রবিবার, ২ এপ্রিল, ২০১৭

মহারাজকীয়

হ্যাঁ না জানিনা বরাবরই আমার কনফিডেন্স এর যায়গা। বাগে পেলে পার্টিসিপেন্ট কে এইসান ট্র‍্যাপে ফেলি যেন পার্টিসিপেন্ট ঘুষখোর আর আমি নারদা!! যে কেউ খেলতে এলে জিতেই যাবো এইসান এক তুঙ্গ কনফিডেন্স নিয়েই সি এ বি তে ঢুকলাম,  লক্ষ্য এক ও অদ্বিতীয় মহারাজ।

কিন্তু সি এ বি র বাসরঘরের ছিদ্র পথে অন্য সমস্যা ধেয়ে এল। একদিন পরেই ইন্ডিয়া পাকিস্থান ম্যাচ, অন্যত্র ভেনু বাতিল হয়ে ইডেনে এসেছে, ফলত দাদা হেব্বি ব্যস্ত। ইনফর্মারের কাছ থেকে খবর পেলাম, প্রথমে একটা ইন্টারন্যাশানাল টক শোতে ইন্টারভিউ, তার পর আই সি সি র সাথে মিটিং, তারপর দমকল মন্ত্রী আসবেন, তারপর সি এ বি র কি একটা ফিক্সচারে অদল বদল, তারপরে অমিতাভ কে ফোন, তারপরে কিউরেটার দের সাথে বসা, দেন বিসিসি আই এর সাথে কন কল, মোটামুটি ঘন্টা তিনেকের আগে টাইম নেই,আর এর পরে টায়ার্ড মানুষটা আর সময় দেবে কিনা সন্দেহ।
আমি তো প্রমাদ গুনছি, মানে টাইম যদিবা পাই, খেলার মুড থাকবে না হয়ত। গেমের রুল না শুনেই কোনোমতে বেরিয়ে যাবে ইচ্ছে করে হেরে গিয়ে। মানে ইন্টারভিউ মাটি...

তিন ঘন্টা ফাতনায় চোখ দিয়ে বসে রইলাম, রাত প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ ডাক এল। বিরাট সাদা চেম্বারের এক প্রকান্ড দরজা ঠেলে ঢুকলাম...গোলাপি শার্ট পরা সি এ বি চিফের মুখ চোখ স্পষ্টতই ক্লান্ত। প্রথমে ফর্মালিটি হল, প্রোমোর জন্য আর ইডেনের ডুস এন্ড ডোন্ট বললেন,  আর আমি আবিষ্কার করলাম রেকর্ডিং বাটন অন করতে ভুলে গেছি!!!!

হাত পা ঘামছে,কি করব বুঝতে না পেরে কিছুটা ওভারস্মার্ট হয়ে ববললাম, ভালো হয়েছে বলাটা, তবে আরেকটা টেক দেবে কি, মানে এক্সপ্রেশান গুলো ঠিক...

ভাবুন একবার, ইন্টারন্যাশানাল টিভিতে যে লোকটা বকবক করে, দুনিয়ার তাবড় প্রেসকে ফেস করে তাকে আমি কিনা বলছি...এক্সপ্রেশানের ফান্ডা,

অন্য কেউ হহলে নির্ঘাত ঘাড় ধরে বাইরে নির্বাসন করে দিত, কিন্তু ইনি পুরোদস্তুর ভদ্রলোক।বললেন " আমার তো ঠিকই মনে হল"
মরিয়া হয়ে বললাম " না মানে মনে হয় টেকনিকাল চাপ,রেকর্ডার অন করতে ভুলে গেছি, প্রায় দেড় পাতার স্ক্রিপ্ট, আবার পড়লেন দাদা। মিনিট পাঁচেকের ইন্টারভিউ এর পর।
যখন সিকিউরিটি বেরোবার জন্য ইশারা করছে,তখন বললাম,"ইয়ে,  মানে একটা গেম, জাস্ট এক মিনিট"

ক্লান্ত হয়ে ছেড়ে দেবার বদলে, ভদ্রলোক পুরো নিয়মটা শুনলেন, বুঝলেন,শুনলেন এই গেমে এখন অব্দি আমি অপরাজেয়, তারপর এক মিনিটে ম্যাজিক দেখলাম, যেন মুহুর্তে ক্লান্তি উধাও, যেন জয়দ্রথ বধে অর্জুন গান্ডীব তুললেন পূর্নগ্রাসের পর। চোখের জ্বলজ্বলে ভাবটা মনে করালো সেই মুহুর্ত টাকে যখন স্টিভের অশ্বমেধের ঘোড়া কে থামিয়েছিলেন আর্যপুত্র।

আমি তখনো অতটা বুঝিনি,আরে সৌরভ তো ক্রিকেটের রাজা, কিন্তু হ্যা না জানিনা তো আমার নিকুম্বিলা যজ্ঞাগার,সেখানে অন্যেরা ট্যা ফো করতে পারে না, তাছাড়া এটা মাইন্ড গেম, সারাদিনের টায়ার্ড সি এ বি প্রধান শরশয্যায় গেলেন বলে...

এক মিনিট পর, ইতিহাস!!!!

হ্যাঁ না জানিনার তিন বছরের ইতিহাসে, একজন মাত্র জয়দ্ধজার টিশার্ট উড়িয়াছিলেন...মানে গোলাপি শার্ট টা না খুলেই,যাস্ট মুচকি হেসে,  তুড়ি মেরে...

সেই আড্ডা'র শেষে,হেরোপার্টিটাকে নিজের সিংহাসনের হ্যান্ডেলে সযত্নে বসিয়ে রসিয়ে পোজ দিলেন...সব্বার দাদা...!
... Sourav Ganguly Official

কোন মন্তব্য নেই: