প্রেমিকের ধর্না ও বিয়ে দেখে যারা আনন্দে উদ্বাহু নেত্য করতে করতে ভাবছেন, "আহা,রাধা কৃষ্ণ,লয়লা মজনু,হীর রাঞ্জা, সক্কলের প্রেম না পূরনের বদলা নিয়ে প্রেমকে করে তুললেন বিজ্ঞাপনী পেইন্টের মত ওয়েদার গার্ড,তারা ডাইনোসর এর মত সরল, জীবনকে মাধ্যমিকের প্রশ্নের মত সহজ করে ফেলেছেন।তাদের উৎসাহ দেখে মনে হচ্ছে,বিয়ের ফ্রি নেমন্তন্ন পেয়েছে,যাতে গিফট দিতে হবেনা যেন...
আর যেসব যুক্তি মানুষজন দিচ্ছেন তা এতটাই হাস্যকর,যে ঘোড়ারাও মুচকি হেসে পরান বন্দোপাধ্যায় স্টাইলে বলবেন,ভালো,তবে আরো ভালো করতে হবে...
১. ছেলে মেয়েদুটি আট বছর ধরে নাকি প্রেম করেছে,তাই যদি হয় হয়তো তার এখন আর ইচ্ছে নেই প্রেম করার,বা বিয়ের।৮ বছর প্রেম করেছে বলেই এর পরেও একসাথে থাকতে হবে?আজকাল ব্রেক আপ টা কমন পিপলের চেয়েও কমন,সেটা হতে পারেনা??
আর এ কেমন বিচার, যে একসাথে ৮ বছর কাটালেই বিয়ে করাটা ম্যান্ডেটারি। এ কি ওটিপি নাকি,যে এটা করতেই হবে।
তাছাড়া আট বছর কেমন কেটেছে কেউ দেখতে যায় নি। মেয়েটা হয়তো নিজেকে সরিয়ে আনতে চেয়েছে আস্তে আস্তে,হয়তো ছেলেটার ভয়ে পারেনি। যে সবার সামনে এভাবে ধর্না দিতে পারে,সে ব্রেক আপের কথা শুনলে আরো কতভাবে টর্চার করতে পারতো সে হিসেব কেউ কি করেছে??
যদি ধরেনি এটা নাও করে থাকে,তবু,মেয়েটার তো সিদ্ধান্ত বদলের অধিকার সবসময় আছে। নাকি এটা ইউজ এন্ড থ্রো পেন,যে একবার রিফিল ঢুকলে আর বদলানো যাবেনা
২. যদি বলে এদ্দিন ছেলেটিকে নিয়ে খেলা হয়েছে,তাহলে বাকি জীবনটাও ঐ মেয়েটির খেলনা হবার এত ইচ্ছে কেন??
৩.টাকা দিলেই বিয়ে করতে হবে নাকি?মানে এদ্দিন মেয়েটির পিছনে খরচা করা হয়েছিল বিয়ের বিনিময়ে??আর টাকা দিলেই যদি বিয়ে করতে হয়,তাহলে তো আমার উচিত ব্যাঙ্ক কে বিয়ে করা
আট বছর প্রেম করেছি মানেই বিয়ে করতে হবে, কোনো একসময় সাহায্য করেছি মানেই তার নিজের সিদ্ধান্ত নেবার, বা আগের সিদ্ধান্ত বদলে দেবার কোনো অধিকার নেই... তাহলে সেটা ভাবের ঘরে চুরি। দাদা,অ্যামাজনও সিলেক্ট করা জিনিস ফিরিয়ে নেয়। আর প্রেমের ক্ষেত্রে রিজেক্ট করা যাবে না??এ তো নোংরা পুরুষামি...
দিনের শেষে এটা থ্রেটের জয়। কেউ রেপের,কেউ শ্লীলতাহানির,কেউ acid ছোঁড়ার থ্রেট দ্যায়। এ ধর্নার থ্রেট দিয়েছে। বিষয়টা নতুন,তাই আমরা, "হেব্বি করেছে তো" বলে মনের মাধুরি মিশায়ে যুক্তি সাজাচ্ছি। কিন্তু চাপ দেওয়ার ফর্মটা যে বদলেছে সেটা ধরতে পারছি না।
মানতে না চাইলেও,সোসাইটি এখনো বহুলাংশে পুরুষতান্ত্রিক। এবং সম্মান চলে যাওয়াটা,লোকলজ্জার ভয়টা, লোকে কি বলবে সিনড্রোম টা মহিলাদের যেভাবে ফেস করতে হয়,ওভাবে বোধহয় কাউকে ফেস করতে হয় না। ফলতঃ ধর্না করে মেয়েটির সম্মান নিয়ে যেভাবে ছেলেখেলা করা হয়েছে,তাতে আমাদের পি এন পিসি প্রেম উথলে ওঠা টার প্রমান পায়,ছেলেটি দুর্দান্ত প্রেমিক, এইটে মানতে পারা যায় না। যে আপনাকে পাওয়ার জন্য আপনাকে যন্ত্রনা দিতে পারে,সে আপনাকে ভালোবাসতে পারে না। কারন যে ভালোবাসে সে আগে তার প্রেমের ভালো থাকার কথাটা চিন্তা করে।
এক্ষেত্রে ছেলেটি হিরো হয়ে গেলো ঠিকই। কিন্তু মেয়েটিকে ভিলেন বানিয়ে...হিরোইন হলো কি???
ভেবে দেখবেন...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন