রবিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮

ফিল্ম রিভিউ :: জিরো

বাউয়া আসলে এক ডাক্তার তাই তিনি গান গাইলেই মুখ বেঁকে প্যারালাইজড অনুষ্কা নরম্যাল মুখ করে গান গায়,কারন ডিরেক্টার বলেছে প্রেমের গানে সুন্দর দেখতে লাগতে হবে,বাকি সময়টায় ক্যারেক্টার। নিউরো স্পেশালিস্ট বাউয়া আবার একজন সাইকিয়াট্রিস্ট,তাই ক্যাটরিনার মানসিক সমস্যা ভুলিয়ে দেয় সহজেই,ফ্রি তে চুমুও পায়, এর থেকে পাবলিক সহজেই বুঝতে পারে আচ্ছে দিন এসেছে...শুধু ইউ পি তে,মানে বাউয়ার বাড়িতে। এর মাঝে অনুষ্কার সাথে সেক্স ও করে ফ্যালে, কিন্তু সিনেমাতে দেখায়নি সিনটা কারন বিরাট রেগে যাবে,তাছাড়া এটা ছোটো দের সিনেমা।

আম পাবলিকের চেয়ে বাউয়া আলাদা,কারন আম পাবলিক হোলি খেলে মদ খায়,বাউয়া সারারাত মদ খেয়ে সকালে হোলি খ্যালে,তাতে হোটেলের ফ্লোর নোংরা হয়,বাউয়া অনেক টাকা কম্পেনসেট করে,হোটেলের লোকজন পষ্ট বুঝতে পারে আম্বানি কন্যের বিয়েতে খাবার সার্ভ করে বাউয়া এই টাকা টা পেয়েছে। এর পরে বাউয়া বন্ধু কে নিয়ে নাসা ঘুরতে যায়,টাকা নিয়ে কোনো চিন্তাই নেই,কারন কেকেআর জিতলে দিদি বোধহয় টাকা দেয়,যাই হোক এর মাঝে সুপারস্টার ক্যাটরিনার পায়ে সুড়সুড়ি দিয়ে প্রমান করে ওয়াক্সিং প্রপার হয়েছে।

ডিরেক্টার এর মাঝে হ্যাপি ভাগ যায়েগি,ব্যান্ড বাজা ইত্যাদি দেখে টেখে বাউয়া কে বিয়ের মন্ডপ থেকে ভাগিয়ে দিয়েছে।কারন বাউয়াকে এস্ট্রোনট হতেই হবে,কারন হসপিটালে কথায় কথায় পাবলিক ডাক্তার ক্যালায়। বাউয়া তাই নিল আর্মস্ট্রং হবার প্রস্তুতি নেয়। এখান থেকেই ছবির নামকরন কারন নিল মানে জিরো।
ইতিমধ্যে আমরা জেনে গেছি শ্রীদেবীর মৃত্যুর আসল কারন,জিরো ছবিতে অভিনয় করে যে কোনও সুস্থ লোক পৃথিবী ছাড়তে চাইবেন।

মাধবন এদিকে শিম্পাঞ্জি দিয়ে অনুষ্কাকে প্রপোজ করায়। স্টেজে এস্ট্রোনটের ডেমনস্ট্রেশন এর সময় শিম্পাঞ্জিটা জিরো তে তাকে অভিনয় করানো কেনো হচ্ছে, এর জন্য প্রচুর প্রতিবাদ করে। লোকজন শিম্পাঞ্জি কামড়ালে ১৪টা ইঞ্জেকশন নিতে হবে এই ভয়ে পালায়,অথচ শিম্পাঞ্জি র ট্রেনার তাকে কনট্রোল করতে আসে না,কারন সে হয়তো ব্যাকস্টেজে কলা খাচ্ছিলো,যাই হোক,শিম্পাঞ্জির যায়গায় বাউয়া মঙ্গল গ্রহে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। কারন এর আগে চন্দ্রবিন্দু "যাবোনা মঙ্গলে না" করে অফার রিফিউজ করে আমেরিকায় খেপ ধরে ফেলেছে।

এর পরে বেশ খানিকটা গোলমাল হয়। কিছু পাবলিক হলে ঘুমিয়ে পড়ে, সলমন খান হঠাৎ করে এসে খানিক নেচে নেন। শাহরুখ রাকেশ শর্মার বায়োপিকের নেট প্র‍্যাকটিস করে নেন। অনুষ্কা বিয়ের তারিখ পেরিয়ে যাবার ভয়ে বিয়েটা সেরে নেন, কয়েকটা বেশ খারাপ গান শোনা যায়,যাতে সিংগার অরিজিৎ ও অভিজিৎ হেব্বি হাততালি দেন। অনুষ্কা বিয়ের মন্ডপ ছেড়ে শাহরুখকে সি অফ করতে আসেন,হুইল চেয়ার ড্রাইভ করে। কারন উবেরে সার্জ প্রাইস চলছিলো।

শাহরুখ মঙ্গলে পৌঁছে যান,১৫ বছর এর জার্নিতে ডায়াপারে পটি করতে করতে। এই আইডিয়া কপি করে ভারতীয় রেলে টিকিটের সাথে ডায়াপার ফ্রি দেওয়া হয় ও সমস্ত টয়লেট তুলে ফ্যালা হয়, এই সিদ্ধান্তে স্মোকার রা হেব্বি প্রতিবাদ করেন। এর মাঝে নাকি রকেট ধ্বংস হয়ে যায় কিন্তু শাহরুখ বেঁচে থাকে,কারন শাহরুখ ইশারায় তারা খসাতে পারে। এই ট্যালেন্ট দেখে মার্ভেল কমিক্স বাউয়া ভাড়া করে থ্যানোসের গ্রহকে ধ্বংস করতে। ১৫ বছর শাহরুখ থাকবে না দেখে ডিরেক্টাররা স্বস্তি পায়,পাবলিকও। সবশেষে শাহরুখ বেঁচে প্রশান্ত মহাসাগরে রকেট (ক্যাপসুল) সহ ঝাঁপ দেয় দেখে ক্যাপসুল মৃতসঞ্জীবনী অ্যাওয়ার্ড পায়। আর শাহরুখ পায় একটা এডভাইস,

স্যার,সিনেমা বানান...প্লিজ,রিলিজ করবেন না...

কোন মন্তব্য নেই: