শুক্রবার, ১৯ মার্চ, ২০২১

কারণবারি

মদ্যপান ক্ষতিকারক, কারন লিভার খারাপ হোক বা না হোক মদ খেয়ে সত্যিকথা বলে ফেললে ডিভোর্স হতে পারে...

আমি জন্ম মিথ্যুক, তাই আমি মদ ছুঁয়েও দেখি না। এ জীবনে কারনবারির স্বাদ গ্রহণ হলো না বলে আমার দু ক্যুইন্টাল গর্বও আছে, তবে মদ্যপান না করা সর্বদা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়!!!

পার্টিতে আমি সেইসমস্ত হাতেগোনা মানুষদের দলে, যারা দেখি..."এক পেগ, এক পেগ এক নরম্যাল আদমি কো সায়েন্টিস্ট বানা দেতা হ্যায়"। দলে দলে নরম্যাল লোক পার্টিতে ঢোকেন, তারপর কেউ নেতা, কেউ কিশোর কুমার, কেউ দবং, কেউ সায়েন্টিস্ট হয়ে পার্টি থেকে বেরোন। এমনিতে গলায় লাত মারলেও এক ফোঁটা সুর বেরোবেনা,অথচ সুরার পর এইসান গিঁটকিরি দেন,যেন মানবেন্দ্রবাবু আর মান্নাবাবু গলায় হাডুডু খেলছেন।  সবচেয়ে কমন সিনড্রোম হলো দেবদাস... গিন্নি থেকে স্কুলের টিচার, বিনুনি থেকে ববকাট, এ পৃথিবীতে কেউ যে তার প্রেমটা বুঝলো না বলে তিনি শোভন থেকে আজ অশোভন হয়ে পার্টিতে "পি লে পি লে ও মোর জানি" কচ্ছেন, এই দৃশ্য প্রায় প্রতিটা পার্টিতে কমন। এক বয়স্ক ভদ্রলোককে এক পার্টিতে দেখেছিলাম আদর করতে গিয়ে তার বয়স্কা ক্রাশের কন্যেকে ঘুঁষি মেরে রক্তারক্তি করে কান্নায় ভেঙে পড়ে আবার রেগে রজনীকান্ত হতে। এক অসামান্য সুন্দরী কন্যে, ঈষৎ অতিরিক্ত পান করে গাড়িতে চাপার সময় যত গ্যালন বমি ৬টা ইন্সটলমেন্টে করেছিলেন, টালার ট্যাংক অত গ্যালন জল না রাখতে পারার লজ্জায় গলায় দড়ি দিতো। আর আমরা, যারা পার্টিতে অরেঞ্জ জুস বা স্প্রাইট নিয়ে ঘুরছি, তারা অবধারিত ভাবে হয়ে যাই ভলেন্টিয়ার, মাথার ক্লিপ থেকে পায়ের হিল পর্যন্ত বমিরগন্ধশোভিত কন্যাকে বাড়ি অব্দি পৌছে দিতে দিতে কতবার অদৃষ্টকে বলেছি, "আজ মদ্যপান করতে জানলে, এ দুর্ভোগটা আমার হতো না"

আমার এক বন্ধু যেমন রোজ রাত্রে মদ খেয়ে, ব্যালকনিতে গামছা পরে দাঁড়িয়ে গিটার হাতে ভুল সুরে "এটাকি নাইন থ্রি থ্রি টু জিরো..." বলে তারস্বরে ও পারের ব্যালকনির বেলা বোস কে নিজের নাম্বার দেবার চেষ্টা করতো। দৃশ্যটা ভাবুন, শীতকাল, নিউমোনিয়া হবার ভয়ে বন্ধুর মা তাকে ডিজাইনার মাফলার আর বাসকপাতা পাঠিয়েছে, সে বন্ধু সেমি পিকে পোজে , বাসক আর মাফলার ঘরে রেখে, মদের ঘোরে ১কিমি দুরের ব্যালকনিতে নিজের ফোন নাম্বার পাঠানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে। প্রত্যেকবার এই ঘটনার পর বাড়িতে তিনি আসতেন,না না ওই মহিলা নয়, যে ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতাম তার গৃহস্বামী, মাতাল বন্ধুর বরাদ্দ ঝাড় আমি খেতাম...কারন তিনি তখন গামছা না পরে ঘুমোচ্ছেন...সেই থেকে ঠায় বুঝেছি, আসলে মদ্যপান যে করে, আর মদ্যপান যে সহে, তব ঘৃণা তারে তৃণসম দহে...

সুতরাং মদ্যপান করলে, পার্টিতে ফুর্তি, বাড়িতে আনন্দ, আর না করলে, আপনি কেয়ারটেকার...পার্টি বা বাড়ির রামুকাকা বা বিশ্বস্ত রামলাল। কারন তদ্দিনে অফিস জেনে গ্যাছে, এ ব্যাটা নিরীহ,বসে বসে চাখনার বাদাম বা কুরকুরে ধ্বংস করা ছাড়া এর কাজ নেই। রাস্তায় বিয়েবাড়ির প্রসেশন গেলে সাফারি পরা কেউ কেউ  যেমন দায়িত্ত্ব নিয়ে গাড়ি পাস করায়, এ ব্যাটা সব্বাইকে বাড়ি ড্রপ করে শেষে বাড়ি যাবে। শেষতম পার্টিটার গল্প দিয়ে শেষ করি, এক হুমদো কলিগকে বাড়ি ফেরাতে যাচ্ছি, সেদিন আবার ড্রাইভার নেই, অফিসের না , আমারই গাড়ি, পাশে বসে সে রাস্তা চেনাচ্ছে বাড়ির, সল্টলেকে ঢোকার পর যখন ডিরেকশান দিলো যে খালের জলের উপর দিয়ে ড্রাইভ করতে হবে, তখন বাধ্য হয়ে গুগল ম্যাপে ভরসা করলাম। এদিকে খোকার তখন প্রবল ইচ্ছে ড্রাইভ করবে, জীবনে যে সাইকেল চালায়নি, সেযে পার্টি থেকে বেরিয়ে মাইকেল শ্যুমাখার হয়ে গ্যাছে, টের পাইনি...স্টিয়ারিং নিয়েটানাটানি করতে গিয়ে হটাত গায়ের উপর তার পেট থেকে কয়েক লিটার চলকে গেলো। মুহুর্তে গাড়ি, আমার শার্ট সর্বত্র গন্ধে গন্ধগোকুল...এমন সময় সার্জেন্ট গাড়ি থামালেন...আমি অভ্যেসবসত বলে ফেলেছি, "স্যার, ওই ফ্যামিলি নিয়ে যাচ্ছি ওয়াইফের শরীরটা খারাপ"(মানে সার্জেন্ট ধরলেন গিন্নি হার্ট এটাকের অভিনয় করে, আর আমি এই যুক্তিটাই দিই) বলেই খেয়াল হয়েছে, মরেচে, আজ তো গিন্নি নেই, তাছাড়া পাশের সিটে এটা সোমত্থ পুরুষমানুষ...সার্জেন্ট খস খস করে বিল কেটে বললেন, গা দিয়ে ভুরভুর করে গন্ধ বেরোচ্ছে...ড্রিংক এন্ড ড্রাইভের ফাইন লাগবে...

বিশ্বাস করুন...আগুন জ্বালিয়ে নিজে অগ্নীপরীক্ষা দিয়ে দেখাতে যাচ্ছিলাম, যে জীবনে মদ ছুঁই নি, কিন্তু পকেটে হাত দিয়ে আবিষ্কার করলাম...আমি তো স্মোকও করিনা...!!!

সাধে কি আর বলি যে, মদ্যপান খারাপ...যে পান করে তার লিভার খারাপ হয়...যে দ্যাখে, তার কপাল...!!!

#লসাগু_গসাগু

কোন মন্তব্য নেই: