শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৮

শুভ বিজয়া

আপনিও মা দুর্গার চটি খুঁজতেন?

বড়পিসি বাড়ি চলে যবে,তার আগে বাড়ি জুড়ে হই হই রব।পিসির চটি হাওয়া।এ কিন্তু দিদি তেরা দেবর দিওয়ানা হবার জন্মযুগ আগের কেস। কালো আবলুশ কাঠের তিন তাকের জুতোর র‍্যাক থেকে জুতো ভ্যানিশ মানেই সব্বাই বাড়ির সবচেয়ে ছোটো ম্যাজিশিয়ানের দিকে তাকাতেন। বকুনি, অনুনয়,"এনে দে ট্রেন মিস হয়ে যাবে","পরের বার আবার আসবে তো" এসবে চিঁড়ে ভিজত না। অতঃপর বড়ঘরের কালো বর্ডার দেওয়া লাল মেঝেতে ধপাস করে বসে বড়পিসি বলতেন, আচ্ছা, আর একদিন থেকেই যাই,তখন ঢাউস গোদরেজ আলমারির নিচ থেকে বেরোত চটিজোড়া।পিসি ও চটি ভ্যানিশ করা পিসি সরকার, দুয়েরই মুখে হাসি।

দশমীর সকালটা ছিল ফ্লপ ফিল্মের হল এর মত। সব নতুন জামা শেষ,সপ্তমীর টাই রিপিট হত। পাড়ার বারোয়ারি পুজোমন্ডপে কেমন আলুথালু ভাব,হরেক মাল ৫টাকার দোকানে গোছগাছ চলছে,বেলুন ফাটানোর রিঙে গত রাতের না ফাটা বেলুন অবিবাহিতা গতযৌবনার মত তাকিয়ে,মাঠে ছড়িয়ে থাকা শালপাতা আর কাগজের টুকরোরা এ ওকে জড়িয়ে আছে পার্কের দাদা দিদির মতে, মাঠে এলাউন্স (ওটাই বলত সবাই) টাও অভিমানে মুখ ফুলিয়ে,কথাই বলছে না। কনফিডেন্ট ফুচকাওয়ালাও দুটাকায় ১০টা ফুচকা দিত, ৮টার বদলে। আর মা দুর্গার সামনেটা,স্টেজ শো শেষের মাচা সিঙ্গারের মত, শো শেষ...তাই হামলে পড়া পাবলিক নেই।

ফ্ল্যাট বাড়ি থেকে অতিথি চলে গেলে যেমন "আহ,শান্তি" বলে আপনি দরজা লাগান, লিফট অব্দিও যান না, তখন সেরম ছিল না। সকাল থেকে প্রস্তুতি চলত, মিষ্টিমুখ,সিঁদুরখেলা, আখাড়ার লাঠিখেলা আর ড্যাংকাড়্যাকার মা কে এগিয়ে দিত স্টেশান অব্দি,ভাসানে জলে ছপাস করে মা আস্তে আস্তে কু ঝিক ঝিক হলেও সবাই অনেক্ষন তাকিয়ে থাকত স্টেশানে আস্তে আস্তে হাত নাড়া বোকাদের মত, আসলে জীবনে তখন স্পীড পেট্রোল ছিল না। ছিল না,দশমীর সকাল থেকেই "শুভ বিজয়া" হোয়াটস্যাপে ফরোয়ার্ড করে "আমিই ফার্স্ট" জানানোর ডংকা।

তখন সকালে প্রনাম বা বিজয়ার শুভেচ্ছা জানানো ছিলো রাখি সাওয়ান্তের আই আইটি পাওয়ার মত,অসম্ভব। সন্ধ্যের আগে প্রনাম জানালেও বাড়ির বৃদ্ধরা জানতে চাইতেন," ঠাকুর ভাসান হয়েছে তো?"মনের মধ্যে এই চারটে দিনকে আগলে রাখতেন শেষ সেকেন্ড টা অব্দি, যেভাবে নিঃশ্বাস থাকে ফুসফুসে,কিংবা সন্তান থাকেন দু আঁজলায়।

আর আমি দেখতাম,মা দুর্গার পায়ের কাছটায়, যেখানে সিংহ টা কামড়ে ধরেছে মহিষাসুর কে,যেখানে অসুরের বুকের কাছটায় আলতা মাখা পা টা রয়েছে,তার নিচেটায়। যদি কোথাও মা দুর্গা খুলে রাখেন তার চটিজোড়া...

।। নীলাঞ্জন ।।

কোন মন্তব্য নেই: