনোর বোতল খুলে সেলিব্রেশানে বসলেন…

কুত্তা ভোঁকে হাজার, হাতি চলে বাজার এ বৈষম্যমূলক মন্তব্য নিয়ে দীর্ঘকালের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ তো ছিলই, এবারে দ্যাক ক্যামন লাগে বলে কুকুরেরা দিকে দিকে ক্ষোভ উগরে দিতে লাগলেন। ‘ন্যাজে পটকা বাঁধা কি তোর একার’, কিংবা, ‘অল্পেতে ঘা সারেনা, এ ক্র্যাকারের ভাগ হবেনা’ এ নিয়ে বিজ্ঞ সারমেয় রা চারদিকে জনমত তয়ের করতে লাগলেন এ মর্মে যে এবার থেকে মৃত্যুরও সম বন্টন চাই। উচ্চ নিচ জাতভেদ এখানে চলবে না, তুমি হাতি বলে কম মরবে, শুধু আগুন দেখিয়ে ভাগিয়ে দেওয়া হবে বা জঙ্গল থেকে খেদিয়ে দেওয়ার মত আয়েশ আর নয়, ‘ঘা য়ে দের পিঠে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার’।

কিছু কুকুর আবার এক ধাপ এগিয়ে বলতে লাগলেন গায়ে গরম জল ফেলে দেওয়াটার একটা রেশন করলে হয় না? মানে এ সপ্তাহে কুকুর, অন্য সপ্তাহে হাতি, ওদের চামড়ার এরিয়াটা বড়, পার্সেন্টেজ অফ বার্নিং এর চান্স টা অল্প হবে, ওদের বেশি দায়িত্ত্ব নেওয়া দরকার!!

চা দিতে এসে ডগি বৌদি প্রেগনেন্সি প্রসঙ্গ তুলে সহানুভূতির গ্রাউন্ড আনার চেষ্টা করতেই প্রতিবাদী তরুনী সারমেয় বিপ্লবী পোস্ট করলেন, ‘আজ ও প্রেগনেন্ট বলে কত্ত সহানুভূতি, আমি ত বলবো বেশ হয়েছে, কই আমাদের প্রেগনেন্ট রমণিদের যখন লাথানো হয়, সেক্সের সময় ইঁটের বাড়ি দেওয়া হয়...আমরা ইঁট খাওয়া প্র্যাকটিস করেছি, বাকিদেরও সেই কৃচ্ছ্বসাধন করতে হবে, বাড়ি বসে থেকে কলাগাছের ডাল ভেঙে লবাবি করলে তো সাম্য হয় না, জিমে যাও, বডি বানাও “ইঁটের বাড়ি খাও, খুদ জান যাও” …

পলিটিকালি কারেক্ট কুকুরকূল জনমত নিজেদের দিকে ঘোরাতে লাগলেন এবং এক বিষয়ে প্রায় সমস্ত ডগিরাই একমত হলেন যে মানুষদের কোনো দোষ নেই। তোমরা বেচারাদের ঘরে আটকে রাখবে, করোনা তে জ্বালাবে,পথে ইয়ে করতে দেবে না, রাস্তায় থুতু ফেলতে দেবে না, মলে ঘুরতে দেবে না, জলে বর্জ্য ফেলতে দেবে না ও বেচারারা করবে কি। ওদেরও তো জীবন আছে, ওদের এন্টারটেনমেন্ট কেড়ে নিলে ওরা এ সামান্য হত্যাটুকু করবে না!!! “না না, এ ভারি অন্যায়, মানুষদের তো কোনো দোষ দেখিনা”, এক প্রবীণ ফেবুবিপ্লবী বলে উঠলেন, “ওদেরও তো কিছু লাগবে রে বাবা, কদ্দিন ঢিল ছোঁড়েনি, পাখি ধরেনি, গুলি করেনি, আর এ সামান্য আনারসে পটকা দিলেই দোষ??মরলি মরলি, অত হল্লা করার কি আছে? জঙ্গলে হাতি মৃত্যুর পার্সেন্টেজ জানিস? হিসেব করে দেখলে দেখবি এটা শতকরা শূন্য দশমিক শূন্য ওয়ানের থেকেও কম। মানে বাঘে বা অসুখে তোরা বেশি মরিস, কই, সেটা নিয়ে তো বলিস না, যত মানুষেরই দোষ , তাই না”

রাজনৈতির নেতা সারমেয় আবার সান্ধ্য টেলিভিশনে যুক্তি দিলেন, বললেন,”না প্রত্যেক মৃত্যুই শোকের, কিন্তু এ  মৃত্যুতে শোকের আগে ইনোভেশান টা দেখুন?আনারসে পটকা, এ যে বিস্ময়, এরকম আগে দেখেছো কখনো!! কালিপটকা, ধানিপটকা আগে দেখেছি,কিন্তু এমন আবিষ্কার,এটাতে একটা মৃত্যু কিছুই নয়, ন্যূনতম...কো ল্যাটারাল ড্যামেজ, বড়ি বড়ি ইনোভেশান মে ছোটি ছোটি প্রাণ জাতি হ্যায়, তুম নেহি সমঝোগে সিনেরিটা...আমি পার্টিকে বলেছি যে এ বিষয়ে একটা কমিটি তৈরি করতে, আর আমার যেটা মনে হয় হাতিদের উচিত ঘ্রানেন্দ্রিয় স্ট্রং করা, অত বড় শুঁড় আমাদের সরকার পেলে এদ্দিনে চাঁদের বুড়ির রান্নার গন্ধও শুঁকে ফেলতো, ওরা অভ্যেস করুক, কয়েকটা পলিটেকনিকে হাতিদের গন্ধের ব্যাপারে ট্রেনিং দেওয়া যায় কিনা সরকার আলোচনা করছে... ”

সব্বাই, পাড়ার মোড়ে, থোড় বড়ি থোড়ে, মানিকে জোড়ে এটা বলাবলি করতে লাগলেন, মানুষ কি ভালো, আরে বাবা সব মানুষই লাথি আর টাকা মারতে ভালোবাসে, তার মানে কি ওরা খারাপ নাকি...যারা রুটি আর পরিষেবা দেয়, তাদের ভালো বলতে শিখতে হয়...লাথি মেনে নিতে হয়, গরম জল মেনে নিতে হয়...পটকা মেনে নিতে হয়...কোনঠাসা হওয়া প্র্যাকটিস করতে হয়...বোকা হাতি, জিমে যা, অত বড় জঙ্গল লাগবে না, টিপিনবক্সে এঁটে যাবি...পেট ছোটো কর, প্রেগনেন্সিতে খাবার খাবি না তাও খিদে পাবে না, তুই যে নদীর জলে ডুবে রক্তে জল নোংরা কল্লি, ওটা ফিল্টার করতে মানুষদের কত খর্চা জানিস? অমুক...তমুক...ইত্যাদি বলে কুকুরেরা চারপাশের হাতি ও কুকুরদের সামগ্রিক অশিক্ষা এবং মানুষদের উপর হওয়া অত্যাচার নিয়ে হেব্বি লেকচার দিলে...ভাষা বুঝিনি বলে সব ট্রান্সলেট করতে পারিনি...কল্লেই জানাবো...তবে আমারও মনে হয়...মানুষরা কিস্যুটি করেনি, সামান্য একতা প্রেগনেন্ট হাতি তো, তাকে নিয়ে অত কতার কি আচে বাপু বুঝিনা...কেরলে কত্ত শিক্ষিত লোক আচে জানো???হুঁহ...

রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০

ফেরা

 আজকাল আমার অতীত আমাকে বড্ড কুরে কুরে খায়। একে ডিপ্রেশন বলে নাকি আত্মগ্লানি জানি না, সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করার বাসনা বা ইচ্ছে কোনোটাই নেই, তবে জীবনকে ফিরে দ্যাখা বলতে পারেন, ভুলের মুখোমুখি রোজ দাঁড়িয়ে নিজেকে চাবুক মারা বলতে পারেন, একটা সুস্থ আমি প্রতিদিন একটা অসুস্থ আমি কে দ্যাখে, আর তার খুঁতগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দ্যাখায়...

একজন ড্রাগ অ্যাডিক্ট, চেইন স্মোকার, মদ্যপ যখন জীবনে ফিরে আসতে চায়, তখন তার উইথড্রয়াল এফেক্ট হয় শুনেছি,আমি সেটা ভোগ করছি, সাথে অপরীসিম ডিপ্রেশান। না আমি সারাজীবন মদ ড্রাগ সিগারেট ছুঁওয়েও দেখিনি, কিন্তু যে অভ্যেসে আমি রাতের পর রাত কাটিয়েছি, শব্দের জগতে, আকুতির জগতে, চাহিদার ইচ্ছেয়, সেটাও স্বাভাবিক নয় এবং সেটা অনুভব করেছি দিনের পর দিন। লড়ে চলেছি রোজ, নিজেকে আরেকটু, আরেকটু ভালো করার লক্ষ্যে, চরিত্রবান করার লক্ষ্যে। কিন্তু ফেরা সর্বদা সহজ হয় না। রত্নাকর যখন পরিবারের সবার কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ভেবেছিলো যে যাদের জন্য এত করলাম, তারাই আমার কাজের ভার বা দায় নিলো না, তখন তার মনে কি হয়েছিলো, সেটা ডিপ্রেশান নাকি কুরে কুরে খাওয়া অন্তরের জ্বালা সেটা বেশ বুঝতে পারি।

কিন্তু সে যুগে রত্নাকর থেকে বাল্মীকি হওয়াটা যতটা সহজ ছিলো, এখন কি তাই? মানুষ ক্রমাগতঃ পাথর ছুঁড়ে সে চেষ্টা টা নষ্ট করে দেয় না কি? ফেরার সুযোগ কি সবাই পায়? কে তার অন্তরটা খুলে দ্যাখাতে পারে, বুক চিরে বলতে পারে যে দ্যাখো এইটা আসল আমি, মাঝে কোনো একটা চরিত্রে অভিনয় করছিলাম, মাঝে কোনোভাবে আমার আমির ভিতর ঢুকে পড়েছিলো অন্য আমি, ঐ মানুষটা আমি নই...এই প্রমাণ কজন দ্যাখে, কজন বুঝতে চায়?

জীবনের শুরুর পর্ব থেকেই আমি একজন ফার্স্ট বেঞ্চার। পাড়ার টিপিকাল ভালো ছেলে। হাসতে থাকা, সব্বাইকে হাসাতে চাওয়া এক মানুষ যার লক্ষ্য ছিলো চারপাশে যেন দুঃখ না থাকে। বাড়িতে মানসিক অসুস্থ বাবা থাকলে, অর্থের অভাব থাকলে কি যন্ত্রণা নিয়ে চলতে হয়, ভুক্তভোগী ছাড়া আর কেউ জানে না, সেটাকে দূর করার জন্য আমার বন্ধুদের সাথে পাওয়া বিকেল ছিলো, আমার ভালোবাসাকে লুকিয়ে দ্যাখা ছিলো, ভয়ে কেউ প্রপোজ করতে এলে তাকে রাখী পরিয়ে দূর করিয়ে দেওয়া ছিল...হ্যাঁ আমি বিশ্বের একমাত্র ছেলে যে অন্যকে দূরে রাখার জন্য তাকে রাখী পরিয়ে বোন বানিয়ে স্বস্তিতে থাকতাম...কারন আমার জীবনে সমস্যা ছিল, কিন্তু তাকে দূরে রাখার ভালোবাসার হাত ছিলো, বন্ধুদের সাথ ছিল। একাকীত্ব ছিলো না। কথা বলার মানুষ ছিলো।

কিন্তু সন্তানকে ছেড়ে আসা র যন্ত্রণা কি, সেটা বলে বোঝানো যায় না। অফিস থেকে বাড়ি ফিরে নিজের শহর না পাওয়া, এঁদো যায়গার বিবমিষা,কারুর সাথে কথা বলতে না পারার একাকীত্ত্ব , মেয়ে কে কল করলে সে ফোন ধরতে চাইতো না অভিমানে, সেটার কুরে কুরে খাওয়ার অভিব্যক্তি মানুষকে পশু বানাক বা না বানাক, বাঁচতে চাওয়া মানুষকে ভাগাড়ে বা অন্য কোন স্টিমুলেটারে অভ্যস্থ করায়...পরের দিন সকালে উঠে বা দিনের কোনো এক সময়ে আসা সেই পর্বটা পেরোলে এক অদ্ভুত শূণ্যতা, নিজের কাছে নিজে হেরে যাওয়ার একটা পর্ব...

আপ্রাণ চেষ্টা করে যাওয়াটা আমার চরিত্রের একটা দিক, সেটাতেই ফিরে আসা, সেটাতেই লড়ে যাওয়া...আজ যখন ফিরে আসছি আমার সেই কিশোরবেলার আমির কাছে, সেই টিপিকাল ফার্স্ট বেঞ্চারটার কাছে, সেই ভালো ছেলেটার কাছে, তার চোখে জল...ঠোঁটে অভিব্যক্তি, "কেনো করলে এরকম...বলো"...

জীবনের ফুটবল ম্যাচ কাউকে ফিরতে দ্যায়, কাউকে দেয় না...কেউ সুশান্ত হয়, কেউ অশান্ত... আমি লড়ে চলেছি, ফিরে এসেছি, তবে লড়াই এখনো বাকি, অতীতকে ধুয়ে মুছতে পারবো না, তবে নতুন করে খারাপ না করে, যদি কাউকে জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়...যদি কাউকে বলা যায়, যে,"তুমি কিন্তু এটা নও, তোমার অন্তরের মানুষটাকে চেনো"...যদি আমার জন্যে একজনও বদলাতে পারে...তাহলে সেটাই সেই হেরে যাওয়া, আয়নার সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকা ছেলেটা হয়তো জিতে যাবে...সে আজকে চেঁচিয়ে বলছে, "আমি ফেরার চেষ্টা করছি, ওই ভালো ছেলেটার মত হবার চেষ্টা করছি, আমাকে একটু হেল্প করো..." যখন কেউ কোনো কথা শুনে ,কোন ভিডিও দেখে বলে "তোমার জন্য জীবনে ফিরলাম", কেউ যখন বলে, "আত্মহত্যা করে ফেলতাম তুমি না থাকলে"...কেউ যখন বলে ,"আমার বই বেরিয়েছে, শুধু তুমি পাশে ছিলে বলে, নইলে মরেই যেতাম"...তখন মনে হয় বলি, চেষ্টা, আমি করেছি, ভুল, আমিও করেছি, বাজে কথা, আমিও বলেছি, তবে আমি ফিরে এসেছি, বাকিরা নেবে কিনা জানিনা, বাকিরা কাছে রাখবে কিনা জানিনা, বাকিরা থুতু দেবে কিনা জানিনা, তবে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি, ডাক্তার ওষুধ নিজের চেষ্টা কিস্যু বাদ দিই নি...আমি পারলে...তুমিও পারবে...

শুধু আমার অতীতটা দেখো না...আমার বদলে যাওয়া মানুষটাকে দেখো, যদি এটা দেখে আরো কেউ বদলানোর সাহস পায়...ভালো হবার চেষ্টা করে...ধাক্কা দিয়ে দিলে সে কিন্তু আবার পড়ে যাবে...বাকিরা চেষ্টা করতেও ভয় পাবে...এই ফেরার চেষ্টাটা যেন তোমাদের হাতটুকু পায়...

SWADHINOTA

 ছ বছর বয়সে বিয়ে করে এলেন শ্বশুরবাড়িতে, এবং বারো বছর স্বামীর সাথে ঘর করার পর আবিষ্কার করলেন স্বামীকে যেতে হবে অনেক দূরে, আজকের ভাষায় লং ডিসট্যান্স রিলেশানশিপ, সিদ্ধান্ত নিলেন কষ্টের বনবাসের জীবন বেছে নেবেন।


ভালোবাসা ছিলো, স্বামীর প্রতি দায়িত্ব ছিলো, একসাথে থাকার আকুতিও ছিলো, তবে একটা পরাধীনতাও ছিল...যেখান থেকেই তিনি বলছেন, বাবা মা ছেলে ছেলের বউ সবাই নিজের কাজের ফল ও ভাগ্য ভোগ করেন, শুধু স্ত্রী ভোগ করেন স্বামীর ভাগ্য,তাই স্বামীকে বনে যেতে বলা মানে তাকেও বনে যেতে বলা...অর্থাৎ কর্তব্যের বেড়ি, সংসারের পরাধীনতা...

এই পরাধীনতা চিরকাল ছিলো তার, লক্ষণরেখার বেড়ি, রাবনের অশোকবণে বেড়ি, ফিরে আসবেন স্বামীর কাছে অগ্নীপরীক্ষার বেড়ি, এমনকি অগ্নীপরীক্ষার আগে যখন রাম তাকে যা বললেন তাতে চোখ ফেটে জল এলো, প্রশ্ন করলেন কেনো তিনি তাকে এমন ভাবে বলছেন, পরীক্ষার বাঁধনে ঢুকলেন...আগুনেও মুক্তি পেলেন না, কারন আগুন তাকে স্পর্শ করলো না, বরং তিনি আবার ঢুকলেন সংসারের আগলে...সন্দেহের রাজ্যে...

বনে ছেড়ে আসার পর টা ভাবুন, এক অন্ত্বসঃত্ত্বা নারী, তিনি একাকী এক বনবাসীর কুটিরের চৌহদ্দিতে,দুই পুত্রের দায়িত্ত্ব ছেড়ে পালাতে পারবেন না, মুক্তি নেই...

মহিলাদের জীবনজুড়ে এই পরাধীনতা, কাছের লোকটি সর্বশক্তিমান হলেও সন্দেহ,অন্যায় বা অপমানের আগুনের চৌহদ্দিতে আটকাতেই হয়, এ নিয়মের যেন ব্যত্যয় হয় না। দ্বিতীয়বারের অগ্নিপরীক্ষায় যখন তিনি ধরনী দ্বিধা করিয়ে চলে যাচ্ছেন,জানিনা জীবনে প্রথমবার কি মুক্তির স্বাদ পেয়েছিলেন সীতা? জানিনা ভেবেছিলেন কিনা "পেলাম প্রকৃত স্বাধীনতা" !!

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০

ডিপ্রেশননামা ২ - মৃত্যুভয়

"আমার আজকাল বড়ো মৃত্যুভয় হয়"...

বলে উঠলেন এক বিখ্যাত অভিনেতা।

কে তিনি নাম কি,সে বৃত্তান্ত বলে গসিপের নতুন গতিপথ আনা আমার কাজ নয়। বরং শ্যুটিং এর মাঝে কানখাড়া করে অন্যের কথা শুনেছি বলে আমাকে নিয়ে বাজে কথা বলতেই পারেন...বড় ব্যাকুল হয়ে নিজের সমস্যার কথা অন্য অভিনেতাদের বলছিলেন বাংলার অন্যতম সেরা এক অভিনেতা,এবং,সিরিয়ালে কিছুক্ষণের জন্য মুখ দেখানো আমি চোখ বড়োবড়ো করে শুনছিলাম...

মৃত্যুভয় ডিপ্রেশান থেকে আসে কিনা জানিনা,তবে ডিপ্রেশানের বাই প্রোডাক্ট হলে অবাক হবো না।২০১৫-১৬ সালের সার্ভে বলছে, ১৫ শতাংশ ভারতীয় পূর্ণবয়স্ক মানুষের এক বা একাধিক মেন্টাল হেলথ ইস্যু থাকতে পারে। এবং প্রতি ২০ জনের ১জন ডিপ্রেশানে ভুগছে...

চারপাশের মৃত্যু আপনাকে আরো কুঁকড়ে দিতে পারে। কিংবা অন্য কোনো ভাবনা থেকে এলো ভয়টা,মানে চারপাশে সব আছে,সব চলছে নিয়ম মেনে,আপনি নেই,এটা কেমন আদ্ভুত,কিকরে হয়...প্রথমে ভয়,তারপর পেট গুড়গুড়,তারপর চারদিকের আলো কমে আসা,তারপর হার্টবিট বাড়তে বাড়তে চোখ বুজে একটা আতঙ্কের " উঃ"... 

প্রতি মুহুর্তে লড়ে চলা একটা ভাবনার সাথে,যে এর পর কি...বিছানায় পড়ে আছেন,অসুস্থ,বার্ধক্য,জরা এই ভয়গুলো ছোঁয় না তখন,মন একটা বৃত্তের মধ্যে টানা ঘুরতে থাকে আর দেওয়ালে ধাক্কা খেতে খেতে হাহাকার করতে থাকে এটা বলতে বলতে "তারপর কি...তারপর কি"...সব আছে,এই দেওয়াল, এই রং, এই সকাল, এই পাখি,এই দিন চারপাশে ঝুঁকে থাকা উদ্বিগ্ন অজস্র মুখ,পরিজন, তার সাথে আপনার জড়িয়ে থাকা অজস্র টান,সন্তান,মা,বাবা,স্ত্রী,স্বামী,নাতি,নাতনি আর আপনি নেই...এ আবার কি পৃথিবী...নিজের চোখের সামনে রি-ওয়াইন্ড হতে থাকে একটাই দৃশ্য,অসুস্থ আপনি,মৃত আপনি,অন্তিমযাত্রায় আপনার দেহকে কাঁধে তোলা আপনি,আপনাকে ফার্নেসে ঢোকানোর মুহুর্ত...পর পর সিনেমার মতো...গলা ফাটিয়ে বেরিয়ে আসতে চায় একটা " দাদা আমি বাঁচতে চাই"...কিংবা চাঁদে টিনটিনে বলা টিনটিনের একটা অমোঘ সংলাপ "কিন্তু আমরা বাঁচতেই ভালোবাসি"

লড়াই শুরু এর পর থেকে,নিজেকে নিরন্তর ডোবানো অন্য দিকে,হয়তো টানা কাজ করে যাওয়া,হয়তো টানা সিনেমা দ্যাখা,হয়তো অনর্গল অশ্লীল গালিগালাজ...মনকে অন্য লোভ দেওয়া,অন্য ভাবনার লোভ...অন্যদিকে ব্যস্ত থাকার লোভ...কারন মৃত্যুভয়ের কোনো ওষুধ নেই...সবসেরা ওষুধ,আপনি নিজে,ও আপনার ভাবনাকে,আপনার মনকে অন্য দিকে ডাইভার্ট করা...ঠিক যেভাবে বাচ্চাদের রং পেন্সিল ধরিয়ে মোবাইল থেকে সরানো হয়,বা চকোলেটের থেকে...

দাদু মারা যাওয়ার দু দিন আগে হাত টা জড়িয়ে বলেছিলো,"কিছু কর দাদা,তুইই পারিস,পারলে তুইই পারবি"...সেদিনের খড়কুটোও জানে কেউই আসলে পারে না,তবে কিছুক্ষণের জন্য ঠেকিয়ে রাখতে পারে,দুরে সরাতে পারে মনের ব্ল্যাকবোর্ডের হাবিজাবিগুলো...

#ডিপ্রেশাননামা ২

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০

ডিপ্রেশাননামা ১ - লং ডিস্ট্যান্স

ডিপ্রেশান কষ্টের,আরো কষ্টের,যখন আপনি বুঝতে পারছেন হতাশা আপনাকে গ্রাস করছে, আপনি আপ্রাণ বেরোবার চেষ্টা করেও বেরোতে পারছেন না...এই আস্তে আস্তে ডুবে যাওয়াটা,চোরাবালির মধ্যে তলিয়ে যাওয়াটা,অক্সিজেনের জন্য হাঁকপাক করতে করতে হাত বাড়িয়ে নলটা খুঁজে পাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টাটা আরো মারাত্মক যন্ত্রনার... 

পরিজনকে ছেড়ে কর্মক্ষেত্রে যেতে হবে, হয়তো বৃদ্ধা অসুস্থ মা হাতদুটোকে জড়িয়ে ধরলো,হয়তো স্ত্রী অভিমান করলো, হয়তো বিছানায় থাকা বাচ্চা ছলছল চোখে বললো,"আজ যেয়ো না বাবা",আর আপনি শহর থেকে অনেকটা দুরে,এক মাসের জন্য,এক বছরের জন্য,নিদেনপক্ষে এক সপ্তাহের জন্যে চললেন,সব বাঁধন ছেড়ে দিয়ে। তিনি জানেন সহস্র শিকলের চেয়ে শক্ত ঐ জড়িয়ে ধরা হাত, ওই অভিমান বা ওই "যেয়ো না বাবা" র ডাকের মত শক্ত শিকল ছেঁড়াটা কতটা কষ্টের...

কেউ কেউ ফেরেন...হতাশা কে ভুলে...আঁকড়ে ধরেন কাজকে, লেখাকে,গল্পকে,বইকে,সিনেমাকে,পরকীয়াকে, বন্ধুকে,ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে কথা বলাকে,সোস্যাল মিডিয়ায় সেলফি বা রান্নার ছবি আপলোডকে,মিমকে...বা বলা বাহুল্য,চেষ্টা করেন...

জানেন,একটা ভিডিও কল,বা একটা বাড়ির সাথে কথা বলা এর উপশম নয়, খাবারে ক্ষিদে মেটে,কিন্তু অভিমান,হাতে জড়িয়ে ধরা হাত বা "বাবা যেও না" এটার উপশম ওই একটু কথা বলা নয়...

কেউ নেশায় ডোবেন...যারা নেশা করেন না,তারা ডিপ্রেশান কাউন্টারে আরেকটু স্ট্রং কিছু খোঁজেন...আবিষ্কার করেন জীবনটা মাস্ক ফিল্মের জিম কেরির মতো...বিধ্বস্ত রাত পেরিয়ে সকালে অবাক চোখে দেখা একটা ধ্বংসস্তুপ,তারপর নিজের অক্ষমতায়,বা দুর্বলতা ভুলে আবার শুরুর চেষ্টা...

ঐ শুরুর চেষ্টা টা ইম্পর্ট্যান্ট, ওটাই করে যেতে হয় নিরন্তর,সব ভুলেও...শরীরময় আঘাত থাকে,ফ্রস্ট বাইটে অঙ্গহানি হয়,সারাজীবন ক্ষতগুলো যন্ত্রণা দিয়ে যায়,তবু আপনি এটা ভেবে স্বস্তি পান,যে হতাশার এভারেস্ট ছুঁয়ে,আপনি বাড়িতে ফিরতে পেরেছিলেন...

#ডিপ্রেশাননামা_১