একটা ব্যাগে ইলেকট্রিক কেটল,তার মধ্যে যায়গা বাঁচাতে ছেলের আন্ডারপ্যান্ট। ছেলেকে আমি ভালোবাসি,তবে এতটাও নয় যে ওর আন্ডারপ্যান্টের টি ব্যাগস এ চা খাবো। মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণ মাটি খেয়ে হাঁ করেছিলেন, হাঁ এর ভিতর যশোদা আমার গিন্নির ট্যুরব্যাগ দেখতে পেয়েছিলেন!!!
আমাদের ট্যুরব্যাগে বিশ্বব্রম্ভান্ডের সব থাকে...আর আমাকে ওইটে ক্যারি করতে হয়...তার মানে হলো আমি ছদ্মবেশী বাসুকি,মাথায় বিশ্ব নিয়ে ঘুরি। আমাদের প্রত্যেকটা ট্যুরে স্টেশান পৌঁছাতে লেট,কারন রিকশাওয়ালার সাথে অবধারিত ঝগড়া। সে কিছুতেই তার রিক্সায় আলমারি তুলবে না,গিন্নিও ছাড়বে না,তার হারকিউলিস কত্তা লোহার আলমারি বয়ে নিয়ে আসতে পারলে রিক্সাওয়ালা কেন পারবে না এই কূট তর্কে রিক্সাওয়ালা নামেই না। এতে বুঝি, দাদার জীবনে উন্নতি নেই,তর্কটা করলে ঘন্টাখানেক সঙ্গে সুমনে যেত...যাই হোক,গিন্নির খান পাঁচেক ব্যাগ,ফিল্টার,গ্যাস সিলিন্ডার,লোহার আলমারি,হ্যান্ড শাওয়ারের হাতল, বাবার কানখুশকি, মায়ের পিঠ চুলকানোর হাত সব আমাদের ট্যুরে নিয়ে যেতে হয় কারন, "যদি দরকার লাগে"...আর বইতে হয় আমাকে...
দাঁড়ান,এখানে শেষ নয়, আমাদের কম্পার্টমেন্টের একটাই দরজা,কারন অন্য দরজার সামনে আমাদের পাহাড়প্রমান জিনিস রাখা যার উপর বাচ্চা বসে চিতকার করে, " একটা জুতো হারিয়ে গেলো" ওর মা এক থাবড়া মারতে না মারতে ,মেয়ে চিপস এর বায়না করে। কষ্ট করে ট্রেনে সব তুলতে তুলতে দাবী বদলে যায়,শ্বাশুড়ি লোয়ার বার্থ আর পুত্র আপার বার্থের দাবীতে সংসদ অচল করে ফ্যালে,শ্বাশুড়িকে বাঙ্কে তুলে খোকাকে সিটে বসাতেই বাবা ততক্ষণে নিচে নেমে "কটা স্টেশান পুরী যেতে" জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে চা ওয়ালা কে, মায়ের প্রশ্ন চটিটা ফ্যানের পাশে ঝোলাবে মাথার কাছে নিয়ে শোবে গিন্নির মুখ গোমড়া কারন ট্রেনে কেন সব সিট উইন্ডো হয় না, এখন ট্রেন ছেড়ে দিতে না দিতেই সবার চিন্তা আলাদা, শ্বাশুড়ি বাথরুম যাবে, মায়ের চিন্তা,"খাবার টা কি সন্ধ্যে ৬টা তেই বেড়ে দেবো?" গিন্নির চিন্তা তিতাস ঘরের লাইট জ্বেলে এসেছে,শ্বশুর মশাই এর চিন্তা বাবা চা ওয়ালাকে জেরা সেরে ট্রেনে চাপতে পারলো কিনা, বাবার চিন্তা দৌড়োতে দৌড়োতে চা ওয়ালা খুচরো আড়াই টাকা সৎ ভাবে ফেরত দিতে পারবে কিনা...ছেলের চিন্তা চিপস এর পরে লজেঞ্চুশ কাকু কখন আসবে...
আমার চিন্তা,এর পরে ট্রেন থেকে একে একে সবাইকে নামাতে হবে...তারপর ট্রাঙ্ক,বাক্স,তোরঙ্গ,খাট,মশারি,তোশক,ডাস্টবিন,চুরি করা ট্রেনের চাদর,শ্বশুরের কেনা আনন্দবাজার,শ্বাশুড়ির বাদামের খোসা,মায়ের আধখানা আলুসেদ্ধ জমিয়ে রাখা টিফিনবাক্স, বাবার চা এর খুরি গিন্নির এক রাশ মুখঝামটা সব একে একে নামিয়ে, ট্রেনের চেন টেনে নিজেকে নামিয়ে,এই এত্ত কিছু ঘাড়ে তুলে ছুটতে হবে...কারন ততক্ষণে চেন টানার জন্য টিটি তাড়া করেছে...তাই আপনার যাত্রা সুখকর...আমার নয়...
খুব ভয়ে ভয়ে আছি, লকডাউন কবে উঠে যাবে,এই ভেবে...আমার বাড়ির ট্যুরের ব্যামো,আমার কুলিগিরি করে পিঠের...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন