মানুষের কোনো দোষ নাই!!!
Nilanjan এর পোস্ট থেকে:
অবশেষে কুকুরেরা হাতির মৃত্যুতে ধেনোর বোতল খুলে সেলিব্রেশানে বসলেন…
কুত্তা ভোঁকে হাজার, হাতি চলে বাজার এ বৈষম্যমূলক মন্তব্য নিয়ে দীর্ঘকালের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ তো ছিলই, এবারে দ্যাক ক্যামন লাগে বলে কুকুরেরা দিকে দিকে ক্ষোভ উগরে দিতে লাগলেন। ‘ন্যাজে পটকা বাঁধা কি তোর একার’, কিংবা, ‘অল্পেতে ঘা সারেনা, এ ক্র্যাকারের ভাগ হবেনা’ এ নিয়ে বিজ্ঞ সারমেয় রা চারদিকে জনমত তয়ের করতে লাগলেন এ মর্মে যে এবার থেকে মৃত্যুরও সম বন্টন চাই। উচ্চ নিচ জাতভেদ এখানে চলবে না, তুমি হাতি বলে কম মরবে, শুধু আগুন দেখিয়ে ভাগিয়ে দেওয়া হবে বা জঙ্গল থেকে খেদিয়ে দেওয়ার মত আয়েশ আর নয়, ‘ঘা য়ে দের পিঠে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার’।
কিছু কুকুর আবার এক ধাপ এগিয়ে বলতে লাগলেন গায়ে গরম জল ফেলে দেওয়াটার একটা রেশন করলে হয় না? মানে এ সপ্তাহে কুকুর, অন্য সপ্তাহে হাতি, ওদের চামড়ার এরিয়াটা বড়, পার্সেন্টেজ অফ বার্নিং এর চান্স টা অল্প হবে, ওদের বেশি দায়িত্ত্ব নেওয়া দরকার!!
চা দিতে এসে ডগি বৌদি প্রেগনেন্সি প্রসঙ্গ তুলে সহানুভূতির গ্রাউন্ড আনার চেষ্টা করতেই প্রতিবাদী তরুনী সারমেয় বিপ্লবী পোস্ট করলেন, ‘আজ ও প্রেগনেন্ট বলে কত্ত সহানুভূতি, আমি ত বলবো বেশ হয়েছে, কই আমাদের প্রেগনেন্ট রমণিদের যখন লাথানো হয়, সেক্সের সময় ইঁটের বাড়ি দেওয়া হয়...আমরা ইঁট খাওয়া প্র্যাকটিস করেছি, বাকিদেরও সেই কৃচ্ছ্বসাধন করতে হবে, বাড়ি বসে থেকে কলাগাছের ডাল ভেঙে লবাবি করলে তো সাম্য হয় না, জিমে যাও, বডি বানাও “ইঁটের বাড়ি খাও, খুদ জান যাও” …
পলিটিকালি কারেক্ট কুকুরকূল জনমত নিজেদের দিকে ঘোরাতে লাগলেন এবং এক বিষয়ে প্রায় সমস্ত ডগিরাই একমত হলেন যে মানুষদের কোনো দোষ নেই। তোমরা বেচারাদের ঘরে আটকে রাখবে, করোনা তে জ্বালাবে,পথে ইয়ে করতে দেবে না, রাস্তায় থুতু ফেলতে দেবে না, মলে ঘুরতে দেবে না, জলে বর্জ্য ফেলতে দেবে না ও বেচারারা করবে কি। ওদেরও তো জীবন আছে, ওদের এন্টারটেনমেন্ট কেড়ে নিলে ওরা এ সামান্য হত্যাটুকু করবে না!!! “না না, এ ভারি অন্যায়, মানুষদের তো কোনো দোষ দেখিনা”, এক প্রবীণ ফেবুবিপ্লবী বলে উঠলেন, “ওদেরও তো কিছু লাগবে রে বাবা, কদ্দিন ঢিল ছোঁড়েনি, পাখি ধরেনি, গুলি করেনি, আর এ সামান্য আনারসে পটকা দিলেই দোষ??মরলি মরলি, অত হল্লা করার কি আছে? জঙ্গলে হাতি মৃত্যুর পার্সেন্টেজ জানিস? হিসেব করে দেখলে দেখবি এটা শতকরা শূন্য দশমিক শূন্য ওয়ানের থেকেও কম। মানে বাঘে বা অসুখে তোরা বেশি মরিস, কই, সেটা নিয়ে তো বলিস না, যত মানুষেরই দোষ , তাই না”
রাজনৈতির নেতা সারমেয় আবার সান্ধ্য টেলিভিশনে যুক্তি দিলেন, বললেন,”না প্রত্যেক মৃত্যুই শোকের, কিন্তু এ মৃত্যুতে শোকের আগে ইনোভেশান টা দেখুন?আনারসে পটকা, এ যে বিস্ময়, এরকম আগে দেখেছো কখনো!! কালিপটকা, ধানিপটকা আগে দেখেছি,কিন্তু এমন আবিষ্কার,এটাতে একটা মৃত্যু কিছুই নয়, ন্যূনতম...কো ল্যাটারাল ড্যামেজ, বড়ি বড়ি ইনোভেশান মে ছোটি ছোটি প্রাণ জাতি হ্যায়, তুম নেহি সমঝোগে সিনেরিটা...আমি পার্টিকে বলেছি যে এ বিষয়ে একটা কমিটি তৈরি করতে, আর আমার যেটা মনে হয় হাতিদের উচিত ঘ্রানেন্দ্রিয় স্ট্রং করা, অত বড় শুঁড় আমাদের সরকার পেলে এদ্দিনে চাঁদের বুড়ির রান্নার গন্ধও শুঁকে ফেলতো, ওরা অভ্যেস করুক, কয়েকটা পলিটেকনিকে হাতিদের গন্ধের ব্যাপারে ট্রেনিং দেওয়া যায় কিনা সরকার আলোচনা করছে... ”
সব্বাই, পাড়ার মোড়ে, থোড় বড়ি থোড়ে, মানিকে জোড়ে এটা বলাবলি করতে লাগলেন, মানুষ কি ভালো, আরে বাবা সব মানুষই লাথি আর টাকা মারতে ভালোবাসে, তার মানে কি ওরা খারাপ নাকি...যারা রুটি আর পরিষেবা দেয়, তাদের ভালো বলতে শিখতে হয়...লাথি মেনে নিতে হয়, গরম জল মেনে নিতে হয়...পটকা মেনে নিতে হয়...কোনঠাসা হওয়া প্র্যাকটিস করতে হয়...বোকা হাতি, জিমে যা, অত বড় জঙ্গল লাগবে না, টিপিনবক্সে এঁটে যাবি...পেট ছোটো কর, প্রেগনেন্সিতে খাবার খাবি না তাও খিদে পাবে না, তুই যে নদীর জলে ডুবে রক্তে জল নোংরা কল্লি, ওটা ফিল্টার করতে মানুষদের কত খর্চা জানিস? অমুক...তমুক...ইত্যাদি বলে কুকুরেরা চারপাশের হাতি ও কুকুরদের সামগ্রিক অশিক্ষা এবং মানুষদের উপর হওয়া অত্যাচার নিয়ে হেব্বি লেকচার দিলে...ভাষা বুঝিনি বলে সব ট্রান্সলেট করতে পারিনি...কল্লেই জানাবো...তবে আমারও মনে হয়...মানুষরা কিস্যুটি করেনি, সামান্য একতা প্রেগনেন্ট হাতি তো, তাকে নিয়ে অত কতার কি আচে বাপু বুঝিনা...কেরলে কত্ত শিক্ষিত লোক আচে জানো???হুঁহ...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন