সেটা ৯২ বিশ্বকাপের আগের কথা। অস্ট্রেলিয়ার সাথে খেলা হয়, আর ইন্ডিয়া দুমাদুম হেরে যায়। সাদা বলের ছাল চামড়া তুলে দেয় অজিরা। আমি তখন দ্বিতীয় শ্রেনী, আমি তখন লেদুস, ছোট্ট ব্যাট নিয়ে সচীন হবো ভাবি আর সাদাকালো টিভিতে ফিল্ডারদের ক্যাচমিস, শ্রীকান্তের নাক টানা, কপিল দেবের হাতের সাদা ব্যান্ড, সচীনের দাড়ি না হওয়া গালে জিলেট শেভিং সব দেখি আর মনে মনে এক চ্যুইংগাম খোর কে গালি দিই...
ডেভিড বুনের সাথে এই লোকটা জুড়ে গেলেই হলো, একে আউট করাই যায় না...চ্যুইং গাম চিবোতে চিবোতে নামে, গালে জিংক অক্সাইড, একবার বোধহয় ওপেন করেছিলো, নইলে সম্ভবত তিন নম্বরে, মোটকথা ছেলেবেলার পৃথিবীতে ডিন জোনস মানেই ত্রাস। আজকের টি টোয়েন্টির পৃথিবী ওনাকে রেকর্ড বই এ মাপতে চাইবে হয়তো, আমরা ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট টিভিতে অসহায় শ্রীনাথ, শাস্ত্রী বা সুব্রত চ্যাটার্জী কে দেখতাম আর ডিন জোন্স কে মাপতাম, ভাবতাম কিকরে লোকটা এত এতটা মারে, লোকটার ব্যাটটা নির্ঘাত বেশি চওড়া...স্বীকার করতে দ্বিধা নেই ওনার অবসরে একটুও দুঃখ পাইনি, বরং স্বস্তি পেয়েছিলাম, তৃপ্তি পেয়েছিলাম...মনে হয়েছিলো, যাক , একে আউট করার যন্ত্রণা টা দেখতে হবে না প্রিয় নায়কদের চোখে...
এর পর কাট টু, ক্রিকেট কমেন্ট্রি দিতে কমেন্ট্রি বক্সে আলাপ...প্রথমে হড়কে গেছিলাম, এটা ডিন জোন্স, আগে ছিলেন চাবুক চেহারা, এখন যেন একটু স্থুল...আগে চোখটা দেখলেই মনে হত "খুনে"...ইনি ত দিব্যি ভদ্রলোক...বাইটের আবদার করলাম...ছবিও উঠলো...মনে মনে ছেলেবেলার মত গালিও দিলাম, তারপর ফিক করে হেসে ভাবলাম, বাব্বাহ, আউট করাই যেত না মালটাকে...
আজকে প্রয়াণের সংবাদে, কিছুটা বিহ্বল...মৃত্যুর বিষাক্ত আউটস্যুইঙ্গারে ইনি ব্যাটের কোনা ছুঁইয়ে দিলেন? বয়েস কি এতটা নড়বড়ে করে দেয় বিখ্যাত ডিফেন্সকে...নাকি বোলার নয়...ডিন জোন্সকে হারাতে স্বয়ং শমণকে বল হাতে নিতে হয় ...!!!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন