বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

গনেশ কিন্তু বাঙালী

সমুদয় বাঙালী জাতি এই নিয়ে যৎপরোনাস্তি কূপিত ও মূহ্যমান, যে এই শীতলা ইতুপুজোর রাজ্যে হঠাৎ গনেশ কিভাবে লাইমলাইট বগলদাবা করে সেলেব। এ তো বিধির গাইডলাইন যে তুমি যদি ভিন রাজ্যের হও তাহলে এ রাজ্যে বেওসা করতে পারবে না। বেশ কিছু বঙ্গ গবেষক এ নিয়ে তত্ত্বও দিয়েছেন যে, হতে পারে দুর্গা এ রাজ্যের, কিন্তু ওনার হাসব্যান্ড তো নন বেঙ্গলি, বাইরে থাকে,অতএব গনেশের আধার কার্ডে পষ্ট লেখা যে তিনি গোর্খা,এ সমতলের কিছুতে নন,অতএব এন আর সি লাগু না করে তাকে যে হারে এ রাজ্যে প্রমোট করা হচ্ছে তা রাজ্য স্বার্থ বিরোধী। অবিলম্বে চেক করা হোক এ রাজ্যে ৪৭ সালের আগে তিনি এসেছেন কিনা নচেৎ অবশ্য বিতাড়ন।

জনগনের এ হেন ভ্যালিড দাবীকে নস্যাৎ করে বিশিষ্ট সমাজতাত্ত্বিক নীলাঞ্জন দাবি করেছেন গনেশ কিন্তু আখেরে একজন বাঙালী দেবতা। গনেশ নয় সেকু মাকু/উনি কালচার কাকু। সেই কবে বিশ্বের সবচে বড় কাব্যি র ড্রাফট করে তিনি নিজেকে কবিতা মনস্ক বলে প্রমান করেছেন। আরে বাবা বাঙালী মানেই কাব্যি র সাথে রবি ঠাকুরের সাথে একটা সংযোগ থাকবেই। মহাভারত মানেই কর্ন কুন্তি সংবাদ,অর্থাৎ রবিঠাকুর।মানে গনেশের রবি ঠাকুরের প্রতি ইনক্লিনেশান দিনের আলোর মত প্রকাশ্য।

আবার চন্দ্রবিন্দুর তত্ত্ব মানলে,বাঙালির বগল ভরা স্ট্রাগল আছে ছাগল ভরা মাংস,অর্থাৎ কিনা সব বাঙালীই ছেলেবেলায় হ্যারিকেন, ২কিমি লম্বা শহরে থেকে তিন কিমি হেঁটে স্কুলে গিয়ে, কোন এক অজানা সিমিলারিটি তে প্রত্যেক বাবাই এক কামরার ঘরে মানুষ হয়ে,ভাই কে পড়াতে নিজের ফরেন ট্যুর বানচাল করে দিঘা ঘুরে মারাত্মক স্ট্রাগল করে জীবনে কিছুই পান নি। গনেশ ও তাই। বেদব্যাস অব্দি মহাভারত্র নিজের কয়েকটা গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স রেখেছেন,গনেশ নেই।সেদিক থেকে গনেশের আত্মত্যাগ কিন্তু শোলের জয় এর মত। শ্লোকের মানে বুঝলেন, ঝড়াকসে শর্টহ্যান্ড নিলেন,টাইপ ও করে ফেললেন তুরন্ত। অথচ পান্ডবদের কচকচি তে একটিবারও এন্ট্রি নিলেন না। মানে পকেটে নেই টু পাইস/কুঁচকি জোড়া স্যাক্রিফাইস গনেশের জীবনেও।এ বাঙালী ছাড়া আর কি?

বাঙালী হবার আবশ্যিক শর্ত মানলেও গনেশ একশোয় দুশো। চাইলে পানুহীন সানি লিওনি পাবেন, কিন্তু ভুঁড়িহীন
বঙ্গতনয় পাবেন না। সব ম্যাজিক ওয়ান্ড যেমন তার মালিক নির্বাচন করে,তেমনি সব ভুঁড়ি খোঁজে যোগ্য বঙ্গসন্তান। সেই প্যারামিটারে সব বাঙালির আগে গনেশ। গনেশ বাঙালী না হলে আর কেউ নন।

চিরঞ্জীতের তত্ত্ব মানলেও গনেশ বঙ্গজ। আরে বাবা নোবেল হারালে নোবেল পাওয়া যায়,কিন্তু মা হারালে মা পাওয়া যায় না। যে খোকা জন্মেই "মাই মম মাই মম,নট ইয়োর মম” আউড়ে শিবকে পজেসিভ ভাবে অ্যাটাক করলেন, এইসান মাতৃভক্তি বাঙালী ছাড়া আর একটা দেখান দিকি...

রইল বাকি মাথা কাটা যাওয়া। ছেলে ক্লাসে ফেল করলে, মেয়ে পালিয়ে বিয়ে করলে, বসের খেঁকুরে,সবার সামনে ঘেঊ ঢেকুরে বাঙালীর মাথা কাটা যাবেই। সে দিক থেকে দেখতে গেলে গনেশ তো রোল মডেল। কে সি দাশের রাজ্যে মিষ্টির ব্র‍্যান্ড অ্যাম্বাসাডার হতে গেলে গনেশ বাদে কোন মুখটি আছে শুনি। এমনি তে বিয়ে পাগলা, বিয়ের জন্য শাঁসানো ওয়ার্ল্ড ট্যুরের টিকিট কেটে,শুধুমাত্র ল্যাদের জন্য যিনি মা বাবা কে প্রদক্ষিন করে ফ্লাইট মিস করেন, ভাইকে ভেন্ন করে ড্যাডাং ড্যাডাং করে বিয়ে করেন সে যদি বাঙালী না হয় তবে বাঙালী কে???অমিত শা???

অতঃপর,গনেশ অবশ্য বাঙালী ও অবশ্যপুজ্য। সুতরাং নিরুপদ্রবে গনেশ পুজোকে ছড়িয়ে দিন...

কোন মন্তব্য নেই: