মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

গিফট

আমি যে হ্যাংলা সে তো গীতগোবিন্দমেও লেখা আছে। ছোটোবেলায় অন্যেরা গিফট পেলে জুলজুল করে এমন চেয়ে থাকতাম যেন আমেরিকার পাকিস্তানি অনুদানের সামনে ভারত। লোকজন মায়া করে নানান জিনিস দিতও। জন্মদিনে পুজোয় নিউ ইয়ারে, বড়পিসি বাড়ি ঘুরতে এলে,এমনকি ইতুপুজোতেও গিফট এক্সপেক্ট করতাম। মধ্যবিত্ত পরিবারে এ মারাত্মক অপরাধ। মানে লোভ হলেও বন্ধুর আইস্ক্রিম বা স্ত্রী কে দেখবে না এ নীতি তো জরাথ্রুষ্ট অব্দি জানতেন।  ওর বাড়িতে টিভি এসেছে,আমারও লাগবে, সব্বাই গাড়ি চাপছে আমিও চাপবো, ছুটকির ঠাকমা গরদ পরেছে আমিও গরদ কিনে ধুতি করে পরবো, এই হ্যাংলামি আমার ডি এন এ তে এইসান কিলবিল করে যে আমি রোজ আরেকটু হ্যাংলা হই...অন্যের জুতো জামা নেলকাটার প্যাম্পার্স বাড়ি পরকীয়া সব আমার চাই,এই পুঁজিবাদী হ্যাংলামির আমি ধ্বজাধারী, উপাসক ও প্রচারক...

গত শুক্রবার অফিসে একখান চিঠি এল,সাথে গিফট...পুজোর জামা মাগনায় চায় না এমন পাবলিক গুগলও খুঁজে পাবেনা...তার পর যদি এটা বোঝে যে এর বদলে ওকেও একটা রিটার্ন জামা দিতে হবে না(কারন সৃষ্টির আদীতে বাঙালীকে জানানো হয়েছিল,পুজোতে কেউ কিছু দিলে তাকে রিটার্ন গিফট,জামা জুতো রুমাল গেঞ্জি জাঙিয়া কিছু একটা দিতেই হবে)...মোটকথা আনন্দে আট টুকরো বডি টা কে ব্লুটুথে জুড়ে চিঠিটা পড়লাম...আরো কয়েক কুইন্ট্যাল হ্যাংলা হলাম...

গিফট না থাক, কুচ পরোয়া নেই,আহা অন্তত এরম চিঠি যদি রোজ একখানা পেতাম...

কোন মন্তব্য নেই: