শুক্রবার, ৩ মে, ২০১৯

ভাগাভাগি

দায়িত্ব ভাগের উপকারিতা বিরাট,বিয়ের পর হাড়ে হাড়ে বুঝেছি। নতুন থালায় চাল আর নতুন শাড়ি গিন্নির হাতে তুলে দিয়ে বৌভাতের পর কইলাম,"তোমার ভাত কাপড়ের দায়িত্ব নিলুম।" এর পর ভাত কাপড়ের দায়িত্ব,না,আমি নিই নি। তার স্যালারি বেশি হওয়ায় তিনিই আমার স্যান্ডো গেঞ্জি ও বারমুডার দায়িত্ব নেন। এবং সত্যি সত্যিই আমি গেঞ্জি পরে,নিজে না কেনার আরাম টা ফ্রি পাই।

সেই থেকেই বাড়িতে কাজ ভাগ,মানে আমি মশারি টাঙাই,তিনি ঘুমোন,উনি বকেন,আমি বকুনি খাই,উনি সাজেন,এবং আমি "জুতো পরতে এত টাইম লাগাও" এর মুখঝামটা শুনি,এভাবেই আমাদের রোজকার কাজের দায়িত্ব ভাগ করা আছে। স্বয়ং কালনেমী আমাদের বাড়িতে ভাগের ক্র‍্যাশকোর্স শিখতে এলেন বলে।

ডিকে বোস ছাড়াও ভাগ হয়। অংকের খাতা ছাড়াও ভাগ হয়। ভাগ ভাগ বলে বাচ্ছা তাড়ানো ছাড়াও ভাগ হয়। দায়িত্ব ভাগ করলে চাপ কমে...এমনটা সবাই বলে,তাই মাঝে মাঝে দায়িত্ব ভাগ হোক। গিন্নির ইনকাম করুক,আপনি বাসনটা মাজুন,সত্যি বলছি,গিন্নির ইনকামে বসে বসে ঠ্যাং দোলানোর মজা হেব্বি,আমি বেশ কয়েকদিন করে তোফা ভুঁড়ি বাগিয়েছিলাম। তাই,মশারী টাঙানো প্র‍্যাকটিস করুন,ভাবা পরে প্র‍্যাকটিস করলেও চলবে...

বুধবার, ১ মে, ২০১৯

পেনচুরি

আমাদের অফিসে মুনমুন সেনের বেড টি রাখুন,কেউ শুঁকেও দেখবে না,মিনারেল গো মূত্র রাখুন, কনস্টিপেশানে শয্যাশায়ী কলিগ চেখেও দেখবে না,বিকিনিতে সানি মামনি রাখলে তা ফেলে লোকে পিপিটিতে মুখ গুঁজবে। কিন্তু অরক্ষিত ডটপেন রাখুন,মুহুর্তে কিডন্যাপড। সামান্য এক ডটপেনের জন্য যে পরিমানে নিরাপত্তা রাখা হয় অফিসে,তাতে মোদীজির জেড প্লাস ক্যাটাগরিও হার মানবে। তবু আমাদের অফিসে ডটপেন চুরি যায়। কারন ট্যালেন্ট,চুলকানি আর চুরিকে ঠেকানো যায় নি যাবেও না।

প্রোটেকশান?আছে...অফিসে যতগুলো ক্যামেরা আছে,তার খরচে এমপ্লয়িদের ডটপেনে স্নান করিয়ে দেওয়া যেত, সিকিউরিটি গাড়ির ডিকি ও বুকপকেট চেক করে নেন, এতে পেনচুরি কমেনি, তবে পরকীয়া কমেছে। পকেট সার্চে কোহিনূর ধরা পড়ার পর থেকে পাবলিক আতঙ্কে কম বৌদিপ্রবন। অতঃপর এক জ্ঞানী বানী দিলেন, " প্রোটেকশন সব নয়,আরে বাবা,গোলকীপার থাকলেও তো গোল হয়। প্রোটেকশানেই যদি সব হত তাহলে কি কন্ডোম ফাটা গালিটার সৃষ্টি হত??"

তাই আমি বের করেছি অন্য প্রথা। ইংকপেন। বারোয়ারী ডটপেন চুরির বাজারে, চুরি ঠেকানোর নিনজা টেকনিক।
পেনপ্রেমী ঝরনা কলমে লেখা প্রেফার করে না বোধহয়...