ফাঁকা সময়ে,আগে সুন্দরী দের পিং করতাম,এখন যে পাইকারী হারে বিয়ে হচ্ছে, সাথে চব্বিশ ঘন্টা গিন্নি আশেপাশে ঘুরুঘুর করছে তাতে সেটা করাটা বিপজ্জনক, তাই ফ্রি থাকলেই ফ্ল্যাটের দেখি বা বিদেশের ট্যুর প্ল্যান করি...প্ল্যান তো করি,কিন্তু হয়ে ওঠে না,কারন আমার বাথরুমে শ্যাওলা আর ক্রেডিট কার্ডে লোন...
বাড়ি কেনার app এ এমন করে ফ্ল্যাট বাড়ি এপার্টমেন্টের দাম ১কোটি ২কোটি লেখা থাকে যেন শুভদৃষ্টি তে মা পানপাতা খুলে আমার টেকো বাবাকে না দেখে বিল গেটস কে দেখেছিলো। রাস্তার ধারে এপার্টমেন্ট হলে ২.৫কোটি,ভিতরের দিকে হলে ১.৫...একবার তো পেপারে দেওয়া নম্বরে ফোন করে দাম জিজ্ঞেস করায় ভীষণ স্টাইল করে এক মহিলা বললেন,শুধু আমার জন্য,আমার জন্য বিরাট কোহলীর চেয়েও বিরাট ডিসকাউন্ট দিচ্ছেন,যাতে ফ্ল্যাটের দাম পড়বে মাত্র ৭০ লাখ!!! আমি বিনীত হয়ে বলেছিলাম,"কাকিমা,আধ কোটি টাকা আমার কাছে থাকলে কি আমি ফ্ল্যাট কেনার আগে চাকরি ছেড়ে দিতাম না??তাও কিনতাম হয়তো,কিন্তু আমার ক্রেডিট কার্ডের লোন..."
তবু আমি দেখে যাই,পেপারে পাতাজোড়া ছবিওয়ালা ঊষা উত্থুপ,রজতাভ দত্ত হাত বাড়িয়ে "আয় আয়, এই ফ্ল্যাটে থেকে যা" বলে ডাকে...আমি এক কোটি টাকার ই এম আই এর নামতা মুখস্ত বলে যাই।প্রতি সপ্তাহে একটা ব্যাঙ্কে হানা দিই।ম্যানেজার এর সামনে বসে চা খাই,উনি উৎসাহে লোন নেবার সুফল বোঝান, তারপর "বাড়ি কেনবার তো খুবই ইচ্ছে কিন্তু বয়স্ক মা,বুঝছেন তো, অন্য কোথাও যেতে চায় না, দেখি রাজি করাতে পারি কিনা" এই ঢপ টা বারোয়ারী ভাবে দিয়ে আসি...বেরিয়ে ঘাম মুছি,উল্টোদিকের রোলের দোকানে ক্রেডিট কার্ড স্যোয়াইপ করে ইয়াব্বড় রোল খেয়ে দেখি...আমার ক্রেডিট কার্ডে...লোন...
তবে ইনফর্মেশান নিয়ে রাখি,কলকাতার কোথায় জমি বাড়ির দাম কত যাচ্ছে,কোথায় দো তলা তিন তলা বাড়ি আছে, বাড়ির এজেন্ট দের ছেলেমেয়ে কোন স্কুলে পড়ে, তাদের বাবার বাতের ব্যাথায় ঘৃতকুমারী তেল লাগায় কিনা মোটামুটি সব আমার জানা। যে টেলিকলার স্টাইল করে কথা বলা মহিলা(কাকিমা) আধ কোটির ফ্ল্যাটের খবর দিয়েছিলেন,তাকেও ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছি...
তবে তাদের পিং টা করিনা, কারন গিন্নি চারপাশে ঘুরঘুর করে...বিপজ্জনক... তাই কাস্টমার সার্ভিস নম্বরে কল করে নিই...গিন্নি জিজ্ঞেস করলে বলি,ওই ফ্ল্যাটের খোঁজ করছিলাম,নেবো না যদিও...আমার তো ক্রেডিট কার্ডে লোন...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন