ছ বছর বয়সে বিয়ে করে এলেন শ্বশুরবাড়িতে, এবং বারো বছর স্বামীর সাথে ঘর করার পর আবিষ্কার করলেন স্বামীকে যেতে হবে অনেক দূরে, আজকের ভাষায় লং ডিসট্যান্স রিলেশানশিপ, সিদ্ধান্ত নিলেন কষ্টের বনবাসের জীবন বেছে নেবেন।
ভালোবাসা ছিলো, স্বামীর প্রতি দায়িত্ব ছিলো, একসাথে থাকার আকুতিও ছিলো, তবে একটা পরাধীনতাও ছিল...যেখান থেকেই তিনি বলছেন, বাবা মা ছেলে ছেলের বউ সবাই নিজের কাজের ফল ও ভাগ্য ভোগ করেন, শুধু স্ত্রী ভোগ করেন স্বামীর ভাগ্য,তাই স্বামীকে বনে যেতে বলা মানে তাকেও বনে যেতে বলা...অর্থাৎ কর্তব্যের বেড়ি, সংসারের পরাধীনতা...
এই পরাধীনতা চিরকাল ছিলো তার, লক্ষণরেখার বেড়ি, রাবনের অশোকবণে বেড়ি, ফিরে আসবেন স্বামীর কাছে অগ্নীপরীক্ষার বেড়ি, এমনকি অগ্নীপরীক্ষার আগে যখন রাম তাকে যা বললেন তাতে চোখ ফেটে জল এলো, প্রশ্ন করলেন কেনো তিনি তাকে এমন ভাবে বলছেন, পরীক্ষার বাঁধনে ঢুকলেন...আগুনেও মুক্তি পেলেন না, কারন আগুন তাকে স্পর্শ করলো না, বরং তিনি আবার ঢুকলেন সংসারের আগলে...সন্দেহের রাজ্যে...
বনে ছেড়ে আসার পর টা ভাবুন, এক অন্ত্বসঃত্ত্বা নারী, তিনি একাকী এক বনবাসীর কুটিরের চৌহদ্দিতে,দুই পুত্রের দায়িত্ত্ব ছেড়ে পালাতে পারবেন না, মুক্তি নেই...
মহিলাদের জীবনজুড়ে এই পরাধীনতা, কাছের লোকটি সর্বশক্তিমান হলেও সন্দেহ,অন্যায় বা অপমানের আগুনের চৌহদ্দিতে আটকাতেই হয়, এ নিয়মের যেন ব্যত্যয় হয় না। দ্বিতীয়বারের অগ্নিপরীক্ষায় যখন তিনি ধরনী দ্বিধা করিয়ে চলে যাচ্ছেন,জানিনা জীবনে প্রথমবার কি মুক্তির স্বাদ পেয়েছিলেন সীতা? জানিনা ভেবেছিলেন কিনা "পেলাম প্রকৃত স্বাধীনতা" !!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন