শুক্রবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৮

ঠগস অফ

খুদাবক্স জাহাজি বেসিক্যালি একজন ফাইটার মাল্লা,ক্যাপ্টেন হ্যাডকের মত দাড়ি রেখে,লম্বা লম্বা ডায়লগ মুখস্ত বলেন। যেটা দেখে পষ্ট বোঝা যায়,বড় হয়ে উনি সিরিয়াল করবেন এবং তার শাশুড়ি তাকে দেখে বলবেন,বাবা খুদাবক্স,তুমি এয়েচো,যাই হোক...পেশায় খুদাবক্স একজন জলদস্যু কিন্তু সে গোটা সিনেমায় কিস্যু ডাকাতি করে না,শুধু ইংরেজদের একটা জাহাজ উড়িয়ে দেয়। ইংরেজরা এনাকে বাগী বলেন,কিন্তু টাইগার শ্রফ আছেন বলে উনি বাগী হতেও বেশি ইন্টারেস্ট দেখান না।সংসার যশরাজের পয়সায় চলে বলে তিনি ডাকাতি ফাকাতি করেন না,একটা গুহা টাইপ যায়গায় থাকেন,টাকা পয়সা গোলা বারুদ কিস্যুতে তার লোভ নেই,সে শুধু ইংরেজ জাহাজ কে ওলা অ্যাপে ডাকেন আর উড়িয়ে দেন,এর থেকে বোঝা যায় সে একজন আদার ব্যাপারী,জাহাজে তার কোনো ইন্টারেস্ট নেই।

ফিরঙ্গী মাল্লা সেকালের শীতলা ঠাকুর,তাই গাধা তার বাহন। রনবীর সিং এর ফ্যান বলে তিনি গোঁফ রাখেন, স্যাটাস্যাট লোক ঠকান,তৃনমূল করেন বোধহয় কারন তার লন্ডন হেবি পছন্দের,ইংরেজদের কথায় খুদাবক্স অমিতাভ কে ধরাতে যান,কিন্তু অমিতাভের লেকচার শুনে ব্রেনে কেমিক্যাল লোচা হয়ে যায়,এবং তিনি অমিতাভের সাথে একসাথে জমি চাষ করতে শুরু করেন। দুজনের হাইটের ডিফারেন্স থাকা সত্ত্বেও কিকরে তারা কাঠের গুঁড়িকে হাল বানিয়ে টানেন সেটা বুঝতে কল্যানী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষনা হবে। যাই হোক,তাদের এই চেষ্টায় অনুর্বর জমিতে ফলন হয়,এবং বচ্চনের পোষা চিল সেটাকে দেখে ফ্যালে,এর থেকে প্রমানিত হয় চিলেরা আসলে লোন নেওয়া চাষী,লোন শোধ করতে না পেরে মাংস খায়।

এদিকে ক্যাটরিনা কোত্থেকে হটপ্যান্ট জোগাড় করে দু টো নাচ নেচে ফেলেছে,বোধহয় অনলাইনে অর্ডার করেছিল। সে আমলে ভারতে হটপ্যান্ট পাওয়া যেত দেখেই যে ইংরেজরা ভারত আক্রমন করেছিল সেটা বোঝা যায়। আমির খান উইগ পরে,কালো গোঁফ সাদা করে ইংরেজ সেজে ইংরেজদের চড় মারতে মারতে নাচে,সবাই ক্যাটরিনার আইটেম ডান্স ও সলমন খানের ভয়ে চড় সহ্য করে নাচে। অতঃপর ক্যাটরিনা আমিরকে মনে মনে ভালোবেসে ফ্যালে,এবং অনলাইনে বোধহয় হরলিক্স অর্ডার দেয়,কারন আমিরের হাইট বাড়াতে হবে।

এদিকে শুরুতেই ক্লাইভ সিরাজকে ছেড়ে,পলাশী ভুলে দুবাই এর অ্যাটলান্টিস এর পাশে এক রাজাকে লুটতে আসে। রাজার ছেলেকে কামানের সামনে রেখে সে উইলে সব সম্পত্তি নিজের নামে করে নেয়,রাজাও ওই কয়েকটা ইংরেজকে না কেলিয়ে,বন্দুকের ডগায় ক্লাইভকে রেখেও সব সম্পত্তি লিখে দেয়,কারন সে না মরলে খুদাবক্স একা সবকটা ইংরেজকে হটিয়ে তার মেয়েকে বাঁচিয়ে নিয়ে গিয়ে তীরন্দাজি শেখাতে পারবে না। খুকি ১১ বছর পর অ্যাভেঞ্জার্স দেখে ওভাবে তীর চালায় এবং খুদাবক্স এর কাছ থেকে ভুরুতে বোরোলীন লাগায়। খুদাবক্স তাকে বলে কাটা দাগ সেরে যাবে,কারন তার পতঞ্জলী প্রোডাক্ট খুব ভালো,এই ১১বছরে একটাও দাড়ি পাকেঞ্জ তার। এর মাঝে আমির খান কায়দা করে এদের গ্রুপে জয়েন করে খানিক নেচে নেয়। এবং খুকি কে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে ব্লক খায়।

এর মাঝে কিছুটা হুলুস্থুলু হয়, আমির তার বন্ধুকে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনে,মদের পিপেতে ডুবে পালায়,ইংরেজ নাকি আজাদ কি হবে সেটা নিয়ে প্রচুর টাগ অফ ওয়ার হয়। ডিরেক্টার ও বুঝতে পারেন নি বাগি র পর তিনি রেস ৪ বানাবেন কিনা,যাই হোক আবার এর মাঝে ঠগ শুরু হয় এবং অমিতাভ গুলি ফুলি খেয়ে ক্যালানের মত বারুদ ভর্তি জাহাজে থেকে উড়ে যান।

এর পরেও প্রচুর ডায়লগ হয়। আমির দেখান যে তিনিও অমিতাভের মত মুখস্ত করতে পারেন,ফলে তিনিও ফাগুন বৌ এ ডাক পান এবং মিষ্টির ব্যাবসা শুরু করে জেলে সাপ্লাই করেন। শেষে ক্লাইভ বোধহয় মারা যান এবং সিরাজউদ্দৌলা হাঁপ ছেড়ে বেঁচে সিরিয়ালে জয়েন করেন। এতে সিরিয়ালের টি আর পি বাড়ে,কিন্তু সিনেমাটা জিরো হয়,যদিও শাহরুখ খুশি হন,কারন এতে জিরো ফিল্মের প্রভূত প্রমোশান হয়। পাবলিক এর পার্ট টু আসবে ভেবে হাসিমুখে হল ছেড়ে বেরোন,এই আনন্দে যে পরের বার লন্ডনে বা কোলকাতা তে এর শ্যুটিং হলে এদের বাগে পেয়ে আচ্ছে করে ক্যালানো যাবে!!!!!

কোন মন্তব্য নেই: