বৃহস্পতিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৮

Film Review 2.0

পাখীরা মোবাইলে নেটফ্লিক্স দেখতে পারে না,তাই পৃথিবীতে মোবাইলের দরকার নেই,ফলে পক্ষীবিশারদ অক্ষয় কুমার মোবাইল টাওয়ার থেকে ঝুলে আত্মহত্যা করেন,কারন তিনি জানেন, তিনি মারা গেলে বডির ইলেকট্রন প্রোটন সরে গিয়ে বাজপাখি হয়। ব্যাস,তিনিও খিলাড়ি না করে,সিনেমার শুরুতে স্যানিটারি প্যাড বিলিয়ে,সিগারেট ফু ফু না করে মোবাইল চুরি করতে শুরু করেন। অনেক ঝড় ঝাপ্টার পরেও মোবাইল ভাঙল না,কারন কাঁচে ড্রাগন গ্লাস প্রটেক্টার ছিল।
এদিকে মোবাইল না থাকায় শহরে হেব্বি সমস্যা,ফেবু তে দেবদেবীর ফটো ৫ জন কে ফরোয়ার্ড করা যাচ্ছে না,দীপিকা রনবীরের বিয়ের ফটো শেয়ার হচ্ছে না,স্টুলিশে খিস্তি দেওয়া যাচ্ছে না,হোয়াটস্যাপে জোক পাঠানো যাচ্ছে না দেখে রজনীকান্ত নকল গাল আর টাকে চুল লাগিয়ে মন্ত্রীকে বলেন তিনি তার রোবট চিডি কে নিয়ে কাকতাড়ুয়া কাকতাড়ুয়া খেলবেন কিন্তু মন্ত্রীকে টিমে নেবেন না বলে মন্ত্রী চিডিকে এলাও করলেন না ও সেনাবাহিনী নামালেন। অন্যদিকে আর এক মন্ত্রী মোবাইল গিলে ফেললো। ডাক্তাররা বললেন মন্ত্রী দম আটকে মরবেন,তাই হল। কিন্তু স্ক্যানারে মোবাইল ধরা পড়লনা কারন ওটা এয়ারপোর্ট এর স্ক্যানার নয়,ডাক্তারদের স্ক্যানারে পাথর ধরা পড়ে।
সেকেন্ড হাফের পর অক্ষয় কুমার সেলিম আলি হয়ে গেলেন। সবাইকে হেবি বোঝালেন মোবাইল ইউজ না করে পায়রা করে পানু ফরোয়ার্ড করতে,কিন্তু পায়রা তে হোয়াটস্যাপ নেই বলে কেউ পায়রা কিনলো না।
এর মাঝে নবজাতক অক্ষয় কুমারকে একটা চড়ুইপাখি জাদু কি ঝাপ্পি দিয়ে বাঁচিয়ে দিলো,এতে চড়ুইপাখি টা মুন্নাভাই এম বি বি এস এ মুন্নাভাই এর রোল পেল। অক্ষয় কুমার মরে গিয়ে ফিজিক্স এর আত্মা হলেন।

এর পর সিনেমাটা হেব্বি লম্বা হল। পাবলিক হাই তুলছে দেখে নেতারা যা করেন,ডিরেক্টার তাই করলেন,মানে উচু উচু মূর্তি বানালেন।অক্ষয় কুমার আর রজনী স্যারেরটা বল্লভবাই এর চেয়েও বড় হল। স্টেডিয়ামে বড় রজনী বড় অক্ষয়কে প্রচুর গুলি মারলেন,তাতে অক্ষয়েরো লাগলো না আর পাবলিকেরও লাগলো না,এর থেকে বোঝা গেলো মোবাইলে আধার কার্ড লিংক থাকলে গুলি লাগে না। অক্ষয়ের আত্মা সিমকার্ডের মত রজনীর দেহে ঢুকলেন।
যাই হোক,শেষে গুলি খেয়েও রজনী বেঁচে গেলেন।এর থেকে প্রমান হল গীতা সত্যি,কারন আত্মাকে আগুন,গুলি,স্যান্ডি সাহা,কেউ হত্যা করতে পারে না। ফিল্মের শেষে পাখিদের হেল্প নিয়ে পাখি ভুত মারা হল,যার থেকে নতুন প্রবাদ বেরোলো,পাখিরাই পাখিদের শত্রু হয়।
মোবাইল ব্যবহার না করার উপদেশ দিয়ে রজনী বেরোলেন আর তার ফ্যানেরা সেই মেসেজ মোবাইলেই ফরোয়ার্ড করলেন। এভাবেই আত্মা রজনী ও মোবাইল বেঁচে রইল.

মঙ্গলবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৮

ভাগশেষ

অংক কষেছি এক বেঞ্চিতে বসে,
এঁঠো জল আমি খেয়েছি সইফুরের
কেউ শেখায়নি আজানে আরতি ভেদ
শহর কিভাবে বন্ধু করল দুরের...

হাত জোড় করে মহাভাগে একসাথে
আগুন জ্বলেছে যজ্ঞের অরণিতে
আগুনেরা আজ আলাদা হয়েছে নাকি?
কবে ভাগ হল শহরের সরণি তে

ঈদে মহরমে কোলাকুলি একসাথে...
আজানটা আজো জানি গায়ত্রীর মত
অনেকে শেখায় দুটোর আলাদা জবান
আমার শহরে দুইই একসাথে হত

আমার টিমে জিয়াউলকেই চাই
ক্যাচ কে নেবে ওর মত বডি ছুঁড়ে
সন্ধ্যের শাঁখে কাঁধে হাত রেখে আজান
ফিরেছে বাড়ি,আজ তারা নাকি দুরের

ইস্কুল গলি, সেই ক্রিকেটের মাঠ
প্রেয়ার লাইনে টিউশান ব্যাচ ঘুরে
এই ছেলেবেলা ভাই হয়ে ছিল যারা
শহর কবে বন্ধু করল দুরের

সোমবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৮

মেরে নাম তু

অতঃপর অনুষ্কা শকুন্তলা বড়ুয়া হলেন।

তিথি নেই নক্ষত্র নেই, দোলের আগে নারায়ন পুজো নেই কিংবা ওরে গৃহবাসী কাটিং গাঁদা ফুল নেই,হঠাৎ কেজিখানেক আবির পিচকিরি দিয়ে এদিক ওদিক ছড়িয়ে "খেলবো হোলি রঙ দেবো না" মোডে শাহরুখ... আরে বাবা এই জন্যই বলে, হোয়াট অপর্না সেন থিংকস টুডে, কিং খান টুমরো।

হাইজিন বোধ নেই,দূষনের ভয় নেই, হঠাৎ আবির দিলেই হল!! মেয়েটা এমনিতে অসুস্থ, ওর যদি এলার্জি হয়?যদি ওর "ফেফড়ো মে,টার" জন্মে যায়।হতে তো পারে ওর ডাক্তারের মানা আছে। কিংবা ওর রঙ ভালো লাগে না,আর এ আবার কি অসভ্যতা একটা মেয়েকে দিয়ে গালে রঙ লাগিয়ে দেওয়া,এ তো আগেকার দিনে হত,রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিঁদূর পরিয়ে দেওয়া,ওসব এখন চলে না,এখন কন্ডোমেও আধার কার্ড লাগে দাদা। বাই দ্য ওয়ে আপত্তি তো থাকতে পারে বিল্ডিং কর্তৃপক্ষেরও...যে...যেখানে সেখানে পিক ও রঙ ফেলিবেন না। এই স্বচ্ছ অভিযানের যুগে অমন সুন্দর একটা বাড়ি নোংরা করলেই হল???না হয় দিদির ভাই,ত বলে সব বিল্ডিং রাঙিয়ে দিলেই ট্যাক্স ফ্রি হবে নাকি রে বাবা।

দ্বিতীয়ত, স্যুট পরে হোলি খেলা বাপের জন্মে দেখিনি। যদি ভুল করে সলমনের সাথে খেলতেন,স্যুট ছিঁড়ে খালি গায়ে মটকা ভাঙার ক্র‍্যাশ কোর্স করতে হত। বড়লোকি চাল দ্যাখানোর যায়গা পেলেন না, যার সামনে দ্যাখাচ্ছেন তার হাসব্যাণ্ডের ইচ্ছে হলে মান্যবরের পাঞ্জাবি পরে হোলি খেলতে পারে,সেটা জানেন তো???

তৃতীয়, মেরে বিন তু না হোগি বলার জন্য তুড়ুক লাফ দিলে কি বাড়তি ওজন পাওয়া যায়??প্রেম করছেন করুন,অত লাফানোর কি আছে,আজ বাদে কাল ব্রেক আপ হলে তো ফেবু তে ফিলিং লোনলী,একা আর পারছি না টাইপ স্টেটাস দেবেন... আর আপনি জিরো না সের্গেই বুবকা,কথায় কথায় অত লাফানোরই বা কি আছে। বলা তো যায় না, যা দিনকাল তাতে হঠাৎ আপনার নাম বদলে বজরংবলী রেখে দিলে কে দায় নেবে???কেজরীওয়াল???

শনিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৮

চরিত্রহীন ৪৯

কেউ ছোটোতেই খুব পেকে যায়, কেউ বলে..."চুমু??সেই কবে এ এ এ এ"
কেউ কেউ বলে, ডেট চুমু,না না, "কেউ দেখে নিলে, কি হবে?"

শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮

একা

তোমার লাইফজোড়া ফাইট, তোমার স্ট্রাগলগুলো জানা
তুমি ভাঙাপথেই চুমু,আমি রাস্তাতে তালকানা
তাও সন্ধ্যে আসে নেমে, আমার নিজের চোখে দ্যাখা
চোখে ফুলঝুরিদের আলো...তুমি ব্যালকনিতে একা

শুক্রবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৮

ঠগস অফ

খুদাবক্স জাহাজি বেসিক্যালি একজন ফাইটার মাল্লা,ক্যাপ্টেন হ্যাডকের মত দাড়ি রেখে,লম্বা লম্বা ডায়লগ মুখস্ত বলেন। যেটা দেখে পষ্ট বোঝা যায়,বড় হয়ে উনি সিরিয়াল করবেন এবং তার শাশুড়ি তাকে দেখে বলবেন,বাবা খুদাবক্স,তুমি এয়েচো,যাই হোক...পেশায় খুদাবক্স একজন জলদস্যু কিন্তু সে গোটা সিনেমায় কিস্যু ডাকাতি করে না,শুধু ইংরেজদের একটা জাহাজ উড়িয়ে দেয়। ইংরেজরা এনাকে বাগী বলেন,কিন্তু টাইগার শ্রফ আছেন বলে উনি বাগী হতেও বেশি ইন্টারেস্ট দেখান না।সংসার যশরাজের পয়সায় চলে বলে তিনি ডাকাতি ফাকাতি করেন না,একটা গুহা টাইপ যায়গায় থাকেন,টাকা পয়সা গোলা বারুদ কিস্যুতে তার লোভ নেই,সে শুধু ইংরেজ জাহাজ কে ওলা অ্যাপে ডাকেন আর উড়িয়ে দেন,এর থেকে বোঝা যায় সে একজন আদার ব্যাপারী,জাহাজে তার কোনো ইন্টারেস্ট নেই।

ফিরঙ্গী মাল্লা সেকালের শীতলা ঠাকুর,তাই গাধা তার বাহন। রনবীর সিং এর ফ্যান বলে তিনি গোঁফ রাখেন, স্যাটাস্যাট লোক ঠকান,তৃনমূল করেন বোধহয় কারন তার লন্ডন হেবি পছন্দের,ইংরেজদের কথায় খুদাবক্স অমিতাভ কে ধরাতে যান,কিন্তু অমিতাভের লেকচার শুনে ব্রেনে কেমিক্যাল লোচা হয়ে যায়,এবং তিনি অমিতাভের সাথে একসাথে জমি চাষ করতে শুরু করেন। দুজনের হাইটের ডিফারেন্স থাকা সত্ত্বেও কিকরে তারা কাঠের গুঁড়িকে হাল বানিয়ে টানেন সেটা বুঝতে কল্যানী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষনা হবে। যাই হোক,তাদের এই চেষ্টায় অনুর্বর জমিতে ফলন হয়,এবং বচ্চনের পোষা চিল সেটাকে দেখে ফ্যালে,এর থেকে প্রমানিত হয় চিলেরা আসলে লোন নেওয়া চাষী,লোন শোধ করতে না পেরে মাংস খায়।

এদিকে ক্যাটরিনা কোত্থেকে হটপ্যান্ট জোগাড় করে দু টো নাচ নেচে ফেলেছে,বোধহয় অনলাইনে অর্ডার করেছিল। সে আমলে ভারতে হটপ্যান্ট পাওয়া যেত দেখেই যে ইংরেজরা ভারত আক্রমন করেছিল সেটা বোঝা যায়। আমির খান উইগ পরে,কালো গোঁফ সাদা করে ইংরেজ সেজে ইংরেজদের চড় মারতে মারতে নাচে,সবাই ক্যাটরিনার আইটেম ডান্স ও সলমন খানের ভয়ে চড় সহ্য করে নাচে। অতঃপর ক্যাটরিনা আমিরকে মনে মনে ভালোবেসে ফ্যালে,এবং অনলাইনে বোধহয় হরলিক্স অর্ডার দেয়,কারন আমিরের হাইট বাড়াতে হবে।

এদিকে শুরুতেই ক্লাইভ সিরাজকে ছেড়ে,পলাশী ভুলে দুবাই এর অ্যাটলান্টিস এর পাশে এক রাজাকে লুটতে আসে। রাজার ছেলেকে কামানের সামনে রেখে সে উইলে সব সম্পত্তি নিজের নামে করে নেয়,রাজাও ওই কয়েকটা ইংরেজকে না কেলিয়ে,বন্দুকের ডগায় ক্লাইভকে রেখেও সব সম্পত্তি লিখে দেয়,কারন সে না মরলে খুদাবক্স একা সবকটা ইংরেজকে হটিয়ে তার মেয়েকে বাঁচিয়ে নিয়ে গিয়ে তীরন্দাজি শেখাতে পারবে না। খুকি ১১ বছর পর অ্যাভেঞ্জার্স দেখে ওভাবে তীর চালায় এবং খুদাবক্স এর কাছ থেকে ভুরুতে বোরোলীন লাগায়। খুদাবক্স তাকে বলে কাটা দাগ সেরে যাবে,কারন তার পতঞ্জলী প্রোডাক্ট খুব ভালো,এই ১১বছরে একটাও দাড়ি পাকেঞ্জ তার। এর মাঝে আমির খান কায়দা করে এদের গ্রুপে জয়েন করে খানিক নেচে নেয়। এবং খুকি কে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে ব্লক খায়।

এর মাঝে কিছুটা হুলুস্থুলু হয়, আমির তার বন্ধুকে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনে,মদের পিপেতে ডুবে পালায়,ইংরেজ নাকি আজাদ কি হবে সেটা নিয়ে প্রচুর টাগ অফ ওয়ার হয়। ডিরেক্টার ও বুঝতে পারেন নি বাগি র পর তিনি রেস ৪ বানাবেন কিনা,যাই হোক আবার এর মাঝে ঠগ শুরু হয় এবং অমিতাভ গুলি ফুলি খেয়ে ক্যালানের মত বারুদ ভর্তি জাহাজে থেকে উড়ে যান।

এর পরেও প্রচুর ডায়লগ হয়। আমির দেখান যে তিনিও অমিতাভের মত মুখস্ত করতে পারেন,ফলে তিনিও ফাগুন বৌ এ ডাক পান এবং মিষ্টির ব্যাবসা শুরু করে জেলে সাপ্লাই করেন। শেষে ক্লাইভ বোধহয় মারা যান এবং সিরাজউদ্দৌলা হাঁপ ছেড়ে বেঁচে সিরিয়ালে জয়েন করেন। এতে সিরিয়ালের টি আর পি বাড়ে,কিন্তু সিনেমাটা জিরো হয়,যদিও শাহরুখ খুশি হন,কারন এতে জিরো ফিল্মের প্রভূত প্রমোশান হয়। পাবলিক এর পার্ট টু আসবে ভেবে হাসিমুখে হল ছেড়ে বেরোন,এই আনন্দে যে পরের বার লন্ডনে বা কোলকাতা তে এর শ্যুটিং হলে এদের বাগে পেয়ে আচ্ছে করে ক্যালানো যাবে!!!!!

শুক্রবার, ২ নভেম্বর, ২০১৮

শারুখোচিত...

প্রথমেই বলে রাখা ভালো আমি আদৌ শাহরুখের ফ্যান নই...

সে যুগে মাধ্যমিকের আগে একটা গ্যাপ রেখে ট্যুর,সিনেমাহলে শেষ ফিল্ম দেখানো হত,যে এর পর চরম কৃচ্ছসাধন,নো ফিল্ম,নো টিভি, নো চুদুরবুদুর। তা মাধ্যমিকের আগে আমি ডিডি এল জে দেখতে গেছিলাম।ছবিটা এর আগে সুপারহিট হয়ে প্রাচীন,কিন্তু বাড়ির কাছের রূপকথা সিনেমা হলে এসেছে,ফলতঃ ওটাই দেখো,মাধ্যমিক পাশ করোনি তোমার আবার অত চয়েস কি হে???যা দেখাচ্ছি তা দেখবে,বাবা মা আচ্ছে দিন বললে সেটাই মানতে হবে,এইটে ছিল দস্তুর।

সেটা দ্যাখার পর "আহা কি দেখিলুম,জন্মজন্মান্তরেও ভুলিব না" এমনটা আদৌ ভাবিনি,বরং টিভিতে ও ও জানে জানা দেখে ব্লু জিনস কেনা হল,ডান্স স্টেপ প্যাকটিস হল,আর ১৫র যায়গায় ২৫টা ডন ভাঁজতে শুরু করলুম।

কিন্তু কি আশ্চর্য, রনে বনে জলে জঙ্গলে যেখানেই ফিল্ম দেখি সেটাই ঘটনাচক্রে শাহরুখের হয়ে যায়। তখন আবার আমার জীবন মানেই সোনু নিগম ফেজ চলছে। ইয়ে দিল দিবানা,কাল হো না হো,সূরজ হুয়া মধ্যম, যাই গায়,শাহরুখের। লোকটাকে মন্দ লাগেনা,কিন্তু সমস্যা হল ওনার সাথে অমিতাভের তুলনা হয় যে...অতঃপর বিরক্তি,আমার আরাধ্য হলেন বিগ বি,তার সাথে মহাব্বতে তে পাঙ্গা??!!ব্যাস...হেব্বি রাগ হতে লাগল,শুধু সেবার  অদ্ভুতভাবে চশমার ফ্রেম টা দেখলাম ওনার মতই হয়ে গেল...আর শীতকালে বেলা বাড়তে, সোয়েটার ব্যাগে না পুরে কাঁধে নিতে শুরু করলাম...

তবে লোকটা হেবি আনপ্রেডিক্টেবল,মানে ধরুন ওয়াংখেড়ে তে,তোর ঝামেলা করার কি দরকার,কিংবা,পাবলিকলি সিগারেট কেন খাবি??আমরা না হয় সামারসল্ট প্র‍্যাকটিস করি লুকিয়ে লুকিয়ে,তা বলে আপনি মহামান্য কিং পালটি খাবেন?দেবদাস এর শেষে, হলের বাইরে দাঁড়িয়ে, ভিড় বেরোচ্ছে একে একে,দুই ভোজপুরি বন্ধু একে অপরকে বলছে "আইসসালা,মর গিস??শালা হামনে সোচা লাস্ট মে পারো কে সাথ সাদি হোই"!!!!

এখন অবশ্য বহুদিন সেভাবে হিট নেই। যে লোকটা চকোলেট হিরো না হয়ে ভিলেন হয়েছে, অফিসের সব কাজ করেও বস না হয়ে,ইয়েস বস বলেছে, তারই মত,রোজ ইয়েস বস বলে মধ্যরাত্রে বাড়িতে এসে,চাপ মুক্তির জন্য, সংসারের জোয়াল কাঁধে স্ট্রেস এ গা এলিয়ে মনে হয়েছে,একবার দেখি,বাদশা ছবি টা কি আজকেও দিলো??সেদিনের হলে ফ্লপ ছবিটা, এক ফ্লপ মধ্যবিত্তের মধ্যরাত্রের স্মাইল এনে মুচকি হেসে বলে,কভি গম তো কভি খুশি।

শেষ ৬মাসে যতবার ফ্রাসট্রেশান এসেছে, হার এসেছে, নুইয়ে পড়া এসেছে, আমি শুধু লোকটার ইন্টারভিউ পড়েছি ও দেখেছি।ফলো করে গেছি ভোডাফোনের কুকুরটার মত। বুঝতে শিখেছি,টোলট্যাক্স দেওয়া স্মাইল নয়,দু হাত ছড়িয়ে এয়ারপোর্টে চেকিং করানো  লাভ পোজ নয়,লোকটার আসল সাফল্য,এক সাধারন,ছা পোষা, মধ্যবিত্ত বাড়ির নট সো গুড লুকিং ছেলে কে দেশের সবচেয়ে সেলেবল ব্র‍্যান্ড তৈরি করা। ওনার বাবার নাম হরিবংশ রাই বচ্চন বা রাজীব গান্ধী বা রাজ কাপুর নয়,উনি টল ডার্ক হ্যান্ডসম নন, উনি টাটা বা বিড়লা সারনেম এ আসেন নি, একটা অফিসে শুয়ে, সকালে উঠে কার্যত লাখটাকার স্বপ্নের মন্নত করেছেন,এবং সফল হয়েছেন। ওনাকে ওনার নিজের শহরে ঝামেলায় পড়তে হয়,ওনাকে এয়ারপোর্টে হিউমিলিয়েটেড হতে হয়,তাও সেন্স অফ হিউমারে উনি বলতেই পারেন..." আমেরিকা আমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে"...ন্যুজ হয়ে পড়লে একবার ভাববেন,কার্যত নিঃশ একজনের নিরলস লড়াই করে নিজেকে দাঁড় করানোর স্ট্রাগল টা কে...
শেষ হিট,সেভাবে ধরলে চেন্নাই এক্সপ্রেস...তাও লোকটা টসকায় না,আবার শুরু করে,শুন্য থেকে, রোজ...

কিউকি জিতনে কে লিয়ে হারনা পড়তা হ্যায়,অঊর ইয়ে জিরো কি কিমত,সমঝনা মুশকিল হি নেহি,নামুমকিন হ্যায়...

শুরুতেই বলেছিলাম,আমি আদৌ শাহরুখের ফ্যান নই...