শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০

শন কোনারি

আপনি বুড়ো হতে ভয় পান? পাকা দাড়ি সাদা চুল আপনার আতঙ্কের, বিশ্বাস করুন আমি ভয় পাই না, যতবার শন কোনারির ছবি দেখেছি, আমার কাছে বার্ধক্য দামি হয়ে ধরা দিয়েছে...

আপনার চামড়া কুঁচকে গেলে গালে স্কিন কেয়ার লোশান লাগান? আমি ব্যবহার করি না, আমি তো সেই কিশোরবেলা থেকে ভুরু কুঁচকে কপালের বলিরেখা আনার আপ্রান চেষ্টা করে গেছি, কারন, আমি যতবার শন কোনারির ছবি দেখেছি, কপালের ভাঁজগুলো আমার কাছে বোল্ডনেস হয়ে ধরা দিয়েছে...

আপনি বিরহ প্রেমিক হয়ে ইম্পর্ট্যান্স পেতে চান? আপনার ব্যাকগ্রাউন্ডে চলে..."উও লড়কি বহত ইয়াদ আতি হ্যায়", কয়মত যে সিনেমা থেকে ঝেঁপে বানানো, সেই দ্য রক দেখুন, মহিলা ছাড়াও এক নড়বড়ে খোঁচা খোঁচা দাড়িওয়ালা বুড়ো,জন প্যাট্রিক মেসন যে ছোকরা নিকোলাস কেজের মুখের লাইমলাইট কেড়ে নিতে পারে, সিনেমাতে কোনো রোমান্টিক এঙ্গেল ছাড়াই, বুঝবেন...

আপনার চামড়া কুঁচকে গেলে গালে স্কিন কেয়ার লোশান লাগান? আমি তো সেই কিশোরবেলা থেকে ভুরু কুঁচকে কপালের বলিরেখা আনার আপ্রান চেষ্টা করে গেছি, কারন, আমি যতবার শন কোনারির ছবি দেখেছি, কপালের ভাঁজগুলো আমার কাছে বোল্ডনেস হয়ে ধরা দিয়েছে...

একটা খাজা সিনেমা, দ্য লিগ অফ এক্সট্রাওর্ডিনারি জেন্টালম্যান, হিন্দি ডাবড একটা কুড়ি টাকার সিডি আমার কিশোরবেলা থেকে এই কদিন আগে অব্দি সিডির ব্যাগে রাখা ছিলো, শুধু কভারে ওনার ছবিটার জন্য...

শাহরুখ নয়, আনন্দমেলায় জেমস বন্ডের সংখ্যায় এনার ছবি দেখে মায়ের ড্রেসিং টেবলের সামনে দাঁড়িয়ে কতবার আফসোস করেছি, " ইসসস, শন কোনারির মতো একটা টোল থাকলে আমি টোল ট্যাক্সও দিতাম"

শন কোনারিরা শিখিয়ে যান, চল্লিশ মানে চালশে নয়, ষাট মানে জীবন শেষ নয়, ৬৯ এও ওরার্ল্ডের সেক্সিয়েস্ট ম্যান এলাইভ হওয়া যায়, টাকমাথা, সাদাকালো দাড়ি, আধমাথা চুল বাকি আধে পনিটেল, জামার বোতাম কখনো খোলা কখনো অর্ধেক লাগানো কিস্যু ম্যাটার করে না, ওই দিয়েও বুড়ো বয়সে ইউটিউবের হাই ভিউড ভিডিওর কনটেন্ট হিসেবে তাকেই নিতে হয়, যদি ক্যারি করতে জানেন তো, শন কোনারিরা শিখিয়ে যান, কিকরে কোঁচকানো চামড়া, সাদা চুল, পাকা দাড়ি, টাক কেও বানাতে হয় স্টাইল স্টেটমেন্ট, মন তাজা থাকলে সাদা কালো চুলও রঙিন কিকরে হয়...সেই জাদুগরি...শন কোনারি এমন একজন, যার মত বুড়ো হতে ইচ্ছে করে, যাকে দেখে বুড়ো হতে ইচ্ছে করে...


__________________________________________________________________________________________________




তখন ওই গানটা সুপারহিট "উও লড়কি বহত ইয়াদ আতি হ্যায়" , আমরা শুনে বিরহ-প্রেমিক হওয়া প্র্যাকটিস করি আর আর মেয়েরা খোঁজে অজয় দেবগন কাটিং এটিটিউড, এমন সময় দ্য রক দেখলাম,এই রক থেকে ঝেঁপে বাবানো ছবি কয়ামত, যখানে অজয় দেবগন করেছেন শন কোনারির রোলটা। বিশ্বাস করুন অজয় দেবগনের প্রতি অত বিরক্তি জীবনেও জন্মায় নি...কারন দ্য রক এর জন প্যাট্রিক মেসন। একজন পাকা দাড়িওয়ালা সাদা চুলের বুড়ো তুড়ি মেরে নিকোলাস কেজ দের চোখের সামনে থেকে আমাদের শ্রদ্ধা সম্ভ্রম ভালোবাসা কেড়ে নিয়ে চলে গেল, যাস্ট তুড়ি মেরে...
আপনার চামড়া কুঁচকে গেলে গালে স্কিন কেয়ার লোশান লাগান? আমি ব্যবহার করি না, আমি তো সেই কিশোরবেলা থেকে ভুরু কুঁচকে কপালের বলিরেখা আনার আপ্রান চেষ্টা করে গেছি, কারন, আমি যতবার শন কোনারির ছবি দেখেছি, কপালের ভাঁজগুলো আমার কাছে বোল্ডনেস হয়ে ধরা দিয়েছে...
তখন সিডির যুগ, বেছে বেছে হিন্দি ডাবড সিনেমা নিয়ে আসি, দ্য লিগ অফ এক্সট্রাওর্ডিনারি জেন্টালম্যান বলে একটা ছবির সিডি ২০ টাকা দিয়ে কিনে এনেছিলাম, শুধু কভারে ওনার ছবিটা দেখে,টুপিতে কপাল ঢাকা, এক গাল দাড়ি... এই কয়েকদিন আগে অব্দি আমার কিশোরবেলা বোঝাই করা সেই সিডিটা রাখা ছিলো, নেটফ্লিক্স আর প্রাইমের যুগের আলোকবর্ষ আগে এক সিডি বোঝাই হয়ে আমার কাছে ধরা দিত শন কনারি...আনন্দমেলায় বন্ড স্পেশাল একটা সংখ্যা বেরিয়েছিলো, সম্ভবত তখনো আমরা ক্লাস টু, চিনেছিলাম রজার মুরকে, বন্ডের খুঁটিনাটি, আর গালে টোল পড়া , পরবর্তীকালে ৬৯ বছরে সেক্সিয়েস্ট মেন এলাইভ পুরস্কার পাওয়া এই মানুষটাকে...শাহরুখ নয়, আমি ছেলেবেলাজুড়ে চাইতাম, আমার গালে একটা টোল দাও ঠাকুর, আমি শন কোনারির মত সাইড হয়ে ফটো তুলতে চাই, যেখানে গালে টোলের জন্য টোল ট্যাক্স দিতেও রাজি...
আমাদের প্রিয়তম বন্ড, পিয়ের্স ব্রসনন, কারন আমরা হলে দেখেছি ওনাকে, কিন্তু পরে যতবার সিডিতে বন্ডের ছবি দেখেছি, মনে হয়েছে, বন্ড গার্ল ছাড়, এই লোকটাকে দ্যাখ,শন কোনারি...!!! অ্যাভেঞ্জার্স থেকে বন্ড হয়ে ইন্ডিয়ানা জোনস, আমাদের ছেলেবেলা মাখামাখি করা নায়ক, আমাকে যিনি শিখিয়েছেন, বুড়ো মানে, শেষ নয়, বুড়ো মানে সেক্সি বুড়ো...এমন একজন, যিনি বুড়ো বয়সেও ইউটিউব জুড়ে স্টাইল স্টেটমেন্টের শেষ কথা হয়ে থাকতে পারেন, এখনো সার্চ লিস্টে উপরের দিকে থাকে শন কোনারি বেস্ট ওল্ড এজ ইমেজেস এর ভিডিও...৯০ বছর বয়সে তার প্রয়াণের পরের এই জেনারেশানের কাছে আফসোস টা দেখে মনে হয়, বুড়ো হো তো এইসি...শন কোনারি য্যায়সি...

বয়স আসলে একটা সংখ্যা, হিরোইজমের কোন বয়েস হয় না, ক্যারি করতে জানলে মাথাজোড়া টাক, বুকের উস্কোখুস্কো কাঁচাপাকা চুল, খোঁচাখোঁচা দাড়ি, সবকটা বোতাম খোলা শার্ট বা গলা অব্দি লাগানো বোতাম, কপালের বলিরেখা বা গালের ভাঁজ ম্যাটার করে না... আধটেকো মাথার বাকি চুলে পনিটেল,ক্যারি করতে জানলে জীবনের নতুন সুর হয়ে দাঁড়ায়, শন কনারিরা শিখিয়ে যান, সাদাকালো কে রঙিন করার জাদুগরি...




মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০

ফেসবুক সে কালেও ছিলো

দশবিতানিয়া তে,মারা যাবার আগে চেকলিস্ট বানিয়েছিলেন বিনয় পাঠক...দশটা এমন জিনিস,যা মারা যাবার আগে আপনি করতে চান...

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চেকলিস্ট বদলায়...শৈশব এ যা ছিলো আপনার চাহিদা,বয়স বাড়তে তা হয়ে যায় বাপি বাড়ি যা...আমার সেরকম দশটা ইচ্ছে যদি বাছতে বসি...আপনার গুলোও কমেন্টে লিখুন...

১. বিরাট একটা টিভি :: মোবাইল নয়,রেডিও নয়,ল্যাপটপ নয়...টিভির প্রতি আমার দুর্দম লোভ। বড় টিভি,সেই কবে ছোটবেলায় একটা বড় টিভিতে মহাভারত দেখেছিলাম...সেই থেকে লোভটা আমার অন্তরে...প্রথম যব পেয়ে,গ্রেট ইস্টার্নে ঢুকে বড় বড় ফ্ল্যাটস্ক্রিন টিভিগুলো আমাকে যেন দু হাত বাড়িয়ে ডাকতো...এখন টিভির সাইজ বাড়ে,আমার লোভটাও...চারদিকের দেওয়াল যদি মুড়ে ফেলা যায় স্ক্রীনে...তবে যেন আমার তৃপ্তি...টিভি সানি মামনি হলে,আমি ড্যানিয়েল...টিভি রাখি সাওয়ান্ত হলে আমি বিতর্ক...একে অন্যের জন্যেই তৈরি... এখন ধার ধোর করে,একটা কান বন্ধক রেখে বড় টিভিটা কেনাই যায়...তবে না কিনে জিইয়ে রেখেছি...আসছে আসছেই ভালো,এসে গেলেই তো ফুরিয়ে যাবে...

২. ইজিপ্ট :: ছেলেবেলায় শুধু ইজিপ্ট ভাবতাম,এখন মনে হয়,সেভেন ওয়ান্ডার...যদি দেখতে পারতাম। মমি থেকে আইফেল টাওয়ার,তাজমহল থেকে পেট্রা...এ জীবনের মূল্যটাই কি,যদি না চর্মচক্ষে সাত আজুবা নাই দেখলাম,মানুষের ক্ষমতার সেরা প্রকাশ...কোনোদিন যদি সব বেচেবুচে লোকাল ট্রেনে চেপে "চাঁদের পাহাড় " দেখতে বেরিয়ে পড়ি,অবাক হবেন না...
ঈজিপ্ট টা আমি যাবোই...একেবারে শিওর...ঈজিপ্ট আর মহীশূর,সেই ক্লাস ২থেকে দ্য সোর্ড অফ টিপু সুলতান দেখা থেকে আমার যাবার টপ ডেস্টিনেশান...

বাড়ির লোক দার্জিলিং দার্জিলিং করে... আর আপনি ভাবেন আপনি একাই কম্প্রোমাইজ করেন??

(বাকি পরের দিন,মুড থাকলে)

দশবিতানিয়া

দশবিতানিয়া তে,মারা যাবার আগে চেকলিস্ট বানিয়েছিলেন বিনয় পাঠক...দশটা এমন জিনিস,যা মারা যাবার আগে আপনি করতে চান...

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চেকলিস্ট বদলায়...শৈশব এ যা ছিলো আপনার চাহিদা,বয়স বাড়তে তা হয়ে যায় বাপি বাড়ি যা...আমার সেরকম দশটা ইচ্ছে যদি বাছতে বসি...আপনার গুলোও কমেন্টে লিখুন...

১. বিরাট একটা টিভি :: মোবাইল নয়,রেডিও নয়,ল্যাপটপ নয়...টিভির প্রতি আমার দুর্দম লোভ। বড় টিভি,সেই কবে ছোটবেলায় একটা বড় টিভিতে মহাভারত দেখেছিলাম...সেই থেকে লোভটা আমার অন্তরে...প্রথম যব পেয়ে,গ্রেট ইস্টার্নে ঢুকে বড় বড় ফ্ল্যাটস্ক্রিন টিভিগুলো আমাকে যেন দু হাত বাড়িয়ে ডাকতো...এখন টিভির সাইজ বাড়ে,আমার লোভটাও...চারদিকের দেওয়াল যদি মুড়ে ফেলা যায় স্ক্রীনে...তবে যেন আমার তৃপ্তি...টিভি সানি মামনি হলে,আমি ড্যানিয়েল...টিভি রাখি সাওয়ান্ত হলে আমি বিতর্ক...একে অন্যের জন্যেই তৈরি... এখন ধার ধোর করে,একটা কান বন্ধক রেখে বড় টিভিটা কেনাই যায়...তবে না কিনে জিইয়ে রেখেছি...আসছে আসছেই ভালো,এসে গেলেই তো ফুরিয়ে যাবে...

২. ইজিপ্ট :: ছেলেবেলায় শুধু ইজিপ্ট ভাবতাম,এখন মনে হয়,সেভেন ওয়ান্ডার...যদি দেখতে পারতাম। মমি থেকে আইফেল টাওয়ার,তাজমহল থেকে পেট্রা...এ জীবনের মূল্যটাই কি,যদি না চর্মচক্ষে সাত আজুবা নাই দেখলাম,মানুষের ক্ষমতার সেরা প্রকাশ...কোনোদিন যদি সব বেচেবুচে লোকাল ট্রেনে চেপে "চাঁদের পাহাড় " দেখতে বেরিয়ে পড়ি,অবাক হবেন না...
ঈজিপ্ট টা আমি যাবোই...একেবারে শিওর...ঈজিপ্ট আর মহীশূর,সেই ক্লাস ২থেকে দ্য সোর্ড অফ টিপু সুলতান দেখা থেকে আমার যাবার টপ ডেস্টিনেশান...

বাড়ির লোক দার্জিলিং দার্জিলিং করে... আর আপনি ভাবেন আপনি একাই কম্প্রোমাইজ করেন??

(বাকি পরের দিন,মুড থাকলে)

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০

ফর্ম্যালিটি আর বিজয়া

আমার যখন অসুখ করে, আমাকে কেউ কল করুক, বা ফোন করে খবর নিক, আমার চিরকালের না পসন্দ, বরং জলের গ্লাস টা ঘরে রেখে চলে গেলে ভালো লাগে, একটা ফর্মাল কল, বাড়ি বয়ে কেউ দেখতে এলে,সেগুলো আমার চিরকালের অস্বস্তির...
তেমনই কারুর প্রয়াণে তার কাছের লোকজনকে কল করাটাও আমার কাছে বড্ড অস্বস্তির। মনে হয় মানুষটার প্রিয় লোকটা চলে গ্যাছে, তার নিভৃত সময়ের প্রয়োজন নিজেকে সামলাতে। একটা ফর্মাল ফোন, আমাদের ফর্মালিটিতে টিক মার্ক করে হয়ত ভীষন সোস্যাল বানায়, কিন্তু আদপে সেটা কিস্যু নয়, তার মনের কষ্ট লাঘব করা বা পাশে থাকা, কোনো কাজে আসেনা...বরং সেই সময় তার কিছু কাজ করে দিতে পারলে, তাকে সংসারের কাজের ভার থেকে কিছুক্ষণ লাঘব ঘটাতে পারলে সেটা উপকারী হয়...

একই ভাবে বিজয়ার শুভেচ্ছা...ছেলেবেলায় প্রণামের ধুম ছিলো, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিষ্টি খাবার লোভে, এখন ম্যান্ডেটারি ফোনকল...ওই সামাজিক থাকার টিক মার্ক। কাউকে ভালোবাসো কিনা, তাকে নিয়ে সারাদিন ভাবলে কিনা, বা নিঃশব্দে তার খবর নিলে কিনা, ম্যাটার করে না, ঐ  একটা কয়েক সেকেন্ডের ফোনকল তোমাকে সামাজিক করে তোলে...
হোয়াটস্যাপ ফরোয়ার্ডের তাড়াহুড়ো, মেসেজ করে "যেন একটা কাজ সারা হলো" তার তাড়া, এই অতি সামাজিক হতে চাওয়ার তাড়া আসলে আমাদের অসামাজিক করে তুলছে...

তিন দিনের অপেক্ষা শেষ, প্রিয় মানুষটা তার শ্বশুরবাড়ি ফিরছে, বিদায়ের বিষাদ, আজকাল আমাকে ছুঁয়ে যায়, যেটা শৈশব বা কৈশোরে বুঝিনি, আজকাল নিভৃতবাস বা অন্তরাল লাগে...যেখানে এবারের পুজোর সাথে এ যাবত কালের সব পুজোর মুহুর্তরা ভিড় করে, কিছুক্ষন তাতে ডুব দিয়ে মনে হয়, একটু একলা থেকে সামলে নিই নিজেকে...তার পর হোক লক্ষ্মীপুজোর অপেক্ষা...

কিন্তু পরিচিতরা বলে , এগুলো নাকি করতে হয়, আমিও দিন দিন কম ফর্ম্যালিটি করি, কম খবর নিই, কম উইশ করি, সব্বার সব ডিটেলস ত কানে আসছে, জানছি, সোস্যাল মিডিয়াতে দেখছি, আবার একটা ওই একই খবর জানার ফর্মালিটি কেন করব, এ উত্তর নিজের কাছে থাকে না, তাও সব্বাই বলে, এগুলো করতে হয়...

এই এত্ত ফোন, গুচ্ছ মেসেজ, ফর্ম্যালিটির ধুমের যুগে, আমি বড্ড আনসোস্যাল...আজকাল বিষাদের খবরে থমকে যাই, কিছুক্ষণ নিজেই নিজেতে ডুবি, ওইটাই আমার সামাজিকতায় পাশে থাকা, ওইটাই আমার শুভেচ্ছাজ্ঞাপন বা সমবেদনা...এ নিয়ম একান্তই আমার পৃথিবীর, তাতে লোকে আমাকে অসামাজিক বললে, আমি তাই...আমার নিজের করা বাকি ফর্ম্যালিটি গুলো, বড্ড মেকি...আমার নিজের কাছেই...

সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০

পুজো বন্ধ

পুজোয় নানা ব্র‍্যান্ড ১০% ১৫% সেভ করাচ্ছে...
সবচেয়ে সেরা অফার দিলো হাইকোর্ট... 
লাইফ সেভ করাচ্ছে...

আমরা লোকের বাড়ি গিয়ে হেব্বি মেনটেন করি,বালিশ ধামসাই না,টেবিলে এঁঠো কাপ নামিয়ে ভুলে যাই না, দেওয়ালে দাগ করি না...আমাদের সমস্যা,নিজেদের বাড়িতে,সেখানে পাশবালিশ চটকে তুলো বের করি,বাথরুমে শ্যাওলা বের করি, ফ্যান চালিয়ে অফ করিনা...

মানে সামান্য নিয়ম মানলে যা সুস্থ,স্বাভাবিক, সব্বার মঙ্গলকারী হতে পারতো তা করি না...

তাই ট্র‍্যাফিকের ফাইনের গুঁতো আমাদের নিয়ম মানায়,লাল লাইট নয়। "এখানে প্রস্রাব করিবেন না দেখলেই আমরা ঠ্যাঙ তুলে কুকুরসম" অথচ পিছন থেকে খিস্তি শুনলেই ইয়ে গুটিয়ে চেন তুলে সোজা হাঁটি...

শিক্ষিত ভারতীয় তাই ফ্লাইটে সিটবেল্ট পরে,গাড়ি তে নয়, লন্ডনে থুতু ফেলে না,লালবাগে ফ্যালে,সেই ইংরেজ আমল থেকে আমরা ডান্ডা বড় ভালো বুঝি, বোঝালে বুঝি না সেটা বোঝা হয়ে যায় আমাদের কাছে...

তাই নিয়ম মেনে দুর্গাপুজো,আমাদের বরাতে নেই, শৃঙখলা আমরা জানিনা,নিয়ম আমরা বানাইনা,বানালে মানিনা,মানতে চাইনা...

এই লিস্টে আপনিও আছেন...আমিও...

আমাদের জন্য বেত এবং হাইকোর্টই ঠিক আছে...

রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০

গালিব অনুবাদ ০২

কল্পনারা ফের গিয়েছে, সেই তোমারই পথে

হারানো হৃদয় হয়তো এসেছে, ভিড় করে ভাবনাতে 


গালিবের লেখা~

Phir Tere Kooche ko Jata Hay Khyaal

Dil E Gumgashta Magar Yaad aaya

গালিব শায়েরী

কেটেও যেতো জীবন,
যেমন চিরায়ত রীতিতে
কেনো তোমার পথের কথা,
পড়লো ধরা...স্মৃতিতে...

অনুবাদ~ নীলাঞ্জন

Probably,this is a line written by galib... 

Zindagi Yun Bhi Guzar Hi Jati

Kyun Tera RahGuzar Yaad Aya

আমি অনুবাদের চেষ্টা করলাম...

শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০

প্রদীপ ঘোষ স্মরনে

হলদে দেওয়াল ওয়ালা দোতলার ঘরে আমরা তিনজন। আমি,আমার বন্ধু তন্ময় আর একটা টেপরেকর্ডার...

তখনো ফরোয়ার্ড টিপলে একেবারে পরের কবিতায় জাম্প করা যায় না, তখনো ফেসবুক মাতৃগর্ভে, তখনো আমরা শেভ করতে শিখিনি,তখনো জানলার বাইরে চড়াইপাখি আসে,সেই সময় আমাদের আফসোস হতো,রাখালের জন্য...ইসস,মৈত্র মহাশয় ওনাকে না মারতেই পারতেন...

তখনো চশমা পরা ভদ্রলোকের মর্ম বুঝিনি,শুধু এটা জানতাম,বাঙালি বাড়িমাত্রেই কাজী সব্যসাচী আর এনার কবিতা ক্যাসেট থাকবেই। আমরা শুনতাম,লক্ষ্য করতাম "ইঞ্জিনের ধস ধস" বলার সময় স গুলোতে যেন ইঞ্জিনের তলা দিয়ে বেরোনো বাস্প বা ধোঁয়া যেন দেখা যায়, "কামাল তুনে কামাল কিয়া ভাই" এর প্রত্যেক কামাল যেন আলাদা করে কামাল করে দেয়, আমাদের দুচোখ মোড়া আফ্রিকা...কৈশোরের মহাদেশ তার সম্ভার থেকে যৌবনের স্বপ্নের মোড়ক খুলছে...

আমরা প্রদীপ ঘোষ কে চিনতাম না,আমরা কবিতা শুনতাম...আমরা দুপুরে বিছানায় চিত হয়ে কড়িকাঠের দিকে তাকিয়ে শব্দ দেখতাম। নেটফ্লিক্স ইউটিউবের আলোকবর্ষ সময় আগে,শব্দের প্রজেক্টার সেই সাদা ছাতের দেওয়ালে আর কালো কড়িকাঠে এঁকে দিতো কিনু গোয়ালার গলি বা কৃপণের সোনার কনা...অজস্র ক্যাসেট ছিলো না,ওই একটিকেই ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে রিওয়াইন্ড করে শোনা...এখনকার ছোকরাদের চোখে "বোরিং" বা "নট সো কুল" কাজ...

কিংবদন্তি র প্রয়াণ হয় না, কীর্তিরা অক্ষয় হয়ে থেকে যায়। রয়ে যায় সেই শব্দ-ছবি, সেই কড়িকাঠ, সেই কালো টেপ রেকর্ডারে শোঁ শোঁ রিওয়াইন্ডে, সেকেন্ড গুনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া সেই দেবতার গ্রাসের শুরুটাতে...সেই আবৃত্তি কম্পিটিশানে, সেই অনর্গল মুখস্তের দিনে,সেই প্রানপণ এক্সপ্রেশান আনার চেষ্টায়...কেরিয়ারের ভাবনায় নয়,শেখার তাগিদে, ওনার সৃষ্টির মুগ্ধতায়...

আমার সেই কৈশোরের স্মৃতি যদ্দিন থাকবে...প্রদীপ ঘোষ থাকবেন...

বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০

দুর্গাপুজোর নিয়ম

 যথারীতি বাঙালী দু ভাগ, পুজো হবে নাকি বন্ধ হবে...

প্রশাসনিক ঘোষনার পরে হবে কি হবেনা এ আলোচনা নিছক ফেসবুক গরম করা ছাড়া আর কিছুই নয়। বরং আলোচনা টা যদি হতো কিভাবে পুজো হবে...সেটা অনেক বেশি সদর্থক ও ফরপ্রসূ হতো...
প্রথমতঃ কারুর এটা মনে হতেই পারে পুজো মানে ফুর্তি, অবশ্যই ফুর্তি, তার সাথে একটা বিরাট অংশের মানুষের ঊদরপূর্তিও বটে। দুর্গাপুজো কত কোটি টাকার ইন্ডাস্ট্রি সেটা বিশেষজ্ঞরা ক্যালকুলেট করে দিলেই বুঝবেন, শুধু বড় কর্পোরেট বা শাড়ির দোকান নয়, মৃতশিল্পী থেকে মুটে, ঝালমুড়ি থেকে প্যান্ডেলের ঝালর সব্বার আয়ে, বা জীবনে টান পড়বে দুর্গাপুজো না থাকলে। এখন পুজো কেন ব্যাবসা, কেন ইন্ডাস্ট্রি যারা এই কূট তর্ক টেনে আনবেন বিষয়কে গুলিয়ে দেবার জন্য তাদের তর্কটা রাজনীতির আঙিনায় থাক, সামাজিক প্রেক্ষিতে কি কি করা যেতে পারে বা পারত, সেটা নিয়ে একেবারে ব্যক্তিগত স্বল্প বুদ্ধিতে ভেবে দেখি...কাউন্টার স্বচ্ছ লজিক ভাবতেই পারেন, আলোচনায় আলোচনা সমৃদ্ধ হয়...

প্রথমেই...যার যা ব্যবসা, টেম্পোরারি বা পার্মানেন্ট, তার স্থায়ি বা অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশান বা সংখ্যা টা লাগবে,মানে রোলের দোকান বা চাউমিন বা বড় ব্যবসা বা নাগরদোলা দাদার নাম ব্যবসার টাইপ ফোন নাম্বার, কোন মন্ডপে কোন স্টল খুলছেন তার বিবরণ লাগবে,এই ডেটাবেস টা মারাত্মক দরকারী, যখনই আপনি সংখ্যা টা স্থির করতে পারবেন, তখনই আপনি বাকিটা ম্যানেজ করতে পারবেন।

পুজোর পুরো মাধ্যমটাই হয়ে যাক প্রি বুকড বেসড। আপনি সিনেমা হলে টিকিট কেটে যান, ট্রেনে টিকিট না থাকলে চড়েন না, অর্থাৎ কিছু জিনিস আপনাকে আগেভাগে প্ল্যান করতে হয়, আগে ভাগে নির্বাচন করতে হয় যে পনি টিভি দেখবেন নাকি হলে গিয়ে সিনেমা দেখবেন। তাই ঠাকুর দেখাও হোক প্রি বুকড, এক একজন মানুষ ১০ টার বেশি মন্ডপ যেতে পারবেন না, ডেটাবেস ও ক্যাপাসিটি অনুযায়ী ঠাকুর দেখা বাড়া বা কমানো যেতে পারে। ই পাস হোক প্রত্যেক মন্ডপের। সময় মানা ই পাস দিয়ে যদি আপনি মেট্রো তে ট্র্যাভেল করতে পারেন, এবং ট্রেনে যাবেন না বাসে সেটা ঠিক করতে পারেন, তাহলে এবার প্রি বুকিং হোক, যে মন্ডপের টিকিট পাবেন সেখানে যাবেন। পুজোর চারদিনে আপনার জন্য দশটা মন্ডপই দেখা বরাদ্দ হোক।

প্রত্যেক মন্ডপের দোকান, চপ থেকে ঝালমুড়ি যেহেতু ডেটাবেস করা আছে, একটা অভিন্ন অ্যাপে তাদেরও বুকিং হোক, আপনার কুমোরটুলিতে মণ্ডপ ভিজিটের সময় ১০-১১টা, আপনি ১১ঃ১৫ তে ঝালমুড়ি দাদার কাছে সিট বুক করলেন, বা প্লেট বুক করলেন অ্যাপে , ই পাস দেখিয়ে ঠোঙা নিয়ে বেরিয়ে যান, পরের জন ১১ঃ১৬ র টাইম বুক করে অপেক্ষা করছেন যে। এতে ভিড় মেনটেন করা যাবে, ইকুয়াল ডিস্ট্রিবিউশান হবে। সবকটা প্যান্ডেলে ভিড়টাকে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে।

মন্ডপে জনস্রোতের প্রতিযোগীতা বন্ধ হোক। ব্যবসায়ীরা দোকানে ই পাস করলে প্রত্যেকে সমান খদ্দের পেতে পারেন, বড় দোকানে বিরাট ভিড়, অন্যরা মাছি মারছে, সেটাও বন্ধ হবে। জনস্রোতের সমবন্টন অনেক অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে। হ্যাঁ এতে হয়ত অনেকের মনে হতে পারে, "ওই দোকানে অমুক কোয়ালিটির জিনিস পেতুম", পাবেন না, আগে বুক করে ই পাস করে গেলে পাবেন, সবসময় আপনি ত পছন্দের ২ টায়ার বা থ্রি টায়ার বা ফ্লাইটের টিকিট পান না?তা বলে কি ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়ার দাবি তোলেন?

যদি পুজোর ই পাস বুক করতে পারেন ঠাকুর দেখবেন, নইলে সিনেমা, নইলে কনসার্ট, নইলে রেস্টুরেন্ট...মোটকথা জীবনের কোনটা প্রায়রিটি ১ কোনটা ১০ সেটা গুরুত্ত্ব দিন,পাড়ার পুজোই হয়ে উঠুক ম্যাডক্স, এবছর প্যান্ডেল বন্ধ করবেন নাকি বাড়াবাড়ি প্যান্ডেল হপিং সেটা ভাবুন।এক মন্ডপে দাঁড়িয়ে ২০টা সেলফি তুলে, অনর্থক ভিড় করার প্রবণতা এ বার বন্ধ হোক, পুজো বন্ধ হবে কেন? পায়ে ধুলো লাগলে মাটি ঢাকেন নাকি পা? আলট্রাভায়লেট রে বেরোয় বলে বাইরে যাওয়া বন্ধ করেন নাকি বেরোনো টা নিয়ন্ত্রিত করেন?

তবে পুরোটাই নির্ভর করবে সদর্থক ভাবনার উপর। সদিচ্ছার উপর। নিয়মকে কতটা ঠিকভাবে পালন করছেন তার উপর। আপনার একটা নিয়মভঙ্গ অন্যের মৃত্যুর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কারন হয়ে উঠতে পারে...

স্বামী স্ত্রীর বন্ধুত্ত্ব

সাপ ব্যাঙের সাথে লিপকিস করতে পারে,মোদী মমতাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতে পারে, বাঘে আর গরুতে এক টেবিলে বসে কোল্ড ড্রিংসের অর্ডার দিতে পারে, কিন্তু স্বামী স্ত্রী এর বন্ধুত্ব হতে পারে না। 

নিজেকে দিয়েই শুরু করি, বিয়ের পর ভেবেছিলাম কনজিউমার ফোরামে যাবো। বিয়ের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি র কিছুই তো পাওয়া গেলো না। যেমন ধরুন, গিন্নি বলেছিলো, আমরা সারা জীবন একে অপরকে ভালোবাসবো, তোমার জন্য সবকিছু ছেড়ে দেবো। সবকিছু বাদ দিন, সকালে বাথরুম ছাড়ে না।ধরুন সকালে দুজনের একসাথে ঘুম ভাঙল, দুজনে এমন করে বাথরুম এর দিকে দৌড়ে যাই, যেন ওটা বিছানা টু বাথরুম নয়, ওলিম্পিকে ১০০মিটার রেস। সুতরাং ঐ তোমার জন্য সব ছাড়তে পারি, এটা হোয়াটস্যাপ ফরোয়ার্ড এর মত। কতটা যে সত্যি সেটা নিয়ে সন্দেহ সবসময় থাকে।  অন্য বাথরুমেও যেতেই পারি, কিন্তু সেখানেও চলছে,মা আর বাবার মধ্যে বাথরুম দখলের যুদ্ধ। একটা হ্যান্ডেল ভাঙা মগ, শ্যাওলা ধরা মেঝে,ছিটকিনি খারাপ কোনের বাথরুমের এমন ডিমান্ড,যেন ওটা বাথরুম নয়, করোনার টিকা,সব্বার লাগবে,সব্বার আগে লাগবে। সম্পর্কে আগুন লাগার জন্য পরকীয়া বিপজ্জনক,কিন্তু সকালে বাথরুম আটকে রাখা,বিপজ্জনকতর। 

বিছানায় যদ্দিন ভেজা তোয়ালে আর ড্রেসিং টেবলের আয়নাজুড়ে টিপ আছে,স্বামী স্ত্রীর বন্ধুত্ত্ব সম্ভব নয়। চিরুনিতে চুল থাকার কথা ৪৫বছর ধরে বলে বলেও সুরাহা করতে পারেন নি দাদু,৮৫ বছর বয়সে ডিভোর্স এর থ্রেট দিয়েছিলেন ঠাকুমা। বিয়ের পর একে অপরকে যত পরিমান থ্রেট দেন কত্তা গিন্নি,তাতে আমার স্থির বিশ্বাস জন্মেছে অগ্নীসাক্ষী করে নয় দাউদ ইব্রাহিম কে সাক্ষী করেই আসলে বিয়ে হয়। "বাপের বাড়ি চলে যাবো" এই থ্রেটে,ভয়ে কত কত্তার চুল পড়ে গিয়ে বগলে টাক পড়লো,তার হিসেব আর্ণিকা ট্রায়োফার রাখেনি।

কেউ কেউ বিয়ের আগে বলে "ওদের মতো আমাদের হবে না জানু,আমরা দুজনে বিয়ের পর অন্যদের মত ঝগড়া করবো না"...এবং বাস্তবিকই তারা অন্যদের মতো ঝগড়া করে না,অন্যদের থেকে বেশি করে...কেউ কেউ আবার কথা বলে সমাধানে বিশ্বাসী।কিন্তু কখন আলোচনা ঝগড়া হয়ে যায় ধরতে পারবেন না। কাশ্মীর সমস্যা, ব্যাটিং করার সময় সচীনের অ্যাবডোমেন গার্ডের সমস্যা, আর ফুটবল ওয়ার্ল্ডকাপ এর সময় টিভিতে সিরিয়াল না ফুটবল...এ সমস্যার সমাধান কখনো হয়েছে না হবে!!! কত্তাদের মোবাইলে লক কেন,আর গিন্নিদের লক থাকেনা কেন,এ তর্কের সমাধান, রাত্রে ঘুমোতে গেলে কে আসলে নাক ডাকে তার সমাধান,মশারি কে টাঙাবে আর কে তুলবে তার সমাধান তুম ক্যায়া জানো রমেশ বাবু...স্বামী স্ত্রী চিরকাল একই বৃন্তে দুটি কুসুম,ভারত পাকিস্তান

সুতরাং স্বামী স্ত্রীর বন্ধুত্ত্ব চাইলে পেহলে উস আদমি কা সাইন লেকে আও যো গব্বর আর ঠাকুরকা দোস্তি করায়া,উস আদমি কা সাইন লেকে আও যিসনে কঙ্গনা ঋত্ত্বিক কা দোস্তি করায়া,উস আদমি কা সাইন লে কে আও যিসনে ট্রাম্প আউর কিম জং উন কা দোস্তি করায়া,ফির ভাই,তুম যিস স্বামী স্ত্রীকা দোস্তি করাতে কহেগা,হামি উসকো বন্ধুত্ত্ব করায়গা... 


রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০

চয়েস

আমার গিন্নির চয়েসটা যে খারাপ,সেটা বিবাহের জন্য নির্বাচিত হয়েই বুঝেছিলাম,আর বুঝি শপিং করতে গিয়ে।

শপিং মলে আমরা ছুটির দিনে ঘন্টা পাঁচেক কাটাই। প্রথম দু ঘন্টা গিন্নি তন্ন তন্ন করে সব র‍্যাক খুঁজে পছন্দের জামা বের করার চেষ্টা করেন,আমি হাই তুলি। দু ঘন্টা পরে জানতে পারি কিচ্ছু পছন্দ হচ্ছে না। এর মানেটা খুব সহজ,হয় তুমি খুঁজে দাও নইলে এই বিপর্যয়ের সমস্ত দায় তোমার কপালে আসবে।ভয়ে ভয়ে আমি পরের ১৫মিনিটে খান দশেক অপশান দেখাই। গিন্নি চকচকে চোখে সবকটাই দুর্দান্ত বলে রিজেক্ট করে দেন। আমি আরো একবার বুঝি আমার দ্বারা কিস্যু হবে না,এবং গিন্নির সমস্ত বান্ধবীদের কত্তারা আসলে কতটা দক্ষ, ওরা নাকি সব খুঁজে পায়,আমি বুঝতে পারি কিছু কিছু কত্তাদের স্নিফার ডগের ডি এন এ আছে।প্রথমবার কুকুরদের কাছে কমপ্লেক্স খেয়ে গম্ভীর মুখে প্রাইস ট্যাগ দেখি।

 তার পর গিন্নি আরো দেড় ঘন্টা খুঁজে গেরুয়া,লাল,সবুজ,তিন রঙের জামা এনে দেন। বলেন বেছে দিতে। ধরুন আমি বললুম সবুজ,গিন্নি বললেন তার গেরুয়া পছন্দ। আমি বললুম আচ্ছা তাহলে তাই নাও,তিনি বললেন "কিন্তু তুমি তো বললে সবুজ", আমি বললুম আচ্ছা তাহলে দুটোই নিয়ে নাও, তিনি বললেন, তাহলে লাল টা কে বাদ দিয়ে দেবো? আমি বললুম তাহলে লাল টা নাও, উনি বললেন তাহলে গেরুয়াটার কি হবে। আমি মরিয়া হয়ে মানিব্যাগ চেপে বললুম,তিনটেই নিয়ে নাও। তিনি কইলেন,কিন্তু এর পর তোমার প্যান্ট কিনতে হবে,অত বাজেট নেই। নতুন আন্ডারপ্যান্টে চালিয়ে নেবো,মনেমনে আউড়ে বললুম তিনটেই নিয়ে নাও। তিনি বললেন না এ মাসে অত করা যাবে না। আমি ততক্ষণে মরিয়া হয়ে বললুম,তোমাকে খরচের চিন্তা করতে হবে না আমি দিচ্ছি...ব্যাস,বোমা পড়লো। নারী স্বাধীনতা,ভালোবাসার মাঝে টাকাপয়সা আনছো,আমার টাকা তোমার টাকা আবার কি,কিছু একটা নিয়ে নিলেই হলো নাকি,এসব শুনতে শুনতে তিনটেই বিল করা হলো। 

গোটা রাস্তা মুন্ডপাত হলো এর পর। উনি পুজোতে তিনটের একটাও পরবেন না এই শপথ নিলেন। আসলে আমার মুখের দিকে তাকিয়েই উনি ঐ তিনটের মধ্যে কমপ্রোমাইজ করছিলেন, নইলে ওনার আসলে হলুদটা পছন্দ হয়েছিল,এই সত্যের খোলসা হলো। মিনমিন করে যেই বললুম,হলুদটা তো আমি শুরুর ১৫মিনিটে দিয়েছিলাম,তুমিই তো নিলেনা,ব্যাস...সেকেন্ড রাউন্ড...তর্ক করতে চাইলে আমি নাকি আর কিস্যু চাই না। নেহাত আমার প্যান্ট কিনতেই বাজার যাওয়া,নইলে উনি শখ করে বাজার যান না ইত্যাদি প্রভৃতি...

পরের দিন সকালে শুনি বদলাতে হবে...গেরুয়া টা বদলে হলুদ টা নেবেন উনি। কিন্তু ওটা তো তোমার ফেভারিট ড্রেস ছিলো,বলতে জানতে পারি...আমি নাকি ওনাকে মন দিয়ে বাজার করতে দিই না,একটু পর থেকেই চলো চলো করি...তাই ভুল সিলেক্ট করে ফেলেছেন...পরের সপ্তাহে শুধরে নেবেন...

আমরা গত বছরের পুজোর বাজার টা আজ কমপ্লিট করলাম যাস্ট...কাল থেকে এবছরের টা শুরু করবো...