ভাষা দিবসে স্পেশাল একটা লেখা, পড়ার সুবিধার জন্য আরেকবার পোস্ট করলাম।
কে করিবে ভাষাকে ক্লীন, কহে প্রাচীন লিপি
‘বাংলা গুরু কালচারে আর বোতলে উইথ ছিপি
কিন্তু বস, পিওর ফিওর ওসব ফুলটু জালী’
মেসেজ বলে ‘থাকবে টিকে গুরুচণ্ডালী ‘
ছেলেবেলায় বাংলা খাতায় গুরুচন্ডালী, বা বাজারচলতি সেমি শস্তা শব্দ ব্যবহার করলে স্যাররা এমনভাবে তাকাতেন যেন স্টুডেন্টটি জ্যোতি বসু এবং খাতাটি ঐতিহাসিক ভুল।তখন মার্কেটে শিট” সদ্য এন্ট্রি নিয়েছে। বাংলা মিডিয়ামের বন্ধুরা কথায় কথায় ওহ শিট বলে অ্যাইসা রেলা নিচ্ছে যেন তারা নেহাত এদ্দিন চেষ্টা করেনি বলেই ম্যাকবেথটা লিখে উঠতে পারে নি। ক্লাসে একবার ওহ শিট বলে ফেলেছিলাম বলে কেমিস্ট্রির ম্যাম হঠাত করে ট্রাম্প মোডে গিয়ে আমার ক্লাসের ভিসা পার্মানেন্টলি বাতিল করে দিচ্ছিলেন (বাংলা দিদিমনি হলে হয় যাবজ্জীবন বা নাটা মল্লিককে ফেস করতে হত)। মোদ্দা কথা হল সেই সময় শব্দ চয়ন নিয়ে আম পাবলিক সেনসিটিভ ছিলেন। সনাতন, কোটেশানধর্মী অ্যাংকার অগ্রগন্য, শব্দে অসবর্ন এলে খেপ বাতিল হইবে টাইপ একটা অলিখিত নোটিস সর্বদা ঝুলতো, এমন সময় দুরকম রকের ভাষা আপন করে নিল =, রূপম রকে আনলেন নতুন যুগ, আর এস এম এসে রকের আড্ডার ভাষায় কথা বলা হয়ে উঠল বন্ধুদের হু-জুগ।
সেই সময়ে জানলাম, ভালোকে ব্যাপক না বললে তার ভালত্ব টা ঠিকভাবে ঠিকরে বেরোয় না।কলেজ এর একটা স্টেজ প্রোগ্রামে একবার গানের আগে ইমোশানাল একটা ভূমিকা দিয়ে নাবার সময় আশেপাশের কমেন্টে বুঝলাম আমি সেন্টিটা নাকি ব্যাপক দিই।টোটাল রাপচিক। কিন্তু বিলা হবে যদি শুধু এটাই করি। দিব্যচক্ষু এমনভাবে খুলল যেন তৃনমূলের কপাল, পরের ঘন্টায় হুলিয়ে...ইয়ে মানে, অনেক অনেক বেশি করে, রকে বসে কথ্য হয়ে যাওয়া টার্ম গুলোকে ব্যবহার করতেই বুঝলাম কেস জমে দই।
মা কিন্তু দই এর ফোঁটা মাথায় দিতে দিতে শিখিয়েছিল, খারাপ কথারা অ্যাট্রাকটিভ,কারন মানুষ খারাপ বা বিকৃত শব্দের দিকে দ্রুত অ্যাটেনশান দেয়,ভালো গুলো কঠিন, কারন ওদের জন্য যোগ্য হতে হয়। যেমন অফিসে প্রথম বার চুষে টিয়া শব্দটা শুনে এতটা চমতকৃত হয়েছিলাম যেন পূর্বরাগ শোনানো হয়েছে। মুশকিল হল ঘুমিয়ে আছে কনজিউমার পাবলিসিটির অন্তরে। পাবলিসিটি আসে অ্যাটেনশানে, বিংশ শতকের বাজার বোঝালো ভাষার ঘ্যাম নিয়ে বসে থাকলে, ছিপ নিয়ে যাবে কোলা ব্যাঙে ,রেটিং নিয়ে যাবে রিয়েলিটি। তাই তেড়ে ফাটাফাটি ই ই না বললে টি আর পি ভেসে যাবে অলকানন্দার জলে।অতঃপর প্রেজেন্টারের বর্নাশ্রম তৈরী হল। আর এ প্রজন্মের বাঙালী ভাবলেন গালিগালাজের উপর বই বের করার কথা।
প্রেজেন্টারদের বর্নাশ্রমে ব্রাম্ভন তারা যারা মূলত শেক্ষপীর আর রবিবাবুর মধ্যেই থাকেন, লোকাল টার্মে কথা বললে তাদের পেস্টিজে গ্যামাকসিন হয়।
ক্ষত্রিয় – এনারা পিওর ভাষার জন্য লড়ছেন, ডিসিসান নিতে পারেন নি ভালো শব্দের সেফ জোন টা তে থাকবেন নাকি লেবড়ে ল করে রকের ভাষার টিউশান নেবেন
বৈশ্য – এনারা জানেন কথা হতে হবে একঘর। যাস্ট মারবে এখানে মালিয়া পড়বে লন্ডনে।তবে এনারা আবার খিস্তিটা তেমন দিতে পারেন না। তবে চলিতে বিশ্বাস আর ফান্ডা আছে, বঙ্কিমি লেখার সাবেকী স্টাইল বিদ্যাসাগর চলিত করলে দোষ নেই আর আমরা কথায় একটু আনলেই লেবড়িচুশ? এদের স্টেজ শো তে ডিমান্ড ভালোই তবে আরো ভালো করতে হবে।
শূদ্র – এনারা জানেন শো এর সাথে চুদুরবুদুর চলে না। কঠিন কথা বলে পাবলিক কে ঘেঁটে ঘ করে দিয়ে লাভ কি?তার চেয়ে না হেজিয়ে ঝাক্কাস কিছু দিতে হবে শুরুতেই। নইলে অর্গানাইজার বার বার চমকাতে আসবে। এরা খিস্তিটাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে কথা বলতে পারেন এভাবে মাঝে মাঝে আপনার নিজেরই সন্দেহ হবে,এদ্দিন যাকে খিস্তি বলে জানতেন,সে কি আসলে ছদ্মবেশী ভবতী ভিক্ষাং দেহী?
রেডিওর সিনিয়ার প্রেজেন্টার দের কাছে গল্প শুনেছি অন এয়ারে আনপার্লামেন্টারি শব্দ ব্যবহারের ব্যাপারে তারা কিরকম সতর্ক থাকতেন। দম মারো দম বা এক টানেতে যেমন তেমন এর মতো জনপ্রিয় গান চালানোর ক্ষেত্রেও নাকি নিষেধাজ্ঞা ছিলো। ঝামেলা হল এখন কোনটা খারাপ শব্দ, সেটা আদৌ খারাপ কিনা, নাকি এটাই ভবিষ্যৎ এটা নিয়ে দীর্ঘ তর্ক চলবে। টি টোয়েন্টি যেমন ব্যাকরণ বহির্ভূত শট কে স্কোরিং শট হলে অবশ্যপাঠ্য করছে সেরকম ভবিষতেও এই সমস্ত শব্দগুলো শেখার আলাদা বই বা মানেবই করবে। ফারসী, আরবী শব্দ যদি একটু যায়গা পায় বাংলা ভাষার মন্দিরে, তাহলে এই সমস্ত উদ্ভুত শব্দই বা কি দোষ করল।আরে বাবা চরিত্রহীনতা,ছোঁকছোঁক কে যদি প্রথম দিন থেকেই লুললুড়ি বলা হত তাহলে এমন বিলা হত কি? ভেবে নেওয়া বেটার যে এই শব্দ গুলো সুতপুত্র কর্ন,ওরিজিন একই, যাস্ট সময়ের কুম্ভমেলায় হারিয়ে গেছিল। উত্তম কুমার তার বাংলা উচ্চারনের জন্য আর শব্দ ভান্ডারের জন্য সংস্কৃত শ্লোক,বাংলা বই পড়তেন। দেব এর জেনারেশানের ওই টাইম কোথায়, সমস্যা হলে ডাবিং আছে, তাই গীতা পড়া ছেড়ে খোকাবাবুরা জিমে যান।সুখ এফ বি তে, স্বস্তি উইকি তে। তাই যা শব্দ তয়ের হচ্ছে তা স্রোতে মিশবেই। গংগা কে ময়েলী বললে ময়েলী, মেনে নিলেই মন্দাকিনী। শুধু যদি টাইম মেশিনে করে আসেন দেবদুলাল বন্ধোপাধ্যায় কিংবা বিরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র এ যুগে তাহলে তাদের স্ক্রীপ্টটা একটু কারেক্ট করে দিতে হবে এই যা।
ভবিষ্যতে এলে দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যারের স্ক্রীপ্ট : এই মুহুর্তের বিশেষ বিশেষ খবর, ডিমনিটাইজেশান নিয়ে গোটা দেশের বাওয়ালের মাঝে প্রধানমন্ত্রী সেন্টি হয়ে ভাষন দেন। বিরোধীরা যতই হ্যাজাক, তার মটকা গরম করতে পারবে না তারা, এটা জানিয়ে দেন পি এম।
বিরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর স্ক্রীপ্ট : আশ্বীনের শারদপ্রাতে আলোগুলোর হেবি ঘ্যাম/ বহিরাকাশে চুলকে গেছে মেঘেদের লম্বা জ্যাম
রিপ ভ্যান উইনকেলের ঘুম ভেঙে কোনো প্রাচীন লেজেন্ড এ যুগে এলে, যাতে বাংলা বুঝতে অসুবিধে না হয়, তার জন্যে একটা বাংলা টু বাংলা ট্রানস্লেশান করে রাখলাম :
বিলা – সমস্যা
ঝাক্কাস – দুর্দান্ত
ছিঁড়ছি – সময় নষ্ট করছি,বেকার বসে আছি
ফুলটু – পুরোপুরি
হুড়কো- সমস্যা
ঝিনকু-সুন্দরী,মিষ্টি
টাল – অপ্রকিতস্থ
একঘর – দুর্দান্ত
ব্যাপক – প্রচন্ড/ খুব/ দুর্দান্ত
ঘেঁটে ঘ – গুলিয়ে যাওয়া
তারকাটা – পাগল, অদ্ভুত
চুষে টিয়া – ক্লান্ত
http://www.epaper.eisamay.com/Details.aspx?id=29822&boxid=16125584
http://www.epaper.eisamay.com/Details.aspx?id=29822&boxid=16125584


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন