বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০

দুর্গাপুজোর নিয়ম

 যথারীতি বাঙালী দু ভাগ, পুজো হবে নাকি বন্ধ হবে...

প্রশাসনিক ঘোষনার পরে হবে কি হবেনা এ আলোচনা নিছক ফেসবুক গরম করা ছাড়া আর কিছুই নয়। বরং আলোচনা টা যদি হতো কিভাবে পুজো হবে...সেটা অনেক বেশি সদর্থক ও ফরপ্রসূ হতো...
প্রথমতঃ কারুর এটা মনে হতেই পারে পুজো মানে ফুর্তি, অবশ্যই ফুর্তি, তার সাথে একটা বিরাট অংশের মানুষের ঊদরপূর্তিও বটে। দুর্গাপুজো কত কোটি টাকার ইন্ডাস্ট্রি সেটা বিশেষজ্ঞরা ক্যালকুলেট করে দিলেই বুঝবেন, শুধু বড় কর্পোরেট বা শাড়ির দোকান নয়, মৃতশিল্পী থেকে মুটে, ঝালমুড়ি থেকে প্যান্ডেলের ঝালর সব্বার আয়ে, বা জীবনে টান পড়বে দুর্গাপুজো না থাকলে। এখন পুজো কেন ব্যাবসা, কেন ইন্ডাস্ট্রি যারা এই কূট তর্ক টেনে আনবেন বিষয়কে গুলিয়ে দেবার জন্য তাদের তর্কটা রাজনীতির আঙিনায় থাক, সামাজিক প্রেক্ষিতে কি কি করা যেতে পারে বা পারত, সেটা নিয়ে একেবারে ব্যক্তিগত স্বল্প বুদ্ধিতে ভেবে দেখি...কাউন্টার স্বচ্ছ লজিক ভাবতেই পারেন, আলোচনায় আলোচনা সমৃদ্ধ হয়...

প্রথমেই...যার যা ব্যবসা, টেম্পোরারি বা পার্মানেন্ট, তার স্থায়ি বা অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশান বা সংখ্যা টা লাগবে,মানে রোলের দোকান বা চাউমিন বা বড় ব্যবসা বা নাগরদোলা দাদার নাম ব্যবসার টাইপ ফোন নাম্বার, কোন মন্ডপে কোন স্টল খুলছেন তার বিবরণ লাগবে,এই ডেটাবেস টা মারাত্মক দরকারী, যখনই আপনি সংখ্যা টা স্থির করতে পারবেন, তখনই আপনি বাকিটা ম্যানেজ করতে পারবেন।

পুজোর পুরো মাধ্যমটাই হয়ে যাক প্রি বুকড বেসড। আপনি সিনেমা হলে টিকিট কেটে যান, ট্রেনে টিকিট না থাকলে চড়েন না, অর্থাৎ কিছু জিনিস আপনাকে আগেভাগে প্ল্যান করতে হয়, আগে ভাগে নির্বাচন করতে হয় যে পনি টিভি দেখবেন নাকি হলে গিয়ে সিনেমা দেখবেন। তাই ঠাকুর দেখাও হোক প্রি বুকড, এক একজন মানুষ ১০ টার বেশি মন্ডপ যেতে পারবেন না, ডেটাবেস ও ক্যাপাসিটি অনুযায়ী ঠাকুর দেখা বাড়া বা কমানো যেতে পারে। ই পাস হোক প্রত্যেক মন্ডপের। সময় মানা ই পাস দিয়ে যদি আপনি মেট্রো তে ট্র্যাভেল করতে পারেন, এবং ট্রেনে যাবেন না বাসে সেটা ঠিক করতে পারেন, তাহলে এবার প্রি বুকিং হোক, যে মন্ডপের টিকিট পাবেন সেখানে যাবেন। পুজোর চারদিনে আপনার জন্য দশটা মন্ডপই দেখা বরাদ্দ হোক।

প্রত্যেক মন্ডপের দোকান, চপ থেকে ঝালমুড়ি যেহেতু ডেটাবেস করা আছে, একটা অভিন্ন অ্যাপে তাদেরও বুকিং হোক, আপনার কুমোরটুলিতে মণ্ডপ ভিজিটের সময় ১০-১১টা, আপনি ১১ঃ১৫ তে ঝালমুড়ি দাদার কাছে সিট বুক করলেন, বা প্লেট বুক করলেন অ্যাপে , ই পাস দেখিয়ে ঠোঙা নিয়ে বেরিয়ে যান, পরের জন ১১ঃ১৬ র টাইম বুক করে অপেক্ষা করছেন যে। এতে ভিড় মেনটেন করা যাবে, ইকুয়াল ডিস্ট্রিবিউশান হবে। সবকটা প্যান্ডেলে ভিড়টাকে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে।

মন্ডপে জনস্রোতের প্রতিযোগীতা বন্ধ হোক। ব্যবসায়ীরা দোকানে ই পাস করলে প্রত্যেকে সমান খদ্দের পেতে পারেন, বড় দোকানে বিরাট ভিড়, অন্যরা মাছি মারছে, সেটাও বন্ধ হবে। জনস্রোতের সমবন্টন অনেক অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে। হ্যাঁ এতে হয়ত অনেকের মনে হতে পারে, "ওই দোকানে অমুক কোয়ালিটির জিনিস পেতুম", পাবেন না, আগে বুক করে ই পাস করে গেলে পাবেন, সবসময় আপনি ত পছন্দের ২ টায়ার বা থ্রি টায়ার বা ফ্লাইটের টিকিট পান না?তা বলে কি ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়ার দাবি তোলেন?

যদি পুজোর ই পাস বুক করতে পারেন ঠাকুর দেখবেন, নইলে সিনেমা, নইলে কনসার্ট, নইলে রেস্টুরেন্ট...মোটকথা জীবনের কোনটা প্রায়রিটি ১ কোনটা ১০ সেটা গুরুত্ত্ব দিন,পাড়ার পুজোই হয়ে উঠুক ম্যাডক্স, এবছর প্যান্ডেল বন্ধ করবেন নাকি বাড়াবাড়ি প্যান্ডেল হপিং সেটা ভাবুন।এক মন্ডপে দাঁড়িয়ে ২০টা সেলফি তুলে, অনর্থক ভিড় করার প্রবণতা এ বার বন্ধ হোক, পুজো বন্ধ হবে কেন? পায়ে ধুলো লাগলে মাটি ঢাকেন নাকি পা? আলট্রাভায়লেট রে বেরোয় বলে বাইরে যাওয়া বন্ধ করেন নাকি বেরোনো টা নিয়ন্ত্রিত করেন?

তবে পুরোটাই নির্ভর করবে সদর্থক ভাবনার উপর। সদিচ্ছার উপর। নিয়মকে কতটা ঠিকভাবে পালন করছেন তার উপর। আপনার একটা নিয়মভঙ্গ অন্যের মৃত্যুর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কারন হয়ে উঠতে পারে...

কোন মন্তব্য নেই: