হঠাৎ করেই আত্মা বলল,আচ্ছা চলতা হুঁ,দুয়াও মে ইয়াদ রাখনা।
আপনি আঁতকে উঠলেন,সেকি রে,ভরা বার্ধক্য সবে এনজয় করছি,লাইফের মানে বুঝছি,টাকা টাকা করে,রেজাল্ট রেজাল্ট করে কাটানো জীবনে নিজের জন্য কিস্যু ছিলো না,সেখান থেকে এই চোখে ছানি,কোমর ব্যাথা চোখ খুলে দিয়েছে। ড্যাব ড্যাব করে দেখতে পাই বাসে ঝুলে,ই এম আই গুনে,ই মেলে রিপ্লাই দিয়ে,গুনে গুনে পানতো খেয়ে কি পেলুম,বরং এই বার্ধক্যে নিজের সাথে দু দন্ড কথা বলার সময় পাই,সেটাও কেড়ে নিবি ছেড়ে দিয়ে!!তুই শালা আত্মা না আচ্ছে দিন?
তবুও ছেড়ে দেওয়া আসে। নিউজিল্যাণ্ডের বিপক্ষে ৮৮ বলে ১০৩ করলেন গাওস্কর, লোকজন বাবা বাহা করার বদলে হাঁ হাঁ করে উঠলেন, "সেকি স্যার,এই ফর্মে ছেড়ে দেবেন,এ তো টপ ফর্ম", ভদ্রলোক নিজের সিদ্ধান্তে এইসান রইলেন যেন গুগাবাবার গান শুনেছেন,অ্যামাজনের অফার চলুক বা শ্রীপল্লীর ঠাকুর উদ্বোধন, তিনি নড়বেন না।
পুরুও ছাড়লেন। শুক্রাচার্যের অভিশাপে বাবা যযাতির বার্ধক্য এমন করে এল যেন শীতকালে বিরাট ইলেকট্রিক বিল। লাইভ পর্ন দেখতে পাবেন না, ওয়াকিং স্ট্রীটে হাঁটতে পারবেন না, ফেবুতে সেক্স চ্যাট করতে পারবেন না,রাজত্ব চালাতে পারবেন না ইত্যাদি হরেক সমস্যা ফেস করে একটিই সমাধান বের করলেন,ছেলের কাছে যৌবন লোন নেওয়া। পুরুও একটি ইয়ে,কোথায় ঢ্যাঁটামো করবেন, পুলিশ ভেরিফাই করে লোন নেবার ক্যাপাসিটি চেক করবেন তা না,দুম করে নিজের যৌবনটি বাবাকে এভাবে ছেড়ে দিলেন যেন তিনি আদিত্য চোপড়া,ডিরেক্টারকে নিজের পয়সায় ঠগস অফ হিন্দোস্তান বানাতে দিচ্ছেন।
রবিঠাকুর যেমন, নাইট উপাধি টা ছেড়ে দিলেন। কোথায় লোকজন বাবাঠাকুর না বলে স্যার স্যার বলে হাত কচলাতো,তা না,দুম করে নাম এর আগের সর্বনামটাকে অল্ট কন্ট্রোল ডেল করে দিলেন। ভবিষ্যতে সেই দেশের মানুষরাই ট্রেন দুর্ঘটনায় গনমৃত্যু বা ব্রিজ ভেঙে মাস মৃত্যু তে গদি না ছেড়ে মহান উদাহরন হবেন,সেই দেশে এরম ছেড়ে দেওয়া,ভাবুন একবার।
আই সি এস এর জব টা ছেড়ে দিলেন আরেক বাঙালি!! আরে ফোর্থ পোজিশান কি রোজ রোজ হয় স্যার। পরের বার থেকে যদি কোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়ে এক্সাম টাই না হয় কিংবা ক্র্যাশ কোর্স করার সার্টিফিকেট লাগে! চপের দোকানেও তো হেব্বি লাইন,এরম রিস্ক তো কপিল শর্মার ট্যুইটেও থাকে না। তবু তিনি নিলেন, আত্মত্যাগটা হলো ঐশ্বরিক, কিন্তু এ পোড়া দেশ সি মানুষটার মৃত্যু নিয়েও রাজনীতি করলো, যিনি ঘরের আরামের ঘুমটাও ছেড়ে দিয়েছিলেন যাতে আমরা স্বাধীন দেশে ল্যাদ খেয়ে বুকনি দিতে পারি।
নারী স্বাধীনতার চরম ধ্বজাধারীও ছাড়েন। এক চুটকি সিন্দুর কি কিমত তুম ক্যা জানো খোকাবাবু,বাবার বাড়ি ভি ছোড়না পড়তা হ্যায়। কেউ উলটো কেঁদে, চিৎকারে বলতে পারেন না,ছাড়বো,তবে এই বস্তাপচা সংস্কৃতি,বাবার বাড়ি না। ফিরবো এক সপ্তাহ এ বাড়ি,অন্য সপ্তাহ ও বাড়ি। কিন্তু জীবন তো সংসদের মত,পান থেকে চুন এডিট হলেই ঝগড়ার মেগা এপিসোড। তাই তারাও ঘর ছাড়েন,যারা বিশ্বাস করেন নারীরাই সেরা।
ছাল ছাড়িয়ে দেওয়া সমাজে,তাই ছেড়ে দেওয়াই বাস্তব। সবার উপরে ছেড়ে দেওয়া সত্য,তাহার উপরে নাই।
।। নীলাঞ্জন।।